চাঁদের_আলোয়_জোছনা_ভাঙ্গে পার্ট ১৫

0
1959

চাঁদের_আলোয়_জোছনা_ভাঙ্গে পার্ট ১৫
লেখা আশিকা জামান

অঙ্কন চলে যেতেই অনি, দীশা, নিনিত, নেহা বাচ্চাদের মত ছুটে এসে অনন্যাকে ঘিরে খিলখিল করে হাসতে লাগলো। আবার একজন আরেকজনের হাতে হাত রেখে গোল হয়েও ঘুরতেও থাকলো ।

এই মুহুর্তে নিজেকে নিউক্লিয়াস বাকি সবাইকে ঘূর্ণনরত ইলেক্ট্রন মনে হচ্ছে। ইচ্ছে করছে মাটি ফুঁড়ে পাতালে চলে যেতে। সেটা যখন সম্ভব নয় তখন মুখ বুজেই থাকতে হবে।

“অনন্যা ভুলো মনা
ডুবে ডুবে খায় জল
পেট ফুলে কলা গাছ
অঙ্কন ধরছে বোয়াল মাছ।”
বাচ্চাদের মত করে সবাই তালে তাল মিলিয়ে সুর করে ছড়া কাটতে লাগলো। এত শোরেগোলে অনন্যার মাইগ্রেণের সমস্যাটা বেড়েই গেলো। দাতঁ মুখ খিঁচিয়ে বললো,
” এই তোরা আমাকে যেতে দিবি।”
কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই নির্বিকার ভঙ্গিতে মালা গেথে গোল হয়ে ঘুরছে আর ছড়া কাটছে। কোন চান্সই পেলোনা৷
অনন্যা এক কাজ করে ফেললো অনির কান টেনে ধরে খেলাটা এবারের মত আটকে দিলো।
” অনন্যা, কান ছাড় ব্যাথা পাচ্ছিতো। এই ছাড়।”
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



” এই ছড়াটা তোর বানানো আর এটা তুই এক্ষুনি বানিয়েছিস তাই না! খুব মজা নাহ্ অনন্যাকে ক্ষ্যাপাতে!”

” হ্যাঁ, ওই আরকি! মুখ পিছলে বের হয়ে এলো। তুই বুঝলি কেম্নে?।”

” ছাগলের নাদার মত তোর মুখ দিয়ে যে ননস্টপ ছড়া পড়ে ওটা জানার জন্য খুব একটা বুদ্ধিমান হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।”

” তুই আমার ছড়ার সাথে ছাগলের নাদার তুলনা করলি! এটা তুই পারলি। কি করে পারলি।”

” তোর ঐ গার্লফ্রেন্ড কি যেন নাম? ওহ হ্যাঁ সপ্তমী! ওকে জিজ্ঞেস করিস দেখবি সেও এই একই কথা বলছে। না বললে আমার নাম বদলে রাখিস।”

নিনিত কটমট করে বললো, ” আহারে! নাম বদলাতে বুঝি আর তর সইছে না!
তোর অবস্থাটা না দেখার মতনরে…।
প্রেমের মরা জলে ডুবে না..”
নিনিত ছেলেদের মত শিস বাজাতে বাজাতে গান ধরলো।
অনন্যা রেগে মেগে তেড়ে নিনিত এর দিকে ছুটে আসতেই নিনিত এক দৌড়। পেছনে অনন্যাও ধাওয়া হলো।

” শ্যাষম্যাশ অনন্যার অবস্থাও তানভীরের মতন। বল এটা কি মাইনা নেয়া যায়!” নেহা দীশার কাধে হাত রাখতে রাখতে বললো।

” কেন তোর মত হইলে ভাল হইতো! তোর তো আবার দুই দিন পর পর নতুন নতুন বয়ফ্রেন্ড না হলে চলেই না।” দীশা ঠেস দিয়ে কথাটা বললো। সাথে অনিও তাল মেলালো।
” হ্যাঁ রে দীশা যা বলেছিস..
আরে পোশাক বদলানোর আগেওতো মানুষের মায়া হয় আর তোর কোন মায়া দয়া বলতে কিছু নাই। ইচ্ছে হলে মাথায় তুলে নাচিস না চাইলে ছুড়ে মারিস। এই তুই পারিস কি করে রে?”

কথার সুক্ষ্ম খোঁচাগুলো নেহার গায়ে বিন্দুমাত্র লাগলো না বরংচ আরো দ্বিগুন উৎসাহ পেলো! গদগদ হয়ে বলবো, ” তো কি করবো একজনের গলায় ঝুলে পড়বো! লাইফটাকে এনজয় করতে হয় আর আমি সব সময় সেটাই করি। আমার কাছে লাইফ ইক্যুায়াল টু উপভোগ। নো হাংকিপাংকি শুধু যা ইচ্ছে তাই। হা হা হা..”

নেহা হাসছে তবে তার হাসিতে কেউ যোগ দিলো না। অবশ্য এজন্য নেহার হাসির কোন ব্যাঘাত ঘটলো না। তার যতটুকু হাসি পাচ্ছে পুরোটাই হেসে তবেই ক্ষ্যান্ত হবে।
একটুপরেই সবার মুখেই একযোগে হাসি পেলো। অদূরে অনন্যা আর নিনিত দুজনেই ধপাস করে পড়ে ঘাসের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে।

” এই ভাবে ছুটলি কেন? তোর জন্য জামা কাপড় সব নষ্ট হয়ে গেলো। এখন আমার বাড়ি যাওয়া ছাড়া উপায় আছে। অনীশ স্যারের ক্লাসটা আজকেও মিস হয়ে গেলো।” অনন্যা এমন ভাবে কথাটা বললো যেন ক্লাস মিসের দুঃখে একেবারে মরেই যাচ্ছে।

” আহারে! তোকে কে পাগলা কুত্তার মত পেছন পেছন ছুটতে বলেছিলো রে।”

” এই তুই থামবি। তোরা খুউব খারাপ। তোদের মত বন্ধু থাকার থেকে না থাকাই ভালো। ”

” অবশ্যই আমরা খুউব খারাপ! তাতো হবোই এটাইতো নিয়ম! প্রেমের গরল পান করলে না তখন আর বন্ধুদের সহ্য হয়না। ” নিনিত রাগে গজগজ করতে করতে থাকলো। একটুপরেই আবার বললো,
“তুমি চুরি করে লুকিয়ে লুকিয়ে অভিসারে আসতে পারবে আর আমরা বললেই দোষ হয়ে গেলো।”

” মোটেই না! আমি তোদের হিরো সাহেবকে দেখতে মোটেই আসিনি। আমার অত শখ নেই। উনিই পেছন থেকে ডাকলেন.. তাই।” অনন্যা আমতাআমতা করে বললো।

” আহারে! তার আগে তুই যে সবার মাঝখানে গিয়ে হা করে তাকিয়ে ছিলি সেটা না আমরা দেখেছিরে! আমরা কেউ চোখ বাড়িতে রেখে আসিনিরে।”

অনন্যা ঢোক গিললো। এরা সব দেখে ফেলেছে কেমন ভ্যাবলার মত তাকিয়েই ছিলো। ইশ্ তখন যে কেন এদের কথা মনে হলো না৷ যখন অঙ্কনের চোখে চোখ পড়লো তখনিতো ছুটে পালালো। উফ্ আজকে এরা ওকে কিছুতেই ছাড়বে না৷ কথা যা, শোনানোর তা শুনাবেই। এবার মুখ বুজে শুনতে হবে৷ হ্যাঁ খোদা অন্তত আজকের জন্য আমাকে বধির করে দাও…..

**********

অঙ্কন ফিরে এসে দেখে সবাই চলে গেছে। তবে এরজন্য সে খুব একটা অবাক হলো না। কেবল চেলসিয়া এখনো বসে আছে। এই সঙটা যে কেন বসে আছে সেটা তার বোধগম্য হচ্ছে না।
” কি ব্যাপার সবাই চলে গেছে তুমি গেলে না!”

” নাহ্ তোমার জন্য ওয়েট করছিলাম। ভাবলাম একসাথে এসেছি যখন একসাথেই ফিরবো। ”

” ওহ রিয়েলি মেক আপ তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এরকম রৌদ্রেতো সানট্যান হয়ে যাবে। আই থিংক তুমি কাজটা একদমই ঠিক করোনি।”

” তুমি যে কাজটা করলে সেটা কি ঠিক করেছো? তোমার হুট করে কি হলো আমি কিন্তু বুঝতে পাচ্ছি না। মনজুর আহসানকে খেপিয়ে কাজটা একদমই ঠিক করোনি। উনি রেগে মেগে শুটিং ক্যানসেল করে চলে গেছেন। আমি সাথে যাইনি বলে আমার সাথেও মিসবিহ্যাভ করলো। ”

” চেলসিয়া! আমার প্রতি তোমার এত কনসার্ন হওয়ার সত্যিই কোন কারণ নেই। ট্রাস্ট মি গোটা ব্যাপারটাই আমি হ্যান্ডেল করতে পারবো। এটুকু ভরসা আমার নিজের প্রতি আছে।”

” ওহ গ্রেট! তোমার এই আত্নবিশ্বাসটাই আমার ভালো লাগে।”

” থ্যাংকস।

গাড়িতে উঠো তোমাকে ড্রপ করে দেই। ”
” শিউর।”

***********

বিকেলে আয়েশ করে কি ঘুমটাই না দিয়েছিলো! তানভীরের ফোনের যন্ত্রনায় কাঁচা ঘুমটা ভেঙ্গে যাওয়ায় অনন্যা বড্ড চটে আছে। ইচ্ছে করছিলো তানভীর কে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে। কিন্তু আপাততঃ সেটা সম্ভব হয়নি। কারণ ফোনটা তৃষ্ণা আন্টি করেছে তানভীরের ফোন থেকে৷ তার কঠিন আবদার অনন্যাকে নিয়ে সন্ধ্যার সময় শপিং এ যাবে। আর যাই হোক এই আন্টির আবদার অনন্যা কিছুতেই ফেলতে পারে না।

আয়েশা কফি বানিয়ে মেয়ের ঘরে এসে মেয়েকে দেখেতো চোখ কপালে।
” অনন্যা, এই ভরসন্ধ্যেবেলায় এমন সাজুগুজু করছিস কেন?”

” মা আমি একটু শপিং এ যাচ্ছি।”

” এটা কবে কখন ঠিক হলো।” আয়েশা ভ্রু কুচঁকে প্রশ্ন করলো।

” এটা আজকে এখন এক্ষুনি ঠিক হলো। আর কফিটা মেবি হাফ এন আওয়ার আগে খেতে চেয়েছিলাম। সো আ’ম সরি এটা আমি নিতে পারছি না।”
অনন্যা ব্যাগ গুছিয়ে সুরসুর করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

পেছন থেকে আয়েশা চেচিয়ে বলছেন, ” কার সাথে যাচ্ছিস সেটাতো বলে যা!”

” হাত পা সবই সাথে আছে চিন্তা করোনা।” অনন্যাও সমান উচ্চতায় চেঁচিয়ে বললো তারপর নির্বিকার ভাবে চলে গেল।

” উফ্ এই কফিটা যে আমি কাকে দেই!” উনি আবার উনার কফির চিন্তায় পড়ে গেলেন। আফটার অল এত কষ্ট করে বানালেন। একটা কম্পলিমেন্টতো পাওয়ার আশা রাখেন!
আয়েশা বরাবরের মতোই ধারণা পেষণ করেন উনি সবচেয়ে ভালো কফি বানান তাই কেউ যদি প্রশংসা না করেনতো খুব খেপে যায় আর অনন্যার মতো নিতে অস্বীকৃতি জানালেতো চেতে যান। এই মুহুর্তে উনি খুব রেগে আছেন। তবে সেই রাগ ভেঙ্গেও যাচ্ছে আহনাফ কফির মগটা হাতে তুলে নিয়েছেন।
আয়েশা মনে মনে খুশি হলেও বেশ ভাব নিয়ে বললেন,
” তোমাকে না মাত্রই এক মগ দিলাম।”

” আহা! তোমার সুন্দর হাতের পার্ফেক্ট কফি এক মগ নিলেই কি মন ভরে? কক্ষনো না। মনে হয় ডিনার লাঞ্চ সব বাদ দিয়ে কেবল কফিই খাই। জীবন হোক কফিময়।”

” সত্যি বলছো! ভালোই হয়েছে আজকে বুয়া তাড়াতাড়ি চলে গেছে। অনন্যাও মনে হয় খেয়েই ফিরবে। তুমি বরং আজ রাতে কফিই খাও । উফ্ রান্নার ঝামেলা থেকেতো বাচাঁ গেলো।”

আহনাফ চোখ বড় বড় করে তাকায়। মুখের ভেতর যে কফিটা ছিলো সেটা আটকে যায়। গিলতে আর পারেনা। একটা বিকট কাশির শব্দের সাথে কফিটুকুও আয়েশার শাড়ির উপর উগরে দেয়।

” আস্তে খেতে পারোনা। সব বিষয়েই তাড়াহুড়ো। কফিতো আর মগ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না।”

আহনাফ কফির মগটা শব্দ করে টেবিলে রেখে বিছানায় কপাল হাত দিয়ে বসে পড়ে।
” এই কেলু করেছে রে! কেন যে এত ডপ মারতে গেলাম। শালার আজ কপালটাই খারাপ কোথায় ভাবছিলাম ইলিশ মাছ খাবো সেখানে উপোস করে থাকো। এসবের কোন মানে হয়।”
উনি একমনে বিড়বিড় করতে লাগলো।

চলবে…

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here