সে পর্ব-১

0
793

সে পর্ব-১

লেখক-সানজিদা তাসনীম রিতু
#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০

-“বুড়ি, তোমার চুলের গন্ধ আমার সবচেয়ে প্রিয় নেশা”-রিশাদ।
–ও, হ্যা, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম আমি তো রাজকন্যা রূপাঞ্জেলকেও হারিয়ে দিয়েছি, হালকা হেসে বললাম আমি।
আমি রিশা,আর এই আমার প্রেমিক রিশাদ। প্রায় দুবছর হতে চলেছে আমাদের প্রণয়ের।
-মানে!
–না মানে, ঢাকা থেকে আমার চুল কুমিল্লায় তোমার কাছে গিয়ে গন্ধ দিচ্ছে, তাই বললাম আরকি। কত্ত বড় আমার চুল!
-“দেখো বুড়ি, ফাজলামি করবা না। ঈদের সময় না হলে আমি ঠিকই ঢাকায় থেকে তোমার কাছে বসে ইচ্ছামতো গন্ধ নিতাম আর”…
–এই, আমার তো আজ চুল আচড়ানোই হয়নি, তুমি কাজ করো, আমি পরে কল দিবো তোমাকে। ওর কথার মধ্যে এটা বলে ফোন রেখে দিলাম, না তো শুরু করতো রোমান্স।
ফোনটা চার্জে দিয়ে চিরুনিটা নিয়ে ছাদে চলে এলাম। আমাদের বাড়িটা খোলামেলা টাইপের। আমি আর মা থাকি তাই দুটো রুম করে বাকিটা ফাঁকা রাখা আছে। ঘরের দরজা খুললেই ছাদ। একপাশে আমার ছোট্ট বাগান, আরেকপাশে তিনটে চেয়ার আর টেবিল নিয়ে বসার জায়গা। তবে আমার প্রিয় বসার জায়গাটা বাগানের পাশ ঘেসে রাখা ওই রকিং চেয়ারটা। দক্ষিণ দিকে মুখ করা, বসলেই কেমন একটা শান্তি শান্তি লাগে।
—“তোকে কতোবার নিষেধ করেছি সন্ধ্যাবেলায় চুল আচড়াতে?” -কপট রেগে মা বললো
–“কি হয় মা? জানোই তো আমি সময় পাইনা।”
—“কি যে হয় একদিন ঠিকই বুঝবি।” বলেই বিড়বিড় করতে লাগলো…”একটা কথাও শুনেনা,কিছু হলে সেদিন…”
–“কি বলো তুমি? জোরে বলো, শুনি না তো।”
—“শুনতে হবে না, তুই ঘরে যা তো, এক্ষুনি যা। বলে মা অজু করতে চলে গেলো।
আমি গুনগুন করতে করতে চুল আচড়াতে লাগলাম। হঠাৎ প্রচন্ড শীত করতে লাগলো, প্রচন্ড শীত। দুপুরে ইচ্ছামতো বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম, জ্বর আসছে ভেবে ঘরে এসে শুয়ে পড়লাম।
১১টার দিকে উঠে দেখি টেবিলে খাবার ঢেকে রাখা। ঘুমিয়েছিলাম, তাই হয়তো মা ডাকেনি। ফোনটা নিয়ে দেখি বেশ কয়েকটা মিসকল আর কি হয়েছে জানতে চেয়ে রিশাদের দুটা মেসেজ। কল করলাম, ফোন বন্ধ। খাওয়া শেষ করে আবারও কল দিলাম, নাহ বন্ধ। হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে ভেবে বই নিয়ে বসলাম।
ঠিক কতক্ষন পর জানিনা, মনে হলো দরজার সামনে কেউ হাঁটছে। খুব মৃদ্যু পায়ে হাঁটলে যেমন শব্দ হয় তেমন। কাছে আসছে আবার দূরে চলে যাচ্ছে। গুরুত্ব না দিয়ে বইয়ে মন দিলাম।
ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠতে দেখলাম রিশাদের মেসেজ- “দরজা খোলো, আমি তোমার দরজার সামনে।” সময় দেখলাম ২:২৯মিনিট। প্রচন্ড অবাক হলাম,মাথায় শুধু একটা কথাই আসলো, ও এতো রাতে আমাদের ছাদে, আমার রুমের সামনে কিভাবে আসলো!
আমি ভুলেই গেলাম যে ওতো আমাদের বাসা চিনেইনা।
অবাক ভাব নিয়ে দরজা খুললাম। ও সামনে দাঁড়িয়ে। ঠিক কি করা উচিৎ বুঝতে পারছিনা। হঠাৎ ভয় পেয়ে গেলাম, মা যদি উঠে আসে। তাড়াতাড়ি ওর হাত ধরে টেনে রুমে এনে দরজা বন্ধ করে দিলাম।
–“কি ব্যাপার? তুমি এতো রাতে? কিভাবে আসলে? কখন আসলে? কই আমাকে তো বলোনি…”
-“আরে থামোতো! এতো প্রশ্ন করো কেনো?চুপ করে বসো তো, আমি বেশিক্ষন থাকতে পারবো না। বসো,একটু দেখেই চলে যাবো।”বলেই আমাকে ধরে ওর সামনে বসিয়ে দিলো।

আমি অস্থির হয়ে বলতে গেলাম- “কিন্তু তুমি…”
-“চুপ!” ওর হাত দিয়ে আলতোভাবে আমার মুখে চাপা দিলো।
ওর দিকে তাকিয়ে হঠাৎ লজ্জা পেয়ে গেলাম, কেমন অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে। মাথা নামিয়ে একটুপর আবার তাকিয়ে দেখি এখনও পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে। খেয়াল করলাম কেমন যেনো ঝাপসা আর শীতল চাহনী…
-“চুল গুলো একটু খুলবা প্লিজ,গন্ধটা নিয়েই চলে যাবো।”
অলস হাতে চুলগুলো খুলে ছড়িয়ে দিতেই ও ঝট করে আমার পিছনে এসে পেটের কাছে খামচে ধরে চুলে নাক ডুবালো।
ব্যথা পেয়ে হঠাৎ করেই আমার ভয় আর অস্থিরতা চলে গেলো। দুর্বিসহ পেট উল্টানো গন্ধ ছড়িয়ে গেলো ঘরময়। আমি দেখলাম আমার চুল ভিজে গড়িয়ে গড়িয়ে রক্তের ফোঁটা পড়ছে আমার হাতে। মাথা ঘুড়িয়ে দেখার সাহস হওয়ার আগেই তীব্র যন্ত্রনায় চিৎকার করতে গেলাম, শক্ত একটা হাত আমার মুখ চেপে ধরলো, তারপর আর কিছুই মনে নেই।
প্রায় চারদিন পর মাথার পিছনে যন্ত্রণার অনুভবে হাত দিয়ে দেখি ব্যান্ডেজ করা। চোখ খুলে বুঝলাম আমি হাসপাতালের বেডে। ব্যান্ডেজ করা মাথার পিছন সহ ঘাড়, পিঠ, বুক, পেট আর হাত।
কিছুই বুজলাম না। বাম পাশে মা বসে, কথা বলতে গিয়ে পারলাম না, গলার মধ্যে নল ঢোকানো। উঠে বসতে গিয়ে শিরদাঁড়ার অসহনীয় যন্ত্রনায় কুঁকড়ে গেলাম।
-“রিশা, ওঠার চেষ্টা করিস না, তোর ঘাড়ের আর পিঠের হাড় ভেঙে গেছে।
তাকিয়ে দেখিয়ে পায়ের কাছে বান্ধবী নিতা দাঁড়িয়ে। কৌতুহল নিয়ে তাকালাম ওর দিকে, ও এগিয়ে এসে পাশে বসলো।
-“অনেক টেনশনে ফেলে দিয়েছিলিস রে, তোকে নিয়ে অনেক কষ্ট হইছে সবার।”

ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, এটা আমার প্রথম গল্প, আশা করি ভালো লাগবে।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share