মন ফড়িং ❤৪২.

2
2371

মন ফড়িং ❤৪২.

ডাক্তার নাজমুল সাহেবকে বিরক্তি ভরা কণ্ঠে বললেন
– আপনাকে গতবারই বলেছিলাম, মাথা পাগল মানুষের চিকিৎসা করুন। তা তো করলেনই না এখন বুঝুন ঠ্যালা। গতবার হাতের শিরা কেটেছিলো আর আজকে মাথা ফাটিয়ে এসেছে। কবে দেখবেন সিরিয়াস কিছু করে বসবে তখন আমার কথা মনে পড়বে।
– সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো হয়েছে। ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।
– তো ঢাকায় যাবেন? নাকি এভাবে মেয়েটাকে শেষ করবেন?
নাজমুল সাহেব অপ্রস্তুত হয়ে বললেন
– আগামীকালই আমাদের যাওয়ার কথা। ঢাকার মীরপুরে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছি।
ডাক্তার সাহেব চিন্তিত স্বরে বললেন
– পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখবেন আর সাথে সবসময় একজন মানুষ কে রাখবেন। বুঝেছেন কী বলেছি?
নাজমুল সাহেব মাথা নাড়লেন। ডাক্তার রফিক ঠিক বুঝতে পারলেননা নাজমুল সাহেব হ্যাঁ বললো নাকি না বললো।
প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে ড. রফিক বললেন
– আপনার সেল নাম্বার টা আমাকে দিয়ে যান। মেয়েটার খোঁজ খবর প্রতিনিয়ত দিবেন আমাকে। মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে আমার। নতুন সংসার…..

নাজমুল সাহেব আর রীতা আগেই ঢাকা পৌঁছে গেলেন মালপত্র নিয়ে। পুরো ফ্ল্যাট নাজমুল সাহেব, রীতা আর পিকাপের ড্রাইভার মিলে গুছানো শুরু করলেন।

আসমা জামান ঢাকায় আসার কথা শুনে শুকনো মুখে বলেছেন
– আমার ভাইয়ের বাসায় দিয়ে আসলেই হবে। পাগল ছাগলের সাথে এক বাড়িতে থাকার কোনো সখ নাই।
নিদ্র নির্লিপ্ত স্বরেই বলেছে
– তাহলে দুটো দিন এখানে কষ্ট করে থাকো। অদ্রিকে রেখে এসে তোমাকে দিয়ে আসবো।

অদ্রিকে নিয়ে নিদ্র মীরপুরে পৌঁছালো সন্ধ্যায়। তিন ঘণ্টা জ্যামে বসে থেকে নিদ্রের কোমড় ব্যথা হয়ে গেছে।
অদ্রি আবার চুপচাপ হয়ে গেছে। নিদ্র অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। অদ্রি একেক সময় একেক রকম আচরণ করছে।
আসার আগেও নিদ্রের সাথে কথাবার্তা বলেছে কিন্তু জ্যামে আটকে পড়ার পর থেকে একদৃষ্টিতে একদিকেই তাকিয়ে আছে। চোখের পলক ফেলছেনা।
নিদ্র টুকটাক প্রশ্ন করেছে কিন্তু কোনো উত্তর দেয়নি অদ্রি।
অদ্রির মাথায় ব্যান্ডেজ দেখে আশেপাশের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ব্যস্ততার এই শহরে অন্যের খোঁজ নেয়ার সময় কই?

রীতা অদ্রিকে নিয়ে রুমে চলে গেলেন। নিদ্র কমন বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো।
এতো ক্লান্তি লাগছে যে নিদ্রের ইচ্ছা করছে এক কাপ কড়া লিকারের চা খেতে। চা করে দেয়ার কেউই নাই। রীতা অদ্রিকে নিয়ে ব্যস্ত আর বাবাকেও বলা যাবেনা। সোফার রুমে শীতল পাটি বিছানো। নিদ্র শীতল পাটিতে শরীর এলিয়ে দিলো।
দুচোখে ঘুম ঠেলে আসছে কিন্তু নিদ্র বারবার আটকাচ্ছে। চোখ বুজলেই অদ্রির রক্তে মাখা মুখটার ছবি ভেসে ওঠে!
দেয়ালে তাজা রক্তের গন্ধটা এখনো নিদ্র ভুলতে পারেনি। অসহ্যকর অভিজ্ঞতা।

নিদ্র ভাবনায় ছেদ পড়লো অদ্রির কথায়।
– আপনার জন্য চা এনেছি।
অদ্রি এক কাপ চা নিদ্রের দিকে বাড়িয়ে কথাটা বললো।
নিদ্র তাড়াতাড়ি করে শোয়া ছেড়ে উঠে বসলো। চায়ের কাপ নিয়ে অদ্রিকে বললো
– আপনার জন্য করেননি?
অদ্রি ফ্লোরে বসে বললো
– না।
– কেনো?
অদ্রি ফ্লোরে আঙুল দিয়ে কী যেন লিখছে।
– আমি কেবলই গরম দুধ খেয়েছি।
নিদ্র চায়ে চুমুক দিয়ে বললো
– ফ্লোরে কী লিখছেন?
অদ্রি মাথা উঁচু করে নিদ্রের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। মুচকি হেসে বললো
– আপনার নাম আর নীলিমার নাম।
নিদ্র চমকে উঠে বললো
– নীলিমার নাম কেনো?
– আমার পরে তো সেই আপনার স্ত্রী হবে।
নিদ্রের মাথা গরম হয়ে গেলো। ইচ্ছে করছিলো চায়ের কাপ এক আছাড়েই ভেঙে ফেলতে। কিন্তু রাগ দমিয়ে বললো
– এসব ভোগাস কথা আপনি পান কই?
– ভোগাস না সত্যি কথা উনি বলেছেন।
– উনি টা কি ইখলাস সাহেব?
– হ্যাঁ।
– আচ্ছা আপনি আমাকে বিশ্বাস করেননা?
– হ্যাঁ করি।
– তাহলে আমি যা বলেছি তা বিশ্বাস কেনো করেননা?
– আমি তাকে দেখতে পাই। আমার সামনেই সে দাঁড়িয়ে আছে।
নিদ্র রাগ নিয়ন্ত্রণ কর‍তে না পেরে বললো
– আমাকেও দেখান। I wanna see that scumbag now.

– উনি তো আপনার পিছনে বসে আছেন।
নিদ্র পিছনে ঘুরে তাকিয়ে কাউকে না দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বললো
– আমি তো দেখতে পারছিনা। তাহলে কীভাবে বিশ্বাস করবো?
– আপনার বিশ্বাস করা দিয়ে আমার কিছু যায় আসেনা।
– কেনো?
– কারণ আমি আপনার স্ত্রী না।
– তাহলে কার স্ত্রী আপনি?
– ইখলাস সাহেবের।
লাস্টের দুটো শব্দ অদ্রি সুর দিয়ে বললো।

অদ্রি হাসতে শুরু করলো। হাসির শব্দ ধীরে ধীরে বাড়ছে। হাসির শব্দে নিদ্রের মাথা ধরে যাচ্ছে। এতো তীক্ষ্ণ শব্দ নিদ্রের মন বলছে আর কয়েক সেকেন্ড পরেই ওর কানের টিমপেনিক পর্দা ফেঁটে যাবে।

অদ্রি এদিকে হেসেই যাচ্ছে।
নিদ্রের চিৎকার শুনে রীতা রান্নাঘর থেকে দৌঁড়ে আসলেন।
অদ্রির হাসির শব্দে রীতা বুঝতে পারলেন, কণ্ঠস্বর আলাদা সম্পূর্ণ আলাদা।
একজন মধ্যবয়সী পুরুষের কণ্ঠস্বর।

চলবে…..

© Maria Kabir

2 COMMENTS

  1. গল্প গুলো পড়ে সত্যি অনেক ভালো লেগেছে
    ☺☺☺

    ইনশাআল্লাহ, আশা করি আরো সুন্দর সুন্দর গল্প আমাদের উপহার ?দেবেন???

    ভালোবাসা রইলো আপনাদের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here