সিনিয়র_বউ_নিউ_আপডেট পর্ব:-(০৪-শেষ)

0
1390

সিনিয়র_বউ_নিউ_আপডেট পর্ব:-(০৪-শেষ)
লেখা:-AL Mohammad Sourav
!!
নতুন বউ বাড়িতে এসেছে কোথাও ওকে সাহায্য করবে। কি করে সবার সাথে মানিয়ে নিবে। তানা বরং সৌরভকে ভুলভাল শিখিয়ে দিচ্ছো তোমরা? সৌরভ এমনিতেই জারাকে বউ হিসাবে মেনে নিচ্ছেনা জারার বয়স বেশি বলে! আর তোমরা দুজন এখানে সৌরভকে সাহায্য করছো? (মা)

চাচিমা:- ভাবি আমরা তো দুষ্টমি করছি সৌরভের সাথে!

ভাবি:- হ্যা আম্মা আমরা দুষ্টমি করছিলাম! দেখছিলাম সৌরভ আমাদের সাথে সত্যিটা বলে কিনা কিন্তু সৌরভ তো জারাকে ভালোবাসে?

মা:- বড় বউ তুমি আমাকে বুঝাতে এসোনা! আমি জানি সৌরভ কাকে ভালোবাসে আর বাসেনা! আম্মা চাচিকে কিছু বলেছে! বলছে বাবা জানতে পারলে অনেক সমস্যা তৈরি হয়ে যাবে!

চাচিমা:- ভাবি আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দাও! আমি কথা দিতেছি জারাকে আমি সাপুট করবো জারাই থাকবে এই বাড়ির বউ হয়ে!

ভাবি:- হ্যা আম্মা আমাকে ক্ষমা করে দিন! আমি কথা দিতেছি জারার সাথে সৌরভের সংসার করতে হবে! আমরা সবাই মিলে সৌরভকে বাধ্য করবো! মা অনেক খুশি হয়ে ওনাদের ক্ষমা করে দিয়েছে! আমি তো মনে মনে হাসছি ওনাদের কথা শুনে! রুমে এসে দেখি জারা ফোনে অনেক ঝগড়া করছে।
আমি ঝগড়া শুনে বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলাম তখনি জারা বলে।

জারা:- রাজ তুমি আমাকে আর কোনো সময় ফোন করবেনা! তোমার মত চিটার বাটপার জীবনে আমি কমই দেখছি! তোমার জন্য আমি আমার স্বামির সাথে মিথ্যা অভিনয় করতেছি! বাবা ঠিকিই বলছে তোমার থেকে সৌরভ হাজার গুনে ভালো! তোমার সব কুকর্মের ছবি আর ভিডিও আমার বন্ধুরা আমাকে দিয়েছে! সেদিন আমাদের বিয়েটা ভেঙে যাওয়াতে আমার অনেক লাভ হয়েছে! আমি তোমার সব কিছু বল্ক করে দিবো এখুনি ফোন কাট ছাগল কোথাকার! জারা অনেক জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে আমি গিয়ে পানির গ্লাস হাতে নিয়ে সামনে দাঁড়ালাম!

আমি:- নাও পানি খেয়ে নাও! জারা গ্লাসটা হাতে নিয়ে এক চুমকে সবটা পানি খেয়ে নিয়েছে!

জারা:- ধন্যবাদ!

আমি:- ধন্যবাদ দিতে হবেনা! তবে আগামীকাল হানিমুনে চাওয়াটা বন্ধ করতে হবে! আমাদের মধ্যে কোনো রকম ভালোবাসা নেই তাহলে হানিমুনে গিয়ে শুধু শুধু টাকা অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না!

জারা:- ভালোবাসা আজ নেই তো কি হয়ছে? কাল হয়ত হয়ে যাবে! আর না হলেও ভালোবাসতে বাসতে ভালোবাসা তৈরি হয়ে যাবে! এখন আমরা হানিমুনে যাবো কেমন!

আমি:- না সেইটা তৈরি হবেনা! কারণ জুনিয়র বর আর সিনিয়র বউয়ের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি হয়না।

জারা:- ঠিক আছে তুমি নিজেকে আমার থেকে সিনিয়র মনে করো! তুমি যা বলবে আমি তাই শুনবো তাহলে তো আর সিনিয়র জুনিয়র রইলোনা তাইনা? আর তারপরেও যদি আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা তৈরি না হয় তাহলে চলেই যাবো কেমন?

আমি:- ঠিক আছে তাই হবে! জারা খুশি হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে! জারা ওর সব শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরেছে! জারার চুলের গন্ধটা আমায় পাগল করে দিচ্ছে! এক প্রকার জারা আমাকে নিয়ে সোজা খাটের উপর! জারা আমাকে একের পর এক কিস করে যাচ্ছে আমি ছাড়াতে চাচ্ছি কোনো লাভ হয়নি বরং আমি উল্টা জারাকে জড়িয়ে ধরে কিস করতে থাকলাম। দুজনে দুজনকে আপন করে নিলাম! আমাদের দুজনের মধ্যে এমন ভাবে মিলন হবে আমরা দুজনে বুঝতে পারিনি! জারা আমার বুকের উপর শুয়ে আছে!

জারা:- ভালোবাসার আর কোনো কিছুর বাকী আছে?

আমি:- তোমার মাঝে মায়া আছে কি করে তুমি এমনটা করলে?

জারা:- বলেছিনা ভালোবাসতে বাসতে ভালোবাসা হয়ে যাবে! তবে তোমাকে আমার কিছু অতীতের কথা বলার ছিলো।

আমি:- থাক শুনা লাগবেনা! কারণ আমি তোমার অতীত যেনে কি করবো আমি তো তোমাকে ভালোবেসে ফেলছি! বলেই জারাকে জড়িয়ে ধরেছি আজকের রাতটা আমাদের কাছে বাসরের রাত মনে হলো! সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেছি! বাবা হাতে টিকেট ধরিয়ে দিয়েছে! তখনি উপর থেকে চিৎকার শুনতে পেলাম দৌড়ে গিয়ে দেখি জারা নিচে পড়ে আছে আর পা দিয়ে রক্ত পড়ছে!

বাবা:- জারা এমনটা কি করে হলো?

জারা:- কিছু বলতে পারবোনা এখানে কাঁচ ভাঙা পড়ে ছিলো আমি পাড়া দিতেই পায়ে ঢুকে গেছে!

বাবা:- সৌরভ জারাকে নিয়ে হাসপাতালে চল! আমি জারাকে কোলে তোলে নিলাম মা পাটা একটা কাপড় দিয়ে বেদে দিয়েছে! জারাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসেছি! ডাক্তার পাটা ড্রেসিং করে বেন্ডজ করিয়ে দিয়েছে! আর এক সাপ্তাহ ফুল বেড রেস্ট থাকতে বলছে! জারাকে নিয়ে বাড়িতে এসেছি!

মা:- দরজার সামনে কাঁচ ভাংগা কে ফেলেছে?

জারা:- বলতে পারছিনা!

বাবা:- নিশ্চয়ই বাড়ির মধ্যে কেউ একজন হবে! সেটা কে করতে পারে?

আমি:- বাবা যখন আমি নিচে আসতেছি তখন তো ভাবিকে ঐ দিকে যেতে দেখছি! তখনি ভাবি কিছু বলতে ছিলো আর জারা বলে উঠে।

জারা:- বাবা ভাবি আমাকে বলছে কাঁচ ভাঙা নিচে পড়ে আছে তুমি দেখে এসো কেমন! আমি খিয়াল করিনি আমাকে ক্ষমা করে দিন এখানে ভাবির কোনো দোষ নেই! তখনি ভাবি হাফ ছেড়ে বেচেছে!

বাবা:- আচ্ছা আমি বুঝতে পারছি! বাড়ির সবাই এখানে আছো আমি একটা কথা বলে দেয়! জারাকে আমি সৌরভের বউ করে আনছি জারা বড় তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখিনা! এতে করে কারো কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলতে পারো!

চাচা:- না ভাই কারো কোনো সমস্যা নেই! বড় বউমা আমাকে বলেছে ব্যপারটা! জারা অনেক ভালো মেয়ে তাই নিজের উপর দোষ নিয়ে গেছে!

চাচিমা:- হ্যা ভাইজান জারা সত্যি ভালো মেয়ে!

ভাবি:- আব্বাজান আমাকে ক্ষমা করে দিন! আমি ইচ্ছে করে এমন কাজ করেছি আমাকে ক্ষমা করে দিন।

ভাইয়া:- না তোমার কোনো ক্ষমা নেই! তুমি চিন্তা করে কাজটা করার দরকার ছিলো!

বাবা:- সাহেদ ক্ষমা করা মহৎ গুন যা সবার মাঝে থাকেনা! জারা তো নিজেই ক্ষমা করে দিয়েছে! এখানে আমরা ক্ষমা না করার কি আছে? তাহলে আজ থেকে আমাদের সংসারে সবাই সবাইকে সাহায্য করবো কেমন! বাবা আরো কিছু কথা বলছে এরপর জারাকে নিয়ে রুমে এসেছি! জারাকে খাটের উপরে শুয়ে দিয়েছি!

জারা:- সত্যিই বাবা মায়ের সিদ্যান্ত গুলি সব সময় সঠিক হয়! ওনারা সন্তানের জন্য কখনো খারাপ সিদ্যান্ত নেইনা! আমি আজ অনেক ভাগ্যবান তোমার মত স্বামী পেয়ে!

আমি:- কথা কম বলে শুয়ে থাকো বরং আমি লাকী তোমাকে বউ হিসাবে পেয়ে! দেখতে দেখতে জারার পা ভালো হয়ে গেছে! আমি জারাকে অনেক সেবা যত্ন করেছি! এখন মুটামুটি আমাদে মাঝে কোনো ঝগড়া হয়না! আমি অফিসে ঠিক মত কাজ করছি।

ম্যাডাম:- সৌরভ আমাদের চ্যারম্যান স্যারের মেয়ে এসেছে! তোমাকে ওনার কেবিনে যেতে বলছে!

আমি:- যাচ্ছি মেম! আমি কেবিনে গিয়ে মে কামিন!

ইয়েস কামিন! ভিতরে ঢুকে তো আমি অবাক কারণ আমার সামনে জারা বসে আছে!

আমি:- জারা তুমি?

জারা:- হ্যা এইটা তো আমাদের কম্পানি আর বাবা তোমাকে চাকরিটা দিয়েছে! এসো আজ থেকে তুমি এখানে বসবে! বাবার অবর্তমানে সব কিছু তুমি সামলিয়ে নিবে!

আমি:- নাহ তা কি করেরে হয়! তুমি বসো আমি তোমাকে সাপুট করবো! দুজনে এক সাথে রোজ অফিসে আসবো আর যাবো!

জারা:- তোমার বন্ধুরা যদি তোমাকে নিয়ে মজা করে?

আমি:- ওদেরকে বুঝতে দিবো নাকী তুমি আমার বড়! আর তুমি আমার থেকে ছোট কথাটা তুমি ভুলে গেলে?

জারা:- হ্যা মনে পড়েছে!

আমি:- যদিও বুঝে তাতে আমার কি? তাছাড়া জীবনটা আমার আমি সূখে থাকলে হয়ছে! আর সিনিয়র বউ হলে ভালোই হয় কি বলো?

জারা:- চলো তোমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়! জারা বাহিরে এসে আমাকে ওর বর বলে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে! জারাকে নিয়ে এখন সময়টা খুব ভালো যাচ্ছে! বাড়িতে ছোট্ট একটা পার্টি দিয়ে জারার আর আমার বিয়ের খবরটা আমাদের সব বন্ধু আর আত্বীয় স্বজনদের মাঝে পৌছে দিলাম! দেখতে দেখতে আট মাস শেষ! এমনি মা এসে বলে।

মা:- সৌরভ আমি কি ডির্ভোসের কাগজ তৈরি করাবো?

আমি:- কার ডির্ভোসেরর কাগজ?

মা:- তোর আর জারার?

আমি:- কি বলছো তুমি?

মা:- কেনো মনে নেই বিয়ের আগে কি বলছিলি?

আমি:- ভুল হয়ে গেছে সেইটা তো ভাবির জন্য বলছিলাম! ভাবি বলছিলো জারা ভালোনা কালো ইত্যাদি। এখন এসবের কোনো দরকার নেই আর কিছুদিন পর দাদি হবে দাদি কথাটা বলে চলে এসেছি! জারার সাথে এখন সময়টা ভালোই কাটছে দুজনে মিলে সুন্দর করে সংসার করছি!
!!
সমাপ্তি!! গল্পটা ছোট্ট করে শেষ করে দিলাম! কারণ অনেকই বলছেন গল্পটার কাহিনি নাকী একিই রকম লাগছে তাই। হ্যা নতুন কোনো গল্প নিয়ে আসবো একদম ভিন্ন স্টোরি ভিন্ন কাহিনি নিয়ে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here