গল্প:-লাভ_ইউ পর্ব:-(০৪-শেষ)

0
1808

গল্প:-লাভ_ইউ পর্ব:-(০৪-শেষ)
লেখা:- AL Mohammad Sourav
!!
মীম চেয়ে আছে আর আমি চিন্তা করছি গোলাপটা হাতে নিবো কি নিবো না! তখনি মেয়েটা আমার হাতে গোলাপটা ধরিয়ে দিয়েছে! তা মিষ্টার সৌরভ আমাকে কি বিয়ে করতে আপনার কোনো আপত্তি আছে?

আমি:- আরে আজব মেয়ে তো আপনি? আমি তো আপনাকে চিনি না আর আপনি এসেছেন আমাকে বিয়ে করতেন? দেখুন আমার বউ আছে আমি বিবাহিত।

মেয়ে:- সত্যি আপনি বিবাহিত?

আমি:- হ্যা আমি বিবাহিত!
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



মেয়ে:- সরি আমি বুঝতে পারিনি আমাকে ক্ষমা করে দেন! আচ্ছা আমি রেনু আমাকে আপনি চিন্তে পারেন নাই?

আমি:- নাহ ঠিক চিন্তে পারছি না!

রেনু:- আমার আপুকে আপনি রক্ত দিয়ে ছিলেন!

আমি:- ও হ্যা মনে পরেছে! তা কেমন আছে আপনার আপু আর ওনার সন্তান!

রেনু:- হ্যা অনেক ভালো আছে! আপনাকে সেদিন ধন্যবাদটা জানাতে পারিনি তার জন্য সরি! ঐ দিনের পর থেকে রোজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকি আপনার জন্য! সত্যি আপনার মত ছেলেকে যে মেয়ে স্বামী হিসাবে পেয়েছে সে সত্যি লাকি!

আমি:- ধন্যবাদ! আচ্ছা তাহলে আমি গেলাম বাই! মীম তাকিয়ে আছে আমি চলে এসেছি! এখন ঠিত মত বাড়িতে যায়না কিছুটা দেরি করে যাই! তবে কিছু দিন ধরে মীমকে কিছুটা চিন্তিত মনে হচ্ছে! আমি নিচে বসে আছি তখন ভাবি এসেছেন!

ভাবি:- সৌরভ তোমার মোবাইলটা দাও তো?

আমি:- কেনো কি করবেন?

ভাবি:- দরকার আছে দাও! ভাবিকে মোবাইলটা দিলাম! আমি বসে আছি ভাবি কাকে যেনো ফোন করে কথা বলছে আমি রুমে দিকে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর মীম আমার মোবাইলটা নিয়ে এসেছে!

মীম:- নাও তোমার মোবাইল!

আমি:- হ্যা দাও!

মীম:- আচ্ছা তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?

আমি:- হ্যা করো?

মীম:- কিছুদিন ধরে দেখছি তুমি কিছুটা দেরি করে বাড়িতে আশা যাওয়া করছো! আমার সাথে ঠিক করে কথা বলছো না! কোনো কিছুর দরকার হলে ভাবির কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যাচ্ছো? কোনো সমস্যা হচ্ছে তোমার আমার কারণে?

আমি:- নাহ আমার কেনো সমস্যা হবে আর তাছাড়া কিছুদিন পরে তুমি চলে যাবে তাই বেশী মায়া লাগাচ্ছি না! তুমি চলে গেলে যাতে করে অল্পতে তোমাকে ভুলে যেতে পারি! যদিও তোমাকে মনে রাখার মত কোনো মুহূর্ত তৈরি হয়নি তাও তো তুমি আমার প্রথম স্ত্রী!

মীম:- হ্যা ঠিকই বলছো আমাকে কেনো মনে রাখবে আমি তো তোমার সাথে কোনো সময় কাটায়নি আর তোমাকে কোনো কিছু দেয়নি তাইনা?

আমি:- তুমি যেটা মনে করছো আসলে তার কিছুটা না! আচ্ছা রাত হয়ছে আমি ঘুমাবো! এমনিতেই আমার সকাল সকাল বের হতে হবে!

মীম:- তুমি আমাকে ভালোবাসো?

আমি:- অন্যের গ্রালফ্রেন্ডকে আমি ভালোবাসলে কি হবে আর না ভাসলে কি? আচ্ছা আমি ঘুমালাম বলে খাঠের উপর শুয়ে পড়েছি! মীম বিড় বিড় করে কি যেনো বলছে আমি শুয়ে পড়েছি! সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মীম ঘুমিয়ে আছে! আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়েছি! কিছুটা রাস্তা যাবার পর মনে হলো আমার পেছনে কেউ একজন বসে আছে! বাইকটা থামিয়ে চেয়ে দেখি মীম বসে আছে!

মীম:- কি হলো থামালে কেনো?

আমি:- তুমি কখন এসে বসেছো? আর তুমি কোথায় যাবে?

মীম:- আমাদের বাড়িতে যাবো! আর তুমি আমাকে নিয়ে যাবে! কথা কম বলে বাইক চালাও!

আমি:- এত সকালে বাড়িতে যাবে কেনো?

মীম:- দরকার আছে আজ বাদে কাল তো আমাদের ডির্ভোস হয়ে যাবে তাই একটু তাড়াতাড়ি করে বাড়িতে চলে যাই কেমন! এখন কথা কম বলে চুপচাপ যাও! আমি মীমকে নিয়ে ওদের বাড়িতে এসেছি!

আমি:- আচ্ছা এখন যাও আর সময় মত কাগজ পেয়ে যাবে!

মীম:- দেরি হলে খুন করবো! মীম যাবার সময় আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি মীমকে কিছু বলতে যাবো তখন সে ভিতরে চলে গেছে! আমি বাইক চালিয়ে অফিসে চলে এসেছি।

বাবা:- কিরে তুই না আজকে শ্বশুড় বাড়ি যাবার কথা তাহলে অফিসে আসলি কেনো?

আমি:- কে বলছে আপনাকে?

বাবা:- মীম বলছে!

আমি:- আপনি ভুল শুনছেন মীম একা যাবে আমি ওকে দিয়ে আসবো সেটা বলছে! আচ্ছা এখন আমাকে কাজ করতে দেন! বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি কাজে মন দিলাম! আজকে কেমন জানি নিজেকে শূন্য লাগছে! কাজ গুলি করে রাতে বাড়িতে গেলাম! বাড়িতে যাবার পরে মা বলে!

মা:- সৌরভ তুই একা মীম কোথায়?

আমি:- মীম ওদের বাড়িতে গেছে কিছু দিন থাকবে!

মা:- থাকবে মানে আমার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার দরকার ছিলো! এই বাড়িতে আমার কোনো দাম নেই নাকী? মা আরো অনেক রাগা রাগী করছে! আমি সব কিছু শুনে চুপ করে রুমের দিকে হাটা দিলাম! রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে একটা বড় করে নিশ্বাস নিয়ে নিলাম! বেশ কিছু দিন চলে গেছে মীমের সাথে তেমন কথা হয়না মীম ফোন করে রিসিভ করলে কথা বলে না! মা বার বার বলছে মীমকে গিয়ে আনতে! দেখতে দেখতে আজ এক মাসের উপরে হয়ে গেছে! আমার কিছু ডাইড়ী খুঁজতে গিয়ে হঠাত করে একটা নীল রং এর ডাইড়ীর দিকে চোখ পড়লো।

ডাইড়ীর উপরে লিখা লাভ ইউ আমার সবচেয়ে প্রিয় বরটাকে! আমি ডাইড়ীটা হাতে নিয়ে খুলেছি চেয়ে দেখি লিখা আছে! আজ ১১!১১!২০১৭ আমার সাথে প্রথম সৌরভের দেখা হলো! এক দেখায় ছেলেটার প্রেমে পড়ে গেছি!

বাড়িতে কথাবার্ত্রা চলছে মনে হয় মনের আশাটা পুরুন হবে! আমার প্রথম ক্রাশের সাথে আমার বিয়েটা হবে! সব শুত্রুতা ভুলে আমরা আজ এক হয়ে যাবো!

আজকেই আমি জানতে পারলাম আমার ক্যান্সার! আমি নাকী মাত্র ৮-থেকে-৯ মাস বেচে থাকতে পারবো! কিন্তু আমি তো এই নয় মাস ওকে ছাড়া থাকতে পারবোনা!

সিদ্যান্ত ফাইনাল এই নয় মাস আমি সৌরভের সাথে খুনসুটি করে কাটাবো! তাও ওকে বিয়ে করে নিবো।

বিয়েটা হয়ে গেছে সৌরভের সাথে আলহামদুলিল্লাহ। যদিও ভাবি আমার সবটা জানে কিন্তু ভাবিটা আমার একটু সুখের কথা ভেবে কাওকে কিছু বলেনি!

আমি এক মাত্র মেয়ে যে কিনা বাসর ঘরে স্বামীর আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছি! যদিও সবটা আমার দোষ! কিন্তু কি করবো আমার মরণ বেদী রোগ হয়ে আছে! আমি ছাড়া বাড়ির কেউ জানে না! সৌরভের সাথে মিথ্যা অভিনয় করতে আমার খুব কষ্ট হয় কিন্তু কি করবো আমি তো মাত্র অল্প কিছ দিনের অতীথী মাত্র।

সৌরভকে তো কত বার ট্রাই করেছি কিন্তু সে আমাকে ভালোবাসে! রেনু রবিন সবাইকে দিয়ে তাও সে আমাকে ভালোবাসে তাই আমি আর ওকে কষ্ট দিতে পারবোনা তাই ওকে দিয়ে ডির্ভোসের কাগজে সাইন করিয়ে নিবো।

সৌরভ রবিন কে তার গ্রালফ্রেন্ডের সাথে দেখছে! আমাকে সেইটা বলতে চায়ছে কিন্তু আমি শুনছিনা!

এখন থেকে সৌরভের সামনে কম আসতে হবে প্রাই রক্ত ভুমি হতে থাকে! আমার খুব ভয় হয় সৌরভ যদি কোনো দিন যেনে যায় আমি ওর কাছে এত বড় একটা সত্যি লুকিয়ে ওকে বিয়ে করেছি! নাহ এভাবে আর নয় কাল সকালে সৌরভের সাথে আমাদের বাড়িতে চলে যাবো। জানি না আর দেখা হবে কিনা আমার প্রথম ভালোবাসার মানুষটার সাথে!

আমি ডাইড়ীটার পাতা উল্টাতে আরম্ভ করেছি আর লিখা নেই! আমার চোখ বেয়ে পানি পড়তে আরম্ভ করেছে! আমি মোবাইলটা হাতে নিয়ে মীমের নাম্বারে ফোন করছি কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না! আমি বাইকের চাবিটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি!

মা:- কি রে এখন কোথায় যাচ্ছিস?

আমি:- মীমদের বাড়িতে! আর কোনো কথা বলিনি মা আরো কিছু বলতে চায়ছে কিন্তু বলার মত সুযোগ দেয়নি! সোজা চলে এসেছি মীমদের বাসায় ঢুকতেই শ্বাশুরী বলে!

শ্বাশুরী:- বাবা এত রাতে তুমি এসেছো?

আমি:- মীম কোথায়? তখনি ভাবি বলে!

ভাবি:- মীম হাসপাতালে সেই দুপুর থেকে! তুমি কেমন বর হলে মেয়েটাকে এমন ভাবে কেউ কষ্ট দেয়?

আমি:- ভাবি আমি কিছুই জানি না আপনি দয়া করে বলবেন মীম কোন হাসপাতালে?

ভাবি:- চলো আমার সাথে আমিও যাবো! ভাবির সাথে হাসপাতালে এসে দেখি মীমের বাবা ভাইয়ারা! আমাকে দেখে সবাই চোখ রাঙ্গাচ্ছে! মীমের কি অবস্থা এখন?

মীমের বাবা:- ডাক্তার দেখছে! আচ্ছা বউ মা তুমি যেনেও কেনো আমাদের বলোনি? মীম তো আমাদের থেকে দুরে থাকতো কিন্তু তুমি তো সব সময় ওর কাছে থাকতে!

ভাবি:- বাবা রোগটা আরো ৮ মাস আগেই ধরা পরেছে! মীম নিজেকে অনেকটা পাথরের মত করে সবার থেকে লুকিয়ে রাখছে! এখন আমি কি বলবো বলেন? তখন ডাক্তার বেড়িয়ে এসেছে!

ডাক্তার:- সৌরভ নামে কেউ আছেন ওকে দেখতে চাচ্ছে!

আমি:- জ্বি আমি সৌরভ! ভিতরে ছুটে গেলাম গিয়ে দেখি মীমের শরীর শুকিয়ে গেছে মাথার চুল গুলি কেমন কেমন হয়ে গেছে! আজ দের মাসের বেশী দিন পর দেখা! মীম আমাকে দেখে চোখের পানি ছেড়ে দিয়েছে! আমি মীমের কাছে গিয়ে মীমকে জড়িয়ে ধরেছি! দুজনে জড়িয়ে ধরে কান্না করছি কারো কোনো কথা নেই! মনে হচ্ছে আজ অনেক বছর পর আমি আমার ভালোবাসা পেলাম!

মীম:- আমাকে তোমার মনে থাকবে তো?

আমি:- কেনো এমনটা করলে জানতে পারি?

মীম:- কি করবো আমি তো তোমাকে হারাতে চায়নি কিন্তু আমাকে যেতে হবে! আমাকে একটু আদর করবে প্লিজ! আমি মীমের কপালে গালে এক এক করে চুমু খাচ্ছি তখনি মীম তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করছে! আমি যেনো সুখে পাথর হয়ে গেলাম! আস্তে আস্তে সবাই যেনে গেছে মীম পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে! মীমের কবর দিয়ে এসে সৌরভ তার সব কিছু যেনো মাটি দিয়ে এসেছে! সৌরভের বাবা মা ওকে বিয়ে করতে বলে কিন্তু সে আর বিয়ে করবে না বলে সিদ্যান্ত নেই! সৌরভের ভাইয়ের একটা মেয়েকে নিজের মেয়ের মত সৌরভ লালন পালন করছে এমনটা করে আর মীমের দেওয়া ডাইড়ীটা বার বার পরে চোখের পানি ফেলে দিনের পর দিন পার করে দিচ্ছে!
!!
সমাপ্তি!
কেমন হয়ছে জানিয়ে দিবেন কমেন্ট করে!

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে