রোমান্টিক_অত্যাচার (২) পর্ব-২২

0
2355

রোমান্টিক_অত্যাচার (২)
পর্ব-২২
লেখিকাঃ #Israt_Jahan
ধারনাঃ #Kashnir_Mahi

-“মাহিকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ওর কাছে গিয়ে ওর ঠোঁটে আমি কিস করতে গেলাম কিন্তু তখন মাহি আমার আর ওর ঠোঁটের মাঝে ওর হাত দিয়ে বাঁধা সৃষ্টি করলো।তারপর মাহি আমাকে বলল,
-“মনের দূরত্বটা খুব বড় একটা দেওয়াল।যে দেওয়ালটা ভাঙ্গতে খুব সময় লাগে আবার কখনো কখনো সেটা ভাঙ্গাও যাইনা।
কথাগুলো শেষ করে মাহি আশফিকে সরিযে দিয়ে উঠে চলে গেল।আর আশফি ও কোনো কথা বললো না।শুধু ভাবলো,
-“ঠিকই বলেছে মাহি।যখন আমার মনে দূরত্বের দেওয়ালটা সৃষ্টি হয়েছিল সেটা ভাঙ্গতে আমার ও একটু সময় লেগেছিল।হয়তো মাহি সেটা ভাঙ্গবার চেষ্টে করেছিল কিন্তু পারেনি। কিন্তু আমাকে পারতে হবে।এভাবে পর পর আমাদের দুজনের মাঝে মান অভিমানের পালা চলতে থাকলে একদিন হয়তো সত্যি আর আমাদের মাঝের সৃষ্ট দেওয়ালটা আর ভাঙ্গা সম্ভব হবেনা।
আমাকে ধৈর্য রাখতে হবে,ধৈর্যহারা হলে চলবে না।বিয়ের আগে মাহির মনকে অর্জন করাটা সব থেকে বেশি কষ্টের ছিল।আর এখন সেই অর্জনকৃত মনকে আবার অর্জন করাটা খুব বেশি কঠিক হবে না।সো……চালিয়ে যেতে হবে।
মাহি ড্রেস চেঞ্জ করে চান্দুর কাছে গেল।চান্দু তখন ঘুমিয়ে ছিল।ঘুমন্ত মুখেই মাহি চান্দুকে আদর করছে,চুমু খাচ্ছে।আশফি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখতে পেল মাহি চান্দুর কপালে চুমু দিচ্ছে।তখন আশফি মাহির পাশে গিয়ে মাহির কপালের এক পাশে চুমু খেল।মাহি ঘুরে তাকালো আশফির দিকে। আশফি মাহিকে বলল,
-“তুমি ওকে আদর করবে আর আমি তোমাকে আদর করবো।আর আমি যখন ওকে আদর করবো তখন তুমি আমাকে আদর করবে। তাহলে আমরা তিনজনেই ভালোবাসাতে পরিপূর্ণ হয়ে থাকবো।
মাহি শুধু আশফির কথাগুলো শুনলো কিন্তু কিছু বললোনা।তারপর ওরা দুজনে মিলে ডিনার করে নিল।ডিনারের সময় আশফি আজকে মাহিকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছে তবে সেটা জোড় করে।মাহি আশফির হাতে একদম ই খেতে চাইছিল না।মাহি খাওয়া শেষে উঠে চলে গেল।তারপর শোয়ার জন্য মাহি অন্য রুমের সামনে গেল।কিন্তু রুমটা লক করা ছিল।বাড়ির ভেতরে যতগুলো ফাঁকা রুম আছে তার সবগুলোই লক করা রয়েছে।তখন মাহি আশফিকে ডাকল এবং বলল,
-“রুমগুলো সব লক করা কেনো?
আশফি মাহির সামনে দাড়িয়ে মাহির পেছনে দরজার দিকে উঁকি দিয়ে দেখল।আর মুখে দুষ্টুমিকর মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
-“ঐ যে আমার বাড়িতে আমার বউ আসার কথা ছিল না?আর কি এসেছে…..তো সে তো এসেই আমার রুম ছেড়ে টপাত করে অন্য রুমে ঢুকে যেতো।তাই আমি একটু আমার মেধা খরচ করে আমার বুদ্ধিবল দিয়ে রুমগুলো লক করে রাখলাম।যাতে আমার অতী শেয়ানা বউটা এসে বাধ্য হয়ে আমার রুমেই থাকে। আর হ্যা,কাঁথা বালিশ নিয়ে আবার ড্রয়িংরুমে সোফায় শুতে এসোনা।এমনিতে ওরা কিছু বাজে ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে আছে।দরকার হলে রুমেই ফ্লোরে বিছানা পেতে শোয়ার ব্যবস্থা করো।
আশফি চলে গেলো রুমে।আর মাহি ভাবছে,
-“কত বড় ফাজিল।অন্যরুমে থাকতে দিবেনা আবার এদিকে ফ্লোরে বিছানা পেতে শুতে বলে।ঠিক আছে তাই শুইবো।
মাহি রুমে গিয়ে মোটা কম্বল বিছিয়ে ফ্লোরিং করে শুয়ে পড়লো।আর আশফি বিছানায় এক কাত হয়ে শুয়ে মাহির কান্ড কারখানা দেখছিল।রাত ২:০৫ মিনিট বাজে।মাহি ঘুমিয়ে বিভোর।হুট করে আশফি মাহির কাছে গিয়ে মাহিকে ঘুমের ভেতরেই জড়িয়ে ধরলো। এভাবে আচমকা জড়িয়ে ধরাতে মাহি ভয়ে আশফি বলে চিল্লিয়ে উঠলো।
-“ও মাগো……আআআআ আশফিইইই…..
আশফি মাহির মুখ চেপে ধরে বলল,
-“এই মেয়ে ভয়েস নিচে নামাও।স্বামীর স্পর্শ ও চিনতে পারোনা?কেমন বউ তুমি?
-“ঘুমের মধ্যে এভাবে হঠাৎ করে চেপে ধরলে ভয় পাবোনা?
-“ভয় পাওয়ার কি আছে?এই রুমে কি আমি ছাড়া অন্য কেউ আছে?যে সে তোমাকে এসে এতো সুন্দর করে জড়িয়ে ধরবে?
-“এ্যাহ্…. কি সুন্দর করে উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছে?হার্ট ফেইল হওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল আমার।এই সরো তো আমার কাছ থেকে। তুমি বিছানা ছেড়ে নিচে এসেছো কি করতে? আমার ঘুম নষ্ট করার জন্য?
-“হুম।আমি ঘুমাতে পারছিনা আর আমার বউ আমাকে একা উপরে ফেলে কি আরামে কত সুন্দর ঘুম দিচ্ছে।আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে তারপর নিজে ঘুমাতে।তা না করে আমাকে ফেলে নিজের ঘুম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে।
-“আমার তো খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই অন্য কারোর ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিব আমি।
-“আচ্ছা ঘুম পাড়ানোর দায়িত্ব না নিতে পারো। কিন্তু তোমার স্বামী উত্তেজনা আর অস্থিরতাই যে তার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা সেটাও কি তুমি দেখবেনা?অন্তত তার অস্থিরতা কাটানোর ব্যবস্থা করো।
-“কি?কিসের অস্থিরতা?
-“মনের অস্থিরতা।মনটা অস্থির হয়ে আছে বউ এর সীমাহিন প্রেম নেওয়ার জন্য।
-“উফ মাঝরাতে ঘুম নষ্ট করে দিয়ে প্রেম নেওয়ার গল্প শোনানো হচ্ছে আমাকে?তুমি যাবে নাকি আমি সত্যি সত্যি ড্রয়িংরুমে গিয়ে শুয়ে পড়বো।
-“যাওয়ার উপায় নেই।প্রেম না দেওয়া পর্যন্ত রাতে কোনো ঘুম নেই।আমাকে প্রেম দিতেই হবে।তাও এত্তো প্রেম দিতে হবে।
আশফি হাতদুটো দু প্রান্তে নিয়ে গিয়ে পরিমাণ দেখিয়ে কথাটা বলল।
-“তোমাকে যেতে হচ্ছে না। আমি নিজেই যাচ্ছি।
মাহি উঠে যেতে গেলো তখন আশফি মাহিকে হ্যাচকা টানে ফেলে দিল।মাহি তার ঝোঁক সামলাতে না পেরে আশফির শরীরের উপর গিয়েই পড়লো।আশফি মাহিকে জড়িয়ে ধরে আদর করার চেষ্টা করছে এর মাঝে আশফির ফোনে একটা কল আসলো।আশফি মাহিকে ধরে রেখেই বিছানার পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিল।ফোন হাতে নিয়ে আশফি দেখতে পেল ইংল্যান্ডের নাম্বার। রিসিভ করে বুঝতে পারলো ওর চাচ্চু ফোন করেছে।
-“হ্যালো চাচ্চু কেমন আছো?
-“তেমন ভালো নেই।
আশফি শোয়া অবস্থা থেকে উঠে বসলো। তারপর ওর চাচ্চুকে বলল,
-“কি হয়েছে চাচ্চু?কোনো সমস্যা?
-“আলিশা সুইসাইড অ্যাটেম্পট করেছে।

চলবে……

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে