প্রেমময় আসক্তি পর্ব-১৯

0
542

#প্রেমময়_আসক্তি❣️
#পর্ব_১৯
#নন্দিনী_চৌধুরী

১৯.

দেখতে দেখতে কেটে গেলো ১সপ্তাহ। আদ্রিয়ান ও রোদেলার বিবাহিত জীবন অনেক ভালো যাচ্ছে। সাথে রাফসান মুন, কাশু, কাউসার, রুবা, আরাভ সবার দিন ভালোই যাচ্ছে। রাফসান ওর বাবা, মুন, কাশু, রুবা বসা ড্রইং রুমে।

রাফসানঃ বাবা আমার তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।
রাফসানের বাবাঃ হ্যাঁ, বল কি কথা।
রাফসানঃ বাবা আসলে,, বাবা আসলে আমি রিয়াকে বিয়ে করতে পারবোনা।
রাফসানের বাবাঃ মানে?
রাফসানঃ বাবা আমি রিয়াকে বিয়ে করতে পারবোনা কারন আমি মুনকে ভালোবাসি। বাবা আমি জানি তুমি হয়তো বলতে পারো আমি কেন এটা তোমাকে আগে বলিনি বা বিয়ের কথা হবার আগেও আমাকে আমার পছন্দের কথা মাকে দিয়ে জানতে চেয়েছিলে। তখনো আমি কেন বলিনি বা রিয়াকে দেখে ৪ মাসের সময় কেন চেয়েছিলাম। আসলে বাবা আমি মুনকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি। কিন্তু আমি জানতাম না ও আমাকে ভালোবাসে কিনা। কিন্তু এই বিয়ে ঠিক হবার পর আমি জানতে পারি মুন আমাকে ভালোবাসে। আর ২য় রিয়া একজনকে ভালোবাসে কিন্তু সে বেকার ছিলো বলে রিয়ায় বাবা তাকে মেনে নেয়নি। কিন্তু এখন সে খুব ভালো একটা চাকরি করে। ভালো পজিশনে আছে। তাই বাবা আমি মুনকে ভালোবাসি ওকে বিয়ে করতে চাই। আর রিয়া রাহুলকে বিয়ে করতে চায়। রিয়া আমাকে প্রথম দিন সব বলেছিলো। রাহুলের চাকরির অপেক্ষার জন্য আমি ৪মাস সময় চেয়েছিলাম। বাবা তুমি আশা করি সব বুঝতে পারছো।
রাফসানের বাবাঃ ঠিক আছে আমার মুনকে নিয়ে অমত নেই কোনো। মুন যথেস্ট ভালো লক্ষ্যি একটা মেয়ে। আমি রিয়ার বাবার সাথে কথা বলবো সমস্যা নেই। তবে আমরা আগামীকাল সিলেট ফেরত যাচ্ছি। সিলেটে গিয়েই আমি রিয়ার বাবার সাথে কথা বলবো। তুমি কবে যাবে সিলেট?
রাফসানঃ আমি সামনের সপ্তাহে যাবো। আমার কাজ সামনের সপ্তাহে শেষ হবে।
রাফসানের বাবাঃ ঠিক আছে তাহলে।

রুবা আসছে আরাভদের বাসায়। এখন প্রায় সে আসে আরাভদের বাসায়। রুবা সেদিন খামে আরাভের প্রেমের ডাকে সারা দিয়েছিলো। এরপর থেকে শুরু হয় তাদের পথচলা। রুবা এখন প্রায় আরাভদের বাসায় এসে জুঁইয়ের সাথে আড্ডা দেয়। রান্না করে তারপর আরাভ আসলে একসাথে খায়। আবার আরাভ রুবাকে বিকালে বাসায় দিয়ে আসে।

আদ্রিয়ান রোদেলাকে নিয়ে একটু বের হয়েছে। কিছু কেনাকাটা করতে আসছে রোদেলা। কেনাকাটা শেষে ওরা শপিংমল থেকে বের হয়ে গাড়ির কাছে আসতেই পিছন থেকে একটা বুলেট এসে গাড়ির গ্লাসে লাগে। ভাগ্য ভালো যে আদ্রিয়ান আর রোদেলা কাছে ছিলোনা। নাহলে ওদের মাঝে কারো গায়ে গুলিটা লাগতো। আদ্রিয়ানের গার্ডরা ওর সাথে থাকায় গুলি যে ছুড়েছে তাকে ধরতে তিনজন গার্ড যায় আর বাকিরা আদ্রিয়ানের কাছেই থাকে। আদ্রিয়ান রোদেলাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে চলে যায়। রোদেলা তার সাথে না থাকলে সে নিজেই ওই জানোয়ারকে ধরতে যেতো। কিন্তু এখন তার সাথে রোদেলা আছে। আর রোদেলার জীবন সে হুমকিতে আনতে চায়না। আদ্রিয়ান রোদেলাকে বাসায় দিয়ে একদম কড়া গলায় বলে গেছে রোদেলা যেনো বাসা থেকে কোথাও না বের হয়। সব গার্ডদের এলার্ট করে দিয়ে গেছে।

আদ্রিয়ানের গার্ডরা সেই লোকটাকে ধরে নিয়ে আসে যে ওদের উপর গুলি ছুড়ে ছিলো। আদ্রিয়ানের চোখ লাল হয়ে আছে। বিষন কাঁপছে আদ্রিয়ানের শরীর। আজকে রোদেলার কিছু যদি হয়ে যেতো। আদ্রিয়ান সামনে থাকা লোকটার বুক বরাবর লাথি মারে। লোকটা যন্ত্রনায় ছটফটিয়ে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান ওর গার্ডদের ইশারা করতেই ওরা লোকটাকে বেধর মারতে লাগলো। হকি স্টিক দিয়ে বেধর মার মারছে লোকটাকে। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে এসেছে লোকটার। আদ্রিয়ান ইশারায় ওদের থামতে বলে, আদ্রিয়ান একটা বন্ধুক হাতে নেয় পর পর ছয়টা গুলি লোকটার মাথা বরাবর চালিয়ে দেয়।

লোকটাকে মারার পর আদ্রিয়ান বাহিরে এসে দাঁড়ায়। সায়মন আদ্রিয়ানের কাছে এসে বলে,

সায়মনঃ স্যার, আমার মনে হয় এবার আপনার মাঠে নামা দরকার।
আদ্রিয়ানঃ মাঠে নেমে কি করবো? যাকে নিয়ে খেলবো তাকেইতো পাচ্ছিনা। সে কোন গর্তে লুকিয়ে আছে।
সায়মনঃ স্যার, আমাদের লোকেরা খবর লাগিয়েছে। আপনার বাবা হয়তো দেশে আছে। তবে সেটা সিওর না।
আদ্রিয়ানঃ না করেছিনা তোকে অই লোককে আমার বাবা বলবিনা। বাবা নামক কলঙ্ক সে।

হ্যা আদ্রিয়ান জানে এগুলা তার বাবাই করছে। তার বাবা তার পরম শত্রু।

সায়মনঃ জ্বি। ভুল হয়ে গেছে।
আদ্রিয়ানঃ যত দ্রুত পারো তার খোঁজ আমাকে দেও। আর বসে থাকার সময় নেই।

আদ্রিয়ান কথা শেষ করে বেরিয়ে পরলো গাড়ি নিয়ে।

আদৃতা রোগী দেখে নিজের কেবিনে বসে আছে। তখন ওর কেবিনে আসে ওর কলিগ আদনান। আদনান আর আদ্রিতা এক সাথে পড়াশুনা করেছে দেশে বাহিরে এক সাথেই পড়াশুনা করেছে তারা। আদনান আদ্রিতাকে ভালোবাসে। সে অনেকবার তার মনের কথা আদ্রিতাকে বলেছে কিন্তু আদৃতা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আদৃতা মনে করে ভালোবাসা বলতে সব ধোঁকা। সবাই তার বাবার মতো করবে। আদনান এটা অনেকবার আদ্রিতাকে বুঝিয়েছে যে সবাই তোমার বাবার মতো নয়। কেন তুমি সবাইকেই তোমার বাবার মতো ভাবো। কিন্তু আদৃতা তাও আদনানকে মেনে নেয়নি আর না এটা মানে যে সবাই তার বাবার মতোনা।

আদনানঃ কি অবস্থা?
আদৃতাঃ এইতো। তুমি যে আসবা আমাকে তো বললানা।
আদনানঃ চমকে দিতে চাইছিলাম। কিন্তু আম্মু তোমাকে আগেই বলে দিছে আমি আসবো সেটা।
আদৃতাঃ হ্যাঁ। আন্টি আমাকে কালকেই বলছে। তুমি যে আসছো।
আদনানঃ আচ্ছা আজকে আর রোগী আছে?
আদৃতাঃ না নেই।
আদনানঃ তাহলে চলো।
আদৃতাঃ কোথায়?
আদনানঃ বাসায়। আজকে মা তোমার পছন্দের খাবার রান্না করছে। তোমাকে নিয়ে যেতে বলছে।
আদৃতাঃ আচ্ছা। ঠিক আছে চলো।

আদনান আদৃতাকে নিয়ে আদনানদের বাসায় গেলো। আদনানের মাও আদৃতাকে অনেক পছন্দ করে। কিন্তু আদৃতাই রাজী নয়। আদৃতাকে আদনানের মা অনেক ভালোবাসে একদম নিজের মেয়ের মতো।
আদৃতাও আদনানের মায়ের মধ্যে নিজের মাকে ফিল করে।

রোদেলা বাসায় বসে অপেক্ষা করছে আদ্রিয়ানের। সেই সকালে ওইভাবে রেগে বাসা থেকে গেছে। এখন রাত হয়ে আসছে আসার নাম নেই। রোদেলার অনেক চিন্তা হচ্ছে আদ্রিয়ানের জন্য।

রোদেলাঃ আল্লাহ, লোকটা কোথায় গেলো! আমার তো খুব চিন্তা হচ্ছে।

রোদেলা এসব চিন্তা করছে এর মধ্য দরজাল বেল পরলো। রোদেলা দরজা খুলে দেখে আদ্রিয়ান দাঁড়ানো। কিন্তু আদ্রিয়ান হেলেদুলে দাঁড়াচ্ছে। বুঝা যাচ্ছে ওর ড্রিংক করে বাসায় আসছে। রোদেলা আদ্রিয়ানকে ধরে ঘরে আনে।
আদ্রিয়ান উপুর হয়ে বিছানায় শুয়ে পরে। রোদেলা আদ্রিয়ানকে ধাক্কা দিচ্ছে আর বলছে,

রোদেলাঃ আদ্রিয়ান আপনি ড্রিংক করে আসছেন কেন? আর এতো রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলেন আপনি।

আদ্রিয়ান নেশায় কিছু স্বাভাবিক ভাবে শুনতে পারছেনা। সে নেশার ঘোরে রোদেলাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। রোদেলা হাজার না করার পরেও আদ্রিয়ান নেশার ঘোরে রোদেলাকে আপন করে নেয়।

পরেরদিন সকালে,,,,,

আদ্রিয়ানের ঘুম ভাংগলে নিজের মাথাটা খুব ভার ভার লাগে। আদ্রিয়ান পাশে তাকিয়ে দেখে রোদেলা নেই। আদ্রিয়ান ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলো। রোদেলা রান্না ঘরে রান্না করছে। আদ্রিয়ান রোদেলাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে বলে,

আদ্রিয়ানঃ আমার বউটা কি করে?
রোদেলাঃ……….
আদ্রিয়ানঃ কি হলো কথা বলছোনা কেন?
রোদেলাঃ কাল রাতে ড্রিংক করে বাসায় আসছেন
তারওপর মাতাল অবস্থায়…। এতো রাতে বাসায় আসছেন তাও মদ খেয়ে কি কারনে?
রোদেলার কথায় বুঝতে পারে আদ্রিয়ান যে সে মাতাল অবস্থায় রোদেলাকে ছুঁয়েছে।
আদ্রিয়ানঃ সরি নেশামই। কাল ওই মার্কেটের ঘটনায় অনেক ভয় পেয়েছিলাম আমি।
রোদেলাঃ আপনি জানেন কাল আমি কত টেনশনে ছিলাম? আর হ্যাঁ, এরপর কোনোদিন ড্রিংক করবেননা। কাল আমি আপনার স্ত্রী বলে আপনি আমার কাছে এসেছেন। কিন্তু এই ড্রিংক আর করবেননা।
আদ্রিয়ানঃ ওকে করবোনা।

এভাবে আরো কিছুদিন চলে গেলো। রাফসানের বাবা মা সিলেট চলে গেছেন। রিয়ার বাবার সাথে কথা বলেছেন তিনি। রিয়ার বাবার কোনো আপত্তি নেই।

আদ্রিয়ান রোদেলা আজকে এই বাসায় আসছে। রাফসান কাল চলে যাবে তাই আসতে বলছে। সবাই মিলে কথা বলছিলো তখন রাফসানের ফোনে একটা কল আসলো। রাফসান ফোনটা রিসিভ করে যা শুনলো তা শুনে ওর হাত থেকে ফোনটা পরে গেলো। মুখ থেকে একটা কথাই বের হলো,

“এটা হতে পারে না।”

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here