ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_৫

0
3660

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_৫
Written by Avantika Anh
.
রাতের শুভ ভাইয়ার ব্যবহারে খুব খারাপ লাগছিলো, খুব কান্না ও পাচ্ছে। শুভ ভাইয়া কেন আমার সাথে এরকম।করছে তা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি তা নিজেও বুঝতে পারিনি।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাদে গিয়ে দেখি শুভ কার সাথে যেন কথা বলছে….
আমি- কি রে বিয়ের আগে বউ এর সাথে এতো কথা কিসের?হুহ
শুভ-আমি আমার ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলছি,আর আমি আমার বউয়ের সাথে কথা বললে তোর কি হে?
আমি- এ্যা এ্যা.. (কান্না শুরু করলাম)
শুভ- ওই তো পেন-পেনানি বন্ধ কর তো, ভাল্লাগে না এসব।
আমি- ধুররর…
বলেই চলে আসলাম ছাদ থেকে, জানিনা কেন শুভ এরকম করছে আমার সাথে।
.
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে আসলাম। দেখি শুভ ভাইয়া নাস্তার টেবিলে বসে নেই…
মামনি- কি রে আনহা খাচ্ছিস না কেন?
আমি- হুম খাবো, আচ্ছা মামনি শুভ ভাইয়া কোথায়?
মামনি- ও তো নাস্তা করে চলে গেছে।
মামনির এই কথায় আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল, শুভ ভাইয়া তো আমাকে ফেলে কখনো নাস্তা করেনি! তাহলে এখন এমন করছে কেন?কি খাইলাম আর না খাইলাম কিছুই মনে নেই,উঠে চলে আসলাম নাস্তার টেবিল থেকে।

“কি রে ভাইয়া এতো সেজেগুজে কোথায় যাবি? “
শুভ ভাইয়ার রুমে গিয়ে দেখি ও কোথাও যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে তখন বললাম।
শুভ- যেখানেই যাই তোর সমস্যা কি হে?
আমি- বলবি না?
শুভ- না বলবো না, ভাগ তো এখান থেকে।
আমি- মামনিইইই?
শুভ- আমি শপিং করতে যাচ্ছি, কিছু দরকারি জিনিস কিনতে হবে।
আমি- এতক্ষন বলিসনি কেন? আমিও যাবো রে, ফুচকা ও খাবো..হিহিহি।
শুভ- না, আমি নিতে পারবো না। পারলে তুই একা যা, যা তো এখান থেকে।
শুভর এরকম কথা শুনে খুব খারাপ লাগছে, কেন যে এরকম করছে আমার সাথে? আগে তো এরকম করতো না! আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইলাম।
মামনি- কি রে আনহা আমাকে ডাকছিলি কেন?(আমার ডাক
শুনে এসেছে হয়তো)
আমি- মামনি দেখো না, শুভ ভাইয়া শপিং করতে যাচ্ছে কিন্তু আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না।
শুভ- আম্মু আমি ওকে নিয়ে যেতে পারবো না আগে থেকেই বলে দিলাম।
আমি- ভ্যাএএএ…(একটু কান্নার ভান করলাম)
মামনি- আনহা কে তুই তো নিয়েই যাবি, তোর ঘার ও নিয়ে যাবে।
মামনির কথা শুনে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো শুভ। আমি জানি মামনির কথা কখনো অমান্য করে না ও।
.
দুজনই রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলাম..
আমি- কি রে বাইক নিচ্ছিস না কেন?
শুভ- আমার মন চাইছে তাই। তোর কোন সমস্যা?
আমি- হুহ সমস্যা কতদিন ধরে তোর বাইকে চড়ি না, বাইক টা ও নে না প্লিজ..
.
আমি আর শুভ যাচ্ছি বাইকে করে শপিং করার উদ্দেশ্যে। দুজনই চুপ করে আছি,কারোর মুখে কোন কথা নেই। কিছুক্ষন যাওয়ার পর দেখলাম রাস্তার।পাশে একটা ফুচকার দোকান। শুভ থামবে না তাই ওকে কাতুকুতু দিলাম।
শুভ- এই কাতুকুতু দিলে কি বাইক চালানো যায়?
আমি- না চালাতে পারলে একপাশে থামা।
শুভ- না, অনেক কাজ আছে থামানো যাবে না।
শুভ বাইক থামাবে না তাই কাতুকুতু দেয়া আরো বাড়িয়ে।দিলাম।
শুভ- তোর সমস্যা কি হে?(এবার বাইক থামালো)
আমি- দেখছিস না? ফুচকার দোকান।
শুভ- আমি খাবো না,তুই খা যা।
আমি- তোরে খাইতে বলছে কে? আয় তো আমার সাথে।
একপ্রকার জোর করে নিয়ে গেলাম ফুচকার দোকানে।
আমি- মামা দুই প্লেট ফুচকা দেন তো। (দোকানদার কে বললাম)
শুভ- দুই প্লেট কেন? বললাম না আমি খাবো না।
আমি- তুই খাবি সাথে তোর বউ ও খাবে। ( হায় হায় কি বললাম?)
শুভ রাগি লোক নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ততক্ষনে ফুচকা রেডি।
.
আমি ফুচকা খেয়ে প্রায় প্লেট শেষ করে ফেলছি কিন্তু শুভ খাচ্ছে না।
আমি- কি রে খাচ্ছিস না কেন? বউ এর কথা ভাবছিস নাকি?
শুভ- তুই চুপ করবি?
আমি- দে তোরে হেল্প করে দেই।
শুভর প্লেট থেকে আরো অর্ধেক খেয়ে নিলাম হিহি।
.
ফুচকা খাওয়া শেষ করে আবার যাওয়া শুরু করলাম মার্কেটের উদ্দেশ্যে।চলে আসলাম।
আমি- ভাইয়া এই পাঞ্জাবী টা দেখ তো, তোকে অনেক মানাবে। জামাই জামাই লাগবে হিহি…
শুভ- তুই একদম চুপ থাকবি, যা কেনার আমার পছন্দ মতোই কিনবো।
আমি- আচ্ছা (খারাপ লাগলো একটু,চুপ করে রইলাম)

শুভ- এই যে ভাই ওই শাড়ী টা দেন তো। (দোকানদার কে উদ্দেশ্য করে বললো)
দোকানদার- নিন ভাই, এই শাড়ীটা টা ভাবিকে খুব মানাবে কিন্তু।
শুভ- দেখতো শাড়ীটা কেমন হবে আমার বউয়ের জন্য।
আমি- হ্যা ভালোই হবে।

আরো কিছু কেনাকাটা শেষ করে সব শেষ এ আমার পছন্দ করা পাঞ্জাবী টাই নিল শুভ। আমি কিছু বললাম না।
– আরে আনহা, হঠাত শপিং এ যে?
দেখলাম ওইদিনের সজিব নামের ছেলেটি।
আমি- হ্যা, সামনে আমাদের এ্যানেভার্সারি তো তাই শপিং করতে আসছিলাম আরকি! তাইনা গো শুভ।
শুভ আমার কথা শুনে কিছু বললো না,একটু রাগী ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।
সজিব- কংগ্রাচুলেশনস, আজ তাহলে আসি।
আমি- ওকে।
.
দুজন বাইকে করে বাসায় ফিরছি। আমি বা শুভ ভাইয়া কেউ কিছু বলছি না। জানিনা শুভ ভাইয়ার কি হয়েছে! যে শুভ ভাইয়া আমার পিছনে দিনরাত লেগে থাকতো আর এখন অথচ আমি ওর পিছনে লেগে আছি, কোন পাত্তাই দিচ্ছে না আমাকে।
হঠাত বৃষ্টি শুরু হলো, খুব ভালো লাগছে বৃষ্টির মধ্যে বাইকে চড়তে। কিন্তু অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে বাইক টা থামালো একটা দোকানের কাছে।
আমি- কি রে থামলি কেন? বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগছিলো তো।
শুভ- না, বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসবে। আর পরে আম্মু বকা দিবে আমাকে।
আমি শুভর কোন কথা না শুনে দাঁড়িয়ে রইলাম, ভিজলাম কিছুক্ষন। কিন্তু শুভ আমাকে টেনে একটা দোকানের পাশে নিয়ে দাড় করালো।
আমি- আরেকটু ভিজি না রে শুভ ভাইয়া।
শুভ- না বললাম তো।
আমিও চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম দোকানের পাশে, এমনভাবে দাঁড়িয়ে রইছি যেন শুভ কে আমি চিনিই না। খেয়াল করলাম একটা ছেলে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, খুব অস্বস্তি লাগছে এখন আমার। শুভ ও হয়তো কিছুটা বুঝতে পারছে ব্যাপারটা।
শুভ- এই ছেলে তোমার সমস্যা কি?(ছেলেটিকে বললো)
ছেলেটি- কই? আমার কোন সমস্যা নেই তো।
শুভ- তাহলে ওর দিকে তাকিয়ে আছো কেন?(আমাকে দেখিয়ে)
ছেলেটি- ভালো লাগে তাই তাকিয়ে আছি, তোর সমস্যা কি? নায়ক হইতে আইছোস?
শুভ ভাইয়া রাগের মাথায় ছেলেটির নাক বরাবর একটা ঘুষি দিলো, রক্ত বের হচ্ছে ছেলেটির নাক দিয়ে।
শুভ- চল, বাসায় যাই।
আমি- না বৃষ্টি হচ্ছে তো, জ্বর আসবে।
শুভ- আসুক, আয় বলছি।
দুজন আবারো চলছি বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাও বৃষ্টির মধ্যেই। খুব ভালো লাগছে। কি জানি রাতে জ্বর ও আসতে পারে, যেভাবে ভিজা শুরু করেছি বলা তো যায় না।
আমি- আচ্ছা ভাইয়া ওকে মারলা কেন?
শুভ- এমনি, তোর কোন সমস্যা?
আমি- নাহ।
.
বাসায় চলে আসলাম। আসতেই মামনি আমাদের দিকে এগিয়ে আসলো।
মামনি- কি রে তোরা এভাবে বৃষ্টিতে ভিজে আসলি কেন? কোন জায়গায় দাড়ালেই পারতি।
আমি- মামনি আমিও বলেছিলাম দাড়াতে কিন্তু শুভ ভাইয়া দাঁড়ায় নি।
শুভ- না আম্মু দাড়িয়েছিলাম। কিন্তু ও ইচ্ছা করে ভিজেছে।
– হা হা হাচ্চুউউউউ…(আমি)
মামনি- দেখলি ঠান্ডা লেগে গেছে এখনি, যা চেঞ্জ করে নে।
.
চেঞ্জ করে রুমে চলে আসলাম,ঠান্ডা লেগে গেছে একটু বেশিইই..
রাতে অনেক মজা করছে শুভ ও তার বন্ধুরা, না আমি যাবো না। শুভ তো এখন আমাকে সহ্যই করতে পারেনা। আমি রুমে এসে শুয়ে পড়লাম, ঘুমাবো এখন।
.
সকালে সবার হৈ-হুল্লোরের আওয়াজ শুনেই ঘুম ভাঙলো আমার। দেখি সবাই হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছে শুভ কে। আমার ও খুব ইচ্ছে হলো শুভ কে হলুদ মাখিয়ে দিতে। কাছে গেলাম,মাখিয়ে ও দিলাম।
শুভ- এই তোরে কে কইছে আমার মুখে হলুদ দিতে? (একপ্রকার রাগ দেখিয়ে রাগ দেখিয়ে খুব জোরে বললো,সবাই তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে)
আমি- কেন কি হয়েছে? একটু হলুদ মাখালাম তাতে কি হলো?
শুভ- না, তুই মাখাবি না। যা রুমে যা।
শুভ ভাইয়ার এরকম আচরন দেখে দৌড়ে রুমে চলে আসলাম।
কেন জানি অনেক কান্না আসছে আমার তবুও তা প্রকাশ করছি না।
আচ্ছা শুভ ভাইয়া আমার সাথে এমন করছে কেন? আমি কি ওর সাথে কোন খারাপ বিহেভ করেছিলাম? না করিনি তো!
বুঝতে পারতেছিনা কেন এমন করছে। শুভ ভাইয়ার এরকম বিহেভ এর কথা ভেবে অনেক খারাপ লাগছে আমার,কান্না ও পাচ্ছে হয়তো।

.
চলবে…..

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে