তোমার আঁচলের উঠোনে পর্ব ১৪

1
1466

তোমার আঁচলের উঠোনে পর্ব ১৪

ধ্রুবর বাজে ব্যবহারের কথা মনে হতেই বিভাবরী নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনে। সে এই ছেলের উপর আর কখনো দুর্বল হবে না। কখনোই না। বিভাবরী কঠিন গলায় বলে,
— ইউ আর টু লেট, ধ্রুব। আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।
ধ্রুব করুন দৃষ্টিতে তাকায়। ভারী চশমার আড়ালেও টলমল করা চোখ দুটো বুঝা যাচ্ছে। সে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
— আমার ছেলেবেলার একটা গল্প বলি, বিভাবরী? তুমি শুনবে??
বিভাবরী কোনো উত্তর দেয় না। সে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। ধ্রুব উত্তরের অপেক্ষা না করে বলতে থাকে,
— তখন আমার বয়স ৭। ছোট একটা শহরের দুতলা বাড়িতে থাকতাম আমরা। মা ছিল ওখানকার একটা এনজিওর অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর। আর বাবা সারাক্ষণ তার বিজনেস নিয়ে বিজি। তাদের কারোরই সময় ছিল না আমার জন্য। কিন্তু আমি তখনও অত্যন্ত সুখী ছিলাম। সুখী থাকার কারণ, এ মোস্ট গরজিয়াস লেডি। আমার দাদী, আমার একাকিত্বের সঙ্গী। বলতে গেলে আমার পুরো পৃথিবী ঘিরে ছিলেন তিনি। স্কুল থেকে ফিরে তাঁর কাছে গল্প না শুনলে খেতে পারতাম না। তাঁকে জড়িয়ে না ধরলে আমার ঘুম হতো না। প্রতিদিন বিকেলে ছাদে তাঁর সাথে খেলা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক। এমনি এক ধুসর বিকেলে আমি তাঁর সাথে গল্প করতে ছাদে যাই। সেই ধুসর বিকেলটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে জঘন্যতম বিকেল। খেলার ছলে উনাকে চোখ বেঁধে দিয়ে আমি লুকিয়ে পড়ি। লুকোচুরি খেলতাম, তাই।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


এইটুকু বলে ধ্রুব থামে। তার কথা আটকে আটকে আসছে। বিভাবরী হা করে কথাগুলো শুনে। ধ্রুব ভাঙা গলায় বলে,
— আমার চোখের সামনে উনি সিঁড়ি থেকে পড়তে থাকে। মুখ থেঁতলে যায় উনার। আমি চোখ বন্ধ করতে চেয়েছিলাম, বিভাবরী। কিন্তু পারিনি। চোখের সামনে উনার বিভৎস মৃত্যু ঘটে। নিজেকে সামলাতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এর পরের গল্পটা ছিল আরও ভয়াবহ। সেদিনের ঘটনার পর থেকে আমি প্রায়ই অজ্ঞান হয়ে যাই, হাত-পা সহ পুরো শরীর কাঁপতে থাকে। সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো হলে তিনি বলেন, আমার মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে গেছে। মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে এপিলেপসি হয়ে যায়। বছরে একবার হলেও আমার শরীর কাঁপিয়ে খিঁচুনি হয়।
এখন তুমিই বলো বিভাবরী, আমার এই অনিশ্চিত জীবনের সাথে কিভাবে তোমাকে জড়াই??
বিভাবরী নিরুত্তর। কি উত্তর দেবে সে? তার কি কিছু বলার আছে?
ধ্রুব চশমা খুলে চোখ মুছে। এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার বলে,
— বিভাবরী, প্রথম দিনই তোমার শাড়ির আঁচলের উঠোনে আমার আমার শেষ দেখেছিলাম। নিজের অসম্পূর্ণ জীবনের কথা ভেবে চেষ্টা করেছি তোমার থেকে দূরে থাকার। তোমাকে ইগ্নোর করলে যতটা কষ্ট তুমি পেয়েছো, তার থেকে অনেক বেশি ফিরে পেয়েছি আমি। বাবা-মা ভাবতো হয়তো বিয়ের পর হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই তাঁরা এত দ্রুত তোমার সাথে আমার বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু যাকে ভালোবাসি তাকে কি করে ঠকাই, বলো তো? তোমার থেকে দূরে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকি। তোমাকে বাজে কথা বলার, কষ্ট দেয়ার কারণ ছিল এটাই। ভেবেছিলাম একটা সময়ের পর হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি চিটাগং ছাড়ার পর বুঝতে পারি, আমি তোমাতে কতটা আসক্ত! থাকতে না পেরে ছুটে আসি তোমার কাছে। প্রতিদিন তোমাকে না দেখলে ঘুম হতো না আমার। রাত্তিরে ছুটে আসতাম তোমার কাছে। তুমি যেগুলো স্বপ্ন ভাবতে সেগুলো আসলে স্বপ্ন না, বিভাবরী। সেগুলো বাস্তব। এক ভয়ঙ্কর বাস্তব।
ধ্রুব কথাগুলো বলে দাঁড়িয়ে যায়। এলোমেলো চুলগুলো হাতড়ে ঠিক করে দিয়ে বলে,
— তোমাকে ফিরে পাওয়ার জন্য এগুলো বলিনি, বিভাবরী। নিজের কাছে নিজে ছোট হয়ে যাচ্ছিলাম। তুমি তোমার ভালোবাসাকে নিয়ে খুশি থাকো, বিভাবরী।
ধ্রুব মুচকি হেসে চলে যায়। আর বিভাবরী ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে। সে কি করবে? তার কি রিশাদের কেশবতী হয়ে সারাজীবন তার সাথে থাকা উচিত? নাকি ধ্রুবর জীবনের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে তার পাশে থেকে বলা উচিত,
— এই যে মিস্টার! আপনি আমাকে পাশে রেখে এমন ছটফট করছেন কেন? চলুন তো, আপনার সাথে কানামাছি খেলতে ইচ্ছে করছে।
নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে তার। ঢুলতে ঢুলতে বাড়ি যায় সে।
শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছে বিভাবরী। তার জীবনটা এত জটিল কেন? এত সমীকরণ, এত সমস্যা, কেন?

———————————————-

রুশা বিভাবরীর রুমে এসে দেখে সে টেবিলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। চিন্তিত মুখে তার সামনে এসে বলে,
— বিভু, তুমি ঠিক আছো? শরীর খারাপ লাগছে?
বিভাবরী মাথা তুলে বলে,
— রুশা আপু! তোমার “ও” র নামটা কি?
রুশা লাজুক সুরে জবাব দেয়,
— তুমি জানো না বুঝি? তোমাকে তো বলেছিলাম, আমার সাথে যেতে। তুমি যাওনি কেন সেদিন? এখন বলবো না আমি। হুহহ!
— বলো না প্লিজ!
রুশা জড়ানো কন্ঠে বলে,
— ওর নাম নুহাশ। আচ্ছা, তোমার কি হয়েছে বলো তো?
— আ..আসলে কাল টিউটোরিয়াল ক্লাস। আর আমার এসাইনমেন্টের কিছুই হয়নি। তাই…
— এইটা কোনো সমস্যা নাকি? আমি রিশো কে ডেকে দিচ্ছি। ও নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে।
রুশা চলে যায় বিভাবরীর রুম থেকে। রিশাদের নাম শুনতেই বিভাবরী কেঁপে ওঠে। তার রিশাদের সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তার নেই। কি করে দাঁড়াবে সে? এমন দোটানায় পড়ে সে বড্ড ক্লান্ত। একটু পরিশ্রান্তি দরকার তার।

চলবে…

#তোমার_আঁচলের_উঠোনে
– আবরিয়ার জান্নাত

#ঘরে_থাকুন_সুস্থ_থাকুন ?

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here