প্রয়োজন পর্বঃ ১০

0
702

#গল্প_পোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতায_২০২০
প্রয়োজন পর্বঃ ১০
লেখায়ঃ তানিয়া তানু

এই নিন, আপনার নাস্তা।
নাস্তা টেবিলে রাখার শব্দে ভাবনার ছেদ পড়লো। কে নাস্তা দিলো তা দেখার জন্য মাথা উঁচু করে তাকাতেই দেখলাম,,,,,,,,,
নিয়নের ভাই নাস্তা রেখে ডেবিল মার্কা হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি নাস্তা খাবো কী! উনার হাসি দেখে কালকে করা নিয়নের দুষ্টুমির কথা মনে পড়ে গেল। মন বললো, আজ যদি উনিও একই কাজ করেন। তবে তো আমি শেষ। এই কোন চিপায় পড়লাম আল্লা।

~খেয়ে নিন। নিয়ন যাতে আপনাকে কোনো কিছু করতে না পারে তাই আমি নিজ হাতে আপনার জন্য নাস্তা বানালাম। খালাই বানাতো। কিন্থ ওনার স্বামী অসুস্থ হওয়ার সংবাদ শুনে দুপুরে চলে গিয়েছেন। তাই আমিই করলাম।
একটানে তিনি সব কথা বললেন। আর আমিও নির্বাক শ্রোতা হিসেবে সব কথা গিললাম। মন কিছুটা শান্ত হলো। যাক এই লোকটাকে অন্তন্ত কিছু হলেও বিশ্বাস করা যায়। তাই তো ভয়ে পুরো নাস্তা শেষ করলাম। অন্যদিকে নিয়ন অবাক নয়নে আমার দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছে। গোগ্রাসে গিলছি বলে কথা। তাকাবেই তো। নিয়নের ভাই অনেক পূর্বে নাস্তা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেছিলো।
___________________________________

নাস্তা করার পর মনে হলো এই পিচ্চি যদি এখন কোনো দুষ্টুমি করে। এর পূর্বেই আমাকে প্রতিকার ভাবতে হবে। ভারি ভাবনার ফলশ্রুতিতে এলো অভাবনীয় এক প্রতিবাক্য। মন প্রতিবাক্যে বললো, নিয়নের সাথে খেলায় জমে উঠো। মন যা বলে তা তো করা লাগে।নিয়ন প্রথমে সম্মতি না দিলেও খেলায় যে বিনোদন পাবে। তা বোঝানোর ফলে সম্মত হলো। অনেক্ষণ খেলার পর চলে যাওয়ার সময় দেখলাম, দুই হাত পকেটে গুঁজে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিয়নের ভাই। অপ্রস্তুত হওয়া কেমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়লাম। তিনি মনে হয় আমার অবস্থা আন্দাজ করতে পেরেছেন। তাই কাছে এসে কতক টাকা দিয়ে বললেন, ‘আজ আমার ডিউটি আবারো কামাই করলাম। হঠাৎ এই কথা শুনে উনার কথার মর্ম বুঝতে পারলাম না। জিজ্ঞাসাসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম উনার দিকে। আবারও মনে হয় বুঝলেন যে আমি উনার কথার মর্ম বুঝিনি। কারণ পরক্ষণে তিনি বললেন,
~আপনি যদি কাল তাড়াহুড়ো করে না যেতেন। তাহলে কালই আমি আপনাকে সম্মানী দিয়ে দিতাম। কিন্তু আপনি চলে গেলেন। যাবার সময় আমার সাথে দেখাও করলেন না। যাইহোক, আপনার সম্মনী অনেক্ষণ হাতে রাখায় প্রচুর ব্যাথা পাচ্ছি। প্লিজ ম্যাম, এখন তো আমার কথা বুঝতে পেরেছেন। তাহলে সম্মানী নিয়ে আমার হাতকে ব্যথা মুক্ত করুন।
উনার অদ্ভুদ কথা শুনে অবাক হলাম। কিন্তু অবাক হয়েও কী হবে! তাই সম্মানী নিয়ে উনার পাশ কাটিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।

____________________________

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

রাস্তার দিয়ে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে এগুতে থাকলাম বাড়ির দিকে। আমাদের বাড়িতে যেতে হলে বাজারের পাশ কাটিয়ে যেতে হয়। একটু হেঁটে দেখতে পেলাম, বেবলি হাতে কাঁচা বাজার নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। একটু অবাক হলাম বৈকি! বাবা থাকতে ও কেন বাজারে?
~বেবলি, এই বেবলি(জোরে ডাক দিলাম(
কয়েকবার ডাকার ফলে পিছন ফিরে আমায় দেখে আসতে থাকলো। আমিও জোরে হাঁটা দিয়ে ওর সামনে গেলাম।
~কিরে, তুই কেন বাজার করলি?
~আপা, বাবার বুকের ব্যথা না প্রচন্ড। বিছানায় পড়ে আছেন। ঘরে কোনো বাজার ছিলো না। তাই আমিই বাজারে চলে আসলাম।
বাবার বুকের ব্যাথা শুনে দুই বোনই জোরে হাঁটা দিলাম।
___________________________________

~ঐ এলো রে, টুনির মা। ও টুনির মা তোমার টুনিরে বোঝাও না,,,,,,,,,,
মেম্বারের বখাটে ছেলে সুজনের কথা শুনে ও তার দলবলের চিল্লাচিল্লিতে পথ রোধ করলাম দুজনে। মনে মনে ভাবতে লাগলাম, ঐ কথাগুলো কাকে শুনিয়ে বলছে? এখানে তো আমরা দুই বোন ছাড়া মেয়ে বলতে তেমন কেউ নেই। আমায় বলবে? কিন্তু আমি তো ওদের কোনো সুযোগ দিইনি। প্রথমে করলেও চরম অপমানে আমার দিকে আর তাকায় না। তবে কাকে বললো? পাশে বেবলিকে দেখে মনে হলো, ওরে বলেনি তো। যাকেই বলুক। ওদের তো একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে। তাই তাদের দিকে গেলে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে নেয় আমার হাত। তারপর অনুনয়ের দৃষ্টিতে বলে,
~আপা, যাস না। চলে আয়।
ওর জোরাজুরিতে আমার আর যাওয়া হলো না। তবে বুঝলাম ওর দিকেই ঐ কথাগুলো ছুড়ে মেরেছিলো। তাই বেবলিকে বললাম,
~শুন বেবলি, আবার যদি ওরা তোকে বিরক্ত করে।তাহলে আমায় বলবি নাহলে নিজে ওদের শিক্ষা দিবি। প্রত্যেক মেয়েই কিন্তু প্রত্যেক ছেলের জন্য শিক্ষিক। সে মা হোক বা অপরিচিত তরুণী।
~আচ্ছা।
___________________________________

বাড়িতে গিয়ে বাবার ঘরে গেলাম। বাবার শিওরে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,
~এখন কেমন লাগছে, বাবা?
~তুই কখন এলি?
~এই এলাম।
~শুন মা। আমি যদি কখনো চলে যাই। তুই বড় মার মতো হবি না তো, বল?
~উফস, চুপ করো তো। এসব অলুক্ষণে কথা তুমি আর কক্ষণো বলবে না। সহ্য হয় না আমার। আমি কেন দেখবো তোমার মেয়েদের? তুমিই বেঁচে থাকবে। আর তুমিই দেখবে। তবে তোমার পাশে আমি সারাজীবন থাকবো। তুমি হবে বাস ড্রাইবার আর আমি হেল্পার। হবে তো বাবা?
বাবা জবাবে মৃদু হেসে বললো,
~আমার দিন যে ফুরিয়ে এলো মা। বড্ড ভয় হয়। চার চারটা মেয়ে এখনো অবিবাহিত। তোদেরকে নিরাপদ আশ্রয় স্থল, শেষ পর্যন্ত দিতে পারবো কীনা শেষাও জানি না!
~এখন চুপ থাকো তো।
~একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যাবো খুব শিগগির।
~বাবা(চিল্লিয়ে)
~শুন, চৌকির নিচে যে খয়েরী বাক্সেট আছে। ঐটায় বাড়ির কাগজ পত্র আছে। বাড়ির সব জায়গা তোদের পাঁচ বোনের নামে। মা, একটা কথা রাখিস, তোর মাকে আমি আজ পর্যন্ত কোনো কিছুই দিতে পারিনি। আমার সমস্যার কারণে ছেলে হয়নি। ছেলের বড্ড শখ ছিলো তার। তাই বলবো তোর মাকে মা হিসেবে না মেয়ে হিসেবে সারাজীবন তোর কাছে রাখিস। বড্ড অভাব হলে পারলে না খেয়ে রাখিস। তবুও ছেড়ে দিস না।
বাবার কয়হা শুনে কেদেঁ দিয়েছিলো। পুরো বাকরুদ্ধ! বাবা আবাও বলা শুরু করলেন,
~কাগজপত্রের ভাঁজে হাজার দশেক আছে। ঐ টাকা দিয়ে জানি তেমন কিছু হবে না। তাও বলবো এই টাকা দিয়ে ভালো কিছু করিস। আর গাড়িটা প্লেইট নাম্বার পঞ্চাশ হাজার বা সত্তর হাজার হবে? গাড়ির বডি ত্রিশ হাজার হবে। তোর আলম চাচ্চুকে তো চিনিস। আমার বাল্যবন্ধু, ওর কাছে গাড়ি বেচে দিস। যা টাকা পাবি তা আমার ডায়রী দেখে পাওনাদারদের দিয়ে দিস। জানি ওদের টাকা শোধ করে কিছু থাকবে না। তার জন্য আমারে মাফ করে দিস রে মা।

বাবার এই কথাগুলো মনে বড্ড দাগ কাটছে। একদল কান্না দল বেধেঁ আসছে। সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই সেখান থেকে উঠে নিজের ঘরে চলে গেলাম।

চলবে,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here