বেইমানীvsলাভ পার্ট_২

বেইমানীvsলাভ  পার্ট_২
জামিয়া_পারভীন
আসিফের এই আচরণ এ রুমেসা খুব ক্ষেপে যায় আর আসিফ কে চড় মেরে বসে??। তখন ই আসিফ রুমেসা কে বলে…

….. আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই??। নিজের জন্য না, শুধুমাত্র আমার ছোট্ট সন্তান আবিরের জন্য। তুমি না চাইলেও তোমাকে বিয়ে করতেই হবে।?

…. দেখুন আপনার মতো অভদ্র কে বিয়ে করা সম্ভব না।?

…. তোমার মতামত জানতে চাইনি, তুমি বাধ্য।?

এরপর আসিফ তার বন্ধুদের ডাক দেয় আর এক বন্ধুর কোলে ছোট্ট আবির কে দিয়ে রুমেসা কে জোর করে কাজি অফিস নিয়ে যায়। ???

একপ্রকার রুমেসা বাধ্য হয়েই কবুল বলে কেননা এতো পাওয়ারফুল লোকের সামনে বাচার উপায় ছিলো না।

আসলে আসিফের বাসা রুমেসার বাসা থেকে কিছু কিলোমিটার দূরে কিন্তু আজই একে অপরকে দেখে। ☺

আর রুমেসা আসিফের নাম ও শুনেছে সবচেয়ে শহরের ধনী ব্যক্তি হিসেবে। ??

এরপর আসিফ রুমেসা কে নিয়ে রুমেসার মা বাবার সাথে দেখা করে? । কিন্তু রুমেসার বাবা মা ভাবে রুমেসা প্রেম করে বিয়ে করেছে তাই রুমেসা কে দরজা থেকে বের করে দেয় আর আসিফ কে বলে লাগবে না এমন মেয়ে?। তোমাদের অনেক টাকা আছে তোমাদের কাছে নিয়েই রাখো।?

একে রুমেসার জোর করে বিয়ে হয়েছে, অন্যদিকে বাবা মা ভুল বুঝেছে। যেন তার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে।???

আসিফ আগেই বাসায় জানিয়ে রাখে যেন নতুন পুত্রবধূ কে বরণ করে নেয়া হয়। আর রুমেসাও কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চা কোলেই নতুন বাসায় প্রবেশ করে। ??

বিয়ের আগেই বাচ্চার মা হয়েছে রুমেসা এতো কষ্ট সে কোথায় লুকাবে। তার স্বপ্ন, আশা সব শেষ হয়ে গেছে আজ। ?

আসিফের বন্ধুরা মিলে আসিফের বাসর ঘর ও সাজাই রাখে।
ধনী হলে যা হয় এতো বড় বাগান বাড়ি ঢাকা শহরে রুমেসা আগে দেখেনি। যেন সে দিবা স্বপ্ন দেখছে। ??

বধু সেজেই অপেক্ষারত রুমেসা বুঝতে পারলো আসিফ আসছে।
কিছুক্ষণ আগেই আবির কে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে রুমেসা। আর আসিফের বড় ভাই এর বউ নিরা নিয়ে গেছে।

রুমেসা সত্যিই অবাক হয় দেয়ালের সব দিকে ই যেন তারই ছবি।
বুঝতে বাকি নেই এটা আবিরের মায়ের ছবি। ?

আসিফ কে দেখে রুমেসা ভয় পেয়ে যায়। ?

আসিফ রুমেসা কে বলে

…. ভয় পাওয়ার কিছুই নাই, আমি তোমাকে বিয়ে করিনি।

…. এসব কি বলছেন, তাহলে এইসব কি ছিলো। আপনি নিজেও কবুল বলেছেন।

…. হা হা হা, এই যুগ এ কবুলের দাম আছে কি? লাগে তো কোর্ট পেপার। তুমি যদি প্রথমেই আমার দেয়া দায়িত্ব মেনে নিয়ে আবিরের দেখাশুনা করতে তা হলে এই বিয়ের নাটক করতে হত না।

…. আপনি নাটক করেছেন আমার সাথে আমি ভাবতেও পারছি না। কাঁদছে…. ?????

…. শুনো, যেই পেপারে তুমি সাইন করেছো সেটা আসলে একটা ডিল। তুমি ১০ কোটি টাকার বিনিময় এ আমার সন্তান আবির কে দেখাশুনা এর দায়িত্ব নিয়েছো এটাই লিখা ছিলো ওই পেপারে।

….. কান্না আর থামে না ????, আমি আপনার কাছে কোন টাকা নেয় নি।

…. সেটা আমিও জানি, তোমরা মধ্যবিত্ত, জানি এটা শোধ করতে পারবেনা তাই মুক্তি ও পাবেনা আমার হাত থেকে।

…. কি ক্ষতি করেছি আপনার যে আমার এতো ক্ষতি করতে চাচ্ছেন।

…. আমি আমার স্ত্রী কে ভালোবাসি, কি ভেবেছিলে তুমি তোমার মতো ফকিরের মেয়ে কে বউ বলে আমি মেনে নিবো।

…. তাহলে এতো আয়োজন কিসের জন্য, বলে দিলেই পারতেন আমাকে আপনি ব্যবহার করতে তুলে এনেছেন।???

…. আমার মা খুবিই ধার্মিক, সেটা বলা যাবেনা, তাই বাধ্য হয়েছি। বেশী দিন না তোমাকে মাত্র কয়টা বছর আমার সাথে থাকতে হবে একই ঘরে।

…. লজ্জা করে না, আমি কি আপনার রক্ষিতা যে এভাবে একই রুমে এই বেডে থাকবো। ছিঃ ???

…. আমি এতো খারাপ না রুমেসা, প্রয়োজন এ আমি সোফায় থাকবো তুমি বেডে তাও ভালো আমার সন্তানের যেন কোন ক্ষতি না হয়। নইলে তোমার জীবন আমি তচনচ করে দিবো। ??

…. আপনি একটা বেইমান । ???

আসিফ গিয়ে সোফায় শুয়ে পড়ে আর এদিকে সারাটা রাত রুমেসা কেঁদে কাটায়। ????

বলাই হয়নি
বাসায় তিন ভাই, আর আসিফের মা।
★ বড় ভাই শাকিল আর ওর বউ নিরা আর ৫ বছরের নাইমা পিচ্চি।
★ আসিফ মেজো, রুমেসা এখন বউ সেটা বাসার সবাই জানে। আর পিচ্চি আবির।
★ ছোট ছেলের নাম সৌরভ, লন্ডন থেকে খুব শীঘ্রই দেশে ফিরার কথা। সে কেবল পড়াশুনো শেষ করে বাবার বিজনেস এ জয়েন করার জন্য দেশে রওনা দেবার কথা। এরই মাঝে মেজো ভাবির মৃত্যুর কথা শুনে তাড়াতাড়ি দেশে ফিরছে।

আসিফের মা বাসায় কাজের লোকের হাতে রান্না পছন্দ করেন না। তাই সব দায়িত্ব এখন বড় দুই ছেলের বউ এর ঘাড়ে।

রুমেসা না পারতে সব মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। আর দুই জা মিলে শাশুড়ি কে হ্যাপি রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

আর আবির তো আছেই সব সময় আম্মু আম্মু করে রুমেসাকে জড়িয়ে রাখে। ☺☺☺

রুমেসাও মায়ের আদরে আবির কে আগলে রাখে। একজন আদর্শবান মা হয়ে উঠে রুমেসা মাত্র তিন দিনে।
এই তিন দিন রুমেসা আসিফের সাথে কথাও বলেনি আর আসিফ ও ছেলের যত্নে অবহেলা না পেয়ে নিজ থেকেও হ্যাপি।

তিন দিন পর আবিরের মায়ের জন্য দোয়া অনুষ্ঠান করার কথা ছিলো তাই বাসার সবাই খুব বিজি।

এই সময় কলিংবেল বেজে উঠে…
নিরা রুমেসা কে বলে দরজা টা যেন খুলে দেয়।

রুমেসাও তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলে কিন্তু অচেনা ছেলে কে দেখে ভয় পেয়ে যায় আর ছেলেটি ও রুমেসা কে দেখে ভুত বলে চিৎকার করে উঠে।

Comments are closed.