তোমার স্পর্শে পর্বঃ ০৭

0
1734

তোমার স্পর্শে পর্বঃ ০৭
– আবির খান

আমি আস্তে আস্তে করে আমার রুমে যাই। গিয়েতো পুরো অবাক। পুরো রুম ফাঁকা। কোথাও কেউ নেই। হঠাৎ খেয়াল করি বারান্দার দরজাটা খুলা। আর কারো ওড়না হাওয়ায় ভাসছে। মানে মায়া বারান্দায়। আমি এই সুযোগে গিফট টা এক জায়গায় রেখে, আস্তে করে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি মায়া এখনো বারান্দায়। আমি বারান্দার কাছে গেলাম। গিয়ে উঁকি মেরে দেখি, মায়া বারান্দার গ্রিল ধরে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে আনমনে। আমি ধীর পায়ে ওর পিছনে গিয়ে দাঁড়াই। ও হয়তো বুঝতে পারেনি। তাই দুষ্টামি করে পিছন থেকে ওকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধে আমার মুখ রাখি। ও আমার স্পর্শ পেয়ে কিছুটা কেঁপে উঠে। কিন্তু কিছু বলে না। আমি রসিকতার সুরে ওকে বললাম,

আমিঃ আমার মায়াবতীটা বুঝি অভিমান করে আছে হুম??

মায়াঃ…. চুপ।

আমিঃ কি হলো কিছু বলবে না??

মায়াঃ… চুপ।

আমিঃ কই দেখি আমার মায়ার মুখখানা।

মায়াকে ঘুরিয়ে আমার দিকে ফিরিয়েতো আমি পুরো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। কারণ মায়ার চোখ অশ্রুতে টইটম্বুর হয়ে আছে। ও কাঁদছে!! কিন্তু কেন?? কি হয়েছে ওর?? আমি মুহূর্তেই অস্থির হয়ে যাই।

আমিঃ কি হয়েছে মায়া?? তুমি কাঁদছো কেন?? শরীর খারাপ লাগছে?? অস্থির হয়ে।

মায়া কোনো কথাই বলছে না। এবার আমি আরো চিন্তায় পরে যাই। আর বলি,

মায়াঃ প্লিজ মায়া, বলো কি হয়েছে?? আমার খুব টেনশন হচ্ছে। প্লিজ বলো এভাবে কাঁদছো কেন??

এবার মায়া কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে বলে,

মায়াঃ সেই সকালে বের হয়েছো। সাড়াদিনে একটা ফোন পর্যন্ত দেওনি। আমি সারাটাদিন ফোনের কাছে বসে ছিলাম। তুমি একবারও অামাকে ফোন দেওনি। তুমি একদিনেই আজ আমাকে ভুলে গেছো। তুমি আমাকে ভালোবাসো না। এএএএএ…..

বলেই সেকি কান্না। আল্লাহ, মেয়েরা যে এতো কাঁদতে পারে আগে জানতাম না। কি করবো কি করবো যখন ভেবে পাচ্ছিলাম না তখন মাথা শুধু একটা কথাই আসলো। ভালোবাসা।

মায়াকে একদম শক্ত করে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরি। মুহূর্তেই ওর কান্না থেমে যায়। ও আমাকে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে। দক্ষিণা বাতাস আমাদের দুজনকে বারবার স্পর্শ করে পালিয়ে যাচ্ছে। ওর খোলা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। আমি ওকে বললাম,

আমিঃ তোমার জন্য কিছু গিফট এনেছি। তবে তার আগে কিছু খেতে দেও। আমার প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে।

মুহূর্তেই মায়া যেন অস্থির হয়ে গেলো। কিসের গিফট কিসের কি। আমাকে ধরে এনে টেবিলে বসিয়ে আমাকে খাবার বেরে দিল। খাবার দেখেতো আমি অবাক। আমার পছন্দের খিচুড়ি আর গরুর মাংস। সাথে আবার বেগুন ভাজা। আর আচারতো আছেই। মায়া খাবার বেরে দিয়ে আমার পাশে বসলো। আমি খাবার দেখে লোভে দুনিয়ার সব কিছু ভুলে গেছি। যা ঘ্রাণটাই না আসছিলো। আমি একটু খেয়েই যেন পাগল হয়ে গেলাম। এত্তো মজা!! আমার খুশি দেখে কে। খেতে খেতে খালাকে ডাক দি।

আমিঃ খালা…ও খালা..কই গো তুমি??

খালা বোধহয় আমার ডাক শুনে ভয় পেয়েছে। তাই তাড়াতাড়ি দৌড়ে আমার সামনে চলে আসে।

খালাঃ কি হইছে বাবা?? ভয় নিয়ে।

আমিঃ খালা গো খালা, তোমার হাতে তো জাদু আছে। এত্তো মজার খিচুড়ি আমার মায়ের হাত ছাড়া আগে কখনো খাইনি। চোখে জল এসে পরেছে খাবার খেয়ে। যাও তোমার বেতন আজ থেকে ডাবল। খুব খুব ভালো হয়েছেরে খালা।

খালাঃ না মানে বাবা…অামতা অামতা করে।

আমি খালার দিকে তাকিয়ে বলি,

আমিঃ কি হয়েছে খালা??

খালাঃ আসলে বাবা, আইজ রান্না আমি করি নাই।

আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম,

আমিঃ তাহলে কে করেছে??

খালা অসহায় ভাবে আঙুল দিয়ে মায়ার দিকে দেখিয়ে দিল। আমি পুরো বোকা হয়ে যাই। আমি আস্তে আস্তে মুখে খুব কষ্টে একটু হাসি নিয়ে মায়ার দিকে তাকাই। দেখি মায়া আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমিও ওর দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছি। একটু পরেই মায়া খিলখিল করে হেসে দেয় সাথে আমিও। আসলে রাঁধুনীর সামনে তার প্রশংসা না করে অন্যজনের প্রশংসা করে ফেলেছি। তাই ভয় পাচ্ছিলাম।

মায়াঃ খাও তুমি। আমি কিছু মনে করিনি।

আমিঃ সরি সরি।

মায়া হাসি দিয়ে বলল,

মায়াঃ আরে খাওতো।

আমিঃ কিন্তু তুমি এত্তো ভালো রান্না করলে কি করে?? অবাক হয়ে।

মায়াঃ অাসলে আমিও না জানি না। একা একাই হয়ে গেছে। অসহায় ভাবে।

আমিঃ আচ্ছা যাক তাও ভালো। তোমার রান্নার হাত যে এতো ভালো আগে বুঝতে পারিনি। সারাজীবন কিন্তু এভাবেই রান্না করে খাওয়াতে হবে। খেতে খেতে বলছি।

পাশে তাকিয়ে দেখি মায়া অনেক লজ্জা পাচ্ছে। রান্না এত্তো ভালো হয়েছে যে, মায়া যে আমার হাতে ছাড়া খায়না তাই ভুলে গিয়েছি। তাই,

আমিঃ তুমিতো খাওনি৷ নেও হা করো এখন??

মায়া যেন এই মুহূর্তটার অপেক্ষাই ছিল। আমি ওকে খাইয়ে দিচ্ছি। হঠাৎ দেখি ওর চোখে পানি। আমি ওর চোখে পানি দেখে বলি,

আমিঃ কি হয়েছে মায়া কাঁদছো কেন?? কোনো সমস্যা??

মায়াঃ না না। এমনি। তুমি খাওয়াও তো। বেশি প্রশ্ন করো তুমি।

ওর ধমক খেয়ে আমি ওকে তাড়াতাড়ি খাইয়ে দি। ও শুধু আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েই ছিল পুরোটা সময়৷ এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি আর মায়া রুমে ফিরে আসে।

মায়া রুমে এসে মুখ ফুলিয়ে একপাশে বসে আছে। আমি ওর কাছে গিয়ে বসে বললাম,

আমিঃ কি হলো আমার মায়াবতীটা মুখ ফুলিয়ে আছে কেন?? হুম??

মায়া রাগ দেখিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,

মায়াঃ তুমি আমার সাথে অার কথা বলবে না। যাও। তুমি একদিনেই আমাকে ভুলে গেছো। একটাবারও কল দেওনি। তোমার সাথে আড়ি।

বুঝলাম মায়া অনেক রাগ করে আছে। আসলেই আজ কাজের চাপে ওকে একবারও কল দিতে পারিনি। ভালোবাসার মানুষটার সাথে আজ বড্ড অবহেলা করে ফেলেছি অজান্তেই। তাইতো ওর জন্য গিফট এনেছি। যা দেখে ও নির্ঘাত অনেক খুশি হবে৷

আমি ওকে বললাম,

আমিঃ এই যে ম্যাম, আপনার জন্য যে গিফট গুলো এনেছি দেখবেন না??

মায়াঃ হ্যাঁ হ্যাঁ দেখবো। কই?? খুশী হয়ে।

আমিঃ বাবাহ। তোমরা মেয়েরা পারও বটে৷ দাঁড়াও আনছি।

এরপর উঠে গিফটগুলো এনে ওকে দিলাম। দুটো ব্যাগ ছিল। একটা বড় আরেকটা ছোট। মায়া প্রথমে ছোট ব্যাগটা খুলল। খুলেতো মায়া পুরো অবাক। কারণ মায়া দেখে, একটা টিপের পাতা, লাল লিপস্টিক, সাদা আর লাল কালারের অনেকগুলো চুড়ি, কানের ঝুমকা, পায়ের নূপুর আর সবশেষে বেলীফুলের মালা। চুলে বাঁধার জন্য৷ আমি খেয়াল করলাম, মায়ার চোখ ধাধিয়ে যাচ্ছে। ও মনে হয় স্বপ্নেও ভাবে নি, এগুলো আমি ওকে দিবো। মায়া দ্রুত বড় ব্যাগটা খুলে দেখে, লাল পাইড়ের সাদা শাড়ী। মায়া এবার স্তব্ধ হয়ে গেল মনে হয়।

আমিঃ পছন্দ হয়েছে??

মায়াঃ আমাকে ১৫ মিনিট সময় দিবে?? বেশি না মাত্র ১৫ মিনিট।

আমিঃ কেন??

মায়াঃ এমনিই। তুমি একটু বাইরে যাও৷ আমি ডাক দিলে আসবে৷

আমিঃ আচ্ছা।

আমি মায়াকে রেখে ড্রয়িং রুমে চলে আসি। কারণ আমিও চাই মায়া এগুলো পরে আমাকে দেখাক। আমি ওকে এক নজর দেখার জন্য শুধু অপেক্ষা করছি। কতবার যে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি তার কোনো হিসাবই নেই। আমার জানা মতে মেয়েরা সাজতে অনেক সময় নেয়। কিন্তু সে অনুপাতে মায়া খুবই কম সময় নিয়েছে। এই ১৫ মিনিট যেন আমার কাছে এখন ১৫ ঘন্টা মনে হচ্ছে। কবে যে শেষ হবে এই ১৫ মিনিট?? বলতে বলতেই মায়া ডাক দেয়। মায়ার ডাক শুনে আমার বুকের হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যায়। ধুকপুক ধুকপুক করছে। নিজেকে সামলে তাড়াতাড়ি মায়ার কাছে গেলাম। দরজার সামনে গিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লাম। তারপর ভিতরে ঢুললাম। ভিতরে ঢুকেতো আমি সক খেলাম। একি!! পুরো রুম খালি।

আমিঃ মায়া… ও মায়া… কই তুমি??

মায়াঃ আমি এখানে.. তুমি যেখানে…মজা করে।

আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। বুঝলাম মায়া বারান্দায়। আমি দ্রুত বারান্দায় চলে গেলাম। মায়াকে এক নজর দেখার জন্য আর তড় সইছে না।

আমার বারান্দাটা অনেক বড়। বারান্দা দিয়ে ঘুমন্ত শহরটাকে বেশ ভালো ভাবেই দেখা যায়। আর সাথে দক্ষিণা বাতাস। আমি পাশে তাকিয়ে দেখি মায়া অন্যদিকে ফিরে তাকিয়ে আছে৷ আমি পিছন থেকে মায়াকে দেখছি। সাদা শাড়ী আর তার কেশে বেলীফুলের মালা গাঁথা। আমি ধীরে ধীরে ওর একদম কাছে এগিয়ে যাই। ওর হাত দুটোতে আমার হাত রাখি। ও একটু কেঁপে উঠে। আমি আস্তে করে ওকে আমার দিকে ঘুরাই।

আকাশে গোল বিশাল বড় চাঁদটা ছিল। সে তার সব আলো আজ মায়ার মুখে দিয়েছে। আমি চাঁদের আলোও মায়াকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। সত্যি বলছি, আজ এই মুহূর্তে পুরো দুনিয়াতে যদি কেউ সবচেয়ে বেশি অপরূপা থাকে, তাহলে সে একমাত্র আমার মায়া। আর কেউ না। আমি মায়ার হাত দুটো ধরে একটু পিছনে সরে মায়াকে ভালো করে দেখছি।

কপালে আমার দেওয়া লাল টিপ, নয়নজোড়ায় নয়ন কারা কাজল, ঠোঁটে তার লাল লিপস্টিক, কানে ঝুমকা হাওয়ায় দুলছে। হাতে সাদা ও লাল কালারের চুড়ি আর চুলে বেলীফুলের মালাতো বাঁধাই আছে। সাদা শাড়ী আর নূপুর পরা মায়া। আজ আমার মায়া কোনো অপ্সরার থেকে মোটেও কম নয়। আমার চোখজোড়া জ্বলজ্বল করছে মায়াকে দেখে। আমার মনে হচ্ছে, আকাশ থেকে চাঁদটা আজ আমার সামনেই নেমে এসেছে। আমি ঠিক যেভাবে কল্পনা করেছিলাম মায়াকে ঠিক সেরকমই লাগছে। আমি মুগ্ধ হয়ে শুধু মায়াকে দেখছি। আর মায়ার মুখখানা লজ্জায় একদম গোলাপি হয়ে গিয়েছে। ফলে মায়াকে আরো বেশি সুন্দরী লাগছে।

আমি মায়ার চুড়ি পরা হাত দুটো উঠিয়ে দেখছি। কেন জানি না অজান্তেই ওর হাত দুটো এক করে একটা চুমু এঁকে দেই। মায়া কেঁপে উঠে। এরপর মায়াকে এক টানে আমার কাছে টেনে নি। মায়া এখন আমার সাথে মিশে আছে। আমি মায়ার ঘোরে পরে গিয়েছি। জানি না কি করছি আমি।

মায়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ছিল। আমি ওর থুতনিতে হাত দিয়ে মুখটা তুলে আমার দিকে করি। মায়া আমার চোখের পানে তাকিয়ে আছে। আমিও মায়ার চোখের পানে তাকিয়ে আছি। চাঁদের আলোতে মায়া নেশাকাতর নয়নজোড়া জ্বলজ্বল করছে। আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে তা দেখছি। হঠাৎ দক্ষিণা বাতাসে কয়েকটি চুল মায়ার মুখে এসে পরে। আমি আস্তে করে আমার আঙুল দিয়ে চুলগুলো মায়ার কানের পিছনে গুজে দেই। মায়া আমার স্পর্শ পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে লজ্জায়। এমনিতেই লজ্জায় গোলাপি হয়ে গিয়েছে ওর মুখখানা। মায়া আবার আমার দিকে তাকায়। কিন্তু এবার আমার চোখ যায় ওর ঠোঁটের উপর। ঠোঁটের কোণায় সেই ছোট্ট কালো তিলটা আমাকে বেশ আকর্ষিত করছে। এই তিলটা ওর ঠোঁটের সৌন্দর্য্য অারো কয়েক গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। খুব ইচ্ছে করছে ঠোঁটটায় হারিয়ে যেতে। আমি যে এখন মায়ার তীব্র ঘোরে পরে গিয়েছি। নিজেকে হাজার চেষ্টা করেও অার আটকে রাখতে পারলাম না। আমি অজান্তেই ধীরে ধীরে মায়ার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে ওর অনেক কাছে এগিয়ে যাচ্ছি। মায়া বুঝতে পেরে হয়তো লজ্জায় চোখটা বন্ধ করে ফেলে। আমি এখন ওর এতোটা কাছে যে আমাদের গরম নিঃশ্বাস এখন একে অপরের মুখের ওপর পরছে। মায়া ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে আর ছাড়ছে। আমি এক নজর ওর লজ্জাসিক্ত মায়াবী মুখখানা দেখে ওর নরম ঠোঁটদ্বয়ে হারিয়ে যাই। ভালোবাসার প্রথম মিষ্টি স্পর্শ। প্রথম মিষ্টি অনুভূতি। প্রথম মিষ্টি অনুভব। এ এমন এক স্পর্শ যার কোনো তুলনা হয়না। আমি আর মায়া সমান তালেই এই স্পর্শটুকু ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। আমরা দুজনই এখন নিজেদের মাঝে হারিয়ে গিয়েছি। আমাদের স্পর্শে সময়টা যেন থমকে গিয়েছে। এই স্পর্শের প্রথম অনুভূতি আমাদের দুজনকে কোনো এক অজানা শহরে নিয়ে গেছে। যেখানে আমি আর মায়া ছাড়া আর কেউ নেই। শুধু আমরাই এই শহরের রাজা রাণী।

কতটা সময় আমরা এই স্পর্শে ছিলাম ঠিক তা জানি না। তবে সেই সময়টুকু ছিল মধুর আর শুধু একান্তই আমাদের। মায়াকে আমি ছেড়ে দি আস্তে করে। ও লজ্জায় অন্যদিকে ফিরে দাঁড়ায়। দুজনেই বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছি। শান্ত হয়ে মায়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলি,

আমিঃ মায়া, আমাকে বিয়ে করবে?? আমার এই জীবন তোমাকে ছাড়া শুন্য। আমাদের এই ভালোবাসাকে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাই। করবে আমায় বিয়ে??

মায়া তাড়াতাড়ি আমার দিকে ফিরে কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলে,

মায়াঃ তুমি আমাকে বিয়ে করবে??

আমিঃ ভালোবাসি তোমাকে। নিজের স্ত্রী হিসেবে তোমাকে পাওয়াটা আমার সৌভাগ্য। তোমার স্পর্শে যে আমি শান্তি খুঁজে পাই। তাই শুধু তোমাকেই চাই। হবে কি আমার?? শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত??

মায়া অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার বুকে মাথা রাখে। কেন জানি আমারও চোখ দিয়ে দু-এক ফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পরে। হয়তো আমাদের এই অশ্রু খুশির। মায়া হঠাৎ মাথা তুলে আমাকে বলে,

মায়াঃ তবে আমার কিছু বলার আছে তোমাকে।

আমিঃ আচ্ছা পরে বলো। আগে আমার বুকে মাথা রাখতো। একটু ভালোবাসা ভাগাভাগি করি।

এরপর মায়া আবার আমার বুকে মাথা রাখে। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে এক অন্যরকম অনুভূতিতে হারিয়ে যাই।

চলবে…

কি হতে পারে মায়ার কথা?? জানাবেন কিন্তু। আর সাথে থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here