সে পর্ব-৭

0
499

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০

সানজিদা তাসনীম রিতু

সে পর্ব-৭

সকালে ঘুম ভাঙতে দেখি রিমা পাশে নেই, উঠে চলে গেছে হয়তো। মোবাইল বের করে দেখলাম ৯ টা বেজে ৩০ মিনিট। দ্রুত উঠে ফ্রেস হয়ে আমার রুমের দিকে ছুটলাম। সাইড টেবিলে পরে থাকা রাফিউল সাহেবের কার্ডটা তুলে কল করে তখনই আসতে বললাম। উনি বললেন উনি নাকি অন্য কেসে ব্যস্ত আছেন, সেটা মিটিয়ে আসতে উনার ঘন্টা দুয়েক মতো লাগবে, তবে চেষ্টা করবেন দ্রুত আসতে কিন্তু উনি এক ঘন্টার মধ্যেই চলে আসলেন। আসার পর আমার দিকে তাকিয়ে কোনো প্রশ্ন করার আগেই উনাকে সবটা খুলে বললাম। একদম সবটা।

উনি কোনো প্রশ্ন না করে ধীরপায়ে বাগানের দিকে এগিয়ে গাছটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। আমিও উনার পিছু পিছু এসে দাঁড়ালাম, আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে দেখি ফুলটা যেনো তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে পাপড়ি মেলে দেখছে সব কিছু।

রাফিউল সাহেব ফুলগাছটা উপড়ে নিতে গিয়ে দেখেন যে গাছটার শিকড় টব ভেদ করে আষ্টেপৃষ্ঠে ছাদ আকড়ে ধরে আছে। দুজনই অবাক হয়ে গেলাম। অনেক কষ্টে গাছটা উপড়ানো গেলো।
-“আপনি কোথায় পেয়েছিলেন এটা?” রাফিউল সাহেব গাছটা দেখতে দেখতে জানতে চাইলেন।
–“রাস্তার মাথায় যেই নার্সারিটা আছে ওখান থেকে এনেছিলাম, আমি সব গাছ ওখান থেকেই আনি।” একটু থেমে উনার দিকে তাকিয়ে বললাম- “আপনার কি মনে হচ্ছে এসব ঘটনার সাথে এই গাছের সম্পর্ক আছে?”
-“আপনার মায়ের মৃত্যুটা যদি অস্বাভাবিক হতো তাহলে সেটাই ভাবতাম।”
–“মানে!” অবাক হয়ে তাকালাম উনার দিকে।
-“মানে কিছুই না ম্যাম। আপনার মা অসুস্থ্য ছিলেন, প্রেসার উঠে মাথা ঘুড়ে তাল সামলাতে না পেরে পরে যান, নিরেট মেঝে থেকে উনার মাথাটা বাঁচাতে পারেননি। সারারাত ধরে প্রচুর রক্তপাতের জন্য উনি মারা যান।” গড়গড় করে বলে গেলেন উনি।

-“আপু, মা নাস্তা পাঠালো।” তাকিয়ে দেখি রিমা হাতে প্লেট বাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে দরজার সামনে।
–“আপনি আমার রুমে একটু বসুন, কিছু জরুরি কথা আছে। রাফিউল সাহেবকে কথাটা বলে রিমার দিকে এগিয়ে গেলাম। ওর হাত থেকে ওগুলো নিতে ও বললো- “আপু আমি যাই, পরে আসবো।” বলেই ও চলে গেলো।

আমি দরজা ওগুলো মায়ের রুমে টেবিলে রেখে টেবিল ধরেই দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষন। একটু ধাতস্থ হওয়ার পর দরজা বন্ধ করে আমার রুমের দিকে এগুলাম। রুমে ঢুকতে দেখলাম রাফিউল সাহেব চেয়ারে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে গাছ আর ফুলটা দেখছেন।
–“আপনি কাল বলছিলেন আপনি কিছু ধারণা করছেন, আমাকে সাবধানে থাকতে বলে গেলেন।” ঘরে ঢুকে বিছানায় বসে কথাটা বললাম।
–“কি ধারণা আর কেনো সাবধানতার কথা বললেন জানতে চাচ্ছি।” উনি আমার দিকে তাকাতেই প্রশ্নটা করলাম।

-“ম্যাম, সেরাতে আপনার সাথে এতো বড় ঘটনা ঘটার পরেও আমাকে কেনো বলেননি যে আপনি যাকে দেখেছিলেন তিনি আপনার বন্ধু রিশাদ ছিলেন? কেনো বলেছিলেন যে সে আপনার পিছনে ছিলো আর আপনি তাকে দেখার আগেই অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন?”
–“কারণ আমি নিজেই বিস্বাস করতে পারছিলাম না।”
-“আমি সেদিনই বুঝে ছিলাম আপনি কিছু গোপন করছেন।
–“এজন্যেই কী অলক্ষ্যে হেসেছিলেন?”
-“পুলিশের চোখ ম্যাম, অঙ্গভঙ্গি আর কথা বলার ধরণেও অনেক কিছু ধরা পড়ে যায়। সে যাই হোক যেরাতে আপনার মা মারা গেলেন সেরাতেও তাকে দেখে বিস্বাস করেননি?”
–“কিভাবে বিস্বাস করবো বলেন তো? আপনি হলে বিস্বাস করতেন? এটা কি আদৌ সম্ভব?”
-“তাহলে আজ কেনো বিস্বাস করছেন?”
–“আমি আজও বিস্বাস করছিনা।”
-“আজই কেনো তাহলে আমাকে বললেন সবটা?”
–“কারণ আমি এগুলোর কারণ জানতে চাই। আপনার কিছু কথা আর আচরণে মনে হয়েছে আপনি হেল্প করতে পারবেন, তাই বললাম।”
-“আপনার বন্ধু রিশাদ সাহেবের ভাই-বোন কয়জন জানেন আপনি?”
-“কেনো জানবোনা! ও আর ওর একটা ছোট বোন আছে, আপনি আমাকে একের পর এক পাল্টা প্রশ্ন কেনো করছেন আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে?”
আমার উত্তর শুনে উনি ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন-“কারণ ম্যাম রিশাদ সাহেব মারা গেছেন দুমাস আগেই।”
-“কীহ!”

-“আপনার ওই কেসের সাথে উনার নিখোঁজ হওয়ার কেস টাও আমাদের থানার আন্ডারেই ছিলো ম্যাম, কারণ উনি ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। জরুরি কি কাজে নাকি ব্যাক করেছিলেন। কিন্তু আমি জানতে পেরেছি ২দিন আগে, উনার লাশ পাওয়া যাওয়ার পর।” একটু থেমে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন- “অর্থাৎ যেদিন বিকেলে আমি আপনার জবানবন্দি নিতে এসেছিলাম।”

আমি বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে উনার কথা শোনা ছাড়া কিছু বলার শক্তি বা সাহস টুকুও পাচ্ছিনা। উনি আমার দিকে তাকিয়ে আবার বললেন- “উনার লাশ উনাদের বাড়ির নীচে লুকানো পাতাল ঘরে পাওয়া গেছে, যেখানে এতোদিন যাবৎ উনার যমজ ভাই ‘রিশাবকে’ লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে, রিশাদের শরীরে কোনো ক্ষতই পাওয়া যায়নি, দেখে মনে হয়েছিলো হয়তো আধা ঘন্টা আগে মারা গেছেন। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী উনি মারা গেছেন মাস দুয়েক আগেই। আবার এদিকে রিশাবকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।”

–“কক্-কী বলছেন আপনি! এটা কিভাবে সম্ভব?” আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না মানে কি? পরে খুজে পেয়েছেন?”
-“জী ম্যাম, আজ ঠিক একই জায়গায় রিশাবের লাশ পাওয়া যায়, রিপোর্ট অনুযায়ী সে মারা গেছে গত রাতে, অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে তার লাশ দেখলে যে কেউ মমি বলবে এতোটাই রুক্ষ আর রক্তহীন ছিলো।”
–“তারমানে গতকাল আমার সাথে রিশাব ছিলো?”
-“হয়তো।”
–“হয়তো মানে! আর আপনি আমাকে গতকাল কেনো বলেননি এটা, উনাকে কেনো নিয়ে যাননি?”
-“হয়তো, কারণ উনাকে আপনার এখানেই শুধু দেখা গিয়েছে গতকাল, তার আগেও দেখা যায়নি, পরেও না। আর আমি যতটুকু জানতে পেরেছি রিশাবের ব্যাপারে তাতে গতকাল উনার সামনে আপনাকে কিছু বলার তো প্রশ্নই উঠেনা, নিয়ে যাওয়া তো পরের কথা।”
–“তাহলে কি এজন্যেই রিশাদ কুমিল্লায় ওর দাদা বাড়িতে গেলেও ওর বাসার সবাই ঢাকাতেই থাকতো! রাফিউল সাহেব, আমার মাথা কাজ করছেনা। আপনি কি বলছেন এগুলো? নাকি আমিই ভুল শুনছি!”
-“আপনি ভুল শুনছেন না।”
–“আমি তো এটাই বুঝতে পারছিনা রিশাদের যমজ ভাই, এই রিশাব এলো কোথা থেকে! ও আমাকে কখনোই তার ব্যাপারে কিছু বলেনি।”
-“কেনো জানেন?”
–“কেনো?”
-“কারণ রিশাবের মতো ছেলে থাকলে আপনার মাও তাকে লুকিয়ে রাখতেন অথবা হয়তো মেরেও ফেলতেন আর আপনি নিজেও এমন ভাইয়ের কথা কাউকে বলতে পারতেন না।”

আমি উনার দিকে বিমূর্তের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি। একের পর এক এতো কিছু আমি আর নিতে পারছিনা। এগুলা কি শুনছি, কি হচ্ছে আমার সাথে। উনাকে যে প্রশ্ন করবো সেই সাহসটাও পাচ্ছিনা, না জানি আরও কি শুনতে হবে। আমি দুহাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেললাম, আর সহ্য করতে পারছিনা।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share