ডির্ভোস

0
443
<^>মিথিলাঃ গভীর রাতে তোমাকে কে কল দেয় শুনি?<^>আকাশঃ এইটা মেসেজের শব্দ। সীম কোম্পানি গুলোর কোন কাজ থাকে না, এখন রাতেও মেসেজ দেয়।<^>মিথিলাঃ কোনটা মেসেজ আর কোনটা কলের শব্দ আমাকে শিখাতে এসো না। ইদানিং দেখতেছি তুমি সারা রাত ফোনে কথা বলো। আমাকে আগের মতো ভালোবাসো না।
<^>আকাশঃ সব যখন জেনেই গিয়েছ। তাহলে আর কিছু বলার নেই। আসলে তোমার প্রতি আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছি। তোমাকে এখন আর ভালো লাগে না। কাল আমার উকিল ডিভোর্স পেপার নিয়ে আসবে। তুমি স্বাক্ষর দিয়ে দিও।মিথিলাঃ আমার বাচ্চাটার কি হবে? আমি কোথায় থাকবো। দুই বছর আগে বিয়ের আসার থেকে পালিয়ে তোমাকে বিয়ে করে ছিলাম। আব্বু আম্মুর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। কি করবো আমি। তোমার পায়ে পড়ি ” আমাকে তুমি ডিভোর্স দিও না, আমাকে ভালো না লাগলে তুমি আর একটা বিয়ে করো। তবুও ডিভোর্স দিও না।”আকাশঃ এই বাড়ি তোমার নামে করে দিচ্ছি। আর মাসে মাসে ছেলের জন্য ৫০০০ করে টাকা পাঠাবো। তোমাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। আসলে আমার কলিগ( মিতু) চায় না, তোমার সাথে আমার কোন রকম সম্পর্ক থাকুক।
আকাশ ঐ রাতেই কোথায় জেনো চলে গেল। আকাশ হয়তো এই দিনটার অপেক্ষা করতে ছিল। কখন মিথিলা জানবে, আর সে সব সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারবে।মিথিলার এখন কি করা উচিৎ বুঝতে পারতেছে না।রাতে একটুও ঘুম হলো না। বাবার কাছে ফোন করতে ভয় পাচ্ছে, যদি বাবা তার সাথে কথা না বলে। সব ভয় কে দূরে সরিয়ে দিয়ে। বাবাকে ফোন দিল।মিথিলার বাবাঃ আসসালামু আলাইকুম কে বলতেছেন?মিথিলাঃ কান্না ভরা কন্ঠে, বাবা আমি মিথিলা।মিথিলার বাবাঃ মা, তুই এত দিন পরে ফোন দিলি। কতো যায়গায় খুঁজেছি তোকে। আমাকে বললেই পারতি তুই আকাশকে ভালোবাসিস। হয়তো কিছুদিন রাগ করতাম, তুই আমার মেয়ে তোকে ক্ষমা ও করে দিতাম।মিথিলাঃ বাবা তোমাকে আর আম্মুকে খুব দেখতে ইচ্ছা করতেছে। তোমরা নিউ মার্কেটের পাশের নীল কালারের বাসাতে চলে এসো কাল। এখন রাখি পরে কথা হবে।কলিং বেল বেজে উঠল। কেউ একজন এসে একটা চিঠি দিয়ে গেল। চিঠির প্যাকেট খুলতেই মিথিলা নিচে পরে গেল। তার হাতে একটা ডিভোর্স পেপার। মিথিলা ভেবেছিল আকাশ হয়তো মজা করছে। তিনি কল্পনা ও করতে পারেন নি এমন একটা ঘটনা ঘটবে তার সাথে।
পরের দিন মিথিলার বাবা ও মা মিথিলাকে দেখতে আসলো।মিথিলার বাবাঃ আকাশ কোথায় দেখতে পাচ্ছি না। আমরা আসবো ও জানে না?মিথিলা তার বাবাকে ডিভোর্সের কাগজটা এগিয়ে দিল।মিথিলার বাবাঃ এক মূহুর্তে এখানে থাকা লাগবে না। তুই আমার সাথে থাকবি। আমি আকাশের নামে মামলা করবো। দেখি ওকে কে বাঁচায়।মিথিলাঃ বাবা আকাশকে কিছু করার দরকার নেই। ও ওর পাপের শাস্তি একদিন পাবে।মিথিলা তার বাবার সাথে থাকতে লাগলো। বাবা মেয়ের এই অবস্থা দেখে থাকতে পারছে না। মিথিলার অন্য যায়গায় বিয়ে দিতে চাইলো। মিথিলা প্রথমে না করলেও পরে রাজি হলো।মিথিলার বাবা যেই ছেলের( ইমরান) সাথে মিথিলার বিয়ে দিতে চেয়েছিল দুইবছর আগে। খোঁজ নিয়ে দেখলো সেই ছেলেটা এখনো বিয়ে করে নি। মিথিলার বাবা ছেলের সাথে যোগাযোগ করলো। মিথিলার সব কথা জেনেও ইমরান মিথিলাকে বিয়ে করার জন্য রাজি হলো।ইমরানঃ আক্কেল, মিথিলার ছবি যেইদিন দেখেছি, ওই দিন ওর প্রেমে পরে গিয়েছি। বলতে পারেন লাভ এট ফাস্ট সাইড। দুইবছরে ওর মতো মেয়ে পাই নি, তাই বিয়ে করি নাই।বিয়ের সকল প্রস্ততি শেষ, গায়ে হলুদের রাতে। কোথা থেকে আকাশ মিথিলার রুমে ঢুকে পরলো। মিথিলার পা জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো। আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গিয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও। মিতু আমার সব সম্পত্তি নিয়ে পালিয়েছে। মিথিলা তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না।মিথিলাঃ তুমি অনেক দেড়ি করে ফেলছ। আমি ইমরানকে দ্বিতীয় বারের মতো ঠকাতে পারবো না। আমি তোমার জন্য কতো রাত কেঁদেছি জান না। আমি প্রতি রাতে ভেবেছি তুমি হয়তো ভুল করেছ, আবার আমার কাছে ফিরে আসবে। কিন্তু তুমি আসতে না। ইমরান আমাকে ভালোবেসে দুইবছর কাটিয়ে দিয়েছে আর তুমি দুইদিন ঐ মেয়েটার সাথে ঘুড়ে আমাকে ভুলে গেলে।তুমি এখন চলে যাও, না হলে আমি আব্বুকে ডাকতে বাধ্য হবো। তোমাকে আব্বু পেলে হয়তো মেরেই ফেলবে, আমি চাই না তোমার কিছু হোক।<^*★ > $মাপ্ত <^>< *^ > লেখাঃ রায়হান আবির( আরমান)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here