-0.1 C
New York
Saturday, December 7, 2019
Home ফুলশয্যা গল্প:-♥ফুলশয্যা♥ পর্ব:- ১০

গল্প:-♥ফুলশয্যা♥ পর্ব:- ১০

গল্প:-♥ফুলশয্যা♥
পর্ব:- ১০
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

নীলিমা:- আপনি কি কথা’টা আমাকে বলছেন???
আবির:- নাহ….
আপনি কি ট্যারা নাকি?
আপনাকে কেন ট্যারা বলব?
নীলিমা:- তো…
কাকে বলছেন???
আবির:- আমার বউকে….
নীলিমা:- ????

নীলিমা উঠে চলে যাচ্ছে।
আবির পিছন থেকে ডাক দিল।
” Hey you!Listen to me”

নীলিমা:- আমাকে বলছেন???
আবির:- জি….
নীলিমা:- বলুন।
আবির:- ?????
নীলিমা:- কি হলো???
বলুন…..??
আবির:- Actually কথাটা খুব গোপনীয়। যা আমি একান্ত’ই
আপনার সাথে বলতে চাচ্ছিলাম….
নীলিমা:- Oh….???
,
লিমা, আশা, নদী-দীঘি তোমরা একটু বাইরে যাবে??????

সবাই একত্রে:- ওকে আপুমণি….☺☺☺☺
আমরা যাচ্ছি। তোমরা বরং একান্তে সময় কাটাও একটু…???????

লিমাসহ সবাই বাহিরে চলে গেল।
আবির বসা থেকে উঠে দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নীলিমা আবিরের এই দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখে কিছুটা আশ্চর্য হয়। তাকিয়ে দেখতে থাকে আবির কি করে?!!!
আবির যখন দরজার কাছে গিয়ে দরজাটা ঠাস করে লক করে দেয় নীলিমা তখন চমকে যায়।
দরজা লক করে আবির নীলিমার দিকেই এগিয়ে আসছে।
এটা দেখে নীলিমার বুকের ভেতর ধুকধুকানি শুরু হয়ছে। নীলিমা মনে মনে ভাবছে__
” হায় আল্লাহ! কিসের পাল্লায় পরলাম আমি? কি করতে চাচ্ছেন ওনি?”

আবির নীলিমার কাছে, খুব কাছে চলে আসলে নীলিমা কাঁপা স্বরে আবিরকে জিজ্ঞেস করে__
” কি করলেন এটা?”
আবির মুচকি হেসে বলে__
” কিছু করিনি, তবে এখন করব।”

নীলিমা:- কি করবেন?(ভীরু কন্ঠে)
আবির:- অনেক কিছু….??
,
এই শুরু করলাম……☺☺☺

কথাটা বলেই আবির নীলিমার পিছনে ঘাড়ের কাছে স্পর্শ করে। নীলিমার সারা শরীর অজানা শিহরণে শিহরিত হয়ে উঠে।
মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
নীলিমার হৃদস্পন্দন ক্রমাগত বেড়ে’ই চলছে।
,
আবিরের হাতটা নীলিমার ঘাড় থেকে একটু নিচে নেমে যায় নীলিমা তখন ওর চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে।
আবির নীলিমার পিছন থেকে সরে এসে নীলিমার সামনে এসে দাঁড়ালো।নীলিমা তখনো চোখ বন্ধ করে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।

আবির:- ইয়ে মানে আমি বলছিলাম কি তোমার জামার নিচের ছোট কাপড়’টা দেখা যাচ্ছে…..??

নীলিমা চোখ মেলে তাকালো।
তারপর_
” কি?
কি বলছেন???”
আবির:- তোমার ছোট কাপড়’টা….☺☺☺

আবির হাত দিয়ে নীলিমাকে ওর ঘাড়ের দিকে দেখায়।
নীলিমা ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর পরনের…. (…….)…. ফিতা দেখা যাচ্ছে।
নীলিমা লাফ দিয়ে আবিরের থেকে বেশ কয়েকহাত দুরে চলে যায়। তারপর ফিতাটা জামার নিচে গুজে দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।????

আবির:- ????
নীলিমা:- ????
,
আবির একটু কাশি দিয়ে নীলিমার দিকে তাকালো।
তারপর হাসি’টা কোনো রকম থামিয়ে বলল_
” আমি স্যরি…..”???

নীলিমা:- আপনি কখন যাবেন???
আবির:- জানি না….☺
নীলিমা:- মানে??? আজকে যাবেন না?????
আবির:- না, যাচ্ছি না।
নীলিমা:- কিন্তু আপনার তো আজকে যাওয়ার কথা ছিল….
আবির:- সেটা আপাতত আমি ভুলে গেছি। আমার কার সাথে কি কথা হয়েছিল সেটাও ভুলে গেছি। চিরতরে ভুলে গেছি।
নীলিমা:- আচ্ছা….
তাহলে আপনার কি মনে আছে???
আবির:- এই মুহূর্তে আমার মনে শুধু একটা জিনিস’ই ঘুরপাক খাচ্ছে আর সেটা হলো কখন একমাত্র শালিকা ও তার বান্ধবীদের নিয়ে বাসায় যাব। কখন ওদের নিয়ে আড্ডা দিব।
,
নীলিমা:- মানে???
,
আবির:- মানে হলো লিমা ঢাকা যাচ্ছে। ও ওখানে ম্যাচে থেকেই পড়াশুনা করতে চাচ্ছিল। কিন্তু যেহেতু ও আমার একটাই মাত্র শালিকা তাই আমি ওকে হোস্টেল বা ম্যাচে রাখার দুর্সাহস পায়নি। ও আমার বাসায় থাকবে। দরকার হয় সব বান্ধবীদের একসাথে নিয়ে থাকবে।
,
নীলিমা:- ও ম্যাচে থাকবে???
আবির:- বলেছিল তো সেটাই….
তবে এখন আর থাকবে না।
নীলিমা:- ????

নীলিমা রাগে গজগজ করে রুম থেকে বাহির হয়ে গেল।
দুপুরে লিমাকে একা পেলে এ ব্যাপারে জানতে চাইল।
আবিরের সাথে পূর্ব প্ল্যান অনুযায়ী লিমা নীলিমাকে জবাব দেয়_
” বলছিলাম তো হোস্টেলে’ই থাকব কিন্তু দুলাভাই বলল যে হোস্টেলে থাকতে দিবে না। তোদের বাসায় থাকতে। তাই তোদের বাসায়…(….)…..”

নীলিমা:- চুপ…
একদম চুপ….কার বাসায় থাকবে বলছিস???দুলাভাইয়ের বাসায়???
লিমা:- হ্যাঁ….☺☺
নীলিমা:- খবরদার!
আর যাতে এ কথা না শুনি।
লিমা:- কেন আপু??????
নীলিমা:- তুই ও বাসায় যাইবি না। ব্যস। আর কোনো কথা বলবি না।
লিমা:- ওহ, আচ্ছা….
নীলিমা:- ???
লিমা:- আমি তাহলে আশা, নদী-দীঘি ওদের বলে আসি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে। হোস্টেলে থাকলে আজকেই যেতে হবে।পরে গেলে সিট পাওয়া যাবে না।???
নীলিমা:- ঠিক আছে বলে আই….

লিমা মন খারাপ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।
ক্ষাণিকবাদে’ই প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিঁজে’ই লিমা সবার বাসায় গিয়ে বলে আসে বিকেলের দিকে যাতে বাসস্টপে থাকে।
বাসায় এসেই লিমা ওর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছাতে থাকে। কিন্তু বৃষ্টি আর থামার নাম নেই। এ বৃষ্টি শেষ হয় রাত্রে। লিমা কিংবা ওর বান্ধবীরা কেউ যেতে পারেনি সেদিন।
এদিকে বৃষ্টিতে ভিঁজে লিমার অবস্থা নাজেহাল। ঠান্ডা লেগে গেছে।
আর সেই ঠান্ডায় গলাটা জমে গেছে।
রাত্রে লিমা আবির-নীলিমার রুমের দরজায় এসে নক করে।
নীলিমা গিয়ে দরজা খুলে।
লিমা রুমে প্রবেশ করলে নীলিমা প্রশ্ন করে_
” কিছু বলবি?”

লিমা:- আসলে আজকে তো হোস্টেলে উঠার তারিখ ছিল, আজকে যেতে পারিনি। মনে হয় না আর সিট পাব যে।
আমি কি কালকে দুলাভাইয়ার সাথে গাড়িতে করে ঢাকায় যেতে পারি??????

নীলিমা:- তোর তো ঠান্ডায় গলা বসে গেছে। এই অবস্থায় ঢাকা যাইবি???
লিমা:- আপু আমার হোস্টেলে সিট না পেলেও কোনো বাসার খুঁজ করতে হবে। তাই…..
নীলিমা:- তুই একা একা বাসায় থাকতে পারবি???
লিমা:- একা একা কোথায়? আশা, নদী ওরা আছে তো….
নীলিমা:- তোরা ঢাকা শহরের কিছুই তো চিনিস না। কোথায় খুঁজবি বাসা???
লিমা:- তার জন্য তো দুলাভাই আছে…
নীলিমা:- ওহ…
,
তা তোদের হেল্প করবেন ওনি???

লিমা আবিরের দিকে তাকিয়ে নীলিমার অজান্তে কিছু একটা ইশারায় বলল। আবির মুচকি হেসে মাথা নেড়ে মুখ খুলল…

আবির:- হ্যাঁ, আমি ওদের বাসা খুঁজে দিতে পারব। কিন্তু একটা শর্ত আছে…..???

নীলিমা অবাক চোখে আবিরের দিকে তাকালো।
” কিসের শর্ত?”?

আবির:- আমি বাসা খুঁজে দেব ঠিক আছে, কিন্তু ওদের কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার যেন আমার কাঁধে না আসে।???
,
নীলিমা:- মানে???
,
আবির:- মানে সাধারণত বাসা বাড়িতে যারা থাকে তারা অনেকটাই রিস্কে থাকে। আর অধিকাংশ বাসার বাড়িওয়ালা কিংবা বাড়িওয়ালার ছেলেদের দৃষ্টি থাকে খুব খারাপ।
ওদের সেই কু-দৃষ্টি যদি কোনো ভাবে কোনো মেয়েদের উপর পরে তাহকে কেল্লা ফতেহ।
সর্বনাশ নিশ্চিত।
আশা করি, আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি সেটা তুমি বুঝে গেছ!!!
,
নীলিমা:- ????

লিমা আবিরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলছে__
” মনে হয় কাজ হয়ে গেছে দুলাভাই…”

নীলিমা:- কি বলছিস???
লিমা:- না মানে বলতে চাচ্ছিলাম আমার কোনো সমস্যা হবে না। আমি নিজেকে রক্ষা করে থাকতে পারব।
,
নীলিমা:- তুই রুমে গিয়ে শুয়ে পর। এ সম্পর্কে কাল কথা বলব তোর সাথে…???
,
লিমা রুমে চলে গেল।
আবির দরজা বন্ধ করে নীলিমার দিকে তাকালো। নীলিমার চিন্তিত মুখ দেখে বুঝতে কষ্ট হয়নি এ মুহূর্তে কি চলছে ওর ভেতর। আবির অনেক’টা কাটা গায়ে নুনের ছিটার মত’ই একটা কাজ করল। নীলিমার দিকে তাকিয়ে বিছানায় শুতে শুতে বলল_
” তো আর কি!
আমার বলা তো আমি বলে’ই দিলাম। আমি কালকে ওদের ঢাকা নিয়ে যাচ্ছি। আর বাসাও খুঁজে দেব।
হে আল্লাহ!
তুমি ওদের নিষ্পাপ দেহে কলঙ্কের দাঁগ লাগতে দিও না।
আমিন…..!!!!”

নীলিমা রাগান্বিত চোখে আবিরের দিকে তাকালো।

নীলিমা:- ????
আবির:- ?????
নীলিমা:- চুপ করে শুয়ে থাকুন। একদম কথা বলবেন না।

আবির:- হক কথা বললেই যত দোষ….????
নীলিমা:- আপনি চুপ করবেন???????
আবির:- আচ্ছা…. ????

নীলিমা ধপাস করে বিছানার অপর প্রান্তে শুয়ে পরল।

আবির নীলিমার দিকে তাকিয়ে আছে। নীলিমা ওদিকে ঘুরতে যাবে তখন’ই দেখে আবির ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
নীলিমা বালিশ থেকে মাথা উঠিয়ে চোখ বড় বড় করে আবিরের দিকে তাকাই।

নীলিমা:- ব্যাপার কী???
এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন???

আবির চোখ সরিয়ে নিয়ে মুখটা কালো করে অন্যদিকে ঘুরে শুয়ে পরে।

সেদিন সারা রাত নীলিমা বিছানায় ছটফট করেছে।
সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে সকালে কখন ঘুমিয়ে পরে টের পায়নি। আচমকা একটা দুঃস্বপ্ন দেখে নীলিমার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানা থেকে চিৎকার দিয়ে উঠে বসে নীলিমা। নীলিমার চিৎকারে রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে ওর মা। জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে???
নীলিমা ওর মাকে প্রশ্ন করে__
” মা! ওরা কি চলে গেছে?”
নীলিমার মা বলে_
” নাহ…
তবে রেডি হয়ে খেতে বসছে।”

নীলিমা:- ওহ…..
মা:- একটা কথা বলব???
নীলিমা:- হ্যাঁ, বলো মা…..
মা:- মেয়েটা খুব অসুস্থ্য। এই অবস্থায় অচেনা অজানা জায়গায় থাকবে। আমার না খুব কষ্ট হচ্ছেরে।
নীলিমা:-… ????
মা:- মারে….
ও কি তোদের ওখানে থেকে পড়াশুনা করলে তোদের কোনো সমস্যা হবে??????
নীলিমা:- মা তুমি এসব কি বলছ?
কষ্ট হবে কেন????
ও থাকবে। শুধু ও নয়।
ওর সব বান্ধবীরা থাকবে ঐ বাসায়।
মা:- সত্যি????
তুই যাচ্ছিস তাহলে???
নীলিমা:- হ্যাঁ, মা….আমি যাব।

নীলিমার মা নীলিমাকে আনন্দে জড়িয়ে ধরে।

মা:- আমি জানিরে মা তোদের মধ্যে কোনো সমস্যা হয়েছে। আর সেজন্য’ই তুই যেতে চাচ্ছিলে না।
,
নীলিমা অবাক হয়ে ওর মায়ের দিকে তাকালো।
,
নীলিমা:- মা তুমি….(……)……..????
মা:- কথা পরে হবে। আগে ফ্রেশ হয়ে আয়! খাবি……
নীলিমা:- আচ্ছা, তুমি যাও মা…..

নীলিমা ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে গেলে লিমা প্রশ্ন করে__
” কি ব্যাপার আপু? এত সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলা যে? কোথাও যাবে নাকি?”

নীলিমা:-……

আবির:- ????
লিমা:- আপুর কি খুব তাড়া???
এভাবে খাচ্ছ যে???☺☺☺☺

নীলিমা:-……..
আবির:- ????
লিমা:- ?????

খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ।
লিমা ইতোমধ্যেই জেনে গেছে নীলিমার তাড়াহুড়োর কারণ কি???
নীলিমা তাড়াহুড়ো করে ব্যাগপত্র গুছাচ্ছে।
এদিকে লিমার বান্ধবীরা চলে আসলে আবির গাড়িতে গিয়ে বসে। ওদের তিন বান্ধবীকে পিছনে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার জন্য রেডি হয়।
নীলিমা একরকম দৌঁড়ে গাড়ির কাছে আসে। আবির অন্য দিকে ভাব করে তাকিয়ে আছে।
নীলিমা গাড়ির কাছে এসে আস্তে করে বলছে_
” আমিও যাব…”
আবির শুনেও না শুনার ভান করে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।
নীলিমা এবার আরেকটু জোরে বলল_
” এই যে শুনছেন?!!!”

আবির নীলিমার দিকে তাকালো।
” কিছু বলবে?”
নীলিমা:- আমি উঠব….??
আবির:- কোথায়??????
নীলিমা:- গাড়িতে….
আবির:- ওহ…
গাড়িতে তো জায়গা নেই।তবুও দেখো পিছনে কোথাও বসা যায় কি না।

লিমা:- ভাইয়া…
পিছনে সম্ভব না জায়গা দেওয়া।
আমাদের’ই জায়গা হচ্ছে না।☺☺
আবির:- তাহলে আর কি???
নীলিমা:- একটু জায়গা হবে, প্লিজ….
আবির:- ওরা তো বলল জায়গা হবে না….
নীলিমা:- আপনার সাথে তো সিট খালি আছে। আমি কি ওখানে বসতে পারি…??????
আবির:-…….
নীলিমা:- প্লিজ….
আবির:- আচ্ছা,
উঠে বসো….

নীলিমা লাফিয়ে উঠে বসল।
গাড়ি চলছে। পিছনে লিমা এবং ওর বান্ধবীরা বিভিন্ন ধরনের গল্পে মেতে উঠেছে।

শুধু আবির-নীলিমা’ই চুপচাপ বসে যাচ্ছে। তিনঘন্টার রাস্তায় আবির একটা কথাও বলেনি যদিও নীলিমা বার বার বলতে চেয়েছিল।
বলতে চেয়েছিল_
” ওরা কোনো ভাড়া বাসায় নয়,
আমাদের বাসায় থাকবে।”

বেলা ১১টা নাগাদ ওরা গিয়ে ঢাকায় পৌঁছল।

আবির গাড়িতে বসেই বলল_
” লিমা! এই হলো তোমার দুলাভাইয়ার কুড়েঘর। এখানেই তোমার দুলাভাই থাকে। তোমরা ভেতরে গিয়ে ফ্রেশ হও।
আমি ততক্ষণে একটু ঘুরে ফিরে দেখে আসি কোথায় ভালো বাসা পাওয়া যায়…”

লিমা:- আচ্ছা, দুলাভাই…..

লিমাসহ লিমার বান্ধবীরা নেমে যায় গাড়ি থেকে।

আবির গাড়ি পিছন দিকে ঘুরাবে তখন দেখে নীলিমা চুপটি করে এখনো সে ভাবে’ই বসে আছে।

আবির:- তুমি???
এখনো বসে আছো???নামবে না?
নীলিমা:- আপনার সাথে কিছু কথা আছে….
আবির:- কথা পরে বলো।
আমি আগে ওদের বাসার খুঁজ করে আসি।
নীলিমা:- আগে আমার কথাটা শুনোন।
আবির:- খুব দরকারী???
নীলিমা:- হুম….???
আবির:- তাহলে বলো…..
নীলিমা:- ওরা এখানে থাকলে কি আপনার কোনো সমস্যা হবে???
আবির:- কারা???
নীলিমা:- লিমা ও ওর বান্ধবীরা….
আবির:- তুমি কি চাও???
নীলিমা:- ওরা এখানে থাকুক।
আবির:- তাহলে আর কোনো কথা আছে এখানে???
নীলিমা:- ????

নীলিমার মুখে বিজয়ের হাসি।
আবির গাড়ি গেইটের ভেতর নিয়ে যায়। নীলিমা গাড়ি থেকে নেমে রুমে চলে গেলে আবির কাজের লোককে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠায়।

আবির বাসায় এসে দেখে লিমা ও তার বান্ধবীরা বসে ব্যাগ থেকে জামা-কাপড় বের করে আলমারিতে রাখছে_
” তা শালিকারা কি করা হচ্ছে?”
আশা:- এইতো দুলাভাই জিনিসপত্র বের করছি….
আবির:- তারপর….
নদী- দীঘি….তোমাদের খবর?
জার্নি কেমন হলো???
দীঘি:- অনেক অনেক ভালো হয়েছে দুলাভাই….
আবির:- আচ্ছা, দীঘি!
তোমাদের দু’বোনের থেকে কে কত বছরের বড় ছোট???
লিমা:- ????
আশা:- ☺☺☺☺☺
আবির:- কি ব্যাপার?
তোমরা হাসো কেন????
আশা:- আসলে ভাইয়া আপনার প্রশ্ন শুনে হাসি আসল।
আবির:- হাসার কি বললাম আমি????
লিমা:- ভাইয়া ওরা এত বছরের বড় ছোট না, যতটা আপনি ভাবছেন।
আবির:- তো….!!!
নদী:- আমরা দু’জন জমজ বোন ভাইয়া….
আবির:- ওয়াও!!!
জমজ???
I mean twin baby?
আশা:- জি দুলাভাই…..
আবির:- ইস!
আমার যে কত্ত ইচ্ছে টুইন বেবির।?

লিমা:- হে আল্লাহ!
আপনি আমাদের দুলাভাইকে টুইন বেবির বাবা বানিয়ে দাও…..
সবাই একসাথে:- আমিন…….??

নীলিমা গোসল করে রুমের দিকে যাচ্ছিল।
এদের চেঁচামেচির আওয়াজে রুমে প্রবেশ করতে করতে বলল_
” কিরে???!!!
কিসের চেঁচামেচি এত???”
আবির:- ?????
আশা:- ☺☺☺☺☺☺☺
লিমা:- ????????
নদী-দীঘি:- ???????

নীলিমা:- কি হয়ছে তোদের?
হাসছিস কেন????
আবির:- কি হয়েছে এটা তুমি শুনে কি করবা? তুমি বরং গিয়ে দেখে আসো বুয়া কি রান্না করতেছে???

নীলিমা মাথার চুল মুছতে মুছতে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল।

আবির নীলিমার পিছন পিছন ছুটতে লাগল।

নীলিমা আয়নার সামনে গিয়ে চুল আচড়াচ্ছে। আবির পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। নীলিমা আয়নার ভেতর থেকে দেখে আবির পিছনে দাঁড়িয়ে।

নীলিমা পিছন ফিরে তাকালো।
” কিছু বলবেন?”
আবির:- জি…..
নীলিমা:- বলেন।
আবির:- ইয়ে মানে আসলে…..
নীলিমা:- কি হলো? বলুন…..
আবির:- আসলে আমার একটা জিনিস জানার ছিল।
নীলিমা:- বলেন….
আবির:- আমি জিজ্ঞেস করতে চাইনি। কিন্তু আমার কৌতূহলী মন আমায় শান্তি দিচ্ছে না। তাই….
নীলিমা:- বুঝলাম।
আমি বলুন আমার জানা থাকলে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনার কৌতূহল মেটাবার।
আবির:- তোমার ঐ ছোট জিনিসের নাম কি?????
নীলিমা:- কোন জিনিস???
আবির:- ঐ যে তুমি জামার নিচে পড়…….???

আবির হাত দিয়ে নীলিমার ঐদিকে তাক করে যেখানে….(…..)……

নীলিমা লাফ দিয়ে আবিরের থেকে দুরে সরে যায়।ওড়না দিয়ে শরীর ঢেকে নিচের দিকে তাকালো।

আবির:- লজ্জার কিছু নেই।
আমি কিছু দেখিনি।????
নীলিমা:- ?????
আবির:- কি হলো? বলো….

নীলিমা:- আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন।
আমি দেখি রান্না কতদুর???

নীলিমা কোনোরকম কথা বলে রুম থেকে বের হয়ে গেল।

রাত্রে খাওয়ার পরে_
নীলিমা ওদেরকে রুম বুঝিয়ে দিয়ে বিছানা পরিষ্কার করছে আবিরের রুমের। আবির সোফায় এসে বসল।
নীলিমা বিছানা গুছিয়ে আবিরের দিকে তাকালো।

আবির তখন চিন্তিত মনে সোফায় বসে আছে।

নীলিমা:- শুবেন না???
আবির:- (চুপচাপ)
নীলিমা:- শুইবেন না?(জোরে)
আবির:- হ্যাঁ……????
নীলিমা:- আপনি কি কোনো কারণে চিন্তিত???

আবির:- না, না…..
নীলিমা:- ওহ….
,
শুয়ে পরুন…রাত অনেক হয়েছে।

আবির কোনো কথা না বলে চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পরল। নীলিমাও লাইট অফ করে শুয়ে পরল।

অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ কেন জানি আবিরকে অন্যরকম লাগছে।
আজকে ওনি কি কোনো কিছু লুকোচ্ছেন আমার থেকে?
ওনি কি কোনো সমস্যায় আছেন???

ঘন্টাখানেক পর নীলিমা লাইট অন করে বিছানায় উঠে বসল।
আবিরের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল। আবির একদৃষ্টিতে অন্যদিকে তাকিয়ে তখনো কি যেন ভেবেই চলছে।

নীলিমা আবিরের পাশে গিয়ে বসল।
মনে মনে_
” আমি কি ওনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিব?”

নীলিমা বার কয়েক আবিরের মাথার কাছে হাত নিয়ে গিয়েও সরিয়ে আনল হাত।
শেষমেষ হাত দিয়ে’ই দিল।
নীলিমা যখন ওর হাত দ্বারা আবিরের মাথা স্পর্শ করল, আবির তখন চমকে উঠে মাথার পাশে তাকালো। তাকিয়ে নীলিমাকে এভাবে দেখে অবাক হয়ে যায় আবির। শুয়া থেকে উঠে বসে আবির।

আবির:- তুমি??? ঘুমাওনি এখনো???
নীলিমা:- আপনি কি কোনো কারনে চিন্তিত???
আবির:- নাতো।কেন???
নীলিমা:- আপনাকে দেখে চিন্তিত মনে হচ্ছে।
আবির:- সে একটু তো আছে’ই।
নীলিমা:- কোন সে কারণ???
আবির:- বলব???
নীলিমা:- বলেন…..
আবির:- আসলে কথাটা হলো….

আমার না খুব ইচ্ছে হচ্ছে টুইন বেবির বাবা হতে…..????

নীলিমা:- কি???
আবির:- জি……????

চলবে…..

অনামিকা ইসলাম অন্তরা
অনামিকা ইসলাম অন্তরাhttps://www.facebook.com/anamikaislam.antora.9
" আমিই শুধু রইনু বাকি। যা ছিল তা গেল চলে,রইল যা তা কেবল ফাঁকি।।"

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Lists of writers

Sultana Toma
200 POSTS0 COMMENTS
Maria Kabir
159 POSTS1 COMMENTS
Jubaida Sobti
126 POSTS0 COMMENTS
Rabeya Sultana Nipa
117 POSTS0 COMMENTS
Jannatul Ferdaus
64 POSTS0 COMMENTS
Jannatul Ferdous
48 POSTS1 COMMENTS
মিম
42 POSTS0 COMMENTS
Tabassum Riana
21 POSTS0 COMMENTS
AL Mohammad Sourav
15 POSTS0 COMMENTS
Shahazadi Humasha
12 POSTS0 COMMENTS
Abdullah Al Ador Mamun
11 POSTS0 COMMENTS
Tamanna
10 POSTS0 COMMENTS
Farzana Akter
8 POSTS0 COMMENTS
Sadiya Afrin
7 POSTS0 COMMENTS
Umme Nipa
7 POSTS0 COMMENTS
Nilufar_Nijhum Nijhum
4 POSTS0 COMMENTS
Tamanna Khan
4 POSTS0 COMMENTS
Shahriar Shuvro Sabbir
3 POSTS0 COMMENTS
Maruf Sabbir
3 POSTS0 COMMENTS
Joy Khan
2 POSTS0 COMMENTS

Most Popular

বা‌লিকা বধূ ৫ম পর্বঃ-শেষ পর্ব

বা‌লিকা বধূ ৫ম পর্বঃ-শেষ পর্ব #লেখাঃ_শার‌মিন_আক্তার_(#সাথী____) ----------তনয়‌াঃ আজ থে‌কে আমি মুক্ত মা! আয়াত না‌মের...

বা‌লিকা বধূ ৪র্থ পর্বঃ

বা‌লিকা বধূ ৪র্থ পর্বঃ #লেখাঃ_শার‌মিন_আক্তার_(#সাথী_____) --------আয়াতঃ প্লিজ তনয়া ব‌লো কি হ‌য়ে‌ছে? প্লিজ-----? তনয়াঃ আয়াত আজ পর্যন্ত...

বা‌লিকা বধূ ৩য় পর্ব

বা‌লিকা বধূ ৩য় পর্ব #লেখ‌াঃ_শার‌মিন_আক্তার_(#সাথী____) ---------তনয়ার ঘুমোন্ত মুখটার দি‌কে তা‌কি‌য়ে দেখ‌তে দেখ‌তে ওখা‌নেই ঘু‌মি‌য়ে...

বা‌লিকা বধূ ২য় পর্বঃ

বা‌লিকা বধূ ২য় পর্বঃ লেখাঃ_শার‌মিন_আক্তার_(#সাথী_____) ---------তনয়া ঘুমা‌চ্ছে আর আয়াত তা‌কি‌য়ে আছে তনয়ার...

Latest Posts

More