জীবনের_ডায়েরি পার্ট: ২৭

0
1994

জীবনের_ডায়েরি পার্ট: ২৭

লেখিকা: সুলতানা তমা

 

রাকিব নিচে নেমে আকাশকে দেখেই থেমে গেলো
আকাশ: কি হয়েছে
রাকিব: দেখনা বাবা তোর বউ আমাকে ফোন করে বললো বাসায় আসতে আমি ভাবলাম কোনো প্রয়োজন তাই আসলাম কিন্তু আসা মাত্রই ওই মেয়ে আমাকে জরিয়ে ধরলো

হায় আল্লাহ এই লুইচ্ছা এসব কি বলছে, আকাশ আমার হাত ধরে টেনে সামনে আনলো

আকাশ: নাও মামা আমার সামনেই ওকে ভোগ করো (ওর দিকে অভাক হয়ে থাকালাম কি বলছে এসব)
রাকিব: কি বলছিস এসব ও আমার মেয়ের মতো
আকাশ: তাহলে ওর রোমে কেন গিয়েছিলে
রাকিব: ও আমাকে ফোন করে ডেকেছিল তাই
আকাশ: ওহ তাই (খুব ভয় হচ্ছে আকাশ কি রাকিবের এসব মিথ্যে কথা বিশ্বাস করে ফেললো)
রাকিব: হ্যা নাহলে কি আমি অফিস থেকে ফেরত আসতাম
আকাশ: তোমার চরিত্র সম্পর্কে আমাকে ধারনা দিতে হবে না আমি জানি তুমি কেমন, এই মেয়েটা তোমাকে বাবার মতো দেখে আর তুমি কিনা ছিঃ তোমাকে মামা ডাকতেও লজ্জা লাগছে, আমি না আসলে তো আজ ওর জীবনটাই নষ্ট হয়ে যেত, দেখেছ তুমি কোনো পশু না মানুষ তাও তোমাকে দেখে মেয়েটা কতো ভয় পেয়েছে
রাকিব: আকাশ তুই ভুল বুঝছিস ও আমাকে….
আকাশ: সেটআপ আর একটা কথা বললে তোমার জিব টেনে ছিড়ে ফেলবো

রাকিব আর কোনো কথা না বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো, আমি গিয়ে সোফায় দফ করে বসে পড়লাম চোখ দিয়ে পানি ঝরছে কি হলো এইটা…? আকাশ আসতে আর একটু দেরি হলে তো…
আকাশ: তমা ভয় পেয়ো না তুমি যতোদিন এই বাসায় আছ আমি অফিসে যাবো না তোমার কাছেই থাকবো

কোনো কথা না বলে রোমে এসে শুয়ে পরলাম, কি হলো এইটা ভেবে পাচ্ছি না, রাকিব ওকে তো এখন মামা ডাকতে ঘৃণা হচ্ছে, আমার দিকে খারাপ চোখে থাকাত কিন্তু এমন কিছু হবে কখনো ভাবিনি, আচ্ছা ও কি বললো এতো কাঠকড় পুড়িয়ে আমাকে এই বাড়ির বউ করে এনেছে মানে কি…? আমাকে নাকি টাকা দিয়ে কিনে এনেছে এই কথার মানেই বা কি…? আচ্ছা নাফিজা যে বলেছিল আম্মু রাকিবের কাছ থেকে টাকা নিতো তার মানে কি আম্মু আমাকে বিক্রি করেই ওর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে…? কিন্তু আম্মু কেন এমন করবে আমাকে কেন বিক্রি করবে…? আম্মু এতো টাকা দিয়ে কি করে…? আব্বু তো আম্মুকে কম টাকা দেন না, উফফফফ আর ভাবতে পারছি না আমার সাথে কি হচ্ছে এসব

সারা দিন রোমেই শুয়ে রইলাম, সন্ধ্যায় মায়ের ডাকে নিচে গেলাম, ড্রয়িংরুমে মা আর আকাশ বসা
–মা আপনি কখন আসছেন
–এইতো এখনি তুমি নাকি অসুস্থ আকাশ ফোন করে আসতে বললো
–তেমন কিছু না
–তুমি নাকি বাসায় যেতে চাচ্ছ আমি যখন চলে এসেছি সকালে চলে যেও
–ঠিক আছে

রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে পরলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠেই আব্বুকে ফোন করে বললাম বাসায় যাবো আজ

মা এসে ডাক দিলেন নাস্তা করার জন্য, ডাইনিং টেবিলে যেতেই রাকিবের দিকে চোখ পরলো ওর চোখে ভয়ের কোনো চিহ্ন নেই, রাগে টেবিল থেকে চলে আসতে চাইলাম কিন্তু আকাশ ইশারা দিয়ে বললো মা কে যেন বুঝতে না দেই তাই বাধ্য হয়ে বসে নাস্তা করলাম

রোমে এসেই ব্যাগ গুছাইলাম এই বাসায় দম বন্ধ হয়ে আসছে
–এখনি চলে যাইবা নাকি (কথাটা শুনে ফিছনে থাকালাম আকাশ এসেছে)
–হুম
–রেগে আছ
–কার উপর রাগ করবো আমার ভাগ্যের উপর নাকি বিধাতার উপর
–একাই যাইবা
–তুমি নিয়ে গেলে তোমার সাথে যাবো নাহলে একাই যাবো
–ঠিক আছে নিয়ে যাবো
–হুম

মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরলাম, সারা রাস্তা আকাশের সাথে একটা কথাও বলিনি

বাসায় এসে দেখি আব্বু এখনো আসেননি, আম্মুর সাথে কোনো কথা না বলে রোমে চলে গেলাম আকাশও পিছন পিছন আসলো
–তোমার আম্মুর সাথে কোনো কথা বলনি যে
–এমনি
–তুমি কার উপর রেগে আছ বল তো
–কারো উপরই না
–দেখো যা হয়েছে অনেক খারাপ হয়েছে জানি তাই বলে রেগে থাকবা
–রাগ করিনি তোমার উকিলের সাথে কথা বলে দেখো ছয় মাসের আগে ডিভোর্স পেপার আনা যায় কিনা
–কেন
–আমি ওই বাসায় থাকতে চাই না
–আমার চাকরি নাহলে তো বাসা থেকে বেরুতে পারবো না
–ডিভোর্স হলে তো আমি বেরুতে পারবো
–ডিভোর্স হলে তো মেঘা কে বিয়ে করবো আর চাকরি নাহলে ওকে নিয়ে ওই বাসাতেই উঠতে হবে তখন যদি মেঘার সাথে এমন খারাপ কিছু হয়
–তুমি চাইলে আমি আব্বুর সাথে তোমার চাকরির ব্যাপারে কথা বলে দেখতে পারি
–ঠিক আছে

সন্ধ্যায় আকাশ চলে গেলো, ছাদে গিয়ে বসলাম, এখনো আম্মুর সাথে কোনো কথা বলিনি আমার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আম্মু কি সত্যি টাকার জন্য আমাকে রাকিবের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে…? সৎ মা বলে কি এমন জঘন্য কাজ করবে…? সৎ মা কি মা না…?
–আপু (ডাক শুনে পিছনে থাকালাম তুলি এসেছে)
–হুম আয়
–সন্ধ্যার সময় এখানে বসে আছ কেন
–এমনি
–তোমার কি হয়েছে বাসায় এসে আম্মুর সাথে কথা বলনি আমার সাথেও না
–কিছু হয়নি এমনি ভাল লাগছে না
–সত্যি তো
–আচ্ছা তুলি তুই যদি কখনো শুনিস আম্মু অনেক বড় একটা জঘন্য কাজ করেছে তাহলে কি তুই আম্মুকে ক্ষমা করবি
–ক্ষমা করাটা কাজের উপর যদি খারাপ কাজ হয় করবো না কিন্তু হঠাৎ করে এমন কথা বলছ কেন
–এমনি
–আম্মু কি কিছু করেছে
–না
–ঠিক আছে চলো নিচে যাই
–হুম

রাতে আব্বু আসলেন, সবাই একসাথে রাতের খাবার খেলাম তখনো আম্মুর সাথে কথা বলিনি আম্মুও কথা বলার চেষ্টা করেননি, রোমে এসে শুয়ে পড়লাম
–আম্মু আসবো (পিছনে থাকিয়ে দেখি আব্বু দরজায় দাড়িয়ে আছেন)
–আসো
–চল ছাদে যাই বাপ মেয়ের তো অনেক দিন ধরে মন খুলে কথা হয় না
–চলো

ছাদে এসে বসলাম
–কিরে মা মন খারাপ মনে হচ্ছে
–না তো
–সত্যি
–আব্বু একটা কথা বলতে চাই
–বল
–আকাশ ওর মামার ব্যবসা পছন্দ করে না ও চাচ্ছে কোনো চাকরি করতে কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও চাকরি হচ্ছে না তুমি কি কোনো হেল্প করতে পারবা
–চেষ্টা করলে পারবো
–একটু চেষ্টা করে দেখো ওর চাকরিটা খুব প্রয়োজন
–ঠিক আছে
–আর একটা কথা বলি
–বল
–আব্বু তুমি তো আমায় অনেক ভালোবাস আমি যদি কখনো কোনো বড় ভুল করি ক্ষমা করতে পারবা
–আমি জানি আমার মেয়ে এমন কোনো ভুল করবে না যা ক্ষমার অযোগ্য
–হুম
–কিছু হয়েছে কি হঠাৎ এমন কথা বললি যে
–এমনি বললাম

রোমে এসে শুয়ে পরলাম কিন্তু ঘুম আসছে না আম্মুর কথা খুব মনে পরছে, আম্মুর ছবিটা বের করে আনলাম বুকে জরিয়ে অনেক সময় কাঁদলাম, কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি…..

চলবে?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে