পুরোনো_ভালোবাসা   পার্ট: ১২

0
1800

পুরোনো_ভালোবাসা

পার্ট: ১২

#Rabeya Sultana Nipa

__আনিকা আর নিশু ডাক্তার দেখিয়ে বসে আছে রিপটের জন্য।ডাক্তার অনেক গুলি টেস্ট দিয়েছে। টেস্ট গুলো করে রিপটের জন্য অপেক্ষা করছে।

নিশু -যদি রিপটে খারাপ কিছু হয় তাহলে কি হবে বলো তো।আমি নিজের জন্য কিছু ভাবছিনা।ভাবছি অনিকের কথা।
__ভাবী তোমার ফোন ভাজতেছে। আনিকা কথায় নিশু বললো।
দেখছো বলতে না বলতেই তোমার ভাইয়ার ফোন চলে আসছে। ও অফিসে আছে ঠিকি কিন্তু মন পড়ে আছে এখানে।

নিশু-হুম বলো?

অনিক – রিপট পেয়েছো?

নিশু -এখনো পাই নাই। পেলে তোমাকে ফোন দিবো।তুমি চিন্তা করছো কেন? আমার কিচ্ছু হবে না।

অনিক -ঠিক আছে আমি চিন্তা করবোনা। পাশের বাড়ির রিনা ভাবীর হাসবেন্ডকে বলবো তোমার জন্য চিন্তা করতে।এইভার খুশিতো?

নিশু -অনিক তুমিও না।পাগল একটা।এখন রাখি বাসায় গিয়ে তোমাকে ফোন দিবো।

__একজন লোক এসে বলে গেলো রিপট এসে গেছে। আপনারা একজন গিয়ে নিয়ে আসুন।

আনিকা-ভাবী তুমি বসো আমি নিয়ে আসছি।
কথাটা বলেই আনিকা রিপট আনতে গেলো।

__একটু পর আনিকা ফিরে এসে নিশুকে জড়িয়ে ধরে বললো congratulations ভাবী।
নিশু অবাক হয়ে বললো কি হয়েছে? তুমি এইরকম করছো কেন?
আনিকা- ভাবী জানো আমি না ফুফু হতে যাচ্ছি।

নিশু -আনিকার কথা শুনে নিশু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কি বলবে বুজতে পারছেনা

আনিকা -ভাবী তুমি খুশি হও নাই?

নিশু-আমি খুশি হয়েছি কিনা তা পরের কথা,তোমার ভাইয়া যদি রাগ করে? তোমার ভাইয়া বলেছিল তার পড়ালেখা শেষ করে বেবি নিবে।

আনিকা -ভাবী তুমি তো pregnant হয়েছো ৩ মাস চলতেছে।তুমি একটুও বুজতে পারো নাই?

নিশু-হ্যা কয়দিন থেকে শরীর টা ভালো লাগছিলোনা।কিন্তু বুজতে পারি নাই। আনিকা! তোমাকে একটা কথা বলবো রাখবে?

আনিকা -বলো কি কথা?
নিশু- বাসার কাউকে এখন কিছু বলো না।তোমার ভাইয়াকেও না।
আনিকা-কি বলো এইরকম একটা খুশির খবর কাউকে বলবো না, কিন্তু কেন?
নিশু-৬ দিন পর অনিকের জন্মদিন। সবাইকে সেই দিন সারপ্রাইজ দিবো।প্লিজ তুমি আগে থেকে কিছু বলো না।

আনিকা-ঠিক আছে। তোমার কথায় রাখলাম।

__নিশু বাসায় আসার আগেই অনিক বাসায় এসে বসে আছে।নিশু হাসি দিয়ে বললো আরে তুমি এতো তাড়াতাড়ি চলে আসছো।

অনিক -হুম চলে আসছি।তোমার রিপটে কি আসছে?

নিশু-এইজন্য তুমি অফিস থেকে চলে আসছো?
এতো পাগলামি কেন করো।

অনিক-তোমাকে আমি এই গুলো কিছু জিজ্ঞাস করিনি।যা করেছি তার আনসার দাও?

নিশু-আমি একদম সুস্থ আছি।ডাক্তার বলেছে দুইদিন পর এমনি ঠিক হয়ে যাবে।

অনিক -ঠিক আছে। তোমার কথা মানলাম।

কথাটা বলেই নিশুকে জড়িয়ে ধরেছে। এমন সময় আনিকা বলে উঠলো।

আনিকা -ভাইয়া ভুলে যাসনা আমি এইখানে আছি।এইটা তোদের বেড রুম না।

নিশু -(রাগ হয়ে অনিককে ধাক্কা দিয়ে)সব কিছুতেই তোমার বাড়াবাড়ি। পাগল কথাকার।বলেই রুমে চলে গেলো।

অনিক -আনিকা তুইও না!দাড়া তোকে দেখাচ্ছি মজা।বলে আনিকার পিছন পিছন ছুটলো।

__ রেহানা বেগম এসে ভাইবোনে দুষ্টামি দেখে বললো এখনো কি তোরা ছোটো আছিস? এইরকম করছিস কেন তোরা? অনিক তুই এইদিকে আয় তোর সাথে কথা আছে।

অনিক-হুম বলো কি কথা?

রেহানা বেগম -কালতো ছেলের বাড়ির লোক আসবে ওরা বলচ্ছে একসাথে engaged করে ফেলতে।তোর বাবাও রাজি হয়ে গেছে।

অনিক-মা! তোমরা যা ভালোমনে করো।
নিশু এসে বললো মা! আমি একটা কথা বলি?

রেহানা বেগম -হ্যা বলো?

নিশু-আনিকাকে একবার জিজ্ঞাস করলে ভালো হতোনা। ও এই বিয়েতে রাজি কি না?

রেহানা বেগম-তুমি চুপ করো (ধমক দিয়ে)।আমার মেয়ে আমরা যেটা বলবো সেটাই শুনবে।

__নিশুকে মন খারাপ করে চলে যেতে দেখে অনিকও পিছন পিছন গেলো।

অনিক -নিশু! বার বার এক কথা কেন বলছো?শুধু শুধু এখন মায়ের বকা খেতে গেলে।আমি চাই না তুমি আর এই ব্যাপারে কিছু বলো।

নিশু-ঠিক আছে এখন খেতে চলো রাত অনেক হয়েছে।
তবে তোমাকে একটা কথা আমি বলতে পারি। আমার মনে হয় আনিকা এই বিয়েতে রাজি হবে না।
(কথাটা বলেই নিশু রান্নাঘরে চলে গেলো।)

__সবাই এক বসে খাওয়া খাচ্ছে।কিন্তু অনিকের মন হলো নিশু আর আনিকার দিকে।

অনিক -আনিকা! কাল তোকে ছেলেপক্ষ এসে দেখে engaged করে যাবে।এতে কি তোর কোনো আপত্তি আছে?

আনিকা -আপত্তি থাকবে কেন।তোরা যা করবি আমার ভালোর জন্যই করবি।আমার কোনো আপত্তি নাই।

__অনিক নিশুর দিকে তাকিয়ে বললো।আমার খাওয়া হয়ে গেছে আমি রুমে যাচ্ছি।একে একে সবাই চলে গেলো।আনিকা আর নিশু বসে আছে।

নিশু-এখন তো তোমার ভাইয়াকে বলতে পারতে।তুমি এই বিয়ে করতে পারবেনা।

আনিকা-ভাবী তুমি চিন্তা করোনা।বিয়েতো দূরের কথা engaged ও হবেনা।

নিশু-আমিতো কিছুই বুজতেছিনা তোমার কথা।

আনিকা -এখন কিছু বুজা লাগবেনা।তুমি রুমে যাও,ভাইয়া অপেক্ষা করছে।এমনিতেই এখন ভালোভাবে চলতে হবে।আর সবসময় আমার ভাইয়াকে নিয়ে ভালো থাকবে।যে আসছে তারও খেয়াল রাখবে।আর দাঁড়িয়ে থেকোনা রুমে যাও।

নিশু -আনিকা তুমি যেই ভাবে কথা বলছো মনে হচ্ছে আজকেই কথাও চলে যাবে।

আনিকা -আরে নাহ এমনি বললাম।

__নিশুও আর কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে আসলো।
অনিক খাটের একপাশে বসে বসে ল্যাপটপ এ কাজ করছে।নিশুকে আসতে দেখে,

অনিক – এই তোমার আসার সময় হলো?

নিশু -তাড়াতাড়িই তো এলাম।দিন দিন তুমি কেমন যেন অবুজের মতো কথা বলছো।সরো কাল অনেক কাজ আছে সকাল সকাল উঠতে হবে,আমি এখন ঘুমাবো।বলেই নিশু শুয়ে পড়লো।

অনিক- তুমি ঘুমাবে মানে?আমি মানছি কাল অনেক কাজ।তাই বলে তুমি এখন ঘুমাবে?

নিশু-না! তোমাকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো।তুমি যা চাচ্ছো তা কিছুই হবে না।তুমিও আর একটা কথা না বলে এখন ঘুমাও।

চলবে,,,,,

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে