সিক্রেট_এজেন্ট পর্বঃ ০৮

0
1292

সিক্রেট_এজেন্ট পর্বঃ ০৮
– আবির খান

আফরান চিঠিটা পড়ে ঠাস করে বিছানায় বসে পরে। চারদিক কেমন অন্ধকার হয়ে আসছে। আফরান বিশ্বাস করতে পারছে না রূপা ওকে এভাবে না বলে চলে যাবে। তাহলে কি ওর ভালোবাসা এতোই দূর্বল ছিলো যে রূপাকে আটকাতে পারেনি। আফরানের প্রচন্ড রাগ হচ্ছে এখন রূপার উপর। আর তার চেয়েও বেশি রাগ হচ্ছে জাফর খানের উপর। এবার জাফর খান শেষ। আমাকে শেষ করতে লোক পাঠানো না। তুই আমার মন ভেঙে দিয়েছিস জাফর এবার দেখবি আফরান কি জিনিস।

পরক্ষণেই রূপাকে হারিয়ে ফেলায় আফরানের অনেক কষ্ট হচ্ছে। রূপাকে ও যেভাবে হোক খুঁজে বের করবেই। ও একজন সিক্রেট এজেন্ট। ওর কাছে এটা কোনো ব্যাপারই না। আফরান ওর বন্ধুদের কল দিয়ে ওর রুমে আসতে বলে। কিছুক্ষণ পর ওর বন্ধুরা সবাই চলে আসে।

সালমানঃ কিরে রূপা কই?? অবাক হয়ে।

বাকিরাঃ হ্যাঁ হ্যাঁ রূপা কই দোস্ত??

আফরান সবার দিকে চিঠিটা এগিয়ে দেয়। সবাই চিঠিটা নিয়ে পড়ে যেন একটা বিশাল বড় সক খায়।

সালমানঃ দোস্ত ভেঙে পরিস না। এখন কি করবি বল??

সবাইঃ হ্যাঁ দোস্ত তুই খালি হুকুম কর।

আফরানঃ অনেক সময় নষ্ট করছি। এবার সোয়েব আর কিবরিয়ার শেষটা করতে চাই। আর ওদেরকে ধরলেই জাফর খান কই আছে জানা যাবে। আর রূপা, ওকে আমি ঠিকই বের করবো। রূপাকে আমার চাই চাই।

সবাইঃ ওকে দোস্ত।

আফরানঃ সোয়েব আর কিবরিয়া এখন কই আছে খুঁজে বের কর। এই তিন জনরে বের করতেই হবে। আর আজ আমরা এখনই ঢাকাতে ফিরে যাবো। আমার সোর্স বলছে, সোয়েব আর কিবরিয়া ঢাকাতে চলে গেছে। আমাকে ফাসানোর জন্য এখনো আসছিলো।

মামুনঃ দোস্ত চল। আবার শুরু করি। আর্মস গুলাও অলস হইয়া যাইতাছে।

সবাইঃ হ্যাঁ দোস্ত। চল। এবার জাফর খান শেষ।

আফরানঃ সব গুছিয়ে নে আমরা এখনই রওনা দিবো।

সবাইঃ ওকে দোস্ত।

আফরানরা ওদের সব গুছিয়ে ওদের সিক্রেট বেইস থেকে আর্মসগুলো নিয়ে রওনা দেয় ঢাকায়।

পরদিন সকালে,

জাফর খানঃ তোমার এত্তো বড় সাহস। তুমি আমার শত্রু পক্ষকে না মেরে এখানে চলে এসেছো। তোমাকে তাহলে পাঠিয়ে ছিলাম কেনো?? আজ অবধি একটা মিশনেও তুমি ফেল করো নি আজ তাহলে কি হলো?? রাগী ভাবে।

রূপাঃ আপনার আর কোনো খারাপ কাজে আমি নেই। আর কতটা খারাপ বানাবেন আমাকে?? নিজের পরিচয় দিতেও এখন ঘৃনা করে। পরিচয়হীনতায় ভুগছি অামি। এসবের শেষ একটাই, মৃত্যু। আমার পক্ষে এভাবে মারা যাওয়া সম্ভব না। আমি বাঁচতে চাই এই দুনিয়াটাকে আরেকটু দেখতে চাই। জোর দিয়ে কাঁদো কণ্ঠে বলল।

জাফর খানঃ রূপা, তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো?? বাসায় যাও। তোমাকে আর এসবের মধ্যে জড়াতে হবে না। আমার বুঝা শেষ। তুমি আফরানকে কেনো মার‍তে পারো নি। রূপা, মাথার মধ্য থেকে ওসব চিন্তা বাদ দাও। নাহলে আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবো।

রূপাঃ হলে হবো। কারণ এই পথে চললে আজ না হয় একদিন আমাদের ধ্বংস হবেই।

রূপা এসব বলেই কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। আফরানের ভালোবাসায় রূপা আটকে গিয়েছে। আফরানকে ছাড়া একমুহূর্তও এখন ওর ভালো লাগছে না। রূপা বাসায় এসে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পরে। সত্যিই আফরান ছাড়া রূপার আর কেউ নেই।

অন্যদিকে,

নিলয়ঃ দোস্ত, সোয়েব আর কিবরিয়ার খবর পেয়েছি। ওরা হোটেল রেডিসনে লুকিয়ে আছে।

আফরানঃ বাহ!! তাহলে আজ রাতে ওদের ওখানেই শেষ করবো।

বাকিরাঃ ওকে দোস্ত।

রাত ১১.৪৫ মিনিট,

রাফি ওয়েটারের ড্রেস পরে নিয়েছে। রাফিকেকে ওরা চিনে না। ১২০৭ নং রুমে ওরা আছে। হোটেলের সাথে আগেই কথা বলা শেষ আফরানের। রাত ১২ টার দিকে ওই রুম থেকে মদের অর্ডার আসে। আফরান রাফিকে একটা বড় টলিতে করে মদ নিয়ে পাঠায়। সেই টলির একপাশে আফরান আর আরেকপাশে সালমান বসে আছে আর্মস নিয়ে। উপর থেকে বড় কাপড় ফেলা। ফলে ওদের কেউ দেখে না।

রাফি ওদের রুমের সামনে কি বেল দিতেই সোয়েব দরজা খুলে দেয়। রাফি ভিতরে গিয়ে দেখে চারজন গুন্ডা ওদের সাথে বসে আছে। মানে ওদের দেহরক্ষি ওরা।

রাফি পা দিয়ে ফ্লোরে চারবার শব্দ করলো। আর বলল,

রাফিঃ অ্যাটাকককক…

রাফি অ্যাটাক বলার সাথে সাথেই আফরান আর সালমান বের হয়ে ওই চারজন গুন্ডাকে মেরে ফেলে। সোয়েব আর কিবরিয়া ভয়ে অবস্থা খারাপ। ওই ৪ জন মারা যাবার সাথে সাথেই আফরানের বাকি বন্ধুরা রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়।

আফরানঃ আমাকে মারতে পাঠাস না?? পেরেছিস?? একটা মাসুম মেয়েকে তোরা পাঠিয়েছিস আমাকে মারতে?? বল জাফর খান কই?? নাহলে এই ৬ জনের গুলিতে তোরা ঝাজড়া হয়ে যাবি। বল কই??

সোয়েবঃ আমরা সত্যিই জানি জাফর খান কই। উনি আমাদের এখন আর বিশ্বাস করে না। উনি বলে নায় উনি কই পলাইছে। ভয়ে ভয়ে বলল।

আফরানঃ এসব নাটক আমাদের সাথে করবি না। না হলে এখনই কিন্তু রাউন্ড সব খালি করে দিবো।

কিবরিয়াঃ না না। সত্যিই আমরা জানি না। আমরা জানলে কি আর এখানে পলাই?? অসহায় ভাবে।

আফরানঃ জাফর খানরে ফোন দে। রাগী ভাবে।

সোয়েব তাড়াতাড়ি জাফর খানকে ফোন দেয়। আফরান ফোনটা ঠাস করে টান মেরে নিয়ে যায়।

জাফর খানঃ কিরে এতো রাতে ফোন দিছোস ক্যা??

আফরানঃ তোর ডান আর বাম হাত ভেঙে দিচ্ছি জাফর। আমাকে মারতে একটা মেয়েকে পাঠাস না?? আমাকে ভাবছিস টা কি?? ওরা জানে না তুই কোথায়। এখন যদি তুই বলিস তুই কোথায় তাহলে ওদের ছেড়ে দিবো। নাহলে এখনই মেরে ফেলবো।

আফরান ফোনটা লাউড স্পিকারে দিলো।

জাফর খানঃ মেরে ফেল ওদের। ওদের মতো মাফিয়া আমার পকেটে থাকে। মেরে ফেল দুইটারে। ওদের জন্য মরবো আমি!!! আমি কি পাগল নাকি!!

আফরান ফোন কেঁটে দেয়। আর বলে,

আফরানঃ এই হলো তোদের বস। এই হলো তার আসল রূপ। ওর জন্য এখন তোরা মরবি।

সোয়েব আর কিবরিয়া এসে আফরানের পা ধরে কাঁদতে কাঁদতে জীবন ভিক্ষা চাচ্ছে অনেক মিনতি করে।

আফরানঃ আচ্ছা যা তোদের জান অামি ভিক্ষা দিবো। তবে তোদের যতসব টাকা আছে দুনিয়ার যেসব দেশে সব সরকারি একাউন্টে পাঠা। মামুন লেপটপটা দে।

সোয়েব আর কিবরিয়া ওদের সব টাকা পাঠিয়ে দেয় সরকারি একাউন্টে।

কিবরিয়াঃ ভাই দিসি এখন আমাদের ছেড়ে দে।

আফরানঃ দাঁড়া এতো তাড়াহুড়ো কিসের। এখন বল, এই রূপা কোথায়?? ওর সব ডিটেইলস আমার চাই।

সোয়েবঃ বলবো কিন্তু এরপর আমাদের ছেড়ে দিতে হবে।

আফরানঃ আরে ছাড়বো ছাড়বো। আগে বল।

সোয়েব রূপার সব ডিটেইলস বলল। সোয়েবের কথা শুনে আফরান বেশ মজাই পেলো। সাথে বাকিরাও।

আফরানঃ রূপা আমি আসছি। আচ্ছা তাহলে তোরা থাক আমরা আসি।

সোয়েব আর কিবরিয়াঃ ধন্যবাদ ভাই।

সোয়েব আর কিবরিয়া অনেক খুশি। বেঁচে গেছে ওরা। আফরান আর বাকিরা চলেই যাচ্ছিলো। কিন্তু আবার ওদের দিকে তাকিয়ে বলল,

আফরানঃ আসলে তোদের ছেড়ে দিতাম। কিন্তু তোরা সবচেয়ে খারাপ দুইটা কাজ করতি। আফরান দুজনকে গুলি করতে করতে বলে, এক নারী পাঁচার, দুই মাদক বিক্রি।

সোয়েব আর কিবরিয়া শেষ। জাফর খানের পাওয়া এবার প্রায় শেষ। আর ওকে ধরার জন্য বুদ্ধিও পেয়ে গেছে আফরান।

আফরান হাসান সাহেবকে ফোন দিলো।

হাসান সাহেবঃ আরে আফরান কি খবর?? কই তোমরা??

আফরানঃ আঙ্কেল, সোয়েব আর কিবরিয়াকে মাত্র শেষ করলাম। জাফর খানও এখন হাতের মুঠোয়।

হাসান সাহেবঃ বাহ!! সাব্বাশ।

আফরানঃ আমি হোটেলের এড্রেস পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি এসে হ্যান্ডেল করেন।

হাসান সাহেবঃ ওকে আমি আসছি।

আফরানঃ চল। মিশনের ৮০% শেষ। জাফর খান এবার তুই রেডি থাক। তবে তার আগে একজনের সাথে আমার কিছু বোঝাপড়া আছে।

সালমানঃ কি করবি??

আফরানঃ কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলবো। চল।

আফরানরা চলে যায়।

পরদিন রাতে রূপার বাসায়,

রূপা খাওয়া দাওয়া একদম ছেড়েই দিয়েছে। ওর কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে৷ শীতের একটা ঠান্ডা ভাব পরেছে। আফরান যে সোয়েব আর কিবরিয়াকে মেরে ফেলছে রূপা তা জানে। রূপার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। বাসায় আসার পর থেকেই শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। রূপার অনেক ঠান্ডা করছে বলে নিচে বাসায় চলে যায়। ওর বাসায় শুধু ও আর কিছু গুন্ডারা থাকে। আর কিছু চাকর এই। রূপা ওর রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে বিছানায় গিয়ে এক পাশ হয়ে শুয়ে পরে৷ রূপা অশ্রুসিক্ত নয়নদ্বয় বন্ধ করার কিছুক্ষণ পরই ওর মুখে গরম ঘন নিঃশ্বাস পরে। রূপা চোখ খুলে যাকে দেখে তাকে দেখে চিৎকার করতে নিলে সে রূপার মুখটা বন্ধ করে দেয় ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here