ডুমুরের ফুল ৩২.

0
1345
ডুমুরের ফুল ৩২. হেমলতা আমতা আমতা করে বলল – এভাবে কথা না বললে হয়না? জাদিদ দুই হাতে হেমলতার মুখ উঁচু করে ধরলো। হেমলতার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। বুকের মধ্যে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। জাদিদ মৃদুস্বরে বলতে শুরু করলো – শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, ঠোঁটে আঙুলে তুফান উঠবে। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, টাওয়ালে ছড়াবে তোমার গায়ের সুগন্ধি। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, মুহুর্তেই শার্টের বোতামে আটকে টান খাবে তোমার চুল। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, শিড়দাঁড়া বেয়ে নেমে আসবে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, শরীরের প্রতিটা লোম তোমার নাম নেবে। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, প্রতি শ্বাসে আমার নেশা খেলে যাবে। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, সোজাসুজি গিয়ে জাপ্টে ধরব তোমায়। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, তোমার ঠোঁট বন্ধী হবে আমার ঠোঁটে। শুধু একবার বলবে ভালোবাসি, তারপর? তারপর কি হবে জানিনা। হেমলতা জাদিদের বুকে মাথা লুকিয়ে ফেললো। জাদিদ হেমলতার চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বলল – মুখ লুকালে হবে? ভালোবাসি বলবেনা? হেমলতা মাথা নাড়িয়ে না জানাল। জাদিদ হেমলতাকে জড়িয়ে ধরে বলল – হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবেনা। কফিটা ঠান্ডা হচ্ছে লাজুকলতা।
হামজা জাদিদের বেডরুমে আসার জন্য পা বাড়াবে তখনই মিম্মা বলল – কই যাচ্ছিস? – মোবাইল টা চার্জে দিতে হবে তাই জাদিদের রুমে যাচ্ছি। – এখন যাসনে। হামজা ভ্রু কুঁচকে বলল – কেন? – জাদিদ আর হেম….. ইউ নো… অনেক দিন পর একা একটু সময় তারা পেয়েছে। হামজা জোরে হেসে উঠলো। – বাট একটু পরে আমার পাবজি গেমসে ঢুকতে হবে। – ওরা তো আর সারাদিন কাটাবেনা। – ধুর মিসেস জয়নাব বেশ বিরক্ত বোধ করছেন। হেমলতার সাথে তার আজকাল তেমন ভালো চলছেনা। দুজনের মধ্যে দিন দিন দূরত্ব বেড়েই যাচ্ছে। কোনোভাবেই সে কমাতে পারছেন না। যখনই চেষ্টা করেন ভালো ব্যবহার করতে তখনই হেম এমন কিছু করে বসে যে তিনি রাগ করতে বাধ্য হোন। পরীক্ষা শেষ করে বাসায় এসে কিছু সময় রেস্ট নিয়ে নেক্সট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবে। কিন্তু সে ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়ে বসে আছে। লাঈলী বানু চায়ের কাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক দিন হলো জয়নাব বিবিকে সে বেশ চিন্তিত দেখছেন। কারণ মুখে না বললেও বোঝা তো যায়। হেমলতাই তার চিন্তার মূল বিষয়। লাঈলি বানুর কাছ থেকে চায়ের কাপ নিয়ে বললেন – রাতে আমি রুটি খাবো। – হেম আসবো কবে? – পরীক্ষা শেষ হলে আসবে। – আপনে আজকাল খুব চিন্তায় থাকেন দেখি আরকি। – তুমি তোমার কাজে যাও। লাঈলী বানু মুখ ভেংচি কেটে চুপচাপ চলে গেলেন। জাদিদ হেমলতার ভেজা চুলের দিকে তাকিয়ে বলল – আচ্ছা হেম তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? – উঁহু – প্রশ্নের উত্তর দিবে তো। – আরে আগে কফিটা তো শেষ করতে দিবে? জাদিদ হেমের হাত থেকে কফির মগ নিয়ে বলল – কফি আগে নাকি আমি? হেম বেশ গভীর স্বরেই বলল – ভালো না বাসলে এখানে আসতাম না। – বিশ্বাস করো আমাকে? – না করলে এখানে আসতাম না। প্রচণ্ড বিশ্বাস করি বলে, এভাবে তোমার ফ্ল্যাটে চলে এসেছি। বিশ্বাস আছে তুমি হায়েস্ট চুমু খাবে এর বেশি কিছু করবেনা। এখন বলো, ভালোবাসি কিনা? জাদিদ হেমলতার হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলল – আমার একজন মানুষ দরকার যে শুধু আমার পাশে থাকবে। আমার না হেম কেউ নেই ভালোবাসার জন্য। বাবা মা দুজনেই আছেন, না থাকার মতো। বাবা যদিও অনেক চেষ্টা করে কিন্তু হয়ে ওঠে না।ফিজিক্যাল নিডের জন্য তোমার সাথে আমি সম্পর্কে আসিনি। আমি এসেছি আমার মেন্টাল স্যাটিসফেকশনের জন্য রিলেশনে আসা। একাকীত্ব এখন আর সহ্য হয়না আমার। তুমি আমাকে প্রমিজ করো, যাই ঘটে যাক আমার হাত ছাড়বা না তুমি। হেমলতা জাদিদের কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে বলল – প্রমিজ করলাম, এই হাত আমি ছাড়বো না। হেমলতাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে মিম্মা নিজের গন্তব্যে পা বাড়ালো। কয়টা এমসিকিউ সঠিক হয়েছে দেখতে হবে। সেটার উপর ডিপেন্ড করে জাবির এক্সাম হলে যেতে হবে। শাম্মী বিছানায় পা গুটিয়ে নিয়ে বসলো। হঠাৎ করে খুব খারাপ লাগছে তার। পরীক্ষার হল থেকে বের হবার পর খুব খিদে পেয়েছিল। বাসায় এসে শুকনো রুটি ছাড়া কোনো খাবারই পায়নি সে। মা আর ছোটো ভাইটা তার বড় খালার বাসায় বেড়াতে গেছে। যাবার আগে একবারও কি ভাবেনি, মেয়েটা এক্সাম হল থেকে এসে কী খাবে? রান্নাবান্না করতে পারে সে কিন্তু মায়ের উপর এক প্রকার জেদ করেই শুকনো রুটি খেয়ে আছে। ফ্রিজে বাসি খাবার আছে কিন্তু বাসি খাবারে তার গ্যাস্ট্রিক বেড়ে যায়। পরীক্ষা ভালো হয়েছে। চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারপরও মন ভালো হচ্ছেনা। ডান হাতের উল্টো পাশ দিয়ে চোখ দুটোকে মুছে ফেললো শাম্মী। একটাই তো ভুল করেছে সে। তার শাস্তি এভাবে না দিলেও পারে। আজ দুইটা বছর ধরে অবহেলা আর অবহেলা শুধু। কথায় কথায় খোঁটা আর খোচা দেয়া। উঠতে বসতে গালাগালি…. আর ভাবতে পারছেনা। মাথার দুপাশে ব্যথা করছে। খিদেটা খুব বেশি লেগে যাওয়াতে হাত পা কাঁপছে। একটা ভুলের শাস্তি আর কতদিন তাকে পেতে হবে? চলবে….. ( কবিতাটা আমার লেখা না। ফেসবুকে পেয়েছি কিন্তু লেখকের নাম পাইনি। যদি কারো জানা থাকে তাহলে জানাবেন) ” লেখিকা মারিয়া কবির এর সকল লেখা দ্রুত পেতে অবশ্যই এ্যাড হোন তার ফেসবুক পেইজ ‘Maria Kabir -মারিয়া কবির’(এখানে পেইজ লিংক) এর সাথে। ~ Maria Kabir

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে