সিক্রেট এজেন্ট পর্বঃ ০৭

0
1633

সিক্রেট এজেন্ট পর্বঃ ০৭
– আবির খান

কাল রূপাকে প্রপোজ করবো ডিরেক্ট বিয়ের জন্য। আমার বিশ্বাস ও কখনো না করবে না। হঠাৎ পিছন থেকে আফরানকে রূপা ডাক দিলো।

রূপাঃ এই যে শুনুন। আস্তে করে।

আফরান পিছনে তাকিয়ে রূপাকে দেখেতো আবার প্রেমে পরে গেলো। একটা মেয়ে কি করে এতো সুন্দর হয়। কি সুন্দর চুলগুলো বেঁধে নীল জামাটা পরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখই সরাতে পারছে না আফরান। হা করে তাকিয়ে আছে। রূপার মুখে এমন এক মায়া আছে যা আফরানকে ওর প্রতি অনেক দূর্বল করে তুলে। আফরান শুধু মুগ্ধ হয়ে রূপাকে দেখছে।

রূপাঃ এভাবে কি দেখছেন?? যাবেন না??

আফরানঃ যতবারই তোমার সাথে বের হতে যাবো ততবারই তোমার এই মায়াবী মধুর মুখখানা আমাকে আটকে দেয়। যেতে ইচ্ছা করে না বাইরে। মনে চায় তোমাকে বসিয়ে শুধু তোমাকেই মন ভরে দেখি।

রূপাঃ আপনি কি পাগল হয়ে গিয়েছেন?? লজ্জাসিক্ত কণ্ঠে।

আফরানঃ হ্যাঁ তোমার প্রে….. না মানে কিছু না চলো।

রূপাঃ হুম। (বললে কি হতো??)

এরপর আফরান, রূপা আর বাকি বন্ধুরা মিলে সবাই বিচে ঘুরতে যায়৷ আফরানের বন্ধুরা সামনে একসাথে হাঁটছে আর আফরান আর রূপা একসাথে হাঁটছে।

আফরানঃ দোস্ত তোরা সামনে যা আমি রূপাকে নিয়ে ওদিকটায় ঘুরে আসি।

সবাইঃ আচ্ছা যা।

আফরানঃ চলো রূপা আমরা ওদিকটায় যাই। তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো।

রূপাঃ হুম।

আফরান আর রূপা পাশাপাশি হাঁটছে। দুজনেই চুপচাপ। রূপার কাছে এইমুহূর্তটা খুব সুন্দর। তবে ওর মনে কিছু প্রশ্ন আছে যা ওকে জানতে হবে। তাই রূপা নিস্তব্ধতা ভেঙে বলল,

রূপাঃ একটা প্রশ্ন করি আপনাকে?? শান্ত গলায়।

আফরানঃ হ্যাঁ বলো।

রূপাঃ আপনি অন্ধের মতো আমাকে এতো বিশ্বাস করে নিজের এতোটা কাছে টেনে নিলেন কেনো?? আমিতো আপনার কোনো ক্ষতিও করতে পারি।

আফরান হাঁটা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। সাথে রূপাও। আফরান রূপার সামনে এসে দাঁড়ায়। রূপার দু’কাঁধে হাত রেখে বলে,

আফরানঃ তোমার দুচোখ আমি প্রথমে পড়তে পারিনি। কিন্তু আস্তে আস্তে আমি তোমার দুচোখ পড়ে ফেলেছি। সেখানে আমার ক্ষতি করবে বলে তোমাকে আমি দেখেনি। আমি সেখানে দেখেছি আমার জন্য তোমার অন্যরকম অনুভূতি।

রূপাঃ মানুষের চোখ কি সবসময় সত্য কথা বলে??

আফরানঃ আমি যদি মিথ্যা হই। তাহলে তুমি আমার বড়জোর কি ক্ষতি করবে?? আমাকে মারবে?? মেরে ফেলো তাহলে এখন। তোমার হাতে মরতেও আমি রাজি।

রূপাঃ কাউকে এতোটা বিশ্বাস করা ঠিক না। পরে সে বিশ্বাস ভাংলে অনেক কষ্ট হয়।

আফরানঃ তুমি এভাবে বলছো কেনো?? কি হয়েছে তোমার?? অবাক হয়ে।

রূপাঃ না না কিছু হয়নি। আচ্ছা চলুন আপনি কোথায় যেন নিয়ে যাবেন সেদিকটায় যাই।

আফরানঃ আচ্ছা চলো।

আফরান আর রূপা পাশাপাশি হাঁটছে। আবার সেই আগের নিরবতা। আফরান রূপার হাতটা ধরে আছে। রূপা বারবার সেটাই দেখছে। ওর খুব কান্না পাচ্ছে। এতো ভালো মানুষটার কোনো ক্ষতি ও কোনোদিন করতে পারবেনা। রূপাকে আফরান পাগলের মতো যে ভালোবাসে তা রূপা বুঝে গিয়েছে। কিন্তু রূপা যে কখনোই আফরানের হতে পারবে না। এ কোনোদিন সম্ভব না। রূপার খুব ইচ্ছে হচ্ছে আজকে আফরানের সাথে কিছু ভালো সময় কাটানোর। হয়তো এই শেষ। আর না।

রূপাঃ একটা কথা বলি??

আফরানঃ দুইটা বলো। হাজারটা বলো।

রূপাঃ আপনি খুব ভালো একজন মানুষ। আপনাকে সবাই অনেক ভালোবাসবে। আপনি সবার মনের মধ্যে নিজের জন্য জায়গায় করে নেন খুব সহজেই।

আফরান রসিকতার ছলে বলে,

আফরানঃ তার মানে কি তোমার মনেও আমি জায়গায় করে নিয়েছি?? তুমিও আমাকে ভালোবাসো?? হুম??

রূপা অনেকটা লজ্জা পায়। আর বলে,

রূপাঃ আমি কি তা বলেছি নাকি। তবে আপনাকে আমার ভালো লাগে। আস্তে করে।

আফরানঃ কি বললে??

রূপাঃ না কিছু না। আর কত দূর??

আফরানঃ ওইতো সামনে।

আফরান রূপাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যায়, সেখানে তেমন কোনো লোকজন নেই। সমুদ্রের পাড়ে অনেক পাথর ফেলা। আফরান রূপাকে সাবধানে সেখানে নিয়ে ওরা একটা পাথরের উপর বসে।

রূপাঃ এখানে??

আফরানঃ একটু পর সূর্য মামা অস্ত যাবে। এখানে বসে খুব সুন্দর করে দেখা যায়৷ দেখবে খুব ভালো লাগবে তোমার।

রূপাঃ আচ্ছা।

রূপা তাকিয়ে আছে সমুদ্রের দিকে। মিষ্টি বাতাস বয়ে আসছে ওদের কাছে। রূপার খোলা চুল গুলো বাতাসে উড়ছে। আফরান তাকিয়ে তাকিয়ে তা দেখছে। এরপর সূর্য মামা অস্ত গেলো। রূপা সে সময়টা খুব উপভোগ করলো।

আফরানঃ চলো, তোমাকে আজ মজার জিনিস খাওয়াই।

রূপাঃ কি??

আফরানঃ আগে উঠো।

রূপা আফরানের হাত ধরে উঠে পাড়ে গিয়ে দাঁড়ায়।

রূপাঃ কি খাওয়াবেন??

আফরানঃ এখানে আমাদের সামনে চিংড়ি আর বিভিন্ন মাছ ভেজে দেয়। খুব মজার। চলো খাবে।

রূপাঃ আচ্ছা চলুন।

এরপর আফরান আর রূপা অনেক মজা করে চিংড়ি আর ফিস ফ্রাই খেলো। এখন রাত ৯ টা প্রায়। আজ আকাশে চাঁদ আছে। জ্যোৎস্নাময় রাতে রূপা আফরানের হাত ধরে ওর সাথে মিশে হাটঁছে।

রূপাঃ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের আর খুশির মুহূর্ত গুলো সব আপনার সাথেই কাটলো। জীবন যে এতো সুন্দর আর ভালোবাসাপূর্ণ হতে পারে জানা ছিলো না৷ তবে…

আফরানঃ তবে কি??

রূপাঃ না কিছু না। আচ্ছা একটা রিকোয়েস্ট করি??

আফরানঃ হ্যাঁ হ্যাঁ করো।

রূপাঃ চলুন না আজ আমাদের হোটেলে বসে জ্যোৎস্নাবিলাস করি। আপনার সাথে গল্প করবো আর জ্যোৎস্না রাত উপভোগ করবো।

আফরানঃ বাবাহ!! আচ্ছা চলো।

এরপর আফরান আর রূপা হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে দুজনে দুকাপ কফি নিয়ে বারান্দায় বসে জ্যোৎস্না বিলাস করছে। অবশ্য আমাদের আফরান শুধু রূপার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। রূপাকে জ্যোৎস্নার আলোতে কি যে সুন্দর লাগছিলো তা বলার বাইরে। আফরান ভাবছে, রূপা, শুধু আজকের এই রাতটা পাড় হলেই হয়। কালকে আমার মনের সব কথা তোমাকে বলে দিবো৷ তুমি শুধু আমার হবে শুধু আমার৷ রূপার এই অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে আফরান একসময় ঘুমিয়ে পরে। কখন যে চোখ লেগে যায় আফরান তা নিজেও জানে না৷

সকালে,

রোদের আলো এসে আফরানের মুখে পরতেই আফরানের ঘুম ভেঙে যায়। আফরান চোখ খুলে তাকায়। ভালো মতো উঠে বসে। বারান্দায় শুধু ও একা রূপা নাই। আফরান আস্তে করে উঠে ভিতরে যায় এই ভেবে যে হয়তো রূপা ভিতরে ঘুমিয়ে আছে। আফরান ভিতরে এসে অবাক। কেউ রুমে নেই। বিছানার উপর শুধু একটা কাগজ পড়া। আফরান দ্রুত কাগজটা তুলে খুলে পড়তে শুরু করে। সেখানে লেখাছিলো এমন,

“প্রিয় আফরান,

প্রথমের আপনার কাছে মাফ চাচ্ছি। আমি কোনো অসহায় দুঃখী মেয়ে না। আমি কে জানেন?? আমি একজন হত্যাকারী। আপনাকেও মারতে এসেছিলাম। কিন্তু পারিনি। পারবো কিভাবে?? আপনার মতো ভালো মানুষ আমি কখনো দেখিনি। আপনাকে আমি সেদিন রাতেই মেরে ফেলতাম। যদি আপনি আমাকে আপনার রুমে একা পেয়ে খারাপ কিছু করতেন। কিন্তু না, আপনি এতোটা ভালো যে আপনার বিছানায় আপনার পাশে থাকা স্বত্তেও আপনি আমাকে বিন্দুমাত্র ছুয়ে দেখেন নি। বরং ভালোবেসে আগলে রেখেছেন। হ্যাঁ এই ভালোবাসা, আপনার এই ভালোবাসার কাছেই আমি হেরে গিয়েছি। আমি বুঝে গিয়েছি আপনি আমাকে কতটা ভালোবাসেন। আমার মতো পাষাণ হৃদয়ের মেয়েকে আপনি পরিবর্তন করে দিয়েছেন। আপনাকে আমি যা বলেছি তার সবই সত্য। আমার মা নেই। সেও খুব কষ্টে মারা গেছেন আমাকে একা ফেলে। মিথ্যার মধ্যে শুধু বলেছি আমি সাধারণ মেয়ে। জানেন আমিও না আপনার ভালোবাসায় আটকে গিয়েছি। আপনি সেদিন বিকেলে যে আমার ঠোঁটটা স্পর্শ করেছেন, বিশ্বাস করবেন না আমার যে তখন কতটা ভালো লাগছিলো। কিন্তু মুহূর্তেই আমার আসল পরিচয় এর কথা মনে পরে। মনের মধ্যে একরাশ কষ্ট নিয়ে আপনাকে থামিয়ে দি। আমি পারিনি আপনার কোনো ক্ষতি করতে। আর পারবোও না। জানি আমাকে আপনি এখন অনেক ঘৃনা করবেন। করুন আমিও তাই চাচ্ছি। আমার ভাগ্যে আপনার মতো একজন ভালো মানুষ এবং তার ভালোবাসা নাই। আমার জীবন অন্ধকারে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় আর নেই। আমি কে?? কোথায় আমি তা কোনো দিন জানার চেষ্টা করবেন না। আমাকে আর কখনো আপনি পাবেন না। আমি অনেক দূরে চলে এসেছি। আপনার কাছে থাকলে আপনার ক্ষতি অবশ্যই হতো। আমি না করলেও আমার লোকরা করতো৷ তাই চলে যাচ্ছি অনেক দূরে। ভালোবাসি আর শোনা হলো না। আজ আমি অনেক কাঁদবো। এই ভেবে কেনো আপনি আমার হলেন না। ভালো থাকবেন।

ইতি,
একজন অভাগী।

আফরান চিঠিটা পড়ে ঠাস করে বিছানায় বসে পরে। চারদিক কেমন অন্ধকার হয়ে আসছে। আকাশে মেঘ জমছে। খুব বৃষ্টি হবে আজ। এপারেও ওপারেও।

চলবে….?

সবার অনেক বেশি সাড়া চাই। বাকি অংশে অনেক রোমাঞ্চকর ভাব আছে। যা আপনাকে অনেক আনন্দ দিবে৷ তাই সাথে থাকবেন। আর কেমন লেগেছে জানিয়েন কিন্তু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here