বসের সাথে প্রেম পর্ব- ০১

1
7710

বসের সাথে প্রেম
পর্ব- ০১
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ছেলেটির ডায়েরী__
অঘোরে বৃষ্টি হচ্ছে। বাসা থেকে যখন বের হয় তখন আকাশটা বেশ পরিষ্কার’ই ছিল। হঠাৎ করেই কোথা থেকে যেন একটুকরো মেঘ আকাশে উড়ে। ক্ষানিক বাদেই পুরো আকাশ’টা ঢেকে গেল ঘন কালো মেঘে। একটু পরেই ঝম-ঝমাঝম বৃষ্টি শুরু হলো। সেকি বৃষ্টি! সকাল ৯টায় এই টং দোকানে আশ্রয় নিয়েছি, তখনো বৃষ্টি ছাড়ার কোনো নাম-গন্ধ’ই নেই। তাই বাধ্য হয়েই বৃষ্টির মধ্যেই গাড়িতে উঠে যায়, অফিসে যাওয়ার জন্য। যদিও বাবা বলেছিল, আকাশ মেঘলা থাকলে যেন গাড়ি না চালাই। আমি যখন গাড়ি নিয়ে রাস্তার মাঝ বরাবর চলে এসেছি, ঠিক তখনই গাড়ির গ্লাসে চোখ পরতেই দেখি একটি মেয়ে এই ঘোর বৃষ্টির মধ্যে হাতে ছাতা আর কাধে ব্যাগ নিয়ে একদম ছুটে চলছে সামনের দিকে। জীবনে কখনো নিজে থেকে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলিনি, কিন্তু আজ কেন মেয়েটির জন্য বড্ড মায়া হলো। কোনো হেল্প লাগবে কি না জিজ্ঞেস করতে ছুটে গেলাম মেয়েটির দিকে। মেয়েটির থেকে ঠিক ৩,৪হাত দুরেই গাড়িটা থামালাম। মেয়েটি থমকে তাকালো। জিজ্ঞেস করলাম-
– Can I help you,mem?
প্রতিউত্তরে মেয়েটি কিছুই বলল না। কিন্তু মুখ দেখে মনে হচ্ছে খুব তাড়া আছে। আমি আবারো বললাম, কোনো ভাবে কি আমি আপনাকে হেল্প করতে পারি? মেয়েটি মনে হচ্ছে হ্যাঁ-না কি বলবে সেই দ্বিধা সংকোচে ভুগছে আর বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। আমি আবারো বলি- ” ম্যাম, সংকোচ না করে বলেই ফেলেন।” মেয়েটি কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসল। জিজ্ঞেস করলে বলে, সামনেই কোথাও যাবে। আমি বললাম ঠিক আছে, আপনার গন্তব্যে এলে আমায় সংকেত দিবেন। মাথা নেড়ে মেয়েটি সম্মতি জানালো।
,
,
মেয়েটির ডায়েরী__
আজ আমাদের অফিসে নতুন এমডি আসছে। নতুন বললে ভুল হবে। প্রাক্তন’টায় এখানে খাটে। কারন, ওনি এর আগেও এখানে ৪বছর কাজ করে গেছেন। সময়টা কম হলেও এই সংক্ষিপ্ত সময়ের ইতিহাসটা ব্যপক। শুনেছি, ওনি নাকি ভিষন রগচটা আর বদমেজাজি স্বভাবের একজন মানুষ ছিলেন। কাজের ক্ষেত্রে ফাঁকি একদম বরদাস্ত করতেন না ওনি। আবার অফিসে পৌঁছাতে একমিনিট লেইট হলে একদিনের সেলারি কেটে নেওয়া হতো। খাতায় লেইট মার্ক যদি তিনদিনের বেশী হতো তাহলে বেতনের এক তৃতীয়াংশ কেটে নেওয়া হতো। তাই আজ ভয়ে প্রতিদিনের চেয়ে একটু আগেই বের হয়ে গেলাম বাসা থেকে, যদি লেইট হয়ে যায় সেই ভয়ে। কে জানত যেই ভয়ে বাসা থেকে তাড়াতাড়ি বের হলাম, সেই ভয়টায় সত্যি হয়ে যাবে। বাসা থেকে বের হওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আকাশ মেঘলা হয়ে গেল। ঘোর কালো অন্ধকার করে কিছুক্ষণের ভিতর বৃষ্টি শুরু হলো। কিছুক্ষণ একটা দোকানে আশ্রয় নিলেও বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না বসের ভয়ে। দোকান থেকে ছাতা কিনে ছুঁটতে লাগলাম অফিস পানে। কিন্তু এত জোরে বৃষ্টি হচ্ছিও যে হাতের ছাতাটাও বৃষ্টির কাছে হার মেনে যাচ্ছিল। বৃষ্টিতে আধভেঁজা হয়ে আল্লাহ’কে ডাকছি আর ছুটে চলছি। হঠাৎ করেই একটা গাড়ি পিছন থেকে চলে গেল। হঠাৎ করেই গাড়িতে পিছিয়ে আসল। আমি থমকে দাঁড়ালাম। গাড়ির বন্ধ জানালা খুলে গেল। এক সুদর্শন যুবক গাড়ির ভেতর থেকে আমায় বলছে, Can I help you, mem? আমি যেন যুবকটির কোনো কথায় শুনতে পাচ্ছিলাম না। ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে গেলাম দুর অজানায়। ঘোর কাটলো ওনার ডাকে। বলছে, আমি কি কোনো ভাবে আপনাকে হেল্প করতে পারি? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৯টা বেজে ৩৫মিনিট। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম। কোনো কিছু না ভেবেই উঠে গেলাম গাড়িতে। জীবনের প্রথম এত দামী গাড়িতে কোনো সুদর্শন যুবকের পাশে বসে আছি। বুকের ভিতর বসন্তের কোকিল কুহু স্বরে ডেকে উঠল, লজ্জা পেয়ে গেলাম।আচমকা ওনি বলে উঠলেন, ‘ আপনার গন্তব্যে এলে আমায় সংকেত দিবেন, কেমন?’ আমি লজ্জায় মুখ দিয়ে কিছু বলতে পারিনি, শুধু মাথা নাড়িয়ে আমার ‘হ্যাঁ’ বলাটা জানান দিচ্ছিলাম….
,
,
ছেলেটির ডায়েরী__
দেখতে দেখতে বাবার অফিসের সামনে এসে গেলাম। এখন বাবার কোনো কর্মচারী যদি দেখে আমার পাশে অচেনা মেয়ে, আমি তাকে নিয়ে অফিসে না গিয়ে, সামনে কোথাও চলে গেছি, তাহলে পরিনতি খারাপ হবে। ছয়কে নয় বানিয়ে বাবার কান ভারি করে দিবে। সেই ভয়ে মেয়েটিকে নামিয়ে দিলাম অফিসের ঠিক একটু সামনেই। মেয়েটি নেমে আমার দিকে তাকিয়ে গিয়ে কৃতজ্ঞচিত্রে একটা হাসি দিয়ে চলে গেল। আমি অফিসে প্রবেশ করলাম। সবাই নিজ নিজ আসন থেকে উঠে আমায় গুডমর্নিং জানালো। হঠাৎ’ই চোখ যায় একটা চেম্বারের দিকে, যেটা এখনো শূন্য পরে আছে। খেয়াল করে দেখলাম আসনটা পি.এর। এ নিশ্চয় বাবার পছন্দে সিলেক্ট করা পি.এ মায়ার আসন! বাবার মুখে মেয়েটির অনেক গুনগান শুনেছি, এই তার লক্ষণ? রাগে গজগজ করতে করতে আমার রুমে চলে গেলাম, যাওয়ার আগে বলে গেলাম পি.এ আসার সাথে সাথেই যাতে আমার রুমে পাঠানো হয়….
,
,
মেয়েটির ডায়েরী_
হঠাৎ’ই গাড়িটা এক জায়গায় এসে থেমে গেল। যুবক’টা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, বৃষ্টি থেমে গেছে, আমারও তাড়া আছে। আপনি বরং এখানেই নেমে যান। ট্যাংক্সি কিংবা রিক্সা করে চলে যান আপনার গন্তব্যে। গাড়ি থেকে নেমে যুবকটির দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞসরুপ একটা হাসি দিলাম। না, না। আমার রিক্সা কিংবা ট্যাংক্সি কোনো’টার প্রয়োজন হয়নি। কারন যুবকটি আমায় অফিস থেকে এমন এক জায়গায় নামিয়ে ছিল যেখান থেকে আমার অফিস মাত্র ২মিনিটের ছিল। পায়ে হেঁটেই পৌঁছে গেলাম অফিসে। হঠাৎ’ই কলিগ মুক্তা ডেকে বলল- মায়া ম্যাডাম, আপনাকে বস ডেকেছে। তাড়াতাড়ি যান, নইলে নামের শেষে লেইট মার্ক বসিয়ে দিবে। কথাটা শুনেই হৃদকম্পন বেড়ে গেল। ছুটে চললাম ওনার রুমের দিকে। দরজার কাছে গিয়ে বললাম__
” আসতে পারি স্যার?”

চলবে….

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here