ছায়া_পার্ট_১

ছায়া_পার্ট_১
জামিয়া_পারভীন

আমি বরাবর ই ভুতের গল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, কিন্তু গল্প পড়তে খুব পছন্দ করি। সেই সুবাদে গল্প পড়া শুরু করলে একের পর এক গল্প পড়তেই থাকি। কিন্তু কখন নিজেই অজান্তেই ভুতের গল্প পড়া শুরু করে দিই বুঝতেই পারিনি। কিন্তু গল্প পড়া শুরু হয়ে গেলে তার শেষ কি হবে সেটা না জানা পর্যন্ত থামি না। এমনি একদিন রাত ১:৩০ মিনিটে একটা গল্প খুব আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করি। কিন্তু অর্ধেক পড়ার পরই বুঝতে পারি ভুল করে ভুতের গল্পে হাত দিয়ে ফেলেছে। একে তো রাত এর উপর আবার ভুতের গল্প কিন্তু নেশার জন্য শেষ জানতে গিয়ে পুরো গল্প পড়ে শেষ করতে বাজে রাত ২ :৩০। একে তো রাত গোটা বাড়ি আধার শুধু আমি জেগে ছিলাম ভুতের গল্পের জন্য। এমনি আমি প্রচুর ভয় পাই, গল্প পড়ে ভয় টা যেন বেড়েই চলেছে। এরপরই মনে হতে শুরু করলো আমার পিছে কি যেন হাটছে বারবার মাথা ঘুরিয়ে দেখতে লাগলাম কিছুই বুঝলাম না।

এরমাঝে টয়লেট যাবার প্রয়োজন হলো আমার আর পা নড়ে না যদি কিছু থাকে সেইই ভয়ে। এরই মাঝে মনে হলো রান্নাঘর ঘর থেকে কোন শব্দ আসছে। ভাবলাম কেউ জেগে আছে অন্তত কাজ টা সেরেই আসি। কিন্তু রান্নাঘর এর পাশ দিয়ে যেতে হয় টয়লেটে। যেতে গিয়ে হটাৎ রান্নাঘর এ চোখ পড়ে একটা কালো ছায়া আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। ছায়া টা দেখেই খুব জোরে চিৎকার দিয়ে রুমে যায় কিন্তু কি আজব আমার চিৎকার নাকি বাসার কেউইই শুনতে পেলোনা।

খুব ভয় পেতে শুরু করলাম এবার আর মা মা বলে চিৎকার করি কিন্তু একিই গলা দিয়ে আমার ভয়েস বের হয় না। তারপর দেখি আবার সেই কালো ছায়া টা স্পষ্ট হতে থাকে আর তার ভয়ংকর রূপ প্রকাশ পেতে থাকে। কোন মানুষ এর অবয়ব নয় সেটা কেমন যেন বিদঘুটে দেখতে, ধোঁয়া এর মতো শরীর আর চোখ গুলি আগুনের ফু ল্ কি এর মতো। আগুনের চোখের মনি আবার মাঝে মাঝে লাল হয়ে যাচ্ছে আবার রক্তের মতো দাগ ও দেখা যাচ্ছে। অবয়ব টা আমার দিকে আসতে থাকে আর আমি চিৎকার করার চেষ্টা করেও পারিনা। অবয়ব টা খুব কাছে চলে আসলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

জ্ঞান ফিরে দেখি অনেকেই আমার সামনে বসা, নিজেকে আবিষ্কার করি হাসপাতালে, আমার চোখ খোলা তে অনেকেই খুব খুশি। পরে জানতে পারি মায়ের মুখে আমার তিন দিন জ্ঞান ছিলো না, আমি কিছু না বলেই চুপ ছিলাম কেননা তখনও অনেক জ্বর ছিলো আমার গায়ে। সেই ভয়ংকর মুহুর্তের কথা হটাৎ মনে পড়ে গেলো আর ভয়ে কাপতে থাকি।

আমাকে মা জিজ্ঞেস করে এখন এমন করছি কেনো কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারিনা। ভয়ের জন্যই কাউকে কিছু না বলে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। পরে বলবো এমন টা ই ঠিক মনে করলাম। দুইদিন পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় আসলাম। কিন্তু আমি আর আমার ঘরে যেতে চাচ্ছিনা। মা কে বললাম তোমার সাথে থাকবো, সেই রাতে মায়ের সাথেই ঘুমাতে গেলাম কিন্তু মাঝরাতে স্বপ্নে আবার সেইই ছায়া টা সামনে আসে।

ঘুমাতে পারছিলাম না তবে বুঝলাম আমার সাথে কোন খারাপ কিছু হতে চলেছে। পরদিন কলেজ এ গিয়ে আমার সব চেয়ে কাছের বন্ধুকে সব খুলে বললাম সেও কিছুটা অবাক হয়ে যায়।
পরে সে বন্ধু বলে নামাজ পড়তে, দোয়া পড়ে ফু দিতে আর সব সময় দোয়ার সাথেই থাকতে। আমি তার কথা শুনে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ি। বাসায় এসে নিজেকে নামাজ আর দোয়ার মাঝেই রাখলাম সারাদিন।

সেদিন আর কোন প্রব্লেম হয়নি কিন্তু বিপত্তি দেখা দিলো পরের দিন কলেজে গিয়ে। কলেজ থেকে কাজ শেষ এ ফিরতে একটু রাত হয়ে গেলো তখন মনে হলো আমার সাথে কিছু একটা আসছে সেটার একটু শব্দ হচ্ছে। পিছনে ঘুরলাম না দোয়া পড়া শুরু করলাম কিন্তু এবার সেই ছায়া আর পিছু ছাড়ে না। ভয় পেয়ে গেলাম কি করবো আর রাস্তাটাও বেশ নিরিবিলি মানুষ তো নাই যে কেউ হেল্প করবে।

এবার পিছনে ঘুরে দেখি একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, কিছু না বলতেই এগিয়ে এসে বলে কোন হেল্প লাগবে নাকি। আমি তার দিকে তাকিয়ে অবাক হই একে তো আমি চিনিনা কে সে, আর দেখতেও অনেক সুন্দর যেন রাজকুমার। আর সে জানলোই বা কিভাবে যে আমি ভয় পাচ্ছি। আমার ঘোর কাটিয়ে সে বলে আমি মাসুদ, এই এলাকা তে নতুন আপনার ভয় লাগছে মনে হয় একা যেতে আমি কি আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসবো। আমি মনে সাহস নিয়ে বলি ওকে চলুন সে হাটতে লাগলো আমার সাথে। কিছুক্ষণ ভালোই কথা বললাম এরপর খেয়াল করি আমার ছায়া আছে রাস্তায় কিন্তু মাসুদের ছায়া নাই। এটা দেখে যেই পাশে ঘুরি কাউকেই আর দেখতে পাইনা। আমার ভয় আরোও বেড়ে গেলো, কোন রকম দোয়া পড়ে বাসায় আসি।

চলবে………

Comments are closed.