প্রয়োজন পর্বঃ ০৯

0
604

#গল্প_পোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
প্রয়োজন পর্বঃ ০৯
লেখায়ঃ তানিয়া তানু

তাই মায়ের দিকে অগ্নি চোখে তাকিয়ে বললাম,
টাকা দেওয়ার কারণেই বুঝি আকাশ ভাইয়া ভালো ছেলে হয়ে গেল। মা, ও মা বলো আমরা কী ভিখারি? যদি নাই হই তাহলে তুমি কেন আজ টাকাটা নিলে? টাকাটা কী খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো? গিফট সেটা আমার হাতে কেন ছেড়ে দিলে না? কেন তুমি লোভী হয়ে টাকাটা নিলে? এত লোভী মা হলে কেন? বলো মা। বলো।

আচমকা কিছু একটা তেড়ে আসলো আমার গালে। তবে এটা কী সেটা ঠাওর করতে পারলাম না। গালে জ্বলা অনুভব করছি। প্রচন্ড জ্বলছে। গালে হাত দিয়ে মায়ের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বুঝলাম, মা আমার কথাগুলো সহ্য করতে না পেরে আমাকে মেরেছেন। তাঁর চোখেও অনবরত জলের ধারা নামছে।

~তুই টাকাটাই দেখলি। আমার প্রতি ছেলেটার ভালোবাসা দেখলি না। কী সুন্দর মা বলে ডাকে আমায়। ছেলেদের মুখে মা ডাক শুনলেই আমি মোহে পড়ে যাই। তাই তো টাকা দেওয়ার সময় না বলতে পারিনি। আর তুই কোথেকে টাকা দিবি। তোর টিউশনির টাকা সে তো দুর্লভ বস্তু। কবে পাবি তার ঠিকানা আছে? না পেলে কোথেকে দিবি?

মায়ের কথা শুনে নীরব হয়ে গেলাম। সত্যি কোথেকে টাকাটা দিবো। কোনো টিউশনিই তো এখনো টাকা দিলো না। কিন্তু আমার আত্মসম্মান আছে। আমি কখনো ঐটাকা গুলো রাখবো না।
মায়ের হাত থেকে সহসা টাকা নিয়ে দরজার কাছে গেলে মা আমাকে বললো, ও চলে গেছে।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


চলে গেছে শুনে হতাশ সৃষ্টি হলো মনে। তবে নিলার বিয়ের দিন হলেও আমি টাকা ফেরত দিবো। মাথা নিচু করে কথাগুলো ভাবছিলাম। সহসা মাথা তুলে দেখি মা নেই। চলে গেলেন।

~একদিন ছুটি হবে? অনেক দূরে যাবো। নীল আকাশে,,,
দুই বেণি নাড়িয়ে নাড়িয়ে গান গাইতে গাইতে প্রবেশ করলো আমাদের অতি আদরের অবুঝ বালিকা বেবলি। একে তো মায়ের চড়। যা এখনো গালে ব্যথা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বেবলির মনের সুখের গান যেন শরীরে জ্বালা ধরিয়ে দিলো। ক্রোধের সহিত বললাম,
~এতক্ষণ কই ছিলি? বড় তো কম হচ্ছিস না। এইভাবে ড্যাংড্যাং করা বন্ধ কর।
~শানু আপার বাসায় ছিলাম। টিভি দেখলছিলাম। টিভি এনে দে। আমি আর পাড়ায় পাড়ায় ড্যাংড্যাং করবো না।
~খাবি থাপ্পড়। খেতেই পারি না তোর আবার শখ পূরণ করবো। যা ভাগ। যত পারিস অন্যের বাসায় টিভি দেখ।
আমার কথায় ওর তেমন রিয়েকশন দেখলাম না। শুধুমাত্র ঠোঁট উল্টিয়ে ভ্যাংচি দিয়ে বললো, আচ্ছা।
________________

নতুন ভোর নিয়ে এলো নতুন সুখবরের বার্তা। মাধ্যমিকে এক ম্যাম বেশ পরিচিতি ছিলেন। তিনি বলেছিলেন আমায় কিছু একটা জোগাড় করে দিবেন। আজ সকালে তাঁর ফোন আসলে তিনি বললেন, ৯-১২ পর্যন্ত একটা কিন্টারগার্টেনে শিক্ষকতা পেশা হিসেবে জয়েন দিতে। সম্মানী ৪০০০ টাকা। আজই নাকি স্কুলটায় যেতে হবে। এই খবর শুনে মন সারাক্ষণ মুখ দিয়ে বলাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
_____________

নতুন চাকরি আর শিমুদের বাসায় পড়াতে আজ যেন কষ্টের দল আমার কাছে এসে ভীড় জমিয়েছে। নতুন চাকরির জন্য দরকারি সব কাগজপত্র ঠিক করতে করতেই বেলা অনেক হয়ে গিয়েছিলো। তার উপর শিমুর মা আজ নাস্তায় কিছু দেয়নি। সকালে একটা বিস্কুট খেয়ে তাড়াহুড়ো করে বের হয়েছিলাম। এখন বুঝচ্ছি মজা। পেটে যেন ইদুর ঘুড়ঘুড় করছে। শিমুর মাকে তো আর বলতে পারি না নাস্তা দিন। নাস্তা দিন। কিন্তু মুখ ফোঁটে বেতনের কথাটা বলেছিলাম। উত্তরে গা জ্বালা এক হাসি দিয়ে বললেন, দীপ্তি মা, এমনভাবে টাকা খুঁজচ্ছো কেন?খুব বেশি প্রয়োজন বুঝি? প্রয়োজন হলে পরের মাসে প্রথম তারিখ দিয়ে দেবো। আসলে এ মাসে হাতে কিছু টাকা আছে। যা দিয়ে কাপ সেট আর ফুলদানি কিনবো। তাঁর কথা শুনে সে সময় আমি কান্না করার আগে আমার মন একরাশ কান্না করলো।
_________

হেঁটে এসে উড়না দিয়ে ঘাম মুছে দারওয়ান ভাইকে সালাম দিয়ে ঢুকলাম বাসার ভেতর। ড্রয়িং রুমে যেতে না যেতেই শুনতে পেলাম। দুই ভাই আমাকে দেখে বলছে,
~নিয়ন রে, এলো রে এলো ভীতুর রানি এলো। এলো আমাদের এখানে ডিম পাড়তে। আচ্ছা ভাই কয়টা ডিম পারবে আজ?
~এক হালি হয়তো। একদিনে আর কতটাই বা সম্ভব।
দুই ভাইয়ের কথা শুনে একদিকে সারা গায়ে কাঁপন শুরু হলো। অন্যদিকে বুকে চাপা কষ্ট যেন দ্বিগুন হলো। বার বার মন বলছে, আমি এখানে ডিম পাড়তে আসি। আমার টিউশনিটা এত নীচু মানে। ভাবতেই জোরে হেচকি তুলে কান্না করে দিলাম। রওনা হলাম।বাড়ির দিকে। বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য পা রাখতেই হাতে কারোর শীতল স্পর্শ অনুভব করলাম। একটা বড় হাত আমার হাত ধরে আমার পথে বাধাঁ সৃষ্টি করেছে। কার হাত তা দেখার জন্য পিছন ঘুরলে দেখলাম নিয়নের ভাই অয়ন আমার হাত ধরে আছে।

তিনি কেন আমার হাত ধরলেন? এই প্রশ্ন নিয়ে অগ্নিচোখে তাঁর দিকে তাকালে সে বুঝে ফেললো, আমি কী বুঝাতে চাইছি।

~আপনি চলে যাচ্ছেন কেন? প্রশ্ন শুনে আকাশ থেকে পড়লাম। ছেলে বলে কী! আমাকে নিয়ে যে ট্রল করলো সেটা কী মনে নেই? সে কী ভাবতে পারছে না? ঐ ট্রলটায় আমি ভারি কষ্ট পেয়েছি।
~কী হলো বলছেন না কেন?প্রশ্ন শুনে হুঁশ এলে উত্তরে বিটলামি হাসি দিয়ে বললাম, কেন চলে যাচ্ছি সেটা আপনি বুঝতে পারছেন না বুঝি?
~দুঃখিত! আসলে এটা আমাকে বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে।
~বাধ্য হয়ে মানে?
~মানে নিয়ন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে।
~কী বিষয়ে?
~পারসোনাল।
পারসোনাল শব্দে বুঝেছিলাম প্রেমজনিত ব্ল্যাকমেইল। তাই হাসিমুখে তাঁকে বললাম,
~পথ ছাড়ুন।
______________________

নিয়নের রুমে ঢুকে দেখলাম স্টুডেন্ট আমার বেশ মনোযোগ সহকারে খাতা কলম নিয়ে টেবিলে বসে আছে। এত ত্যাঁদড় কেন ছেলেটা? ছেলেটার ত্যাঁদড়ামির কথা মনে পড়ার কারণে মনে পড়লো ওদের শেফালী খালা এবং আকাশ ভাইয়ার কথা। তাই বুক চিড়ে একরাশ দীর্ঘশ্বাস বের হলো। কিন্তু আসার সময় দুই ভাইয়ের কাহিনী এবং ওর ভাইয়ের বলা কথা মনে পড়তেই ক্রোধের আগুন যেন ধপ করে জ্বলে উঠলে। কী ত্যাঁদড় ছেলেটা! এই বয়সেই ব্ল্যাকমেইল।
~এই ছেলে, এই(গায়ে ধাক্কা দিয়ে)
~জি, আপু।
~তুমি এত ধূর্ত কিসের জন্য? ত্যাঁদড়ামি করার জন্য ভাইকে ব্ল্যাকমেইল করছো। ছিঃ
~সরি?
ছেলের মুখে সরি শুনে অবাক হলাম। এ যেন ধোয়া তুলসী পাতা। আমার কথা কিছুই বুঝতে পারছে না।
~তোমার ভাইকে আমার সাথে দুষ্টুমি করার জন্য কেন বলেছো? আর তাঁর পারসোনাল বিষয় নিয়েই বা ব্ল্যাকমেইল কেন করলে?
~আপু ভাইয়াকে আমি কেন ব্ল্যাকমেইল করবো। আজ তো ভাইয়া নিজে থেকেই বললো আপনাকে জ্বালাতন করবে।

আমি পড়লাম বিপাকে। কে সত্য বলছে? এই নিয়ে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে মনের কোণে। অনেক্ষণ পড়ার পর মনে হলো স্টুডেন্ট তো এখনো আমার সাথে দুষ্টুমি করলো না! শেষ বেলায় করবে কী? কিন্তু এর আগেই আমার ঝড় থামাতে হবে।

এই নেন, আপনার নাস্তা। এই নাস্তা টেবিলে রাখার শব্দে ভাবনার ছেদ পড়লো। কে নাস্তা দিলো তা দেখার জন্য মাথা উঁচু করে তাকাতেই দেখলাম,,,,,,,,,

চলবে,,,,,,,,,,,,
বিঃদ্রঃ গল্প পোকার সবাইকে ইদ মোবারক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here