প্রাপ্তি পার্ট ১

0
634

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০

প্রাপ্তি পার্ট ১
-সুমাইয়া বিনতে আঃ আজিজ

২০শে রমজানের দিন দুপুর বেলা সে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে শ্যাম্পুর একটা মিনিপ্যাক ছিঁড়তে ছিঁড়তে আমাকে বলল, “সবকিছু গুছাইয়া রাইখো তো সুমু। ইতিকাফে বসবো।”

আমি গোসল করে রুমে এসে সবেমাত্রই জায়নামাজটা হাতে নিয়েছি নামাজ পড়ার জন্য। এমন সময়ে তার মুখে এমন বিস্ময়কর কথা শুনে আমি বিস্ময়ের সপ্তম আসমানে পৌঁছে গেলাম যেন! জায়নামাজ হাতে সেই জায়গায়ই স্থির,স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে তার দিকে একরাশ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলাম আমি!
সে শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক টা ছিঁড়ে আমার দিকে তাকাতেই আমি রিতীমত বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি ইতিকাফে বসবা !?”

সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আমার কাছে এসে আমার গাল টেনে দিয়ে বলল, “কদরের রাত পাওয়ার জন্য ইতিকাফে বসার বিকল্প আর কিছুই নেই আমার জন্য।”

এত্ত স্বাভাবিক ভাবে কথাটা বললো মনে হলো যে,ইতিকাফে বসে সে না জানি কত্ত অভ্যস্ত!
সে এখানেই থামলো না। ওইটুকু কথা বলে আমাকে পেছন ফেলে বাথরুমের দিকে যেতে যেতে আগের মতই স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বলল, “সময়,সুযোগ সবই আছে এখন ইতিকাফে বসার। এই সুযোগ টা মিস কেমনে করি বল?”

আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে সে বাথরুমে ঢুকে গেলো। পেছন ফিরে একটু তাকালোও না আমার দিকে। একটাবার পেছনে তাকালে সে ঠিকই দেখতে পেতো যে,তার সুমুর চোখে কেমন অশ্রুধারা বয়ে চলেছে!

আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছিল। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পায়ের শক্তি যেন সব শেষ হয়ে আসছিল!
পাশেই সোফা ছিল। জায়নামাজ হাতে নিয়েই সোফায় বসে পড়লাম। কান্নার বেগ আমার বেড়েই চলেছে। মুহুর্তখানেক পর নিঃশব্দে কান্না করা অসম্ভব হয়ে পরলো। কান্নার বেগ বেড়ে যাওয়ার কারণে নিঃশব্দ কান্না টা সশব্দ কান্নায় রূপান্তরিত হলো! আমি হাতের জায়নামাজ টা মুখে চেপে ধরে হাউমাউ করে কান্না করতে লাগলাম! কান্নার তীব্রতায় শরীর টা বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছিল আমার!

সুখের সময়ের কান্নাগুলোতে সাধারণত মুখে হাসি,চোখে জল থাকে।
কিন্তু এই কান্নার সময় আমার মুখে একটুখানিও হাসি ছিলো না। কিন্তু অন্তরের তীব্র সুখটা আমি ঠিকই টের পাচ্ছিলাম। জায়নামাজটা মুখে চেপে ধরে কান্না করার সময় আকাশ পানে মুখ করে চোখ বন্ধ করে আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারছিলাম যে, “আল্লাহ,এত্ত রহমত তোমার! এত্ত! এত্ত রহমত!”

এই কথাটুকুই বার বার উচ্চারণ করছিলাম বিড়বিড় করে। সুখ-কান্নার তীব্রতায় এর বাইরে আমি আর কিছুই উচ্চারণ করতে পারছিলাম না!

আমি তো আল্লাহর কাছে এত বেশি চাই নি। আমি তো শুধু বারবার আল্লাহর কাছে এতটুকুই চেয়েছিলাম যে, এই মানুষটা যেন সমাজে প্রচলিত ২৭শে রমজানের রাত্রীকে স্পষ্টভাবে কদরের রাত ভাবার গন্ডি থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে। সে যেন রমজানের শেষ দশরাতে ইবাদত করে কদরের রাত্রী খুজে পাওয়ার গুরুত্বটুকু বুঝতে পারে।
ব্যস,এতটুকুই তো চেয়েছিলাম আল্লাহর কাছে। কিন্তু আল্লাহ যে আমাকে তার চেয়েও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি দিয়ে আমাকে এমন সারপ্রাইজড করবেন সেইটা কি আদৌ কল্পনা করতে পেরেছিলাম আমি!?
মানুষটা ইতোমধ্যে কদরের রাত তালাশের গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতিকাফে বসার নিয়ত করে ফেলছে! আল্লাহর রহমত না থাকলে কেমনে সম্ভব এটা!?

ওহ আল্লাহ! এত্ত নিয়ামত তোমার! এত্ত রহমত তোমার!
কীভাবে তোমার শুকরিয়া আদায় করে শেষ করবো আমি?
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


আমি কান্নারত অবস্থায়ই জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়ালাম। যোহরের নামাজ শুরু করার আগে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার উদ্দেশ্যে দুইরাকাত নফল নামাজ পড়লাম। সেই নামাজের সিজদাহ্তে গিয়ে কান্নার বেগ আমার আরো বেড়ে গেলো! আল্লাহর এই নিয়ামতটুকু যে আমার কতবড় পাওনা সেইটা আল্লাহ ব্যতীত কেউ বুঝবে না! আমি আমার জীবনের অন্য কোনো প্রাপ্তির সময় খুশিতে এরকম মরাকান্না করেছি কিনা আমার মনে পড়ে না। এমনকি এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের দিন যখন দেখেছিলাম যে,আমি আমার কল্পনার চেয়েও ভালো রেজাল্ট করেছি সেদিন খুশিতে চোখে পানি এসে গেলেও এভাবে কান্না করতে পারি নি!
অথচ আজ আমার কি হলো? আমি কান্না কেন থামাতে পারছি না? কান্না কেন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না?

সিজদাহ্ থেকে আমার উঠতেই ইচ্ছে করছিল না৷ মনে হচ্ছিল, একজনম আমার এভাবেই কেটে যাক সিজদাহ্ রত অবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে করতে।

***

আসরের নামাজ পরে তার প্রয়োজনীয় সব জিনিস গুলো যখন গুছাচ্ছিলাম তখনও আমার চোখ দিয়ে অনবরত নিরবে অশ্রু ঝড়ছিল। আমি যতই বারই চোখ মুছতেছিলাম ততবারই চোখ ভিজে উঠছিল!
ইশ! ভাগ্যিস মানুষটা দেখে নি এই অশ্রু! দেখলে কি ভাবতো কে জানে!

দুয়া যে কতটা শক্তিশালী সেইটা আমি এই মুহুর্তটাকে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম। আল্লাহ চাইলে কি না পারেন? তিনি তো সব আপাত-অসম্ভবকে নিমিষেই সম্ভব করে ফেলতে পারেন!
উফফ! আল্লাহু আকবর!

***

ইফতারের আগে আগে সে সবকিছু নিয়ে রওয়ানা হলো মসজিদের উদ্দেশ্যে! আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। অথচ ভালো করে কিছু দেখতেই পারছি না। বার বার আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে! ইশ,খুশিতে কারো এত্ত কান্না আসে বুঝি!?

আমি আমাদের রুমে ফিরে আসলাম। ইফতারের এই আগ-মুহুর্তে প্রতিদিনই একান্তে হাত তুলি আল্লাহর দরবারে। আজও হাত তুললাম আমার মহান প্রভুর দরবারে। আজ হাত তুলে আল্লাহর কাছে কিছুই চাইতে পারলাম না। শুধুই কান্না করলাম,শুধুই কান্না!
এ যে সুখের কান্না,প্রাপ্তির কান্না,আল্লাহর রহমত লাভের কান্না!

এই প্রাপ্তির সুখ আমি ছাড়া আর কে অনুভব করতে পারবে? এমনকি একটু আগে মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানুষটাও তো কখনো অনুভব করতে পারবে না আমার এই সুখের তীব্রতা!