জীবনেরডায়েরি২ পার্ট: ২২

0
1985

জীবনেরডায়েরি২

পার্ট: ২২

লেখিকা: সুলতানা তমা

দরজা খুলতেই চমকে উঠলাম, হৃদয় আমার পিছনেই ছিল ও তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে গেলো বুঝলাম ও নিপার সামনে যেতে চাচ্ছে না, হ্যা নিপা দরজায় দাড়িয়ে আছে সাথে ওর আম্মু বোন আর শ্রাবনের আম্মু, ভেবেছিলাম এই মেয়ের মুখোমুখি হবো না কিন্তু ভাগ্য আমাকে ছাড়ল না শেষ মুহূর্তে নিপার সামনাসামনি হতেই হলো
নিপা: আপু কোথায় যাচ্ছেন
তমা: তুমি এখানে হসপিটাল থেকে রিলিজ নিয়েছ কেন এখনো তো পুরোপুরি সুস্থ হওনি
নিপা: আমার কথা ছাড়ুন আপনি কোথায় যাচ্ছেন
তমা: চাকরি পেয়েছি একটা সেখানেই যাচ্ছি
নিপা: আপু মিথ্যে কেন বলছেন শ্রাবন আমাকে সব বলেছে
আমি:(নিশ্চুপ)
নিপা: ভিতরে যাই দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে (পিছনে থাকালাম হৃদয় হ্যা সূচক মাথা নেড়ে আব্বুর রুমে চলে গেলো আমি দরজা থেকে সরে ড্রইংরুমে এসে বসে পরলাম, নিপা সহ সবাই এসে ড্রইংরুমে বসলো

সবাই নিশ্চুপ কেউ কোনো কথা বলছে না, রিয়া কথা বলা শুরু করলো
রিয়া: নিপা হঠাৎ এখানে এসেছ
নিপা: একটু পর বলছি আরো দুজন আসার বাকি আছে
বুঝলাম না এই মেয়ে কে আসার কথা বলছে আর কি কথাই বা বলবে, হঠাৎ দরজায় চোখ পরলো আকাশ আর মেঘা আপু এসেছে, দরজা খুলাই ছিল ওরা এসে বসলো, তাহলে কি নিপা ওদের আসার কথাই বলছিল

বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে চুপ করে বসে আছি নীরব দর্শকের মতো কি হয় দেখার জন্য
নিপা: আপু আমি আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই
আমি: কি কথা বলো
নিপা: আপনি তো ভাবছেন শ্রাবন আমাকে ভালোবাসে আমাদের মিলিয়ে দিয়ে আপনি চলে যাবেন তাই না
আমি: হুম
নিপা: কিন্তু আমি যে বলবো শ্রাবন আপনাকে ভালোবাসে
আমি: কিভাবে
নিপা: ওর সাথে আমার পরিচয় হবার সময় থেকেই ওর মুখে শুধু আপনার নাম ছিল যখন আমি ওকে প্রপোজ করি ওর প্রথম কথা ছিল আপনার জায়গা আমি কখনো পাবো না, আপনার পাশে একটুখানি জায়গা নিয়ে যদি থাকতে পারি তাহলে সে আমার প্রপোজে রাজি, আমি প্রথম ভেবেছিলাম আস্তে আস্তে আপনাকে ভুলে যাবে কিন্তু আমি সম্পূর্ণই ভুল ছিলাম ও প্রতিটা মুহূর্তে আপনার নাম বলতো আপনার ভাবনায় মেতে থাকতো এসব নিয়ে আমি ঝগড়া করতাম, শেষ পর্যন্ত আমি বুঝে নিয়েছিলাম শ্রাবন আপনাকে কখনো ভুলতে পারবে না তাও আমি চেষ্টা করি আপনাকে ভুলানোর এতে উল্টো শ্রাবন আমাকে অবহেলা করতে শুরু করে তারপর ব্রেকাপ, এখন আপনিই বলুন ও কাকে ভালোবাসে
আমি:(নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি)
রিয়া: তমা আমার কথা সত্যি হলো তো
আকাশ: তমা শ্রাবন আমাকে আজ সব বললো এইটুকুই বলবো কোনো ছেলে কখনোই কোনো ডিভোর্সি মেয়েকে বিয়ে করতে চায়না ও তোমাকে ভালোবাসে বলেই আমার সাথে ডিভোর্স এর পরও ফিরে এসেছে বিয়ে করতে চাইছে
নিধি: তমা আপু আপনি তো ভাবছেন ভাইয়া আপুর জন্য হসপিটালে দৌড়াদৌড়ি করেছে তাই আপুকেই ভালোবাসে ভুল ধারনা আপনার আমি সেখানে ছিলাম আমি প্রায় সময় দেখেছি ভাইয়া আপুর পাশে বসে থেকে ফোনে আপনার পিক দেখছে তারপরও কি বলবেন ভাইয়া আপনাকে না আপুকে ভালোবাসে
রিয়া: তমা এখনো সময় আছে বুঝার চেষ্টা কর
আমি:(চুপ হয়ে নিচের দিকে থাকিয়ে আছি কি করা উচিত কি করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছি না)
নিপার আম্মু: মা তুমি নিপার কথা ভাবছ তো, নিপা খুশি হয়েই সব মেনে নিয়েছে শ্রাবন যেহেতু তোমাকে ভালোবাসে ওর তো জোর করার অধিকার নেই আর তোমার ভালোবাসা ছিনিয়ে নেয়ার প্রশ্নই তো উঠে না যেখানে তুমি অচেনা অজানা এক মেয়েকে কিডনি দিতে চেয়েছিলে
আমি: অভাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম আপনারা জানলেন কিভাবে
নিপা: ডক্টর বলেছে সবকিছু
আমি: কিডনি তো আমি দেয়নি কে দিয়েছে সেটা কি ডক্টর বলেছে
নিপা: শুধু বলেছে একটি ছেলে দিয়েছে কিন্তু ছেলেটি কে কেন দিয়েছে কিছুই বলেনি
আমি: হুম
শ্রাবনের আম্মু: মা একটা কথা বলি যদিও কথাটা শুনতে খারাপ লাগবে
আমি: বলুন
মা: নিপার কথা আমি জানতাম না গতরাতে শ্রাবন আমাকে সব বললো আচ্ছা মা একটা প্রশ্ন করি, তোমার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর শ্রাবন অসুস্থ হয়ে পরে আস্তে আস্তে সুস্থ হয় তখন তো ও জানতো তোমাকে আর ফিরে পাবে না তারপরও কি ওর একা থাকা উচিত ছিল….? নিপার সাথে সম্পর্ক করে কি ও অন্যায় করেছে…? ওর কি দোষ ছিল এসবে সব তো তোমার মা করেছিলেন তাহলে আমার ছেলেকে আজ এতো কষ্ট কেন দিচ্ছ বলতে বলতে উনি কেঁদে দিলেন
আমি: (নিশ্চুপ হয়ে সব শুনছি শুধু আসলেই তো শ্রাবনের কি দোষ, আমার বিয়ে হয়ে গেছে ফিরে পাবে না জেনেও শ্রাবন একা থাকবে কেন….?
এতোকিছুর পর ও ফিরে এসেছে বিয়ে করতে চাইছে তারমানে তো ও আমাকেই ভালোবাসে)
আব্বু: তমা একটা কথা বলবো
আমি: হ্যা আব্বু বলো
আব্বু: কখনো তোর কোনো সিদ্ধান্তে বাধা দেয়নি কিন্তু আজ দিচ্ছি, আমিও তোর মা কে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম তাই আমি এসব একটু হলেও বুঝি, ছেলেটা এতোকিছুর পরও তোকে বিয়ে করতে চাইছে এইটা ভালোবাসা না থাকলে কখনোই সম্ভব না মা, তুই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারিস শ্রাবন তোকেই ভালোবাসে
নিপা: আপু আর কিছু ভাববেন না আপনি শ্রাবনের কাছে যান ও ওর রুমেই আছে
আমি: হুম যাবো তার আগে তোমাকে একটি কথা বলতে চাই
নিপা: কি কথা
আমি: আচ্ছা বলতো একটি ছেলে কতোটা ভালোবাসলে একটি মেয়ে কে তার কিডনি দিতে পারে
নিপা: এই ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না
আমি: মেয়েটা যদি ছেলেটি কে তার জীবন সঙ্গী হিসেবে পায়
নিপা: তার চেয়ে ভাগ্যবতী আর কেউ হবে না
আমি: হুম ভাগ্যবতীটা যদি তুমি হও
নিপা: মানে
আমি: যে তোমাকে কিডনি দিয়েছে সে তোমাকে অনেক ভালোবাসে আর শ্রাবন কে যেহেতু আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছ আমি চাইব ছেলেটির সত্যিকারের ভালোবাসা তুমি গ্রহণ করো
নিপা: কিন্তু ছেলেটি কে
আমি: (হৃদয় কে ডেকে আনলাম নিপা তো দেখে অভাক)
নিপা: হৃদয় তুমি…?
হৃদয়: হুম
আমি: কি গ্রহণ করবে না ওর ভালোবাসা
নিপা: অবশ্যই গ্রহণ করবো কেউ আমাকে এতোটা ভালোবাসে জানতাম না জানলে আগেই গ্রহণ করতাম
আমি: তোমরা কথা বলো আমি গেলাম বলেই দৌড়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে সোজা শ্রাবনের বাসায় আসলাম

শ্রাবনের রুমের দিকে যতো এগুচ্ছি আমার হার্টবিট ততো বাড়ছে, দরজা খুলা দেখে সোজা রুমের ভিতরে ঢুকে গেলাম শ্রাবন খাটে গাঁ হেলিয়ে ফ্লোরে বসে আছে, আমি গিয়ে ওর কাঁধে হাত রাখতেই চমকে উঠলো…..

চলবে?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে