প্রেমময় আসক্তি পর্ব-০৫

0
564

#প্রেমময়_আসক্তি❣️
#পর্ব_৫
#নন্দিনী_চৌধুরী

৫.
বাটিতে করে রোদেলাকে স্যুপ খাইয়ে দিচ্ছে মুন।তার পাশে বসা রুবা আর কাশফিয়া।রোদেলার জ্ঞান ফিরেছে অনেক সময় হয়েছে।জ্ঞান ফিরে প্রথমে সে বুজতে পারছিলোনা সে এখানে কেনো।পরে মুন তাকে সব খুলে বলে।যে অইদিন রাস্তায় কিভাবে সে পরেগেছিলো তার মাথায় আঘাত পেয়েছিলো।রোদেলা সব শুনে একটু চমকে যায়।একটা অচেনা লোক তাকে এভাবে সাহায্য করেছে যে ভাবতে পারেনি।রোদেলা স্যুপ খেতে খেতে মুনকে বললো,

রোদেলা:মুন ভাইয়া কি ফোন দিছিলো।কিছু জানাসনিতো আবার।
মুন:না তোর আমার পাগল মনে হয়।রাফসান ফোন দিছিলো কিন্তু আমি বলছি যে তুই ঘুমিয়ে আছিস সারাদিন অনেক ক্লান্ত ছিলি তাই এখন ঘুমাচ্ছিস।কাল সকালে ফোন দেয় যেনো।
রোদেলা:ভালো করছিস।ভাইয়া জানলে অহেতুক চিন্তা করতো বাবাও চিন্তা করতো।আমাকে বাসায় যেতে দিবে কবে?
মুন:ডাক্তার সেই বিষয়ে কিছু বলেনি।
রুবা:কিরে তুই রাফসান ভাইরে রাফসান ভাই না বলে নাম ধরে ডাকস কেন হুম্মম।
মুন:কোনোদিন শুনছস জামাইকে ভাই ডাকতে।এখন জামাইকে ভাই ডাকলে পরে কি তাকে জামাইভাইয়া ডাকবো।তাই এখন থেকে নাম ধরেই ডাকবো।
কাশফিয়া:জামাইভাইয়া নামটা জোস কিন্তু।এক দিকে ভাই ও পাবি একদিকে জামাই ও পাবি।সেই হবে কিন্তু মুন।
রোদেলা:আসলেই তোর তো ভাই নাই।তুই একদিকে জামাই পাবি আবার ভাইও পাবি।দুইটার শখ তোর পূরন হইবো।
মু:দূর।ভাল্লাগেনা তোরা সব সময় এমন করস।

মুনের গাল ফোলানো দেখে তিনজনে হেসে দিলো।ওদের হাঁসির মাঝে আরাভ কেভিনে আসলো।আরাভকে দেখে রুবা চুপ হয়ে যায়।আরাভ কেভিনে এসে রোদেলার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলে,

আরাভ:কি অবস্থা ভাবি, বলেই আরাভ জিহ্বায় কামড় দিলো।আর নিজে নিজেকে বললো,

আরাভ এইটা কি বললি তুই।এখন এই মেয়েটা কি মনে করবে।

রোদেলা আরাভের মুখে ভাবি ডাক শুনে বললো,

রোদেলা:ভাবি?
আরাভ মেকি হেসে বলে,
আরাভ:সরি আসলে মাত্র ভাবির সাথে ফোনে কথা বলে আসলামতো তাই আপনাকে ভাবি ডেকে ফেলছি।এনিওয়ে আপনার এখন কেমন লাগছে?
রোদেলা:আলহামদুলিল্লাহ ভালো।আচ্ছা ডাক্তার ভাইয়া আমি বাসায় কবে যেতে পারবো?
আরাভ:আজকের দিনটা থাকতে হবে।কিছু টেস্ট করিয়ে দেখবো সব ঠিক আছে কিনা।আগামীকাল চলে যেতে পারবেন সমস্যা নেই।
রোদেলা:অহ আচ্ছা ঠিক আছে।

আরাভ একবার রুবার দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো।এই সকালে তার মেয়েটার সাথে কি একটা কান্ডই না হলো ভাবতেই আরাভ মুচকি হাসলো।

সকালে কিছু ঘন্টা আগে,,,,

মুন আর কাশফিয়া রোদেলার কেভিনে অপেক্ষা করছিলো। আর রুবা কেভিনের থেকে বাহিরে এসেছে পানি নিতে।রুবা পানি নিয়ে হেটে হেটে যাচ্ছিলো। তখন আবার স্লিপ করে পরে যেতে নেয়। আর ওকে কেউ আবার ধরে ফেলে।রুবা তাকিয়ে দেখে আরাভ তাকে ধরে আছে।আরাভ রুবাকে সোজা করে দাড় করিয়ে বলে,

আরাভ:এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি হ্যা।দেখে শুনে হাঁটতে পারোনা নাকি।যখনি দেখি আকাশে তাকিয়ে হাঁটো।
রুবা আরাভের কথা শুনে মাথা নিচু করে বলে,

রুবা:স.সরি আসলে খেয়াল করিনি।স্লিপ করে পরে যেতে নিচ্ছিলাম।ধন্যবাদ আমাকে আবার ধরার জন্য।

রুবা কথাটা বলে চলে আসতে নিলে আরাভ পিছন থেকে বলে,

আরাভ:চেইন খোলা!
আরাভের কথা শুনে রুবা দাঁড়িয়ে যায়। আর অবাক চোখে আরাভের দিকে তাকিয়ে বলে,

রুবা:কি?
আরাভ আবার বলে,
আরাভ:চেইন খোলা।
রুবা:চেইন খোলা মানে কিসের চেইন খোলা?
আরাভ এবার রুবার কাছে এগিয়ে এসে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,

আরাভ:তোমার জামার পিছনে চেইন অর্ধেক খোলা।

আরাভের কথা শুনে রুবা লজ্জা আর অবাকের সাথে পিছনে হাত দিয়ে দেখে আসলেই জামার চেইন খোলা।রুবা লজ্জায় শেষ।রুবা আরাভের দিকে লজ্জায় তাকাতে পারছেনা।আরাভ জিনিশটা বুজতে পেরে একজন নার্সকে ডাকে আর বলে রুবার ব্যাপারটা।নার্স রুবার চেইনটা আটকে দিলো।রুবা এক দৌড়ে চলে যায় কেভিনে।আর আরাভ রুবার এই অবস্থা দেখে হেঁসে দেয়।

সকালের ঘটনা মনে করে রুবাও এখনো লজ্জা পাচ্ছে।এই শয়তান চেইনটার খোলা দরকার কি ছিলো তাও আবার ওই ডাক্তারের সামনে।মুন রোদেলার কাছে থেকে গেছে আর রুবা কাশফিয়াকে কলেজে পাঠিয়ে দিয়েছে।রুবা আর কাশফিয়া কলেজে এসে ক্লাস করে নিলো।রুবা কিছু জিনিশ কিনার জন্য পাশের ক্যান্টিনে গেলো।আর কাশফিয়া কলেজের ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আছে।তখন ওর চোখ যায় গেট দিয়ে আসা কাউসারের দিকে।কাউসার একটা নীল কালারের ক্রিকেট গেঞ্জি পরা।চুল গুলো ঘামে ভিজে আছে।কাশফিয়া হা করে তাকিয়ে আছে।কিন্তু কাউসার সেদিকে পাত্তা না দিয়ে ওর বন্ধুদের কাছে চলে যায়।কাশফিয়া নিজ মনে মনে বলে,

কাশফিয়া:বাপরে এই কাউয়াতো সেই।নাম কাউয়া হলে মেলা ইস্টাইলিস।

রুবা জিনিশ কিনে কাশফিয়াকে নিয়ে হোস্টেলে গেলো ওরা রান্না করে নিয়ে যাবে মুন আর রোদেলার জন্য।

এদিকে,,,,,
আদ্রিয়ান বসে আছে ওর অফিসের কেভিনে।কোভরা গ্যাং এর লিডারের ব্যাপারে এখনো ও কিছু জানতে পারেনি।কে সে?কোথায় আছে।কিছুই জানতে পারেনি।আদ্রিয়ান সকালে আরাভকে কল দিয়ে রোদেলার খবর নিয়েছে।রোদেলার জ্ঞান ফিরেছে শুনে আদ্রিয়ান অনেক খুশি হয়েছে।আদ্রিয়ান উঠে গিয়ে জানালার সামনে দাঁড়ালো।

“নেশামই তোমার এই একদিনের চুপথাকাটা আমাকে অনেক পুড়িয়েছিলো।ভাবতেই পারিনা তোমাকে এভাবে।আমার নেশামই সব সময় প্রানবন্ত থাকবে।তার সেই হাঁসি দুস্টুমি কথা বলা আমাকে বার বার তার নেশায় ফেলবে।নেশামই তোমাকে নিজের করে পাওয়ার নেশাটা বোড্ডো বেড়েগেছে।খুব তাড়াতাড়ি দেখা হচ্ছে আমাদের নেশামই।ভালোবাসি নেশামই।”

রোদেলারের বাড়িতে,,,

রোদেলার বাবা আর মা সোফায় বসা।রোদেলার বাবা অনেকক্ষন ধরে কিছু ভাবছে দেখে রোদেলার মা তাকে বললেন,

রোদেলা মা:কি ভাবছো তুমি তখন থেকে?
রোদেলার বাবা:ভাবছি মেয়েটাকে ঢাকা পাঠালাম একা একা সামলাতে পারবেতো।
রোদেলার মা:আরে ওর সাথে মুন,রুবা,কাশু আছে ওরা চারজন এক সাথে থাকলে কেউ ওদের কিছু করতে পারে নাকি।
রোদেলার বাবা:হে সেটাও কথা।আমি একটা কথা ভাবছিলাম।
রোদেলার মা:কি?
রোদেলার বাবা:এভার রাফসানের বিয়েটা দিয়ে দেই।ওর নিজের কম্পানি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।এখন ওকে বিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে।
রোদেলার মা:আমিও তাই ভাবছিলাম।তাহলেতো মেয়ে দেখতে হয়।
রোদেলার বাবা:মেয়ে দেখতে হবেনা মেয়ে আমার পছন্দ আছে।
রোদেলার মা:কিন্তু রাফসানকে একবার জিজ্ঞেশ করা উচিত না ওর কোনো পছন্দ আছে কিনা।হাজার হোক এই যুগের ছেলে থাকতেও তো পারে তাইনা।
রোদেলার বাবা:হ্যা তুমি ওকে আসলে জিজ্ঞেস করে আমাকে জানিও।
রোদেলার মা:আচ্ছা।

হাসপাতালে রুবা আর কাশু খাবার নিয়ে এসেছে।মুন প্রথমে রোদেলাকে খাইয়ে দিয়েছে।তারপর ও নিজে খেয়েছে।রোদেলাকে নার্স এসে মেডিসিন দিয়ে গেছে।মেডিসিন খেয়ে রোদেলার ঘুমিয়ে গেছে।রোদেলা ঘুমানোর পর আরাভ এসে ওদের তিনজনকে নিয়ে গেছে।ওরা তিনজন ওয়েটিং রুমে বসে ছিলো।ওদের ওয়েটিং রুমে দিয়ে আরাভ আদ্রিয়ানকে ম্যাসেজ দেয়। আদ্রিয়ান ম্যাসেজ পেয়ে মাস্ক আর টুপি পরে নেয় যেনো ওকে কেউ না চিনতে পারে।আদ্রিয়ান ওদের চোখের আড়ালে রোদেলার কেভিনে গেলো।রোদেলা ঘুমে থাকায় আদ্রিয়ানকে তো দেখতে পাচ্ছেনা।কিন্তু আদ্রিয়ান তার নেশামইকে দেখার পিপাসা মেটাচ্ছে।আদ্রিয়ান রোদেলার কাছে এগিয়ে ওর পাশে বসলো।আদ্রিয়ানের কাছে এখন রোদেলাকে বাচ্চা লাগছে।যে বাচ্চা কাচুমাচু হয়ে ঘুমিয়ে আছে।আদ্রিয়ান হালকা হেসে ওর কপালে একটা ছোঁয়া দিলো।

আদ্রিয়ান যেদিন প্রথম রোদেলাকে দেখেছিলো সেদিন তাকে একটা বাচ্চা লাগছিলো।একটা বাচ্চা মেয়ে একটা স্কার্ট ট্পস পরে দুই পাশে দুইটা ঝুটি করে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে।সেই সময়টাতেও আদ্রিয়ানের রোদেলাকে একটা বাচ্চা নেয়ে মনে হয়েছে।আদ্রিয়ান সেই প্রথম দেখায় কোনো মেয়েকে এতো নিখুঁত ভাবে চেয়ে দেখেছে।সেদিনের পর থেকেই আদ্রিয়ানের জীবনে তার নেশামই তার আসক্তি হয়ে গেছে।তার একমাত্র প্রেমময় আসক্তি।

আদ্রিয়ান রোদেলার দিকে তাকিয়ে বলে,

“প্রথম দেখায় কেউ কাউকে এতোটা আসক্ত করতে পারে তা তোমাকে না দেখলে জানতাম না।জানো নেশামই অনেকে বলে মেয়েদের সাজে লাগে সুন্দর। কিন্তু আমি বলি একটা মেয়েকে হাঁসলে যতটা সুন্দর লাগে তার থেকে সুন্দর লাগতে পারেনা সাজলে।তোমার হাসির প্রেমে বহুবার পড়েছি।তোমার সব কিছুর প্রেমেই নতুন ভাবে নতুন করে পরি।”

#চলবে

ভুল ত্রুটি মাফ করবেন।🙅‍♀️🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here