13.1 C
New York
Tuesday, December 10, 2019
Home বড় গল্প মন ফড়িং ৩৩

মন ফড়িং ৩৩

মন ফড়িং ৩৩.

 

প্রচণ্ড চিৎকারে নিদ্রের ঘুম ভেঙে গেলো। প্রায় লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে আৎকে উঠলো নিদ্র। অদ্রির ডান হাত দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝড়ছে। বাম হাতে ধারালো ছুরি রক্তেমাখা!

নিদ্রের বুঝতে বাকি রইলোনা যে অদ্রিই নিজের হাত কেটেছে।

নিদ্র বিছানা ছেড়ে উঠে অদ্রির কাছে এগিয়ে যাবে আর তখনই অদ্রি চিৎকার করে বলতে শুরু করলো

– আপনি কাছে আসবেন না।

নিদ্র বললো

– প্লিজ মাথা ঠান্ডা করুন।

নিদ্রকে এগোতে দেখে অদ্রি বললো

– কাছে আসবেননা।

নিদ্র প্রায় দৌঁড়ে গিয়ে অদ্রির বাম হাতের ছুরি ধরে ফেললো আর এক হাত দিয়ে অদ্রিকে শক্ত করে ধরলো।

অদ্রি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগলো। নিদ্র শক্ত করে অদ্রিকে ধরে রাখলো। হাতের রক্তে অদ্রির কামিজ, পায়জামা প্রায় ভিজে উঠেছে!

নিজেকে ছাড়াতে না পেরে অদ্রি নিজেই ছুরি ফেলে দিয়ে নিদ্রকে জাপটে ধরে বললো

– উনি আপনাকে বাঁচতে দিবেনা যদি আমি আপনার সাথে থাকি। আপনি আমাকে ছেড়ে চলে যান। প্লিজ নিদ্র।

– আমি পারবোনা।

– তাহলে আমাকে মরতে দিন।

নিদ্রের রাগ মাথায় উঠে গেলো শেষের কথাটা শুনে।

নিদ্র চিৎকার করে বললো

– আপনার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। ইখলাস সাহেব মারা গেছেন। মৃত মানুষেরা কখনো ফিরে আসেনা।

নিদ্রের দুই হাতের মধ্যেই অদ্রি সেন্সলেস হয়ে গড়িয়ে পড়লো।

 

নাজমুল সাহেবের ঘুম ভেঙে গেলো  মেয়েলি কণ্ঠের চিৎকার শুনে। দ্বিতীয় বার কোনো সাড়াশব্দ না শুনে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। খানিকক্ষণ পর পুরুষ কণ্ঠের চিৎকার শুনে প্রায় লাফিয়ে বিছানা ছেড়ে নামলেন। নিদ্রের কণ্ঠ যতদুর বুঝতে পেরেছেন। খারাপ কিছু ঘটে গেলো নাকি?

দোতলায় উঠে অদ্রির রুমের দরজার সামনে দাঁড়াতেই বুঝতে পারলেন খারাপ কিছু ঘটেছে। দরজা নক করলেন।

– কে?

– নিদ্র আমি তোর বাবা।

নিদ্র খুব সাবধানে অদ্রিকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে দরজা খুললো।

নিদ্রের শরীরে রক্ত দেখে প্রায় আৎকে উঠে বললেন

– এই ছেলে রক্ত কীভাবে এলো?

নিদ্র কথা বলতে পারছেনা। গলার কাছে কান্নাটাকে আটকে রেখে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষমতা আপাতত নিদ্রের নেই।

হাতের ইশারায় বিছানার উপর অদ্রিকে দেখিয়ে দিলো। নিদ্র ফ্লোরে বসে পড়ে দুহাত দিয়ে মুখ চেপে রাখলো!

নাজমুল সাহেব অদ্রির কাছে গিয়ে বুঝতে পারলেন ডান হাতটা গভীর ভাবে কাটা।

নাকের কাছে হাত দিয়ে নিশ্বাসের তাপে নাজমুল সাহেব বুঝতে পারলেন, এখনো জীবিত। যেভাবে পরে ছিলো তাতে মৃত মানুষের মতোই লাগছিলো।

 

রাত দুইটার সময় মফস্বলের হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া অসম্ভব। ডাক্তার নিজেও তো মানুষ!

নাজমুল সাহেব আর রশীদ সাহেব প্রায় পাগলের মতোই ছুটাছুটি শুরু করলেন হাসপাতাল জুড়ে। রীতা কাপড় দিয়ে অদ্রির হাত ধরে রেখেছেন কিন্তু রক্ত পড়া বন্ধ হয়নি।

নিদ্র হাসপাতালে আসেনি। সে রুমের এক কোণায় মুখ দু’হাতে চেপে ধরে বসে আছে। নাজমুল সাহেব ওকে আর ঘাটায়নি।

একজন ডাক্তারকে ফোন করে ডেকে আনা হয়েছে। চোখমুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে অদ্রির হাতের ক্ষত স্থানটা কিছুক্ষণ দেখে বললেন

– সুইসাইড কেস মনে হচ্ছে?

নাজমুল সাহেব বললেন

– সিজিওফ্রেনিয়ার রোগী।

ডাক্তার সাহেব আরো বিরক্তি নিয়ে বললেন

– বাসায় এভাবে রেখে দিয়েছেন কেনো? এখন রোগী মারা গেলে তো ডাক্তারের দোষ দিবেন।

– না, আপনার দোষ দিব না। আপনি ওর ট্রিটমেন্ট শুরু করেন।

 

চার ব্যাগ রক্ত লাগবে যার মধ্যে চার ব্যাগই হাসপাতালে ভাগ্যক্রমে পাওয়া গেছে। নিদ্রকে প্রায় জোর করেই হাসপাতালে নিয়ে আসলেন রশীদ সাহেব।

অদ্রির বেডের পাশের ছোটো টুলে আনমনে বসে রইলো নিদ্র।

অদ্রির জ্ঞান এখনো ফেরেনি।

বাসায় মেহমান আসতে শুরু করেছে। বিয়ের তারিখও এগিয়ে আসছে। রশীদ সাহেব না করতে চেয়েছিলেন কিন্তু নাজমুল সাহেব করতে দেননি।

বাসা ভর্তি মানুষ থাকলে অদ্রির খারাপ লাগাটা কমবে। এদিকে ডাক্তারের সাথে কথা হয়েছে নাজমুল সাহেবের।

আগামী দুই সপ্তাহে তার সময় নেই। এই দুই সপ্তাহে অন্য কোনো অঘটন ঘটাবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

নাজমুল সাহেব ভাবতে ভাবতে প্রায় পাগলের মতো অবস্থা।

নিদ্র খুব চুপচাপ হয়ে গেছে। কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় তাছাড়া তার মুখে কোনো কথা নেই।

আসমা জামান রীতাকে বললেন

– অদ্রি পাগল হয়ে গেলো নাকি?

– জানিনা।

– পাগলই তো। এভাবে নিজের হাত কোনো সুস্থ মানুষ কাটতে পারে?

রীতা কিছু বললেন না। আসমা জামান তো ঠিকই বলেছেন কোনো সুস্থ মানুষ এরকম কাজ করতে পারেনা।

 

 

 

চলবে……

 

 

© Maria Kabir

Maria Kabir
Maria Kabir
studying at Govt. Rajendra College, Faridpur Studies YES at Govt. Rajendra College, Faridpur Went to Faridpur Govt. Girls High School Lives in Faridpur, Dhaka, Bangladesh From Faridpur, Dhaka, Bangladesh, Single, Facebook id Maria Kabir

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Lists of writers

Sultana Toma
200 POSTS0 COMMENTS
Maria Kabir
159 POSTS1 COMMENTS
Jubaida Sobti
126 POSTS0 COMMENTS
Rabeya Sultana Nipa
117 POSTS0 COMMENTS
Jannatul Ferdaus
64 POSTS0 COMMENTS
Jannatul Ferdous
48 POSTS1 COMMENTS
মিম
42 POSTS0 COMMENTS
AL Mohammad Sourav
39 POSTS0 COMMENTS
Tabassum Riana
21 POSTS0 COMMENTS
Abdullah Al Ador Mamun
12 POSTS0 COMMENTS
Shahazadi Humasha
12 POSTS0 COMMENTS
Tamanna
10 POSTS0 COMMENTS
Farzana Akter
8 POSTS0 COMMENTS
Sadiya Afrin
7 POSTS0 COMMENTS
Umme Nipa
7 POSTS0 COMMENTS
Nilufar_Nijhum Nijhum
4 POSTS0 COMMENTS
Tamanna Khan
4 POSTS0 COMMENTS
Shahriar Shuvro Sabbir
3 POSTS0 COMMENTS
Maruf Sabbir
3 POSTS0 COMMENTS
Joy Khan
2 POSTS0 COMMENTS

Most Popular

গল্প:-নব দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ)

গল্প:-নব দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! আম্মা কিছু বলতে চায়ছে ঠিক তখনি আমি আম্মাকে থামিয়ে দিয়ে বলছি। আম্মা আপনি কি বলবেন তা আমি জানি। আম্মা:- নাহ...

গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(১৬)

গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(১৬) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবার ব্যাপারে আব্বা কি কথা বলবে তা ভাবতে ভাবতে অফিসে এসেছি। অফিসের কাজ গুলি করতেছি তখনি আব্বা ফোন করেছে।...

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫)

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫) লেখা_AL Mohammad Sourav !! সৌরভ তোর আম্মাকে এখন কিছু জিজ্ঞেস করে লাভ হবেনা কারন তোর মা এখন তসিবার ভক্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু তসিবার কথা...

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৪)

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৪) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবা কোনো দিন মা হতে পারবেনা এই কথাটা শুধু তুই ছাড়া আমরা সবাই জানি। আর এই কথাটা বলছে তোর বাবা।...

Latest Posts

More