ভূতুরে দূর্গ (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব )

0
1781

ভূতুরে দূর্গ
sharif hossain hridoy
(দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব )
স্টোন পরিবারের সেই বাড়িটা। রিডিং রুম ও কিচেন
পাড় হয়ে পিছনের বাগানে চলে এলাম দুজন।
দেখার প্রয়োজন হলোনা আমি জানি বাগানের
কোন এক প্রান্তে আছে দৃর্গ টা।স্বপ্নের
মতো বস্তবেও অসুস্হ আর সংকিত বোধ করার
জন্য মনে মনে প্রস্তুত আমি। কিন্তু বাগানের
মানুষগুলো মোটেও শএু ভাবপন্ন নয়। কিংটন পরিবার
গল্পগুজব আর হাসাহাসি করে মাতিয়ে দিল আমাকে।
দেপা মিসেস কিংটন বললেন আমার উদ্দেশ্য ।জ্যাক
এর সাথে যাও ও তোমার ঘর দেখিয়ে দিবে
দৃর্গে থাকবে তুমি। এবং আমার বন্ধুও উঠে
দাড়ালো।বাসার লোকেরা তাকে জ্যাক বলে ডাকে
জানতাম। তাকে অনুসরন করে ওই কামরাটা সামনে
এসে দাড়ালাম ।সে দড়জাটা খুলতেই আতংকিত হয়ে
পরলাম আমি। কেননা স্বপ্নের মধ্যে সব সময়
দড়জাটা খোলার আগেই ঘুম ভেঙ্গে যেত আমার।
কিন্তু এভাবে ভেতরে পা রাখলাম আমি। খুবই সুন্দর
সাজানো গুছানো কামরাটি। বিছানায় আমার ব্যাগ পএ রাখা।
ওতো খারাপ হয়তো লাগবেনা মনে মনে সান্ত্বনা
দিলাম নিজেকে। আর এখানে যখন এসে পড়েছি ও
সব দুঃস্বপ্ন এখন হয়তো আর হানা দিবে না। কিন্তু
বিছানার কাছে দুটো ছবি দেখার পর পুরোনো
ভীতি বোধটা আবার জেগে উঠলো। একটা ছবি
মিসেস স্টোনের শুয়োরের মতো চুল। মাথায়
এক বৃদ্ধা স্বপ্নে প্রায়ই যেমনটা দেখতাম । অন্য ছবিটা শেখ স্টোনের মুখের অভিব্যক্তি
ক্রধ্য আর রক্তলাল চোখ। এখানে আসার আগে
শেষ বার স্বপ্নে দেখা অবিকল সেইমুখ ।
দীর্ঘক্ষণ চেয়ে রইলাম মিসেস স্টোনের
ছবিটার দিকে ভয়ংকর একজোড়া চোখ মহিলার।
গোটা কামরাই অনুসরন করছে আমাকে। জন কিংটন
এসময় ফিরে এসে বললো আমাকে ডিনার রেডি ।
এই ছবিটা দেখে ভয় করছে জন বললাম ওকে।
রাতে নিশ্চিত দুঃস্বপ্ন দেখবো।
চলো এটাকে বাহিরে নিয়ে যাই বেশতো
বললো জন ।কিন্তু ছবিটা সরাতে গিয়ে দেখি ভয়ানক
ভারী। দুজনে মিলেও সড়ানো সম্ভব হচ্ছেনা।
শেষমেশ নামিয়ে রাখলাম মেঝেতে। জন হঠা্ত
করেই বলে উঠলো আরে একি হাতে রক্ত
এলো কোথায় থেকে। ওর হাত কেটে
গেছে তাকিয়ে দেখি আমার হাতেও রক্ত। কিন্তু
হাত ধৌয়ার পর কোথাও কোন কাটা দাগ দেখতে
পেলাম না। ফলে ছবিটা আবারও সারানোর জন্য হাত
লাগালাম। দড়জা দিয়ে ছবিটা বের করার সময় মনে
মনে ঠিক করলাম মিসেস স্টোনের ছবিটার দিকে
তাকাবোনা। কিন্তু পারলামনা লক্ষ্য করলাম তার চোখ
সঠিকই অনুসরন করছে আমাকে ।তার মুখে এখন
মুচকি হাসি। কিন্তু চোখ দুটো আগের থেকেও
ভয়ংকর ক্রোধ ধারন করেছে। মুখখানা রক্তের
মতো লাল এবং ছবিটার ওজন ও যেন বেড়ে
গেছে অনেক। আমার কামরাটা বাহিরে অতিকষ্টে
নামিয়ে রাখলাম ছবিটা। ডিনার এর জন্য নেমে এলাম
নীচে।ডিনার শেষ করে জন আর আমি ধুমপান
করতে বের হয়ে গেলাম বাগানে। দিনের
থেকে রাতের গরমটা একটু বেশীই লাগছে
শুতে যেতে ইচ্ছেই করছেনা আমার। হঠা্ত একটা
কুকুর বাগানের ও পাশ থেকে ছুটতে ছুটতে এসে
পড়লো ওই গাছটার নীচে। আমার শোবারঘরের
জানালা দিয়ে যেটা দেখা যেতো। স্বপ্নে দেখা
সেই স্মৃতিফলকটার কাছে বসে রইলো কুকুরটা ।
এক চুল নড়াচড়া করছেনা ভীত সন্তুষ্ট দেখাচ্ছে
ওটাকে দৃর্গের দিকে পাক্কা ১মিনিট চেয়ে বসে
থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেল। তারপর আসলো
একটা সেও একই কান্ড করলো। জানোয়ার
গুলোকে দেখলে বললাম জনকে। ওমন
করলো কেন বলতে পারো মনে হয় ভয় পাচ্ছে
তাই না ।কি জানি অনিশ্চিত শুনালো জনের কন্ঠ। মাঝ
রাতে বিদায় নিয়ে আমারা শুতে গেলাম । বেপসা গরমে প্রান অতিষ্ঠ কিন্তু ধকল তো কম
যায়নি সারাদিন ফলে ঘুমাতে দেরি হওয়ার কথা নয়।
মিসেস স্টোনের ছবিটা বিদায় করা গেছে ।
তারফলে ভয় ভয় ভাব কমেগেছে অনেকটাই
মহিলার ভয়ংকর হাসি আর হাতের ক্ষত এর কথা প্রায়
ভুলেই গেছি।কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও
জানিনা। ঘুমটা ভাঙ্গলো হঠা্ত কয়টা বাজে কে জানে।
ভীষণ অন্ধকার এখন কামারার ভেতরটা। কোথায়
রয়েছি বুঝতে খানিকটা সময় লাগলো। অবশেষে
মনে পরতেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো। একটা
প্রদীপ আলো জ্বালাতেই দেখতে পেলাম এক
মহিলা কে। আমার অতি পরিচিত ছবির সেই মহিলা বিষন্ন
একজোড়া চোখ রক্তলাল মুখ। ভয়ানক হাসি।মিসেস
স্টোন সে আমার ঘাড়ের কাছে একখানা শীতল
হাত রেখে কথা বলে উঠলো। এতো বছর ধরে
এতো স্বপ্ন দেখার পর দৃর্গে এসেছ তুমি। হে
বহুদিন ধরে প্রতিক্ষা করছি আমি হাল যখন ছেড়ে
দিয়েছি প্রায় তখনি এসে হাজির। কি যে খুশি হয়েছি বলে বুঝাতে পারবোনা।
অনেক দিন ধরে ভীষণ ক্ষুদার্ত আমি। অপেক্ষা
পালা শেষ পর্যন্ত ফুরোলো। এতোদিন পর
তোমাকে দেখে কি যে আনন্দ হচ্ছে বলে
বুঝাতে পারবোনা ।আবারও তার ঠান্ডা হাতটা আমা ঘাড়
স্পর্শ করলো। আবার তার মুখটা কাছে চলে
আসলো। দাঁত চেপে বসছে আমার গলায়। নড়াচড়া
করার শক্তি লোপ পেয়েগেছে আমার সহসা
সমব্রীত ফিরে পেলাম পালাতে হবে এই মুহৃর্তে
মিসেস স্টোনের মুখ বরাবর ধুম করে ঘুসি
মেরে তড়াং করে নেমে পড়লাম বিছানা থেকে।
ছুটছি দড়জা লক্ষ্য করে। দড়জার ঠিক বাহিরেই ছিল
জন। শব্দ পেয়ে ছুটে এসেছি বললো জন।
কিসের শব্দ ব্যপারটা কি তারপর বলে উঠলো
আরে তোমার গলায় রক্ত এলো কোথায়
থেকে জন বললাম ভয়ার্ত সুরে যে মহিলার ছবি
আমরা এ ঘর থেকে বের করে ফেলেছি সে
ফিরে এসেছে। ভেতরে আছে জুলিয়া স্টোন
তার নাম । হেসে উঠলো জন দুঃস্বপ্ন দেখেছো নিশ্চয় ।
তারপর জন ভেতরে প্রবেশ করলো। নিজের
সচক্ষে দেখার জন্য কিন্ত পরক্ষনে বের হয়ে
আসলো সে এবং এসে বললো তুমি ঠিকি
বলেছো। ও ভেতরেই আছে বিছানায় আর
মেঝে তে রক্ত ।তারপর আমি আর জন দৌড়ে
নেমে গেলাম দৃর্গটা থেকে পা কাঁপছে থরথর
করে। দাঁড়াতে পারছিনা আমি। দুজনে ছুটে এলাম
বাগানে ।পরদিনই ওই বাড়ি ছাড়লাম ।প্রায় বছর খানেক
পর আবার গেলাম ওই গ্রামে।গ্রামবাসীর কাছে
জানার জন্য দৃর্গটি এবং জুলিয়া স্টোন সম্পর্কে তারা
কিছু জানে কি না। গ্রামের অতি প্রাকৃত এক বৃদ্ধের
মুখে যা শুনলাম সেটা এরকম অনেক বছর আগে
এক মহিলা দৃর্গের ওই ঘরটাতে মারা যায়। গ্রামের
মানুষ তিনবার গীর্জায় মহিলার লাশ কবর দেওয়ার ও
চেষ্টা করে কিন্তু প্রতিবারই কেউনা কেউ রাত
দুপুরে মহিলার ভৃত দেখতে পায়। মুখে তার রক্ত
আর ভয়ানক হাসি লেপটেই অাছে। সবাই তক্ষণ
বুঝতে পারে মানুষ খুন করে রক্ত পান করে সে।
তাকে আর গীর্জায় কবর কবর দেওয়ার চেষ্টা
করেনি গ্রামবাসী ।দৃর্গের ওই গাছটার নীচেই
তাকে মাটি চাপা দেওয়া হয়। লোকো মুখে শুনা যায়
তরুণ যুবকদের নাকি স্বপ্নে দেখা দেয় সেই
মহিলা এক সময় তাদের নাকি দৃর্গে নিয়ে আসে।
তারপর তাদের সাথে কি হয় তা তো তোমার জানাই
আছে।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here