স্বপ্নপুরে পর্ব : ৩

0
34

স্বপ্নপুরে পর্ব : ৩
গল্পবিলাসী – নিশি

হঠাৎ করেই কিছু কথার শব্দ উপমার কানে ভেসে এলো। চুপকে থেকে কথাগুলো শুনছিলো উপমা। কথাগুলো শুনেই আশেপাশে বারবার আশেপাশে তাকাতে লাগলো।
” এই কন্ঠ? এভাবে কথা বলা? কোথা থেকে ভেসে আসছে এই কথার স্বর? কে বলছে?” লাফিয়ে উঠে পরে উপমা।বুক ধুকপুক করছে।কানের কাছে কথা গুলো বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। নিশ্বাস গুলোও পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে। অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে তার মনে। খুশিতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। ঠোঁট দুটো অজানা আনন্দে প্রসারিতো হচ্ছে। উপমার এমন আচরনে অবাক হয়ে আছে ইশা আর সামি।
-“আর ইউ ওকে উপো? ”
চারোদিকে কিছু খুঁজতে খুঁজতে,
-“তোরা শুনতে পাচ্ছিস? এই যে! ” চুপ আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট চেপে চুপ থাকতে ইশারা করে
” আমার বিশ্বাস ফাহিম! আমার প্রেয়সী এখানেই কোথাও আছে। এই চাঁদপুরের কোথাও আছে।”
-” শুনেছিস? আমি তোদেরকে বলেছিলাম না আমাকে প্রেয়সী বলে ডাকে ঐ মানুষটা।”
-” হাও ফানি উপো? প্রেয়সী বলে কি কেউ আর কাউকে ডেডিকেড করতে পারেনা?একমাত্র তোকেই করা যায়? ” সামির কথা শুনে রেগে গিয়ে,
-” আশ্চর্য! সবসময়ই এতো নেগেটিভ কেনো তুই সামি? একটু কি পজেটিভ ভাবা যায়না? সবসময় নেগেটিভ। যত্তোসব। ” উপমাকে রাগতে দেখে
-” আরে আরে রেগে যাচ্ছিস কেনো তুই? ওইতো এমনই। ”
-” ইশ্যূ ওই মানুষটার কন্ঠ শুনেছি আমি। এখন। ও এখানে আশেপাশেই আছে। আমি কন্ঠ শুনেছি। ঠিক যেভাবে আমাকে প্রেয়সী বলে ডাকে।” পাগলের মতো আশেপাশে খুঁজতে লাগলো উপমা। কয়েকজনকে মোবাইলে কথা বলতে দেখে পেছন থেকেই আড়ি পেতে তাদের কথা শুনেছে। কিন্তু না ওরা না।তাহলে কে? কোথা থেকে বলছে? হঠাৎ করেই একটা ছেলেকে দেখতে পেলো উপমা। ছেলেটাকে দেখে বুকের ধুকপুকানি যেনো পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকলো। সেদিকে তাকিয়ে থেকেই ছেলেটার দিকে পা বাড়াতে লাগলো। ছেলেটাকে উদ্দ্যেশ্য করে হাটতে গেলেই হাত চেপে ধরে সামি।
-“তুই পাগল হয়ে গেছিস উপো। চল অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। “বলেই হাত ধরে টানতে লাগলো।
হাতটা ছাড়িয়ে নিঃশ্বব্দে এগিয়ে যাচ্ছে উপমা। এগিয়ে যেতে দেখে আবারো আটকাতে গেলে ইশা ইশারায় সামিকে থামিয়ে দেয়। কি করতে চাইছে উপমা। পেছন থেকে তাকিয়ে আছে ইশা আর সামি। ফাহিমার সাথে মোবাইলে কথা বলছিলো ফাহাদ। পেছন ফিরে তাকানোর পরই একটা মেয়ের মুখোমুখি হলো ফাহাদ।
মেয়েটার মুখের দিকে তাকানোর আগেই মেয়েটা হামলে পরলো আমার বুকের উপর।
-“আর কতো লুকোচুরি খেলবে প্রিয়? আমিই যে তোমার প্রেয়সী।” প্রেয়সী শব্দটা শুনে চমকে উঠলো ফাহাদ। সে কি ভূল শুনলো? তাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটি আবারো বলে উঠলো,
-” আমি তোমার নূপুরটা রাখতে পারিনি প্রিয় “বলেই কাঁদতে লাগলো। না। সে ভূল শুনেনি। মেয়েটি আবারো বলতে লাগলো,
-“আমার বিশ্বাস ছিলো একদিন ঠিক তোমায় পাবো। আমি তোমার কন্ঠটা শুনেই চিনতে পেরেছি তুমিই আমার প্রিয়। তুমিই আমার স্বপ্নের সেই প্রিয়। বলো তুমিই আমার প্রিয়?” জড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই একজনরে মেয়েটার উপর নজরদারী করে নিলো ফাহাদ। মেয়েটাকে খুব পরিচিতো লাগছে। বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে কেমন যেনো শান্তি পাচ্ছে সে। খুব আপন কেউ মনে হচ্ছে। কোমড় পযর্ন্ত ছাড়া চুল।কিছু চুল দুভাগ করে সামনে এনে রেখেছে। ব্লু জিন্সের সাথে একটা হাটু পযর্ন্ত কামিজ পরা। হাতে একটা ঘড়ি। হঠাৎ করেই মেয়েটার পায়ের উপর দৃষ্টি চলে যায় তার। হালকা অন্ধকারে যেনো আমি সেই পা গুলোই দেখতে পেলাম। অন্ধকারের মধ্যেও যেনো সেই ফকফকে নখগুলো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। হ্যা এইগুলোই যে আমার স্বপ্নের সেই নিক্কনধ্বনি করা পা আমার। কিছুটা সন্দেহ থাকলেও এখন পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত ফাহাদ। খুশিতে বুকের মধ্যে চেপে ধরলো মেয়েটাকে। যেনো পূর্ণিমা চাঁদটা কেউ তার হাতে তুলে দিয়েছে।বুকের মধ্যে খুব শক্ত করে চেপে ধরেছে ফাহাদ। এতো খুশিতে যেনো কথা বলার শক্তিটাই হারিয়ে ফেলেছে ফাহাদ।চোখ থেকে মনের অজান্তেই কিছু পানি গড়িয়ে পরলো গাল দিয়ে। মেয়েটা কেঁদে কেঁদেই আবারো বলছে,
-“আমি তোমার ভালোবাসার চিহ্নটি রাখতে পারিনি। হারিয়ে গেছে আমার নূপুরটি। ” কানের কাছে ফিসফিসিয়ে,
-” এতো লুকোচুরি কেনো ছিলো প্রেয়সী? ” মুখ তুলে ফাহাদের দিক তাকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিলো উপমা। কিছুক্ষন তাকিয়ে আবারো ফাহাদকে জড়িয়ে ধরে উপমা। ফাহাদের বুকে মাথা রেখে পরম শান্তিতে চোখ বন্ধ করে আছে উপমা। এই মূহুর্তে পৃথিবীর সবচাইতে সুখী মানুষ সে। যেনো শত জনমের সাধনার ফল পেয়েছে।হ্যা পেয়েছে ইতো। এমনো ভালোবাসা হয় তা সবারই অজানা। কিন্তু তাদের হয়েছে। এ ইউনিক লাভ স্টরি। সবাই বাস্তবে প্রেম করে বেড়ায়। আর ওরা স্বপ্নে।নিজেরইতো বিশ্বাস হতোনা মাঝেমধ্যে। তারপরও মন বলতো কেউ তো আছে।আর নয়তো কেনো শুধু স্বপ্নজুড়েঁ সেই মানুষটাই। একটি স্বপ্নপুরের রাজা তার রাজ্যের রাণীকে পেয়েছে। যেখানে তাকে নিয়ে তার পুরো সাম্রাজ্য দেখাশোনা করবে।যেখানে থাকবে ভালোবাসার এক সিক্ত পর্বতচূড়া। এভারেস্টের মতো। নাহ। এটা এভারেস্টের চেয়েও উঁচু। যা শুধু পেরিয়েই যেতে থাকবে কখনো ঐচূড়া অবধি পৌঁছাতে পারবেনা কেউ। ধাপের পর ধাপ পেরিয়ে যাবে আর শুধু ভালোবাসার ম ম গন্ধই বেড়োবে। আর সেই গন্ধে সবাইকে মাতাল করে রাখবে শুধু ভালোবাসায়। একহাতে উপমাকে জড়িয়ে ধরে অন্য হাত দিয়ে পকেট থেকে নূপুরটা বের করে উপমার কানের কাছে নাড়তে থাকে। শব্দ শুনে মাথা তুলে তাকাতেই অবাক হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায় উপমা।
-” এটা? কোথায় পেলে তুমি? এটাতো হারিয়ে গিয়েছিলো।” ফাহাদ হালকা হেসে,
-“ইটস লাইক এ ম্যাজিক।যার নাম ভালোবাসা। ইউ নো! আমি একজন প্রেমিক। আর একজন প্রেমিকই পারে হারিয়ে যাওয়া কিছু ফিরিয়ে আনতে।” ফাহাদের কথা শুনে উপমার ঠোটঁ দুটো যেনো ধীরে ধীরে হাসিতে প্রসারিতো হতে লাগলো। অবাক হয়ে দেখছে ফাহাদ।কি মিষ্টি তার হাসি।চুল। লজ্জামাখা চেহারা।হঠাৎ করেই আনমনে উপমার গালে চুমু খেয়ে বসলো ফাহাদ।ফাহাদের তাৎক্ষনিক কাজের জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলোনা উপমা। ভালোবাসার মানুষটার প্রথম স্পর্শ এতো অচিরেই তার জন্য ছিলো তা সম্পূর্ণ অভাবনীয়। লজ্জায় লাজুকলতা হয়ে নিচের দিক তাকিয়ে আছে উপমা। উপমাকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ করেই তাকে কোলে তুলে নিলো ফাহাদ।
চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here