সন্দেহ পর্বঃ ২৬

0
1325

সন্দেহ
সৌরভে_সুবাসিনী(moon)
পর্বঃ ২৬
.

.
সাম্য অনুর রুমে এসে দেখে সত্যি অনু চলে গেছে। অনু কেনো গেলো? এত কষ্টের কি দরকার? এতটা শাস্তি কেনো দিচ্ছে সে সাম্য কে?
রেগে সাম্য বেরিয়ে যাচ্ছিলো।
ওর বাবা আটকিয়ে যেতে নিষেধ করে।
ও গেলে ঝামেলা আরো বাড়বে।

মেয়েটা যদি নিলয়ের সাথে থেকে খুশি থাকে তাহলে তাই থাকুক না।।

.
অনুর খুশিই তো সব। অনু যদি এটাই চায় তবে তাই হবে সাম্য যাবে না অনুর সামনে।
.
সকালের খাবার সামনে আনতেই দুচোখের বাধ ভাঙলো সাম্যর।
খুব কান্না পাচ্ছে। কাল মেয়েটা বলেছিলো গরম গরম ভাত দিয়ে গরুর মাংস খেতে ইচ্ছা করছে সাথে কাঁচকলা ভর্তা। কাল রাতেও খেতে পারেনি। নিলয়ের ব্যবহারে আজ হয়তো না খেয়েই চলে গেছে।
.
অনুর রুমে গিয়ে টেবিলে অনুর আধ খাওয়া ভাতের প্লেট রয়েছে।
হাতে নিয়ে সেখানে থেকে খাবার মুখে নিয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো সে।
মনে হচ্ছে আত্না টা যেনো কেউ বের করে নিচ্ছে।
.
.
সারা রাস্তা অনুর সাথে নিলয় কথা বলেনি।
রাস্তার গরমে, এসির গন্ধে দুবার বমি করেছে অনু।
সেদিকেও কোন কিছু বলেনি নিলয়। বাসার রাস্তায় এসে ওকে নামিয়ে দিয়ে একাই উপরে উঠেছে ।
অনু খুব ধীরগতিতে রুমে এলো।
এটুক আসতেই বুঝি হাপিয়ে গেছে।
ঢকঢক করে দুগ্লাস পানি খেয়ে নিয়েছে।
প্রচন্ডরকম ক্ষুধা পেয়েছে কিন্তু উঠার শক্তি নেই।
গা এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে গেছে।
.
ঘুম ভাংলো দুপুরের দিকে। ক্ষুধা পেয়েছে খুব সেই কাল রাতে সীমন্তিনী কয়েক লোকমা ভাত খাইয়েছিলো। তারপর আর কিছু খাওয়া হয়নি। এতক্ষণ ওখানে থাকলে সাম্যদা বাড়ি মাথায় তুলে নিতো সবাই কে বকতে বকতে।
সাত পাঁচ ভেবে অনু লাগেজ খুজছিলো কিন্তু পেলো না।
জানালা দিয়ে দেখলো বাহিরে রাখা । নিলয় হয়তো আনতে ভুলে গেছে।
আবার নেমে গিয়ে অনু লাগেজ নিয়ে আসছে।
এবার কষ্ট একটু বেশিই হলো।কাজের মেয়ে দৌড়ে এসে বললো ও নিয়ে দিচ্ছে। অনু পারবে বলে নিজেই নিয়ে এসেছে।
রুমে এসে ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে এলো।
কাজের মেয়ে শুটকি রান্না করেছে কারণ বাসায় কেউ নেই। বাবা – মা গ্রামে, নিলয়,নীলাভ্র,নীল অফিসে, আশা ক্লিনিকে আর ইরা ওর বাবার বাসায়। ফিরে আসবে সন্ধ্যের আগেই।
সে জানতো না অনু আসবে তাই….
.
.
অনু কিছু না বলেই ভাত খাওয়া শুরু করে। মনে হচ্ছে অমৃত খাচ্ছে। অথচ এর গন্ধে কতই না বমি করতো।
আজ যে বড্ড মা কে মনে হচ্ছে অনুর৷
বাবা নামক প্রানীটা কে তার বড্ড দেখতে ইচ্ছা করছে। মায়ের কবর টা স্পর্শ করতে ইচ্ছে করছে।
.
.
.
লাঞ্চ ব্রেকে নিলয় বসে আছে। অনুর প্রতি রাগ কমছে না। ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে চড় মারতে। প্রেগন্যান্ট না হলে বুঝিয়ে দিতো।
সাম্যকে ভালোবাসলে কেনো তাকে ঠকালো।
কি মিষ্টি ভাবে ছলনা করেছে তার সাথে অনু।
.
.
হঠাৎ নীলাভ্র কল দিয়ে বলে ইরা কে নিয়ে আসতে। প্রথমে না করলেও পরে সে রাজি হয়ে যায়।
ইরাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নিলয় কল দেয় আসতে।
কিন্তু যেহেতু ওর ফুপুর বাড়ি তাই যেতেই হয় ভিতরে।
.
নিলয় কে দেখে থমকে গেছে ইরা। এ কি অবস্থা? হাত ধরে রুমে নিয়ে এসে শাওয়ার নিতে বলে।
নিলয় না করলেও ইরার সাথে পারে না।
মেয়েটা এত জেদি কেনো?
.
নিলয় এখন অনেকটা ফ্রেশ মুডে আছে । সারাদিন পর গোসল খাওয়া ওর মুড অনেকটা ভালো করে দিয়েছে।
.
ইরা কে নিয়ে বিকেলে বেরিয়ে এলো নিলয়।
মাঝপথে ইরার বায়না, সে ফুচকা খাবে।
যেহেতু ইরা প্রেগন্যান্ট তাই নিলয় না করে না।
.
দুজনে বেশ ভালোই সময় কাটালো। খুব ভালো লাগছে ইরার। কিছু অপূর্ণ চাওয়া পূরণ করতে পারছে।
.
.
সারাদিন অনুর খবর না পেয়ে অস্থির হয়ে আছে ওর মামা৷ না জানি কেমন আছে মেয়েটা। সাম্যর অধিকার খাটানো কি কাল হয়ে দাড়ালো? বড্ড ভয় হচ্ছে৷ কি আছে মেয়েটার কপালে। শেষ অবধি সুখের দেখা পাবে তো?
.
.
ইরা- অনু কেমন আছে?
.
অনুর কথা মনে হতেই নিলয়ের মুখের রঙ পাল্টে গেছে। স্বাভাবিকভাবে থাকতে চাইছে নিলয়।
.
.
– হুম ভালো আছে।
– আমি সব টা জানি। আমার থেকে লুকিয়ে কি লাভ?
.
নিলয় চুপচাপ তাকায় ইরার দিকে।
.
.
দেখ নিলয়! যত কাছের ভাই হোক না কেনো বিয়ে পর বোনের বাড়ি এসে জড়িয়ে ধরে না।
তারপর তাকে নিয়ে এত চিন্তা? এসব স্বাভাবিক না।
স্বামী ব্যাতিত অন্য কেউ নাকফুল দেয়? এসব কেনো ভাবিস নি?
.
নিলয় চুপচাপ। কি বলবে সে সত্যি তো।
.
.
ক্যাম্পাস যাওয়া বন্ধ করলি এত গার্ডে রাখলি তাও কি হলো?
তোর তো এত দ্রুত বাচ্চার প্ল্যান ছিলো না। ফিজিক্যালি ইনভলভ হওয়ার সময় তুই কি প্রোটেক্টিভ ছিলি না?
এসবের উত্তর তুই ভালোই জানিস।
আমি বলছি না বাচ্চা টা সাম্যর।
কারণ সম্ভব না এটা। অনুর পাঁচ মাসে সাম্য আসে। কিন্তু তাই বলে অনুর পেটে যে বাচ্চা এটা তোর তুই কিভাবে সিউর?
.
নিলয় কে চুপ থাকতে দেখে ইরা আরো সাহস পেলো।
.
শোন যে মেয়েদের একজনে চলে না তাদের বাহিরে যেতে হয় না। এরা ঘরের পুরুষদের সাথে থাকতেও দ্বিধা করে না।
ভেবেছিলাম বলবো না কিন্তু না বলে পারছি না।
আমি পারছি না তোকে কষ্ট দিতে
.
নিলয় কৌতুহল নিয়ে তাকায় ইরার দিকে। ইরাও সম্মতি পেলো।
.
আচ্ছা? নীলাভ্র আর নীলের সাথে ওর কিসের এত ভাই ভাই বলতো?
আপন ভাই তো আর না?
নীলভ্রর না হয় আমি আছি। সে কোন বিপথে যাবে না কারণ আমার ভালোবাসা বেধে রেখেছে ওকে কিন্তু নীল?
কিসের এত কেয়ারের নামে হাসাহাসি, ঢলাঢলি?
এতই সোজা না দুনিয়া৷ বাকি টা তুই ভালো বুঝিস।
.
.
চলবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে