প্রেমময় আসক্তি পর্ব-০৪

0
566

#প্রেমময়_আসক্তি
#পর্ব_৪
#নন্দিনী_চৌধুরী

৪.
আদ্রিয়ানের সামনে বিছানায় শুয়ে আছে রোদেলা।অজ্ঞান হয়ে পরে আছে সে।রোদেলার মাথায় আঘাত পাওয়া যেখানে।সেখানে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া।এখন সোফায় বসে আছে সে।আদ্রিয়ানের চোখ মুখ লাল হয়ে আছে।হয়তো কেদেঁছে সে।আদ্রিয়ান রোদেলার কাছে এসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।আদ্রিয়ান রোদেলার কপালে একটা গভীর চুমু একেঁ দিলো।তারপর বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে আদ্রিয়ান।আদ্রিয়ানকে বেরিয়ে আসতে দেখে আরাভ ওর কাছে আসলো।

আরাভঃবেরিয়ে আসলি যে?
আদ্রিয়ানঃঘুমাচ্ছে আর তাছাড়া ওর বান্ধুবিরা তো অপেক্ষা করছে ওর কাছে আসার জন্য।আমার এখন এখানে না থাকাই বেটার।
আরাভঃহুম বুজতে পারছি।তুই তাহলে বাসায় চলে যা।আমি এখানে আছি।
আদ্রিয়ানঃনা আমি বাসায় যেতে পারবোনা।আমার রোদেলাময় এখানে যতক্ষন আছে আমি নিজেকে শান্ত রাখতে পারবোনা।তুই বরং ওর বান্ধুবিদের ওর কাছে যেতে দে।তারপর ওদের বাসায় পাঠিয়ে দিবো।
আরাভঃআচ্ছা।

আদ্রিয়ানের কথা মতো আরাভ ওয়েটিং রুমে বসে থাকা রুবা,মুন,কাশফিয়ার কাছে গেলো।রুবা,মুন,কাশফিয়া বসে আছে ওয়েটিং রুমে।সবার চোখে পানি।রোদেলার জন্য চিন্তায় তিনজনেই শেষ।আরাভ রুমে এসে ওদের ডাক দিলো।তারপর তিনজনকে নিয়ে রোদেলা কেবিনে গেলো।মুন,রুবা,কাশফিয়া তিনজন রোদেলাকে এভাবে থেকে খুব কস্ট পেলো।দেখা শেষ করে আরাভ ওদের বাসায় যেতে বলে।ওরা প্রথমে রাজী না হলেও পরে আরাভ হাসপাতালের রুলস এটা রাত ১টার পর কেউ থাকতে পারবেনা।বাধ্য হয়ে ওদের তিনজনকে চলে আসতে হলো।ওরা তিনজন চলে যাওয়ার পর আদ্রিয়ান আবার রোদেলার রুমে আসলো।আদ্রিয়ান রোদেলার পাশে চেয়ার টেনে বসে ওর এক হাত নিজের হাতের মাঝে নিলো।আদ্রিয়ান বিড়বিড় করে বললো,

আদ্রিয়ানঃসরি জান আমি তোমাকে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না।আমি আজকে ঠিক সময় আসলে তুমি এই বিপদে পরতে না।আমাকে মাফ করে দেও জান।

আজকে দুপুরের ঘটনা,,,,
রোদেলা,মুন,রুবা,কাশফিয়া ক্লাস করে বেরিয়েছে আজকে ফুসকা খাবে তাই।কলেজের অপর সাইডে হচ্ছে ফুসকার দোকান।মুন,রুবা,কাশফিয়া,রোদেলা রাস্তা পার ফুসকা খেতে গেলো।ফুসকা খেয়ে চারজনে এখন হোস্টেলে ফিরবে।রোদেলা রাস্তায় দাঁড়ানো তখন পিছন থেকে কেউ ওকে ধাক্কা মারে রুবা,মুন,আর কাশফিয়া ওর থেকে একটু দুরে দাঁড়িয়েছিলো।রোদেলাকে ধাক্কা মারার রোদেলা ছিটকে পরে যায় আর পাশে থাকা লোহার সাথে খুব জোরে ওর মাথায় আঘাত পায়।রোদেলা চিৎকার করতেই মুন,রুবা,কাশফিয়া সেদিকে তাকায় আর দেখে রোদেলার মাথা ফেঁটে রক্ত ঝরছে রোদেলার।ওরা তিনজন জলদি করে রোদেলার কাছে এগিয়ে গেলো।তখন সেখানে আসে আদ্রিয়ান।মূলোত সে এসেছিলো রোদেলাকে দেখতে।রাস্তায় এতো ভীড় দেখে আদ্রিয়ান গাড়ি থেকে বেরিয়ে ভিড় ঠেলে সেদিকে যায়।আর গিয়ে রোদেলাকে ওই অবস্থায় দেখে পা থমকে যায় আদ্রিয়ানের।কেমন জানি নিজের শক্তি হারিয়ে ফেলছে এমন লাগছিলো তার।আদ্রিয়ান তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে তাড়াতাড়ি রোদেলাকে সবার মাঝ থেকে কোলে তুলে নেয় আর গাড়িতে তোলে আর ওদের তিনজনকে বলে গাড়িতে এসে বসতে।আদ্রিয়ানের হাত কাঁপছে ড্রাইভিং করতে।তবুও খুব তাড়াতাড়ি ড্রাইভিং করে সে রোদেলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।এখানে আদ্রিয়ানের এক ক্লোজ ফ্রেন্ড আরাভ আহমেদ আছে।পেশায় সে ডাক্তার।আদ্রিয়ান রোদেলাকে কোলে করে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে আসে।নার্সরা রোদেলার এই অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি স্ট্রেচার নিয়ে আসে।এর মাঝে আরাভও চলে আসে।আরাভ রোদেলাকে দেখে চিনতে অসুবিধা হয়নি।এযে তার এই পাগল বন্ধুর রোদেলাময়।আরাভ জলদি করে রোদেলাকে ওটিতে নিয়ে যায়।প্রায় ২ঘন্টা পর ওটি থেকে বের হয় আরাভ আর জানায় ভয়ের কিছু নেই।রোদেলা ঠিক আছে।এরপর রোদেলাকে কেভিনে দিয়ে আসা হয়।মুন,রুবা,কাশফিয়া রোদেলার চিন্তায় আদ্রিয়ানের দিকে খেয়ালই করেনি তেমন।

এখন,,,,

আদ্রিয়ান রোদেলার হাতটা নিজের হাতের মাঝে রেখেই বলতে থাকে,

আদ্রিয়ানঃযে তোমাকে এভাবে আঘাত করতে চেয়েছে। আমি তাদের ছাড়বোনা। তাদের আমি আমার টুইংকেল আর টাইগারের ডিনার বানাবো।

আদ্রিয়ান রোদেলার হাতের পিঠে চুমু দিয়ে রোদেলার দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে,

“জ্ঞানীলোকেরা ঠিকই বলে,মেয়েরা ঘুমন্ত অবস্থায় যেই সর্গীয় সুন্দর্যের অধিকারী জেগে থাকলে অতোটা সুন্দর লাগেনা।”

“তোমার মাঝে আসলেই একটা নেশা আছে নেশামই।কিযে নেশা তা আমি জানিনা।আচ্ছা এই নেশাকি শুধু ভালোবাসার নেশা।নাহ ভালোবাসার না এটা তোমাকে নিজের করে পাবার।তোমাকে নিজের কাছে রাখার।তোমাটে ডুবে যাওয়ার নেশা।”

“আমি এমন ভাবে তোমাতে আসক্ত। যে মানুষ নেশায় এতোটা আসক্ত হয়না।মাদকের আসক্তির থেকেও ভয়াবহ আসক্তি তুমি আমার।প্রেমের এমন এক অজানা আসক্তি তুমি আমার।যে নেশা ধরে যায় তোমার মাঝে থাকলে।তুমি আমার এমন এক “প্রেমময়_আসক্তি”💜🌸

এদিকে,,,

রুবা জানালার কাছে বসে আছে।আজকে দুপুরে আবার পরশুর লোকটার সাথে দেখা হলো হাসপাতালে।সে যে ডাক্তার রুবা তা জানতোনা।আর জানবেই বা কেমন করে প্রথম দেখায় যেই ভাবে বকা দিয়েছে বুজার কোনো উপায় ছিলোনা সে ডাক্তার না টিচার।সেদিন রুবাকে বাচিয়ে কত গুলো কথাইনা শুনালো বেচারিকে আরাভ।ভয়ে লজ্জায় রুবা কিছুই বলেনি সেদিন।আর আজকে আবার লোকটাকে দেখে বেশ চমকে গেছিলো রুবা।মুন ফ্রেশ হয়ে এসে তোয়াল বিছানায় রাখতে রাখতে রুবার দিকে তাকিয়ে দেখে ও কি জানি চিন্তায় বিভোর।মুন এসে রুবার কাধে হাত দিয়ে বললো,

মুনঃকিরে কি চিন্তা করছিস?
রুবা মুনের কথায় ঘোর কাটে রুবা বাহিরের দিকে তাকিয়ে বলে,
রুবাঃকিছুনারে।ভাবছি রোদেলা কি অবস্থা।
মুনঃরোদু এখন ভালো আছে।ডাক্তার তো বললো।আর কালকে সকালেই আমরা ওর কাছে যাবো।
রুবাঃহুম আচ্ছা।আরে শোন আজকে যে লোকটা রোদেলাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলো তাকেতো আর দেখলাম না।লোকটাকে ধন্যনাদ দেওয়া দরকার ছিলো
মুনঃহ্যা ঠিক বলেছিস।আমারতো খেয়াল ছিলোনা।ইসসস লোকটা আমাদের উপকার করলো আর তাকে ধন্যবাদ ও দিলাম না।
রুবাঃহুম।কাশু কই?
মুনঃঘুমিয়ে গেছে এসেই।সারাদিন অনেক ক্লান্তি গেছেনা।
রুবাঃওহ হ্যা চল আমরাও শুয়ে পরি।

এরপর ওরা দুইজনেও ঘুমিয়ে পরলো।

সকালের দিকে আরাভ রোদেলাকে দেখতে ওর কেভিনে আসে।কেভিনে এসে দেখে আদ্রিয়ান রোদেলার একটা হাত নিজের মাঝে নিয়েই ঘুমিয়ে আছে মাথা বেডে দিয়ে।আরাভ সেটা দেখে নিজ নিজ মনে বলে,

আরাভঃকতটা পাগল তুই ওর জন্য আদ্রু।যে আদ্রু কোনো মেয়েকে পাত্তা দিতোনা।আজ সে একটা মেয়ের জন্য এতোটা পাগল।এতোটা ভালোবাসে একটা মেয়েকে।উপরওয়ালার কাছে একটাই দোয়া তোকে আর রোদেলাকে যেনো সে আলাদা না করে।তাহলে যে তুই মরে যাবি।

আরাভ আসতে করে এসে আদ্রিয়ানকে কয়েকবার ডাক দেয়।আদ্রিয়ান ঘুম ঘুম চোখে চোখ মেলে তাকায়।আরাভ আদ্রিয়ানকে বলে

আরাভঃআদ্রিয়ান উঠে পর।তোর এখন যাওয়া লাগবে।একটু পর রোদেলার বান্ধুবিরা চলে আসবে।ওঠ তাড়াতাড়ি।

আদ্রিয়ান আরাভের কথা শুনে উঠে পরে।উঠে রোদেলার দিকে তাকায় একবার।
আরাভঃকিছুক্ষনের মাঝে ওর জ্ঞান ফিরবে।
আদ্রিয়ানঃহুম আচ্ছা তাহলে আমি এখন যাচ্ছি।

আদ্রিয়ান চলে যেতে নিলে আরাভ বলে,

আরাভঃআদ্রু শোন।
আদ্রিয়ানঃহ্যা বল।
আরাভ আদ্রিয়ানের দিকে এগিয়ে এসে বলে,
আরাভঃতুই জানতিসতো তুই বিডিতে আসলে তোর শত্রুরা তা না জেনে থাকবেনা।আর জানার পর হাত পা গুটিয়ে তারা বসে থাকবেনা।তারা তো জানে তোর দুর্বলতা রোদেলা।সেখানেই তারা আঘাত করেছে।তুই সব জেনেও ওকে কেন তোর কাছে নিচ্ছিস না।
আদ্রিয়ানঃআমি সবই জানি।যখন সময় আসবে তখন আমি ওকে ঠিক আমার কাছে নিয়ে আসবো।আর রোদেলা যখন সিলেট ছিলো তখন আমার ভয় কিছুটা হলেও কম ছিলো।কারন ওর বাবা আর ভাই ছিলো ওর পাশে।এখন ও ঢাকায় আসছে তাই আমি বিডি চলে এসেছি।আর আমি এখন থেকে আরো ওর সেফটি বাড়িয়ে দেবো।আর যে এই কাজটা করেছে তাকেও আমি ধরবো।

আদ্রিয়ান কথাগুলো বলে বেরিয়ে গেলো আর আদ্রিয়ানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা নিশ্বাস ছাড়লো আরাভ।

আদ্রিয়ান যাওয়ার কিছুক্ষন পরেই রুবা,মুন, কাশফিয়া আসে।সাথে করে রোদেলার জন্য স্যুপ নিয়ে এসেছে।রোদেলার জ্ঞান ফিরবে কিছুক্ষন পরেই বলে জানিয়েছে আরাভ।আরাভ গতকাল খেয়াল করেনি রুবাকে।তবে আজকে সকালে খেয়াল করেছে সে রুবাকে।রুবা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।সে আরাভের দিকে তাকায়নি একবার ও।কেমন লজ্জা লাগছে তার।আরাভ সেটা দেখে মুচকি হাসে।

আদ্রিয়ান বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে চলে আসে সুইমিংপুলে ওর টুইংকেল আর টাইগারের কাছে।আদ্রিয়ান সুইমিংপুলের টাইসে এসে বসেছে তাকে দেখে টুইংকেল আর টাইগার ওর কাছে উঠে আসে।আদ্রিয়ান ওদের আদর করে দিচ্ছে।আর ওরা চুপ করে আদর নিচ্চে।পাশে দাঁড়িয়ে সায়মন তা দেখছে।তার কুমিড় গুলোকে দেখলেই ভয় লাগে।সেখানে আদ্রিয়ান তাদের সাথে বসে।আদ্রিয়ান ওদের আদর করার মাঝে সায়মনকে বলে,

আদ্রিয়ানঃসায়মন কিছু জানতে পারলে কে এমন করেছে?
সায়মনঃহ্যা স্যার।কোভরা গ্যাং এর লোক।
আদ্রিয়ানঃতাহলে বসে আছো কার জন্য। তুলে নিয়ে এসো।
সায়মনঃজ্বী স্যার।

আদ্রিয়ান ওদের আদর করে উঠে চলে আসে।এখন তার অনেক কাজ আছে।তার রোদেলাময়কে সেফ রাখা সব থেকে বড় কাজ এখন তার জন্য।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here