ডেভিল হ্যাজবেন্ডের পিচ্চি বৌ♥ part : 12+13

0
2812

ডেভিল হ্যাজবেন্ডের পিচ্চি বৌ♥ part : 12+13
সুরিয়া মিম

!
মাইর খাবা, মাইর খেলে ড্যান্স এমনি তেই বেরিয়ে আসবে তোমার,
!
শোনো বৌ আমি মাইরো ও খাবো না ড্যান্স ও করবোনা গট ইট?
!
না করলে না করবা তাতে আমার কি ভাইয়া?
আমার কিছুই না গুডনাইট,
!
আমি মানা করায় ওকি আবারো রেগে গেলো আমার ওপরে?
!
এমনি তেই ও আমাকে ভুল বুঝে বসে আছে,
তার ওপরে আমি ও র ভুল বোঝার সিচুয়েশন দিন কে দিন বাড়িয়েই তুলছি,
!
আমি তো ওই রিয়ার কথায় কতো উঠবস করেছি,
আর এখন আমি আমার বিয়ে করা বৌ কথায় উঠবস করতে পারছিনা?
এতে তো আমাদের মধ্যকার দূরত্ব খুবি বেড়ে যাবে,
আর ও আমাকে ঘৃণা করেবে,
!
আর তখনি লাইট টা অফ হয়ে যায়,
আর আমি ডিম লাটইটের আলো তে খেয়াল করে দেখি,
!
যে আমার পিচ্চি বৌয়ের লাইটের আলো তে অসুবিধে হওয়ায়,
লাইট গুলো অফ করে ডিম লাইট গুলো জাল্বাচ্ছে সো,
!
বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছি রেগে আছে সে,
তাই তো আমাকে চোখ তুলে ও দেখছে না ম্যাডাম,
!
আর এভাবে কিছুক্ষণ কেটে জাওয়ার পর আমি আমার পিচ্চ বৌয়ের কাছে গিয়ে ওকে জরিয়ে ধরি,
আর তখনি খেয়াল করে দেখি যে,
আমি আমার বৌয়ের বদলে আমাদের মাঝ খানে রাখা কোলবালিশ টাকে জড়িয়ে ধরেছি,
!
আমাদের মধ্যে কি সত্যি এতোটা দূরত্ব এসো গেছে?
যে ও আমাদের মাঝে বাংলাদেশ ভারতের বর্ডার করে রখেছে?
!
আমি তো এই দূরত্ব কিছু তেই মেনে নিতে পারছিনা আমি?
এখন কি করে আমি ওর রাগ ভাঙাই?
আল্লাহ তুমি আমাকে পথ দেখাও প্লিজ,
!
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকেই উঠেই আমি,
লুঙ্গী ড্যান্স গানে লুঙ্গি পরে লুঙ্গি ড্যান্স করা শুরু করে দেই,
!
আর তখনি আম্মু এসে আমাকে বলে,
!
বাবা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস?
যে সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠেই তান্ডব করতে শুরু করেছিস?
!
ইয়ে মানে আম্মু কি করবো?
তুমিই বলো?
তোমার আদুরে বৌ মা তো এখনো আমার ওপরে রেগে আছে,
আর তাই তাকে হ্যাপি করতে লুঙ্গি ড্যান্স করছি লাম আমি,
!
তা যার জন্য এতো কিছু সে কি বাড়ি তে আছে বাবা?
!
ওই তো কাঁথা মুড়ো দিয়ে বিছানায় ঘুমিয়ে আছে,
দেখনা তুমি?
!
কোই আমি তো কিছুই দেখিনা বাবা?
!
আর তখনি আমি আমার পিচ্চি বৌয়ের গায়ের কাঁথা টা সরিয়ে দেই ,
কাঁথা টা সরাতেই আম্মু আমাকে হেসে হেসে বলে,
!
তুমি যাকে খুঁজছ সে তো ভোরেই তার ইউনিভারসিটি তে চলে গেছে,
!
তুমি কি বলছ আম্মু?
!
যেটা সত্যি সেটাই বলছি বাবা,
তোর আব্বু ওকে মিটিং এ যাওয়ার সময় সাথে করে নিয়ে গেছেন,
!
কিন্তু ও এতো সকালে ইউনিভারসিটি তে গেলো কেন আম্মু?
!
ওর একটা ক্লাস আছে তাই,
!
ও আচ্ছা,
কিন্তু আমাকে তোমরা ডেকে দিলেনা কেন?
!
মেয়ে আমার মানা করেছিল তাই তো আমরা ডাকিনী বাবা,
!
ও বললো তোমরা ও শুনে নিলে আম্মু ?
ও নইলে বাচ্চা তোমরা ও কি বাচ্চা আম্মু?
!
আর তখনি আম্মু আমার অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে রুমে চলে যায়,
!
আর আমি ও রাগে ফায়ার হয়ে যাই,
!
তাই সকালের ব্রেকফাস্ট না করেই অফিসে চলে যাই,
অফিসে যেতেই শুনি ম্যানেজার অফিসের অফিশিয়াল পেপারস এ গন্ডগোল করে ফেলেছে,
আর এটা শুনে মেজাজ টা আরো খারাপ হয়ে যায় আমার,
!
তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে আফিসের কাজে মনোনিবেশ করতে থাকি আমি,
!
কাজ শেষে রাতে বাসায় ফেরার পথে দেখি,
ওই রিয়া টা আবারো এক বুড়োর সাথে রাস্তা দাড়িয়ে আগলা পিরিত করছে,
তাতে আমার কি?
তবুও এসব দেখে মেজাজ টা বিগড়ে যায় আমার,
!
আর আমি বাসায় যেতেই আমার পিচ্চি বৌ টা আমাকে জড়িয়ে ধরে দুটো সাড়ি দেখিয়ে বলে,
!
কালকে আমি ওটা পরবো না এটা পরবো ভাইয়া?
তুমি কিন্তু ওটা মানে ওই পাঞ্জাবিটা পরবে কেমন?
!
এই মেয়ে এই এসব কি বলছ তুমি?
তোমার সাথে সং সেজে আমি কোথায় যাবো বুঝেছ?
আর তোমাকে ও যেতে দিবো না গই ইট?
সো যাও গিয়ে এগুলো ঢুকিয়ে রাখো কেমন?
!
ভাইয়া তুমি এভাবে বলছ কেন?
কি করেছি আমি?
দেখো আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি,
তাই আমি আর কোনো ঝামেলা চাই না,
বুঝেছ তুমি?
!
শোনো তোমার এই ঝামেলার ধার ধারিনা আমি,
আর তোমার ক্ষমার ও কোনো প্রয়োজন নেই আমার গট ইট?
তাই আমার থেকে দূরে দূরে থাকবে কেমন?
!
তখন ও আমাকে আদর করে চুমু খেয়ে বলে,
!
তোমার কি হয়েছে ভাইয়া তুমি এমন বিহেভিয়ার করছ কেন?
!
তখনি আমি ওকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বলি,
!
বললাম বা আমার থেকে দূরে দূরে থাকবে?
যাও এখান থেকে বাজে মেয়ে জানি কোথাকার,
!
তারপর আমি ওকে ফেলে ছাদে চলে যাই,
ও গালে হাত দিয়ে রিয়ার কথা ভাবতে বসে যাই,
যে ও এতো খারাপ?
আর ও টাকার জন্যে এতো নিচে নামতে পারে ও যে ও বাবার বয়সী লোকদের সাথে ছিছিছি এগুলো ভাবা যায়?
এসব ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে যায়,
আর আমি ফ্রেশ হয়ে অফিসে চলে যাই,
!
অফিসের মিটিং শেষে রাত আটটা নাগাত পিচ্চির ইউনিভারসিটির সামনে দিয়ে আসার সময় দেখি বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের কনসার্ট হচ্ছে,
!
তাই আমি গাড়ি পার্ক করে ইউনিভারসিটির গেটে চলে যাই তখনি অনু এসে আমাকে বলে,
!
ভাইয়া মিশকা কি এতোটাই অসুস্থ যে ও আজ কে অনুষ্ঠানে এলো না?
সাথে আপনাকে ও নিয়ে এলো না?
দেখেন না ভাইয়া আমরা সবাই আমাদের হ্যাজবেন্ড কে নিয়ে এসেছি, শুধু আপনার বৌ টাই আপনাকে নিয়ে আসেনি,
!
তখনি আমার কাল রাতের কথা মনে পরে য়ায়,
আর আমি অনু কে বাহানা দিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্যে বেরিয়ে পরি,
!
কাল রাতে ও আমি রিয়ার ওপরের রাগ টা আমার পিচ্চি টার ওপরে ঝেড়েছি,
আর তাই ও আজকের অনুষ্ঠানে আসেনি,
কতো সুন্দর সুন্দর দুটি সাড়ি ও পাঞ্জাবি পছন্দ করেছিল আমাদের,
আর আমি ওকে শুধু শুধুই বকা দিয়ে কষ্টি দিয়ে ফেললাম,
জানিনা বাসায় গিয়ে কি আছে আমার কপালে?
তবে যাই হোক না কেন?
আমি আমার পিচ্চির জন্যে সবকিছু ফেস করতে রাজি,
!
আফটার অল আমার এতো বদ মেজাজের জন্যই আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে,
আর এতে আমার পিচ্চিটার কোনো দোষ নেই,
সব দোষ আমার সব ভুলি আমার,
কারন,
রিয়ার সাথে আমার সমস্ত সম্পর্ক চুকে যাওয়ার পরো আমি রেগে গেলে কথায় কথায় আমাদের মধ্যে ওকে টেনে আনি আর তাতেই আমার বৌ টা আমার থেকে দূরে সরে যায়,
!
তাই আমাকে আমার রাগে ফায়ার হওয়া টা কনট্রোল করতে হবে,
যেকোনো মূল্যে করতেই হবে,
কারন আমাার পিচ্চিটা কোনো উল্টোপাল্টা ডিসিশন নিয়ে নিয়ে আমি পাগল হয়ে যাবো,
আমি ওকে ছাড়া থাকতেই পারবোনা কিছুতেই না,
!
তাই আমি বাসায় পৌঁছতেই হলে ছুটে যাই,
সেখানে ছুটে গিয়ে দেখি কাল রাতের সেই সুন্দর
সাড়ি দুটি টি মিরা আপুর হাতে,
তখন আমি গিয়ে মিরা আপুর কাছে জিজ্ঞেস করি,
!
তুমি এগুলো কোথায় পেয়েছ মিরা আপু?
!
ভাই তুই তো জানো আমি সাড়ি পরিনা, তাই ভাবির কাছে গিয়ে ছিলাম ইউনিভারসিটির বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের অনুষ্ঠানে সাড়ি পরে সাজার জন্যে,
তাই ভাবি আমাকে সুন্দর করে সাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দিয়ে এই সাড়ি দুটো আমাকে গিফট করেছে,
!
আপুর কথা শুনে নিজেকে মস্ত বড় অপরাধী বলে মনে হচ্ছে আমার,
তাই আমি তখনি আমাদের রুমে চলে যাই,
রুমে গিয়ে দেখি বৌ আমার বই পরছে,
ইচ্ছে করছে ওকে আমার বুকে জড়িয়ে মনের সমস্ত কথা গুলো খুলে বলে মনের সব ভালোবাসা ঢেলে দেই ওর ওপরে,
!

কিন্তু সাহস করে ওর কাছে যেতে পারছিনা,
কি করবো আমি?
কিছু তেই বুঝতে পারছিনা?
ও আমার কথায় কষ্ট পেয়ে ওরি সবচেয়ে পছন্দের সাড়ি দুটো মিরা আপু কে দিয়ে দিয়েছে,
কি করবো আমি?
কি করলে ওকে আমি আমার কাছে পাবো?
তাই কোনো উপায় না দেখে আমি সাওয়ার নিতে ওয়াস রুমে চলে যাই,
শাওয়ার শেষে বেরোতেই দেখি পিচ্চি আমার ঘরে নেই,
হয়তো ডিনার করতে ডায়নিং এ চলে গেছে,
তাই আমি ও তাড়াতাড়ি ডায়নিং এ চলে যাই,
কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি বৌ আমার সেখানে ও নেই,
তাহলে ও গেল কোই?
!
তখন আম্মু এসে আমাকে রেগে রেগে বলে,
!
তুমি যাকে খুঁজছ সে তার রুমে,
তাই তুমি তোমার খাওয়া খেয়ে যাও,
!
আম্মু ও কি ডিনার করেছে?
!
বলছিনা তুমি তোমার খাওয়া খাও,
কে কি করল সেটা দেখার সময় আছে নাকি তোমার?
!
আম্মু,
!
চুপচাপ খেতে দিয়েছি খেয়েদেয়ে শুয়ে পরো গিয়ে কথা বাড়ি ও না কেমন?
!
আম্মুর বকা খেয়ে শুধু সুপ খেয়েই রুমে চলে আসি আমি,
কারন আমার কিছুই ভালো লাগছেনা আমার,
!
পিচ্চি টা কি ডিনার করেছে?
কেউ তো কিছুই বললো না আমায়,
আচ্ছা ওর জ্বর টা কি কমেছে?
এসব ভাবতে ভাবতে রুমে গিয়ে দেখি পিচ্চি বৌ আমার ওর বই খাতা গুলো গুছিয়ে রাখছে,
!
তাই আমি ও চটপট আমাদের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরি,
!
তার কিছুক্ষণ পরেই লাইট টা অফ হয়ে যায়,
আশ্চর্য আমার পিচ্চি টাতো আমার কাছে এসে শুলো না তাহলে ও গেল কোই?
!
তাই তখনি ফোনের ফ্লাশ লাইর অন করে বিছানা থেকে নেমে যেতেই দেখি বৌ আমার পায়ের কাছে কম্বল বিছিয়ে আরেক টা কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে,
এ দৃশ্য দেখে কেদে ফেলি আমি,
কারন ও আমার কথায় কষ্ট পেয়েই এমন টা করছে,
কাল রাগের মাথায় কি সব বলেছি সে সব শুনেই আমার থেকে দূরে দূরে থাকছে ও,
আমি তো কখনো এমন টা চাই নি,
আর আমি সাহস ওকে বলতে পারছিনা যে তুমি আমার কাছে এসে ঘুমাও,
তুমি তো অসুস্থ তুমি এমটা করলে আরো অসুস্থ হয়ে পরবে,
সাহস করে কি বলবো নিজের দেষে সেই অধিকার খুইয়েছি আমি,
!
তাই আমার পিচ্চিটা ঘুমোতেই আমি আমার ফোনের ফ্লাশ লাইট টা অন করে,
!
ওর কাছে গিয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে আলতো আলতো করে চুমু খেতে খেতে কেঁদে ফেলি আমি আর খুবি আলতো করে ওকে আমার কাছে আগলে রাখি যাতে বুঝতে না পারে যে আমি ওর এতো টা কাছে আছি??
Part : 13
==========
!

পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,
আমার পিচ্চি টা আমার কোলের মধ্যে নেই,
ওমা ও গেল?
তাই তাড়াতাড়ি ফ্লোর থেকে উঠে নিচে চলে যাই,
নিচে যেতেই দেখি আম্মু ওকে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে,
তাই আমি ও রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে
আমার বৌ কে শুনিয়ে শুনিয়ে বলি,
!
আম্মু আমি অফিসে যাচ্ছি,
!
যাচ্ছো তো?
!
তোমার কিছু লাগলে আমাকে বলো আমি এনে দিবো কেমন?
!
তুমি এনে দিবে কেন?
তোমার আব্বু কি হারিয়ে গেছে?
!
হায় আল্লাহ আমার বৌ টাকি বোঝো না যে আমি এভাবে ওকে এই কথা গুলো বলছি?
আর আম্মু ও কি বোঝেনা আমি এই কথা গুলো তার ওয়ান অ্যান্ড ওনলি আদুরে বৌ মাকে বলছি?
ধুর বাবা ভাল্লাগেনা তাই তখনি আমি অফিসে চলে যাই,
!
মা আমি তো তোকে স্বামীর মর্ম বুঝিয়েছি তবু ও তুই এমন কেন করছিস?
!
এমন করবোনা তো কি তোমার ছেলে কে মাথায় তুলে নাচবো আম্মু?
তুমিই বলো?
!
কথায় কথায় রিয়া,রিয়া আর রিয়া,
এরকম করলে এমন স্বামী নিয়ে থাকা যায় না আম্মু,
!
তাই বলে তুই ওকে ভাইয়া বলে ডাকবি?
!
হ্যা ডাকবো, এখন ভাইয়া বলে ডাকছি আগামী বছর থেকে আঙ্কল বলে ডাকবো কেমন?
!
নিজের স্বামী কে এমন বলেনা মা,
ও তোর স্বামী আর ও তোকে কতোটা ভালোবাসে,
পাগলের মতো ভালোবাসে,
!
কচু ভালোবাসে, মোটে ও ভালোবাসার কথা বলবে না তুমি,
অবশ্য এতে তোমার দোষ কি?
তোমার ছেলে তুমি তো তাড়ি সাইডে যাবে তাই না?
!
না মা তোর আম্মু তার ছেলের সাইডে থাকলে ও আমি আমার মেয়ের সাইডে থাকবো,
!
তাহলে চলো?
!
কোথায় যাবি মা?
!
কোথায় আবার?
আমাকে এখনি আমার বাপের বাড়ি দিয়ে এসো,
!
আচ্ছা মা তাহলে চলো,
!
তুমি কি করছ ইমানের আব্বু তোমার ছেলে তো পাগল হয়ে যাবে?
!
পাগল হয়ে যাবে হয়নি তো তাই না?
!
তা বলে তুমি এভাবে?
!
দেখে আম্মু আমাদের জন্যে তুমি তোমার স্বামীর সাথে ঝামেলা করোনা কেমন?
!
কিন্তু মা?
!
কোনো কিন্তু টিনতু বুঝিনা আম্মু,
তোমার ছেলে যেনে শুনে এমন টা করছে,
ও কথায় কথায় আমাদের মাঝে অন্য আরেক জন কে টেনে আনছে,
এটা কি ঠিক আম্মু তুমিই বলো?
!
তোমার ছেলে যদি আমাকে ভালোবেসে আদর করে বলে,
যে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয় তা বলে তুমি অভিমানী হয়ে থাকবে?
তাহলে তো আমি সবকিছু ভুলে যাই,
তা না কথায় কথায় ঝামেলা বাড়িয়ে দূরত্বের সৃষ্ট করছে,
শোনো আম্মু তোমার ছেলে যদি এভাবে থাকতে চায়,
থাকতে পারে আমার কোনো সমস্যা নেই,
তবে তোমার ছেলে কে বলে দিয়ো মনের ভুলে ও,
যেন আমার রাগ ভাঙাতে আমার বাপের বাড়ি না যায় তাহলে গেট দিয়েই তাড়িয়ে দিবো তোমার একমাএ ছেলে কে,
!
অনেক সহ্যকরেছি আর না প্লিজ আম্মু,
!
তোমার ছেলের যখন এতোই রিয়া কে পছন্দ?
তাহলে আমাকে বিয়ে করে বসে আছে কেন?
!
তোমার ছেলে কে বোলো আমাকে ডিভোর্স দিয়ে রিয়া কে বিয়ে করে সুখে শান্তি তে থাকতে কেমন?
!
কারন ওর মতো লোকের সাথে আমি আর থাকতে পারছিনা আম্মু,
!
কারন আমি যতোই সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা করছি,
তোমার ছেলে ততোই সবকিছু বিগড়ে দিচ্ছে,
তাই আমার পক্ষে ওকে আর সহ্যকরা সম্ভব নয় আম্মু,
!
তারপর আমি আমার শশুড় আব্বু কে নিয়ে বাবা বাড়ি তে চলে আসি,
!
বাবার বাড়ি পৌঁছতেই ফোন টা বেজে ওঠে আমার,
ফোন টা হাতে নিতেই দেখি ওই শয়তান ডেভিল টার ফোন,
তাই আমি আমার অভিমানের ঠেলায় ফোন টা সুইচ অফ করে রেখে দেই,
!
আশ্চর্য এতক্ষণ তো ফোন টা বাজছিল ওর এখন আবার সুইচড অফ বলছে কেন?
ওহহহ হ্যা সে তো আমার ওপরে রেগে আছে তাই হয়তো ফোন টা সুইচড অফ করে বসে আছে?
!
রাতে আমি আমার সমস্ত অফিসিয়াল ওয়ার্ক শেষ করে বাসায় ফিরে যাই,
বাসায় যেতেই রুমে গিয়ে দেখি বৌ আমার সেখানে নেই,
হয়তো অন্যকোনো কাজে বিজি আছে সে,
!
তাই আমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ছাদে চলে যাই,
সেখানে গিয়ে দেখি বৌ আমার সেখানে ও নেই?
তাহলে ও গেলো কোই?
!
তখনি আব্বু এসে আমাকে বলে,
!
বাবা বৌ মা কে ওর বাবার বাড়ি দিয়ে এসেছি,
!
কেন আব্বু?
আমি ওকে ছাড়া না মানে আমি তো ওকে সেখানে দিয়ে আসতে পারতাম?
!
ও তোমার সাথে যাবেনা বলেই তো আমি ওকে নিয়ে গেছি,
!
এতো টা রেগে আছে ও আমার ওপরে?
যে আমাকে না বলোই সোজা বাবার বাড়ি চলে গেল?
!
আমি যে সাড়ি ও গাজরা টা ওর জন্য আনছি ও গুলো পরবে কে?
গজরার ফুল গুলো তো শুকিয়ে যাবে, ওর আর পরাই হবে না,
!
কি হলো বাবা?
কি এতো ভাবছিস?
অফিসে কিছু তো খাওয়া হয়নি তোমার,
সো ডিনার করবে না ডিনারে চলো?
!
ডিনার না ছাই করবো আমি?
যাকে আমার চাই সেই তো এখানে নেই,
তাকে ছাড়া আমার চলবে কি করে?
!
তাই আমি তখনি আব্বু আম্মু কে বাহানা দিয়ে শশুড় তে বাড়ি চলে যাই,
আমি সেখানে যেতেই সবাই আমাকে দেখে খুশি হয়ে যায়,
!
শুধুমাএ আমার বৌ টাই বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে ওর রুমে চলে যায়,
কারন ও এখনো আমার ওপরে রেগে আছে,
তাই ওর রাগ ভাঙাতে আবারো সবাই কে বাহানা দিয়ে রুমে চলে যাই,
!

সেখানে যেতেই দেখি আমার বৌ টা লাইট অফ করে ঘুমিয়ে পরেছে,
এতো রাগ ওর যে আমাকে এভাবে ইগনোর করছে?
!
তাই আমি আমার ফোনের ফ্লাশ লাইট অন করে আস্তে আস্তে ওর কাছে গিয়ে গাজরা টা ওর চুলে পরিয়ে দিয়ে সাড়িটা চেঞ্জ করে,
!
ওকে বুকে জড়িয়ে ওর গালে গলায় চুমু খেতে থাকি,
চুমু খেতে খেতে একপর্যায় ওর ঠোঁটে কাছে চলে যাই এবং ওর ঠোটঁ জোড়া আমার দখলে নিয়ে নেই,
!
এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরে দেখি আমার পিচ্চি বৌয়ের কোনো হেলদোলি নেই?
!
আচ্ছা ওকি এতোটাই অনুভূতিহীন? যে আমার কোনো স্পর্শ ই ও ফিল করতে পারছেনা?
আমি সেই কখন থেকে ওকে পাগলের মতো চুমু খেয়ে যাচ্ছি, ওকে আমার সাথে জড়িয়ে রাখছি আর ওতো আমাকে ছুয়ে ও দেখছে না,
!
মিস্টার খান ও তুমি যাই করোনা কেন?
আমি তোমাকে মনের ভুলে ও ছুয়ে দেখবো না,
জাস্ট বিকজ অফ আয় হেই ইউ,
!
তখনি ডেভিল শয়তান টা আমাকে আস্তে আস্তে করে ডেকে তুলে বলে,
!
পিচ্চি বৌ দেখোনা আমি তোমার কাছে আসছি?
!
আসছেন কেন?
আমি কি আপনাকে আসতে বলেছি?
আমি তো বলিনি আপনি এখানে আসেন?
!
আমার তোমাকে ছাড়া কিছুই ভালো লাগেনা তুমি কি সেটা জানো?
!
আপনার ভালো না লাগলে আমি কি করতে পারি? হুমমমম,
আপনার ভালো লাগার লোকের তো অভাব নেই তাহলে আমার কাছে আসছেন কেন?
!
বৌ তোমার শরীর………….
!
ওহহহহহ তাহলে আপনি আমার শরীরের জন্য না মানে নিজের শারীরিক চাহিদার জন্যে এখানে এসেছেন?
তাহলে, যে যেটার জন্য এসেছেন সেটা করে চলে জান,
আফটার অল আমাকে বিয়ে করে বৌয়ের ট্যাগ তো লাগিয়ে রেখেছেন,
সো যা মন চায় সেটাই করেন কেমন?
!
তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ সোনা,
তুমি আমার কথা গুলো শোনো?
!
কি শুনবো?
কিছু শোনার নেই আমার,
আমি চাইলে ও আপনাকে আপনাকে ডিভোর্স দিতে পারছিনা কারন আমার চৌদ্দ গুষ্ঠিই আপনাকে চোখে হারাচ্ছে,
!
কি তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবে?
!
হ্যা দিবো করন আপনার মতো লোকের সাথে কিছুতেই থাকা যায় না,
!
কেন থাকা যায় না আমার সাথে?
!
কারন আপনি একটা বাজে ও খারাপ লোক,
!
তাহলে তোমার এই বাজে খারাপ লোকটাই তোমাকে তার সাথে থাকার সাথে ব্যবস্থা করে দিবে কেমন?
!
মানে……?
!
তারপর আর ওকে মানে বোঝার সুযোগ না দিয়ে জোড় জবরদস্তি করে আমার স্বামী হওয়ার অধিকার আদায়করি আমি,
!
কারন ও আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইছে,
আর আমি ওকে ছাড়া কিছুতেই থাকতে পারবোনা আমি,
!
আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার সন্তান ওর কোলে এলে ও আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেনা,
!
তাই আমি আমার বৌ কে আমার কাছে পাওয়ার জন্য ওর সাথে জানোয়ারের মতো আচরণ করেছি যাতে ও আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা মনের ভুলে ও না ভাবে,
!
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার পিচ্চি টা ওর সাড়ি টা বুকে জড়িয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে,
!
তখন আমি ওকে আমার কোলে তুলে নিয়ে বলি,
!
তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইলেও আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না কখনওই না,
বিকজ আয় লাভ ইউ,
আর হ্যা ভুলেও ডিভোর্সের কথা মুখে আনবেনা,
আর আনলে আমার চেয়ে খারাপ কেউই হবে না,
!
তুমি কেন বোঝো না যে আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি,
কেন আমাকে এভাবে দূরে দূরে ঠেলে দাও?
আমি ও তো একটা মানুষ, আমারো তো সহ্যসীমা আছে তাই না?
আমি তো কখনওই জোরাজুরি করতাম না তোমার সাথে তুমিই আমাকে রাগিয়ে দিয়েছ আর আমি রেগে গিয়ে এতকিছু করে ফেলেছি,
আর আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি তোমার শরীর কে নয়,
কি হলো চুপ করে আছো কেন?
কিছু বলো?
!
ও কিছু বলছেনা দেখে অনেক ভাবে ওকা কথা বলানোর চেষ্টা করি,
কারন আমি যে জানি ও আমার আচরণে কষ্ট পেয়ে এভাবে পাথর হয়ে বসে আছে,
হয়তো ও এক্সপেক্টি করেনি যে আমি এমন কিছু করবো,
!
আর তখনি নিশা ভাবির ডাক পরে যায়,
আর তাই আমি ওকে কোলে করে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে গোসল করিয়ে আনি আর ওকে সাড়ি পরাতে যেতেই ও আমাকে বলে,
!
আপনি প্লিজ আমাকে ছোঁবেন না,
!
কেন ছোঁবোনা আমি যে তোমার স্বামী?
!
কারন আমার নিজেকে অপবিত্র, নোংরা, ডাস্টবিন বলে মনে হচ্ছে,
!
তুমি কি বলছ সোনা?
আমি তোমার স্বামী আর স্বামী ছুঁলে কোনো স্ত্রী কখনো অপবিত্র, নোংরা, ডাস্টবিন হয় না,
তুমি আমাকে বিশ্বাস করো আমি কোনো মিথ্যে বলছি না,
!
বিশ্বাস আর আপনাকে?
আপনি তো আমার সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছেন, আপনি আমাকে বলে আমার পিচ্চি টা কাঁদতে শুরু করে,
!
কারন ও আমার আচরণে অনেক ভয় পেয়ে আছে,
যার চোখে আমি আমার জন্যে ভালোবাসা দেখতে চেয়েছি তার চোখে আমি আমার জন্য ঘৃণা দেখতে পাচ্ছ,
!
তাই আমি ওকে আমার বুকে জড়িয়ে আদর করো বোঝাতে থাকি,
কিন্তু ওকে বোঝাতে গিয়ে আমি নিজেই কেঁদে ফেলছি,
!
আর তখনি আবারো নিশা ভাবির ডাক পরে যায়,
!
তাই আমি ওকে সুন্দর করে সাড়ি পরিয়ে ওকে আমার কোলে করে ব্রেকফাস্ট করতে নিচে চলে যাই,
!
ব্রেকফাস্ট করতে ডায়নিং এ বসতেই নিশা ভাবি আমার পিচ্চি টাকে বলে,
!
এই যে আমার ননদিনী তোমাকে এতো উইক লাগছে কেন?
!
ও কিছুনা ভাবি..
!
বললেই হলো?
!
হঠাৎ নদী ভাবি মুখ ফসকে বলেন,
!
হয়তো আমার ননদিনীর নাইট ডিউটি করতে বেশি কষ্টি হয়ে গেছে তাই আর কি?
!
নদী ভাবির কথা শুনেই আমার শশুড় শাশুড়ি শালা এবং শালা বৌয়েরা আমাদের দিকে তাকিয়ে হা হা করে হেসে দেয়,
আমি ও ভাবির কথা শুনে হা হা করে হসে দেই,
!
কারন সত্যি তো কাল রাতে নাইট ডিউটি করতে বিজি ছিলাম আমরা???

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here