তোমায় নিয়ে ভ্রমণ পর্বঃ ০২

0
1699

তোমায় নিয়ে ভ্রমণ পর্বঃ ০২
লেখকঃ আবির খান

বাস তার আপন গতিতে ছুটছে। আর ওরা স্বপ্ন দেখছে সাজেকের। সাথী আবিরের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। আবির ওর গালে হাত দিয়ে ঘুমাতে বলছে। যাত্রা পথে আমাদের সবসময় উচিৎ আল্লাহকে স্মরণ করা। এসময় ফুর্তি মুডে থাকা মোটেও ঠিক না। আবির আর সাথী মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। অন্যদিকে সালমান আর নীলাও আল্লাহকে স্মরণ করে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।

হেল্পারের ডাকে সবার ঘুম ভাঙে। আবির আর সাথী একে অপরের সাথে মিশে হেলান দিয়ে শুয়ে ছিল। আবির ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে ভোর ৪ টা বাজে। হেল্পার সবাইকে নেমে নাস্তা করতে বলে। ওরা এখন কুমিল্লাতে। রাস্তায় দীর্ঘ জ্যাম থাকায় যেখানে ঢাকা থেকে কুমিল্লার পথ ২ ঘন্টা সেখানে প্রায় ৪ ঘন্টা লেগে গেল। অফ সিজনে আসলে এই জ্যামটা নাও পাওয়া যেতে পারে।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

এরপর ওরা ৪ জন গাড়ি থেকে নেমে ওখানের একটা হোটেলে নাস্তা করতে বসে। খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে কুমিল্লার এই হোটেল গুলোর খাবারের মূল্য বেশ অনেক। যারা একটু ধনী তাদের তেমন সমস্যা হয়না। আর বাকি যারা আছে তাদের উচিৎ খাওয়ার আগে সব কিছুর মূল্য জেনে নেওয়া। নাহলে পরে সমস্যা হতে পারে। কুমিল্লায় ওরা নাস্তা করে আবার গাড়িতে উঠে। এবার গাড়ি একদম খাগড়াছড়ি গিয়েই থামবে। গাড়ি আবার তার আপন গতিতে চলতে শুরু করে। ওরা আবার ঘুমিয়ে পড়ে। আরাই ঘন্টা পর সবার ঘুম ভাঙলে ওরা খাগড়াছড়ির আঁকাবাঁকা পথে নিজেদের আবিষ্কার করে। সমতল থেকে বেশ উপরে গাড়ি চলছে। কতটা উপরে তা বলা মুশকিল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে নিচে ছোট বড় অনেক পাহাড় দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য যেন এই শুরু। না জানি সাজেক কেমন হবে!

সাথী আর নীলা আবির আর সালমানকে নিয়ে খাগড়াছড়ির এই সবুজে ঘেরা পাহাড় পর্বত দেখছে। খোলা উজ্জ্বল আকাশ ভোরের পাখি আর অনেক পাহাড়। আহ! ওদের চোখ জ্বলজ্বল করছে এ দৃশ্য দেখেই। এরপর ওরা ৮ টার দিকে খাগড়াছড়ি পৌঁছায়। আবিররা আজ সাজেকের দিকে যাবে না। খাগড়াছড়িতে একটা হোটেলে আজ থাকবে। কাল খুব ভোরের দিকে সাজেকের দিকে রওনা দিবে। আজই এসে আজই সাজেক গেলে সাজেকের সেই মজাটা পাওয়া যাবে না। তবে অন্য যারা আছে তারা কিন্তু খাগড়াছড়ি নেমেই সাজেকের দিকে যায়। সেখানে সবারই একরাত থাকতে হয়। সাজেক যাওয়ার জন্য একমাত্র বেস্ট অপশন হলো চাঁন্দের গাড়ি। প্রায় ১১/১২ জন একসাথে এই গাড়িতে যেতে পারে। এই গাড়ি নিয়ে সাজেক যেতে হলে একদিনের জন্য বুক করতে হবে। মানে আজ সকালে রওনা দিয়ে কাল সকাল ১০ টায় আবার খাগড়াছড়ি নিয়ে আসবে৷ যার মূল্য ৮/৯ হাজার টাকা। এই চাঁন্দের গাড়িই আপনাকে পুরো সাজেক ঘুরিয়ে দেখাবে। আপনি যেখানে যেতে চান সেখানে নিয়ে যাবে। কেউ যদি দু’রাত থাকতে চায় তাও সম্ভব। তবে কথা বলে ভাড়া ঠিক করে নিতে হবে।

আবিররা খাগড়াছড়িতে অনেক কষ্টে দুইটা রুম নেয়। সাথী আজ খুব খুশী। অন্যদিকে নীলাও। ওরা ফ্রেশ হয়ে একসাথে নাস্তা করে। আবির বাসায় জানিয়ে দিয়েছে যে ওরা ভালো ভাবে পৌঁছে গিয়েছে। দুপুরে খাবার খায়ে ওরা একটু আড্ডা দেয়। এখন বিকেল। আবির সাথীকে বলছে,

– কি কেমন লাগছে?

~ অসম্ভব ভালো। নিঃশ্বাস নিয়ে দেখো কি পরিষ্কার। মন জুড়িয়ে যায়।

– হুম আসলেই। সাজেক তো আরো সুন্দর। একবার বন্ধুদের সাথে এসেছিলাম। তখন খুব কষ্টকর ছিল। এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। রাস্তা ঘাট সব ভালো। কোন ভাঙাচোরা নেই। শুধু সমস্যা একটাই। পাহাড়ি হওয়ায় এখানে কোন কারেন্ট নেই। সোলারের সাহায্যে সব চলে।

~ হ্যাঁ দেখলাম। প্রতিটা বাড়ির উপর সোলার সিস্টেম।

– আসলে কি জানো আমাদের শহরের জীবনটা অনেক সহজ। তাও আমরা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এখানে সব পাহাড়ি লোক। তারা যে কত কষ্ট করে। কিন্তু তাও তারা খুব খুশী। কারণ কি জানো?

~ কি?

– কারণ তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল না। নিজেদের সব নিজেরাই করে। ফলমূল শাকসবজি নিজেরাই জোগাড় করে নিজেরাই খায়৷ ওরা খুব ভালো। বাহিরের লোকদের অনেক সম্মান আর সাহায্য করে। এই যে আমরা যারা সাজেক যাই তাদের জন্য এখানে বাজার দিয়েছে। যাতে এখান থেকে কেনা কাটা করে ওখানে যেতে পারি। তাছাড়া ওরাও বাজার করে। বিনিময়ে কিছু টাকা পয়সা পায় ওরা। এভাবেই ওদের জীবন চলে। কালকে সাজেক যাওয়ার পথে ওদের জীবন দেখবে। পাহাড়ের মধ্যে রাস্তা। আর রাস্তার দু’ধারে ওদের বাসা। খুব ছোট। কিন্তু সেখানে সবাই এক হয়ে থাকে। সবাই খুব পরিশ্রমী।

~ উফফ আমি অপেক্ষা করতে পারছি না কখন যে সাজেক যাবো।

– তাই। তার আগে তুমি এদিকে আসো। সাজেক পড়ে যেও।

আবির সাথীকে একটানে ওর কাছে নিয়ে নেয়। এরপর ওদের দুষ্টামি শুরু হয়। অন্যদিকে সালমান মহাশয় নীলাকে এখনো লজ্জা পায়। বেটা কাজের চাপে বউয়ের কাছেই আসতে পারে না। তবে এখানে এসে সালমানের মনে রঙ লেগেছে। নীলাতো সালমানকে চিনতেই পারছে না। এক নতুন সালমানকে আবিষ্কার করেছে নীলা। নীলা সত্যিই খুব খুশী সালমানকে এত্তো কাছে পেয়ে। ওদেরও দুষ্ট মিষ্টি সময় পার করে সেদিন শেষ হয়।

পরদিন ওরা সবাই ৭ টায় খাগড়াছড়ি শাপলাচত্বরে এসে পড়ে। এখান থেকেই মূলত সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। ওরা অনেক খাবার কিনে সাথে নেয়। সালমান আর আবির মিলে দু’রাতের জন্য ১৫০০০ টাকা দিয়ে চাঁন্দের গাড়ি ভাড়া করে। ওরা চারজনই যাবে এই গাড়িতে। আবির,সাথী আর সালমান, নীলা খুব খুশী। নীলাতো সাথীকে থ্যাংকস দিতে দিতে অস্থির। সাথীর জন্যই আজ নীলা আর সালমান একসাথে সময় পার করতে পারছে। সাথীর খুব ভালো লাগছে। এরপর খুব দ্রুতই ওদের গাড়ি ছেড়ে দেয়। কারণ যেভাবে হোক ওদেরকে সকাল ১০ টার আগে বাগাইহাট আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে নাহলে সেনাবাহিনীর স্কট মিস হয়ে যাবে না। আর একবার মিস হলে আবার সেই বিকেল ৪ টায় ছাড়বে। তাই সময় নষ্ট না করে আবিরদের চাঁন্দের গাড়ি ওদের নিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু পথ দিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখাতে দেখাতে নিয়ে যাচ্ছে সাজেক।

চলবে…?

সবার ভালো সাড়া চাই। কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here