রঙ বদল পর্বঃ ০৪

0
968

রঙ বদল পর্বঃ ০৪

লেখকঃ আবির খান

ওরা একসাথে রিকশায় করে সায়েমের বাসায় রওনা হয়। দুজন চুপচাপ বসে আছে। জীবনের প্রথম একসাথে রিকশায় উঠেছে ওরা। দুজনের এই নিস্তব্ধতাও অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। সামনে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ফাতেমা ভাবছে যদি আমাকে তারা পছন্দ না করে? সায়েম ভাবছে ফাতেমা শুধু ওর। দুজন গভীর ভাবনায় ডুবে আছে। কখন যেন ওরা চলে আসে সায়েমের বাসায়। দুজন একসাথে রিকশা দিয়ে নামে। ফাতেমার হৃদস্পন্দন ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে। ফাতেমা সায়েমের বাড়িটা দেখছে। সায়েম ভাড়া দিয়ে এসে হাসি মুখে বলে,

– ভয় নেই। আজ প্রথম শ্বশুর বাড়ি এসেছো। হাসিখুশী থাকো। আমি আছি তোমার পাশে।

~ আপনি খুব ভালো একজন মানুষ।

– হুম জানি তো। আপনিও খুব ভালো একজন মেয়ে। আমার হবু বউ। হাহা।

ফাতেমা কিঞ্চিৎ হাসে। ও বুঝতে পারছে সায়েম ওকে সাহস দিচ্ছে। সায়েম আবার বলে,

– চলো যাওয়া যাক। সবাই অপেক্ষায় আছে।

~ জ্বী চলুন৷
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


সায়েম ফাতেমাকে নিয়ে ওদের বাসার মেইন গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বেল দিতেই ভাবি দরজা খুলে।

~ এসেছো তোমরা? আসো আসো।

~ আসসালামু আলাইকুম। (ফাতেমা)

~ অলাইকুম আসসালাম।

ওরা ভিতরে আসে। এর মধ্যেই সায়েমের মা আসে। ফাতেমা তাকেও সালাম দেয়। তিনিও সাথে সাথে উত্তর দেন। সায়েম বলে,

– এটা আমার মা। তোমার হবু শ্বাশুড়ি আর এটা আমার বড় ভাবি।

~ এই যে আমি লিমা। সায়েমের বড় বোন।

~ আসসালামু আলাইকুম।

~ অলাইকুম আসসালাম। বাহ! ওদের পাশাপাশি মানিয়েছে কিন্তু অনেক। তোমার চোখতো খুব সুন্দর। দেখেছেন ভাবি?

~ হ্যাঁ চোখগুলোই দেখছি আমি।

ফাতেমা লজ্জা পায়। সায়েমের মা ফাতেমার কাছে যায়। আর বলে,

~ পানি খাবে?

ফাতেমা ছলছল চোখে তাকায়। আর মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। তিনি আবার বলেন,

~ মেয়েটা আজ প্রথম এসেছে। ওকে আগে একটু ফ্রী হতে দে। আমি ওকে আমার রুমে নিয়ে যাচ্ছি। লিমা পানি নিয়ে আয়।

~ আমি আনছি লিমা তুমি মায়ের সাথে যাও।

~ জ্বী ভাবি।

ফাতেমাকে নিয়ে সায়েমের মা তার রুমে যায়। সাথে লিমা আর বড় ভাবিও। সায়েম ফ্রেশ হতে চলে যায়। ফাতেমাকে নিয়ে সায়েমের মা তার রুমের বিছানায় বসে। লিমা পাশেই ফাতেমার দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ভাবি ফাতেমার হাতে পানিটা এগিয়ে দেয়। ফাতেমা আস্তে করে বলে,

~ রুমে কোন পুরুষ মানুষ আসবে নাতো?

~ না না আসবে না৷ তাও লিমা গেইটটা লাগিয়ে দেতো।

লিমা দ্রুত গেইটটা লাগিয়ে দেয়। ওরা তিনজন অধীর হয়ে আছে ফাতেমাকে দেখার জন্য। ফাতেমা ডান হাত দিয়ে মুখ থেকে নাকাবটা সরায়। আর বিসমিল্লাহ বলে পানি খায়। এদিকে ফাতেমাকে দেখে বাকি তিনজন স্তব্ধ। ফাতেমা পানি খাওয়া শেষ করলে সবার দিকে তাকিয়ে দেখে, তিনজন হা করে আছে। ভাবিজান অবাক হওয়া অবস্থাই পানির গ্লাসটা নিয়ে পাশে রাখেন। লিমা বলে উঠে,

~ বড় ভাবি ওতো আপনার থেকেও বেশি সুন্দরী। আপনি পিছে পড়ে গেলেন। হাহা।

~ তা না হয় পড়লাম। কিন্তু ওতো তোমার থেকেও বেশী সুন্দরী। তুমিও পিছনে পড়ে গেলে। হাহা।

~ জ্বী ভাবিই।

~ রাখ তোরা। ও তোদের সবার চেয়ে অনেক সুন্দর। মাশাল্লাহ। (মা)

ফাতেমা আস্তে করে বলে উঠে,

~ আপনারা যে কি বলছেন। আপু ভাবি দুজনই বেশ সুন্দরী আর ভালো। কারণ তাদের মন ভালো। বাইরের রূপ কিছুই না।

~ বাহ! মা, সায়েম তো ঠিকই বলেছে মেয়েটা বেশ গুণবতী।

~ হ্যাঁ। তোমার নামটা যেন কি?

~ ফাতেমা ইসলাম।

~ বাহ! খুব ভালো নাম। তুমি রান্নাবান্না সব পারো?

~ সব পারি বললে ভুল হবে। বাঙালি রান্না সব পারি। যেটা না পারি একটু শিখিয়ে দিলেই হবে।

~ বাহ! খুব সুন্দর কথা বলো তুমি। তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। তুমি দেখতে সুন্দর বলে না, তুমি ভালো বলে।

~ মাশাল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। মা মিষ্টি নিয়ে আসবো? (ভাবি)

~ আনো। আমি নিজ হাতে ফাতেমাকে খাইয়ে দিন।(খুশী হয়ে)

ভাবি মিষ্টি আনতে বের হলেই সায়েম আর শরিফকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সায়েম ভাবির কাছে এসে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করে,

– কি হলো ভাবি? ফাতেমা কেমন দেখতে? মায়ের আপনাদের পছন্দ হয়েছে ওকে?

~ কিছু বলবা না। হিহি। মা মিষ্টি চেয়ে পাঠিয়েছে। পছন্দ হয়েছে আমাদের। মায়ের তো অনেক হয়েছে।

– কি বলেন সত্যি? (অবাক হয়ে)

~ সত্যি সত্যি সত্যি।

– ভাইয়ায়ায়া।

সায়েম খুশীতে ওর ভাইকে জড়িয়ে ধরে। ওর ভাই ওকে বলে,

– বিয়ে করতে যাচ্ছিস। অনেক দায়িত্ব বুঝলি? সব ঠিক মতো পালন করিস। সারাদিন বউকে নিয়ে পড়ে থাকিস না।

সায়েম লজ্জা পায়। আর বলে,

– ভাইয়া বাবাকে বলে আসি চলো।

– হ্যাঁ চল।

সায়েম আর শরিফ ওদের বাবার কাছে গিয়ে সব বলে। ওদের বাবা খুশী হয়। এরমধ্যেই সায়েমের মা,বোন আর ভাবি ফাতেমাকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে। সেখানে সায়েমের বাবা আর ভাইকে দেখে ফাতেমা তাদেরকে সালাম দেয়। তারা সালামের উত্তর দেয়। ফাতেমা আর সায়েমকে একসাথে বসানো হয়। সায়েমের বাবা ওদের দেখে বলেন,

– নাহ মানিয়েছে দুজনকে। সায়েম তুই ভুল করিস নি। আমাদের সবার পছন্দ ওকে। এই যে মা, তোমার বাবা-মা আজ থেকে কিন্তু আমরা। নিজের বাবা-মার মতোই মনে করবে। তোমার যা ইচ্ছা চাই আমাদের জানাবে। যেকোন সমস্যা আমাদের বলবে৷ আজ থেকে এটা তোমার পরিবার।

ফাতেমার খুশীতে চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। ও কখনো ভাবে নি ওর জীবনটার এভাবে রঙ বদল হবে। এ যেন সুন্দর স্বচ্ছ এক স্বপ্ন। ফাতেমার মন বলছে, এটা স্বপ্ন হলে মহান আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া এ স্বপ্ন যেন কখনো না ভাঙে।

~ দেখো দেখি তুমি তো মেয়েটাকে কাঁদিয়ে দিলে। মা কেঁদো না। তোমার দুইটা বড় বোনও আছে। (মা)

~ হ্যাঁ এই যে আমি আর লিমা। আমাদের গল্প করতে করতেই সময় চলে যাবে। (ভাবি)

শরিফ মজা করে বলে উঠে,

– গল্প করলে রান্না কে করবে?

সবাই হেসে দেয়। সায়েমের বাবা বলে,

– তাহলে আত্নীয় স্বজনদের বলে ওদের বিয়েটা খুব শিগগিরই দিয়ে দি কি বলো তোমরা?

– হ্যাঁ হ্যাঁ দেন।(সবাই)

সায়েম বলে উঠে,

– বাবা আমি চাচ্ছিলাম আমাদের বিয়েটা সম্পূর্ণ ইসলামিক ভাবে হোক। কারণ ফাতেমা কেমন তাতো জানোই।

ফাতেমা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। বিয়ের আগেই ওর মনের কথাটা সায়েম জেনে গেল! ফাতেমা চোখে মুখে সায়েমের জন্য অসংখ্য সম্মান আর ভালবাসা প্রকাশ পাচ্ছে।

– আচ্ছা ঠিক আছে৷ তাহলে তাই হবে৷ কালই তোদের বিয়ে পড়িয়ে দিব ঘরোয়া ভাবে।

সায়েম অনেক খুশী হয়ে ফাতেমার দিকে তাকায়। ফাতেমার চোখগুলো ওকে অনেক কিছু বলছে। ও ঠিক সব বুঝতে পারছে। সায়েম হাসছে। ফাতেমা আস্তে করে বলে উঠে,

~ অভয় দিলে একটা কথা বলতে পারি?

– হ্যাঁ হ্যাঁ বলো মা।

~ আমার একজন দাদা আছে। সেও মুসলিম। একমাত্র সেই আমাকে সবসময় বেশি সাপোর্ট দিয়ে এসেছে। এমনকি আমার পরিবারের সাথে পর্যন্ত লড়েছে। বকাঝকাও শুনেছে। তাও আমার পাশে ছিল। আপনারা অভয় দিলে বিয়েতে তাকে আসতে বলবো। আসলে সে আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন। সে আমার আপন দাদাভাই না হলে আপন দাদার চেয়েও বেশী যত্ন করেছে। আমি কি তাকে আসতে বলতে পারবো?

সায়েমের বাবা বলে উঠে,

– ১০০ বার পারবে মা। কোন সমস্যা নেই। আরও ভালো হয়েছে তোমার পরিবার থেকে একজন পাওয়া গেল। সেই তোমাকে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে যাবে।

~ যাক মাশাল্লাহ। সব ঠিকঠাক হলো। আমি মিষ্টি নিয়ে আসি। (ভাবি)

সায়েম আর ফাতেমা খুব খুশী আজ। যেন মহান আল্লাহ তায়ালা ওদের ঝুড়িতে অনেকগুলো খুশী দিয়ে গেলেন। এরপরের দিন কথা মতো সায়েম আর ফাতেমার সম্পূর্ণ ইসলামিক নিয়মকানুন অনুযায়ী বিয়ে হয়। ফাতেমাকে এখন সায়েমের রুমে রাখা হয়েছে। কারণ আজ ওদের বাসর রাত। সায়েমের খুব উত্তেজনা লাগছে। কারণ আজ এতোটা সময় পর ও ওর মনের মানুষটাকে দেখবে৷ ভাবি আর লিমাকে অনেক চাপাচাপি করেও ফাতেমা দেখতে কেমন তা জানা যায়নি। সায়েম খুব উত্তেজিত হয়ে আছে। হঠাৎ,

– কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন বাইরে? যা ভিতরে যা। ফাতেমা অপেক্ষা করছে। যা তাড়াতাড়ি। জ্বী ভাইয়া যাচ্ছি।

সায়েম আল্লাহর নাম নিয়ে ওর রুমে প্রবেশ করে।

চলবে..?

সবার ভালো সাড়া চাই। কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here