ভাঙা বাড়ি পর্বঃ ০৪

0
1583

ভাঙা বাড়ি পর্বঃ ০৪
– আবির খান

হঠাৎই নিমিষেই সব বন্ধ হয়ে যায়। আমি কান থেকে হাত সরিয়ে ফেলি। চুপচাপ বসে আছি। কোথাও কোনো শব্দ নেই। কিন্তু কিছুক্ষন পর যা হলো তার জন্য আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না। ভয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। কারণ এবার আমার রুমের দরজায় সমানে কড়া পরছেতো পরছেই। মনে হচ্ছে দরজাটা ভেঙেই ফেলবে। আমি ভীতু ভাবে জিজ্ঞেস করলাম,

— কে???00

কোনো কথা নেই।

— কে??? কেনো আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন??

কোনো কথা নাই।

— প্লিজ বন্ধ করুন।

এখনো সেই আগের মতো কড়া পরেই যাচ্ছে। আমি মনে মনে অনেক কষ্টে সূরা দোয়া পড়তে শুরু করি। কিন্তু ভয়ে শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারছিনা। অনেক কষ্টে দোয়া পড়তে পড়তে একসময় সব শান্ত হয়ে যায়। সত্যিই আল্লাহ ছাড়া আমাদের বিপদ থেকে কেউ কখনো বাঁচাতে পারবে না। চুপচাপ বসে আছি। একটু পরই কানে ভেসে আসলো ফজরের আযান। সবকিছু কেমন চুপচাপ শান্ত হয়ে গেলো। আমি এখনো ভয়ে কাঁপছি। এরপর কি হলো আর মনে নেই।

আমি আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকাই। কানে শুনতে পাচ্ছি দরজায় সমানে কড়া পরছে আর বাবা-মা আমাকে ডাকছে। আমি ক্লান্ত শরীর নিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলি। দরজা খোলার সাথে সাথেই বাবা মা অামাকে ধরে বলে উঠলো,

— কিরে তোর এ অবস্থা কেনো?? মুখটাও ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে?? (বাবা)

— কি হইছে বাবা তোর। (মা)

আমি বাবা-মাকে বিছানায় বসিয়ে রাতের সবকিছু খুলে বললাম। বাবা-মা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আমাকে নিয়ে দ্রুত দাদির কাছে গেলো। তাকে সব বলল।

— মা, আমরা আজই চলে যাবো। এভাবে আর এখানে থাকা যাবে না। ছেলেটার অবস্থা খুব খারাপ। (বাবা)

— দেখ সোয়েল, রুমেলের উপর কোনো সাধারণ জ্বিনের নজর পরেনি। ওকে এর নজর থেকে না কাটালে ও এখন যেখানেই যাবে ওর ক্ষতি হবে। তাই বলছি আর কটা দিন অপেক্ষা কর। আমি দেখছি কি করা যায়৷ ওকে আমি এই আপদ থেকে মুক্ত করবোই ইনশাআল্লাহ। (দাদি)

— কিন্তু মা, রুমেলের কি অবস্থা দেখো। কিভাবে ওকে বাঁচাবো??(বাবা)

— আরে ভয় পাশ না। ওর কাছে ওই তাবিজ থাকতে ওর কিচ্ছু হবে না। (দাদি)

— জ্বি দাদি, কাল ওরা আমাকে ভয় দেখিয়েছে কিন্তু কাছে আসতে পারে নি। (অামি)

— পারবে না দাদা ভাই। তুমি আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা রাখো সব ঠিক হয়ে যাবে৷

— আমি এসব থেকে মুক্তি চাই। (আমি)

এরপর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করি। শরীরটা কেমন ভার হয়ে আছে। কিচ্ছু ভালো লাগছে না। বাড়ির উঠানে বসে আছি। এখানের বাতাসটাও আমার কেমন জানি খারাপ লাগছে। হঠাৎ আমার চোখ গেলো বাড়ির মেইন গেইটের দিকে। সেখানটা বেশ ঝোপঝাড় পূর্ণ। আমি দেখি, সেই কালো অবয়বটা বাতাসে ভাসছে। ভাসতে ভাসতে উপরে উঠছে। উঠেই একটা চক্কর দিয়ে নাই হয়ে যায়। ভয়ে আমার অবস্থা খারাপ৷ দ্রুত বাসার ভিতরে চলে যাই। কারো সাথে কথাও বলতে ইচ্ছা করছে না। এভাবে সারাটাদিন চলে গেলো। আর চলে এলো সেই ভয়ানক রাত। আজ শুভকে সাথে নিয়েই ঘুমিয়েছি। কিছুতেই ঘুম আসছে না। আর শুভ নাক টেনে ঘুমাচ্ছে। আমি আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পরি। কিন্তু আবার সেই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। তবে এবার কোনো অস্বাভাবিক কিছুতে নয়। কে যেন আমাকে ডাকছে।

—- রুমেল….রুমেল।

গলাটা আমার পরিচিত। শব্দটা দরজার বাইরে থেকে আসছে। একবার কড়াও পরলো আস্তে করে। আমি কি ভেবে যেন উঠে দরজাটা খুলে দেখি দাদি।

— দাদি তুমি এতো রাতে??(আমি)

— তোকে নিয়ে যেতে এসেছি। ওইযে দুষ্ট জ্বিনরা তোকে জ্বালায় না ওদের শাস্তি দিবো আজ চল। (দাদি)

— তুমি একা কেনো?? বাকিরা কোথায়??

— আরে আমি একাই একশো। চল তুই আমার সাথে।

আমি আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ দাদিকে ফলো করে তার পিছনে পিছনে হেঁটে যাচ্ছি। অন্ধকারে বুঝতে পারছি না কোথায় যাচ্ছি। বেশ কতক্ষণ হাঁটার পর হঠাৎ দাদি দাঁড়িয়ে যায় ঠাস করে আর বলে,

— রুমেল, তাবিজটা খুলে আমাকে দে। এটার আর এখন প্রয়োজন নেই। আমাকে দে আমি পরি।

দাদিই যেহেতু আমাকে তাবিজটা দিয়েছিল তাই তিনি চাওয়াতে আমি আস্তে করে যেই তাবিজ টা খুলে দাদির হাতে দিবো দেখি দাদি নাই। আমি সম্পূর্ণ একা। হঠাৎই আমার হাতে কিসের যেন বাড়ি লাগে আর তাবিজটা ছিটকে অন্ধকারে হাত থেকে পরে যায়। আর সাথে সাথেই শুরু হয় বিকট অট্টহাসি।

— এখন তোর কি হবে?? কে তোকে এখন বাঁচাবে আমার কাছ থেকে?? অনেক দিনের আশা আজ পূরণ হবে। হাহাহা।

কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আমি অনুভব করি আমার পা দুটোকে দুইটা গরম হাত ধরে আর একটানে ছেছড়াতে ছেছড়াতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি মাটিতে লাফালাফি করছি কিন্তু এর শক্তির সাথে আমি কিচ্ছু না। আমি সমানে কান্না করছি আর আল্লাহকে ডাকছি। আমি ভয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছি। চিৎকার পর্যন্ত করতে পারছিনা। আমাকে টেনে নিয়ে ঠাস করে একটা যায়গায় ফেলে দেয়। যায়গাটা আবছা আলোতে কেমন চেনাচেনা লাগছে। আমি উপরে তাকিয়ে দেখি সেই স্বপ্নে দেখা ভাঙা ছাদটা। মানে আমি এখন সেই ভাঙা বাড়িতে। হঠাৎই হুংকার দিয়ে পুরুষ আর মহিলার মিশ্রিত কণ্ঠে কেউ বলে উঠে,

— হ্যাঁ, তুই ঠিকই ভাবছিস। তুই আমাদের বাড়ি মানে ভাঙা বাড়িতে আছিস। আজ তোর রক্ষা নাই। কেউ আজ তোকে বাঁচাতে পারবে না। কেউ না।

আমি সমানে কান্না করছি। হাত পা সব ভয়ে অবস হয়ে আসছে। কিচ্ছু ভাবতে পারছি না। তাহলে কি আজ আমার শেষ?? আর বেঁচে থাকা হবে না?? আল্লাহ আমাকে বাঁচাও।

চলবে….

কি হবে রুমেলের?? সেকি এই ভয়ংকর জ্বিনের হাত থেকে বেৃচে ফিরতে পারবে?? নাকি এখানেই তার শেষ হবে?? জানতে হলে সাথে থাকুন। আর জানাতে পারুন আমাকে আপনার কি মনে হয়। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here