ভাত

0
774

ভাত

রাত দুপুরে নুরুল হকের খিদে পেলো। খিদে বলতে বিস্কুট বা মুড়ি খেয়ে শুয়ে পড়লে হবে, এমন না।
এখন তার ভাত খেতে হবে।
ঘুমটা ভাঙলো খিদের জন্যই।
এখন বাজে প্রায় সাড়ে বারোটা।
আরেকটা দিন শুরু হয়ে গেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় নান আর পোড়া মুরগী খাওয়ায় রাতে খিদে ছিলো না, তাই ভাত খাওয়া হয়নি।
সমস্যা হলো এত রাতে বের হবে কিভাবে, দারোয়ানের ঘুম ভাঙালে রাগী রাগী লাল চোখ করে তাকাবে।
নুরুল হক থাকে একটা বাসার ছয়তলার ছাদের উপরে একটা সিঙ্গেল রুমে।পাশে আরো দু রুমে দুটো পরিবার থাকে, সবার এক রুমের সংসার।

এত রাতে বের হইয়াও তো হোটেলও খোলা পাওয়া যাবে না, নুরুল হক একা একা আওরায়।
তাও একটু পর উঠে আয়রন ছাড়া শার্টটা গাঁয়ে জড়ায়।
আধময়লা প্যান্টটা দড়ি থেকে নিয়ে পরে ফেলে।
এরপর নিঃশব্দে বের হয়ে সিড়ি ভেঙে নিচে নামে।

নুরুল হকের বয়স চল্লিশের কাছকাছি।
একটা ছোটখাটো চাকরি করে, পিয়নের চাইতে একটু উপরে হবে, আর্দালি ধরণের।
ইনকাম বেশি না, পাশাপাশি ছোট খাট একটা ব্যবসায় টাকা দেয়ার চেষ্টা করছে।
বিয়ে করেছে বছর পাঁচেক আগে, বউ কয়েকবার ঢাকা এসে ঘুরে গেছে কিন্তু দেশে অসুস্থ বাবা মায়ের খেদমত করতে বউয়ের বাড়িতেই থাকতে হয়।
ঢাকায় আর সংসার করা হয়নি।

ইদানিং নুরুল হকের সময় অসময় খিদে পায়।
ব্লাডারও চাপ সামলাতে পারেনা, কে জানে বহুমুত্রের লক্ষন কিনা।

দারোয়ান কিছু বললো না, ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে দিলো।

নুরুল হক হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার মাথায় রেস্টুরেন্ট গুলোর কাছে গেলো।
পাশ থেকে তিনটা কুকুর একসাথে হেঁটে চলে গেল।
নুরুল হকের ভয় লাগছে না, তার ক্ষুধা ছাড়া কিছুই লাগছে না এখন।
এখানে পাশাপাশি তিনটা রেস্তোরাঁ, কিন্তু সব বন্ধ।
আহারে, এমনে সারাদিন খোলা থাকে।
এখন সব গুলান বন্ধ।
তাইলে কই গেলে ভাত খাওয়া যাবে?
সায়েদাবাদ বা সদরঘাট যাবে এত রাত্রে? টার্মিনাল গুলোতে সারারাত রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে।

আহা, বউটা কাছে থাকলে এখন তাকে বলা যত, ওঠো রেহেনা, একটু ভাত বসাও।
সাথে একটু আলু সিদ্ধ দিও।
কাঁচামরিচ দিয়া মাইখা একটু ঘি ছিটায়ে দিও।
আর একটা ডিমও ভাজো।
নাকি চালে ডালে খিচুড়ি চাপাবা একটু….

বউয়ের সুখ এ জীবনে কপালে জুটলো না।
আব্বা আম্মা বউরে ঢাকায় পাঠাবোই না, নুরুল হকের মাঝে মাঝে মনে হয়, তার বাপ মা স্বার্থপর।
এবার গেলে বউকে নিয়ে আসতেই হবে।

নুরুল হক সিদ্ধান্ত নেয় সে খোঁজাখুজি বাদ দিয়ে সায়েদাবাদ গিয়ে ভাত খেয়ে আসবে। বেশিক্ষণ লাগবে না।
সবমিলিয়ে ঘন্টাখানেক।

কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে সে ধানমন্ডি লেকের পাশে চলে আসে।
লেকপারে রাতে ঢুকতে দেয় না।
কিছু মানুষ ফুটপাতে শুয়ে আছে।
একটা খালি রিক্সা আসছে।
নুরুল হক জিজ্ঞেস করে, রিক্সা সায়েদাবাদ যাবে কিনা।
রিক্সা ওয়ালা বললো, নাহ, এখন যাবে না।
তাইলে সদরঘাট যাইবা?
রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞেস করে, আপনে কই যাইবেন আসলে?
নুরুল হক বলে ফেলে, তার খিদে লাগছে, তাই ভাতের হোটেল খুঁজছে।
এত রাতে কোথায় না কোথায় খুঁজবে তার চাইতে এসব জায়গায় যাওয়া ভালো।

রিক্সাওয়ালা বলল, আইচ্ছা চলেন, আপনেরে একজায়গায় নিয়া যাই।
ভাত খাওন ই তো কতা।

রিক্সায় করে এগলি সেগলি ঘুরে একটা টিনসেড বস্তি ধরনের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায় রিক্সা।
রিক্সা ওয়ালা ভিতরে যায়, একটু পরে এসে নুরুল হককে ভিতরে নিয়ে যায়।
তারপর বলে, ভাইজান গরীবের লগেই চাইরটা ভাত খান।
রিকসাওয়ালার বউ ভাত চড়িয়ে দেয়।
আধঘন্টা মতো পরে নুরুল হকের সামনে ভাত আসে।
সাথে আলুভাজা আর পাতলা ডাল।
রসুন মরিচের একটা ভর্তাও আছে।
রিক্সাওয়ালার বউ একটা ডিমও ভেজে দিয়েছে।
কার সাথে কোথায় বসে খাচ্ছে, সেটা খেয়াল নেই নুরুল হকের।
তার সামনে এক গামলা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত, আহা, কি মিষ্টি ঘ্রাণ ভাতের।

ভাত

লেখিকা : শানজানা আলম
( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???
https://www.facebook.com/shanjana.alam

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here