প্রেয়সীর ছোঁয়া [ পর্ব ১৩]

0
409

প্রেয়সীর ছোঁয়া [ পর্ব ১৩] জামিয়া পারভীন তানি

আদনান আফরা কে নিয়ে নায়াগ্রার কাছেই একটা হোটেলে উঠে, এরপর আদনান রাতের খাবার অর্ডার করতে বাইরে যায়। দরজা তে নক হলে আফরা খুলে দেয়, আফরা কিছু বুঝে উঠার আগেই কেউ একজন রুমাল দিয়ে আফরার নাক মুখ চেপে ধরে।

আফরা সেন্সলেস হবার আগেই ফল কাটা ছুরি লোকটার পেটের বাম পাশে ঢুকিয়ে দেয়। লোকটা নিজেও বুঝতে পারেনি আফরা এমন কিছু করতে পারে! নিজেও মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। আর রুমালে চেতনা নাশক ছিলো বলে আফরা নিজেও মাথা ঘুরে পড়ে যায়।

আদনান খাবারের প্যাকেট হাতে উপরে উঠে এসে দেখে ওর রুমের সামনে রক্ত গড়িয়ে এসেছে। আদনান চেচিয়ে উঠে, এইটুকু সময়ের মধ্যে কি থেকে কি হয়ে গেলো। রুমে ঢুকে দেখে একটা লোক রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝে তে পড়ে, পাশে আফরা পড়ে আছে। খাবারের প্যাকেট আদনানের হাত থেকে পড়ে যায়।

আদনান ভয়ে আফরা কে জড়িয়ে ধরে, বুকের মধ্যে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। হোটেলের আশেপাশের রুমের মানুষের ততক্ষণে ভীড় জমে গেছে। আদনান আফরা কে কোলে তুলে নিয়ে হসপিটালের দিকে দৌড় দেয়। কেউ বুঝতে পারছেনা কি হয়েছে বিধায় অন্য লোকজন ওই লোকটা কেও হসপিটালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হোটেল রুম জব্দ করে, পড়ে থাকা রুমাল, ছুরি সব হাতে গ্লোবস জড়িয়ে প্যাকেটে পুরে নেয়।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



২১.
“ পেশেন্ট এর জ্ঞান ফিরলে পেশেন্ট বলে তার মুখ, চোখ, গলা জ্বলে যাচ্ছে। পেটে খুব ব্যথা হচ্ছিলো, সাথে প্রচুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। আমরা ওর সাথে থাকা রুমাল চেক করে সেখানে প্রচুর পরিমাণ সালফার ডাই অক্সাইড লিকুইড পেয়েছি। যা মানুষের বডি পার্ট ড্যামেজ সহ মেরে ফেলতেও সক্ষম। তবে পেশেন্ট হয়তো নিজেকে বাঁচাতে ছুরি ইউজ করে তাই পুরো গ্যাস লিকুইড ওর শ্বাসনালী তে যায় নি। ঠিক হবার চান্স বেশী, গড উনাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” কানাডিয়ান ডক্টর ইংলিশে বলছে আদনান কে। তখন আদনান জিজ্ঞেস করে,
“ আফরা কেমন আছে?”
“ উনাকে আই সি ইউ তে আরটিফিশিয়াল ভাবে মাস্ক দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, সাথে ক্যানুলা করে দিয়েছি। স্যালাইন যাচ্ছে। পেইন রিলিফ করার জন্য স্টেরয়েড ও দিয়েছি। তবে সুস্থ হওয়া সময় সাপেক্ষ ব্যপার। ”
“ ওকে যেভাবেই হোক সুস্থ করে দিন ডক্টর ।”

( কথা গুলো ইংরেজিতে না দিয়ে সবার বুঝার সুবিধার্থে বাংলায় দিলাম)

“ দোয়া করেন বিষ যেনো লাংসে এফেক্ট না করে , বাকিটা গডের ইচ্ছে। ”

ডক্টর চলে যায়, আদনান আই সি ইউ এর বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁচে হাত রাখে। মাথা উপরে তুলে কান্না করে ফেলে। মনের মধ্যে দুঃখ করে বলে,
“ আল্লাহ আমি কি এমন পাপ করেছি যে আমার ভালোবাসা কে আমার থেকে কেঁড়ে নাও। জীবনে প্রথম মাহিরা কে ভালোবাসলাম, তাকে কেড়ে নিলে। আর এখন মাহিরা কে ভুলে আফরা কে ভালোবাসতে চাইলাম। তাকেও কেঁড়ে নিতে কেনো চাইছো তুমি?? কি পাপ করেছি আমি, যে পাপের শাস্তি দিচ্ছো আমায়! ”

এরই মাঝে পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা শুরু করে,
“ লোকটা কে ছিলো? ”

আদনান তখন বলে,
“ ওকে আমি চিনি না! তবে ও আমাদের পার্কে ফলো করছিলো। ওর থেকে আড়ালে যেতে হোটেলে উঠি। আফরাকে রুমে দিয়ে খাবার অর্ডার করতে যায়, এসে দেখি এই অবস্থা!”

“ লোকটা যদি মরে যায়, তাহলে আফরা ম্যামের ফাঁসি হয়ে যাবে। কেননা ছুরি তে ম্যামের হাতের রেখা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে!”

“ কি বলছেন এইসব? কেউ যদি নিজেকে বাঁচাতে ছুরি ইউজ করে, সেটা কি দোষের? ”

“ দোয়া করেন, লোকটা যেনো না মরে, বেঁচে গেলে ওর ফাঁসি হবে, ম্যাম বেঁচে যাবে।”
“ তাই যেনো হয় আল্লাহ! ” আদনান এর নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।

এমন সময় আদনানের আব্বু, সোহরাব চৌধুরী ফোন করে।
আদনান ফোন রিসিভ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে,
“ আব্বু আমি কি এতো ই খারাপ যে, আমার ভালোবাসার মানুষ গুলোর ক্ষতি হচ্ছে! ”
“ কি হয়েছে! এমন করছো কেনো? ”
“ আফরা! ”
“ কি হয়েছে আমার ভাতিজির? ”

আদনান কান্না জড়ানো কণ্ঠে সব খুলে বলে। এতে সোহরাব চৌধুরী ও বিচলিত হয়ে পড়েন।

“ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি আসছি! একদম চিন্তা করবেনা তুমি। ”

আদনান ফোন কেটে দেয়। কিছুই ভালো লাগছেনা তার। ওই লোকটা যদি মরে যায়! আফরা সুস্থ হলেও তার বিচার হবে! কিভাবে মেনে নিবে সে! প্রেয়সীর ভালোবাসার ছোঁয়া কি তার কপালে নেই! বারবার কেনো তার প্রেয়সীকে হারাতে হবে!

চলবে…….

আগের মতো রেসপন্স নাই কেনো???
ভালো লাগছেনা নাকি???

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here