4.3 C
New York
Tuesday, November 19, 2019
Home ছায়া নীল! ছায়া নীল! ৪.

ছায়া নীল! ৪.

ছায়া নীল!৪.

Maria Kabir
ওকে আমি অনুভব করতে পারি। আচ্ছা ও কি আমায় অনুভব করতে পারে??
আমি ওর জন্য যতোটা পাগল, ও কি তাই?
আমি ওকে যতোটা কাছে পেতে চাই, ও কি ততোটাই আমাকে কাছে পেতে চায়???
আফরোজা আমাকে ছেড়ে দিয়ে কিছু একটা বললো। কী বললো বুঝলাম না।
অন্যমনস্ক ছিলাম তাই বুঝতে পারি না। আফরোজা কে জিজ্ঞেস করলাম
– কিছু বললি?
– কফি খাবি??
– আনতে পারিস।
আফরোজা চলে গেলো। একটা সুযোগ পেয়েছি তার সদ্ব্যবহার করা দরকার। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে আলপিন এর প্যাকেট টা বের করলাম।
একটা আলপিন ডান হাতে নিয়ে বাম হাতের প্রত্যেকটা আংগুলের ডগায় ফোটাতে লাগলাম।
এখন আর তেমন ব্যথা লাগে না। প্রথম প্রথম খুব ব্যথা লাগতো। কয়েকদিন যাবত হাত ফুলে থাকতো। কিন্তু এখন একটু জ্বলে।
এটুকু কষ্টে ওকে কাছে নিয়ে আসা সম্ভব না।
আলপিন টা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিলাম। আরেকটা আলপিন বাম হাতে নিয়ে ডান হাতের আংগুলের ডগায় ফোটাতে লাগলাম।
কিন্তু আলপিন টা বারবার পিছলে যাচ্ছে। রক্তে ভিজে আছে আংগুল গুলো আর সেই ভেজা আংগুলে আলপিন ধরাতে পিছলে যাচ্ছে।
মনে হলো কারো পায়ের শব্দ আমার রুমের দিকেই আসছে।
তাড়াতাড়ি করে হাত মুছে নিয়ে, আলপিন টা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিলাম।
এই কাজ প্রথম না তাই খুব সহজে করতে পারি। আমার কারণেই চাকু, বটি বা ধাড়ালো কোনো জিনিষ বা ব্লেড ও তালা মেরে রাখা হয়।
যখন প্রয়োজন হয় তখন মা নিজে দাঁড়িয়ে কাজ করিয়ে আবার তালা মেরে রাখেন।
বিয়ে বাড়িতে চাকু পাওয়াটা কঠিন হবে না।
আফরোজাই মাকে এগুলো লুকিয়ে রাখতে বলেছে।
ওকে সব শেয়ার করার একটা খারাপ দিক। আমার কোনো ক্ষতি হবে বুঝতে পারলেই সেটা বলে দিবে মার কাছে।
ব্যাস আমি তখন বন্দী কারাগারে।
আলপিন গুলো খুব সাবধানে রেখেছি। দুই মগ কফি নিয়ে আফরোজা এলো।
আমার হাতে এক মগ দিয়ে ও নিজে এক মগে চুমুক দিলো।
আমিও ওর সাথে কম্পানি দিলাম। গরম মগ ধরাতে হাত টা জ্বলছে। জ্বলুক না, ওর জন্য তো এটুকু কিছুই না।
চাকু কীভাবে আনবো সেই ফন্দী টা আঁটতে পারলেই হয়।
কফি শেষ হবার পর আফরোজাকে বললাম
– আফরোজা আমার না খিদে পেয়েছে।
– আন্টিকে বলবো ভাত বা পোলাও আনতে?
– না রে ওসবের খিদে না।
– তাহলে কী খাবি?
– ফল খাবো।
– একটু বোস আমি নিয়ে আসছি।
ও আবার চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর ও ফল নিয়ে ফিরে এলো। কিন্তু চাকু নেই।
আমি বললাম
– আপেল কী দিয়ে কেটে খাবো?
– দাঁত দিয়ে। আমি জানি তুই ফল কেনো চেয়েছিস? তুই চাকু দিয়ে নিজের হাত বা পা কাটবি। তাই না???
আমি হেসে ফেললাম। হাসতে হাসতেই বললাম
– তুই তো আমার থেকেও চালু।
– তোর সাথে প্রায় ৭ বছর যাবত আছি। তোকে আমি পুরোটা না হলেও অধিকাংশ টাই জানি।

নিলু আমাদের রুমে এসে আফরোজা কে বলল
– খালাম্মা আপনাকে ডাকে।
আফরোজা চলে গেলো। নিলুকে আমার নানী নিয়ে এসেছেন। সে এই বাড়িতে নতুন। তার আমার ব্যাপারে বেশি কিছু জানার কথা না।
ওকে দিয়েই কাজটা করানো যাক।
নিলু চলে যাবে আর ওকে ডেকে বললাম
– নিলু, চাকু নিয়ে আয় তো। ফল কেটে খাবো।
– আচ্ছা, আপামনি।
মুহূর্ত এর মধ্যে ও চাকু টা এনে দিলো। নিলুকে বললাম চলে যেতে।
চলে গেলো। মেয়েটা অনেক ভালো। আমাকে যখনি দেখে তখনই ঢ্যাব ঢ্যাব করে তাকিয়ে থাকে।
আমার অসহ্য লাগে এভাবে তাকালে। যাকে এতো ভালবাসি সেই তাকায় না আর অন্যরা…….
চাকুটার ধার আছে বটে।
চাকুটাকে কব্জির নিচে ধরলাম। খুব আলতো করে একটা আচর দিলেই হবে।
মনে হচ্ছে মা, আফরোজা আর আরো কয়েকজন আমার রুমের দিকেই আসছে। তাই চাকুটাকে আমি যেখানে বসেছি তার নিচে রেখে দিলাম আড়ালে।
রুমে ঢুকে আমার সামনে একজন ৬০-৬৫ বছরের মহিলা বসলেন।
তার হাতে লাগেজ। আমাকে বললেন
– বউ মা, ঝটপট করে সেজে নাও তো। আর বেশিক্ষণ নেই।
মা তাকে জিজ্ঞেস করলেন
– বেয়াইন সাহেব, কাজী সাহেব কতদূর?
ও তার মানেই ইনিই আমার হবু শাশুড়ি। দেখতে খারাপ না। আচ্ছা নীলের মা দেখতে কেমন? সেও কি আমাকে বউ মা বলে ডাকবে???
হবু শাশুড়ি বললেন
– আর মাত্র ১ ঘণ্টা!
হবু শাশুড়ি চলে গেলেন। লাগেজ থেকে শাড়ী বের করে আমাকে পড়িয়ে দিলেন।
আমিও ভালো মেয়ের মতো পড়লাম। মা সাজাতে জানেন না।
তাই শাড়ী পড়িয়ে, গহনাগাঁটি পড়িয়ে বললেন
– দেখেছিস কতো গহনা দিয়েছে তোকে??
– অনেক, আরো দিবে বিয়ে হলে।
– হ্যা, ঠিকি ধরেছিস।
– মা, আমার না পানির তেষ্টা পেয়েছে।
আফরোজা যে কোন সময় রুম থেকে চলে গেছে খেয়ালই করিনি।
মাও পানি আনতে চলে গেলো।
ড্রয়িংরুমে কথাবার্তার মাধ্যমে বুঝতে পারলাম কাজী সাহেব এসে গেছেন।
রুমের দরজা আটকে দিলাম আর বারান্দার দরজাও আটকে দিলাম।
চাকু টা ডান হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ করলাম। ওকে অনুভবে আনার চেষ্টা করলাম।
চেষ্টা বিফল হলো। বাম হাতের কব্জির নিচে চাকুর ধাড়ালো অংশ ধরে খুব জোড়ে আচর কাটলাম।
সাথে সাথেই ফিনকী দিয়ে রক্তের স্রোত বয়ে যেতে লাগলো।
অসহ্য যন্ত্রণা হতে লাগলো। খুব কষ্ট হচ্ছে, তুমি বুঝতে পারছো????
দেখো না আমার খুব খারাপ লাগছে???

চলবে……..!

#Maria_kabir

Maria Kabir
studying at Govt. Rajendra College, Faridpur Studies YES at Govt. Rajendra College, Faridpur Went to Faridpur Govt. Girls High School Lives in Faridpur, Dhaka, Bangladesh From Faridpur, Dhaka, Bangladesh, Single, Facebook id Maria Kabir
Comments are closed.

- Advertisment -

Most Popular

Love At 1st Sight-Season 3 Part – 70 [ Ending part ]

♥Love At 1st Sight♥ ~~~Season 3~~~ Part - 70 Ending part Writter : Jubaida Sobti সময় ঘনাতে লাগলো, মান-অভিমান সব ভুলে এই রাতটিতেই রাহুল তার...

ব্ল্যাকমেল ও ভালোবাসা

দোস্ত দেখ মেয়েটা সিগারেট খাচ্ছে! আমি একবার ওই দিকে দেখে বললাম- কুয়াশার কারণে তোর এমন মনে হচ্ছে। তারপর বললাম খেলার মাঝে ডিস্টার্ব করিস নাহ, এমনিতে...

অভিমান ও ভালোবাসা

সুন্দরী মেয়ে হাত ধরে হাটার ফিলিংসটা অন্যরকম, মেয়েটির সাথে হাঁটতে হাঁটতে জমিন থেকে উপরে উঠতে লাগলাম। আকাশে ভাসমান একটা রেস্তোরায় গেলাম, কোনো ওয়েটার নাই। মেনু দেখে...

ভালবাসা_ও_বাস্তবতা

ভালবাসা_ও_বাস্তবতা #লেখক-মাহমুদুল হাসান মারুফ #সাব্বির_অর্নব ঢাকা শহরে এত জ্যাম, বিকালটা শেষ হতেই যেন থমকে যায় রাস্তা গুলো। এত মানুষ,  এত গাড়ি তার উপর আবার মেট্রোরেলের কাজ। এই...

Recent Comments

গল্প পোকা on দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
Samiya noor on গল্পঃ ভয়
Samia Islam on গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া on মন ফড়িং ❤ ৪০.
Siyam on বিবেক
Sudipto Guchhait on My_Mafia_Boss পর্ব-৯
মায়া on মন ফড়িং ৩০.
মায়া on মন ফড়িং ৩০.
মায়া on মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta on  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas on  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya on অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি on নষ্ট গলি পর্ব-৩০
সুরিয়া মিম on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা on নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা on Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা on Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া on মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤ ১৬. 
Foujia Khanom Parsha on মা… ?
SH Shihab Shakil on তুমিহীনা
Ibna Al Wadud Shovon on স্বার্থ