গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫)

0
503

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫)

লেখা_AL Mohammad Sourav
!!
সৌরভ তোর আম্মাকে এখন কিছু জিজ্ঞেস করে লাভ হবেনা কারন তোর মা এখন তসিবার ভক্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু তসিবার কথা শুনবে আর কে কি বলছে সেই দিকে কান বা খেয়াল দিবেনা। (আব্বা)

আমি:- হঠাত করে কি এমন হলো?

আব্বা:- এদিকে আয় আমি বলছি! আমি এগিয়ে আব্বার কাছে গেছি। শুন তার কারন হলো আমি বলে দিয়েছি তসিবার নামে পঞ্চাশ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা আছে। আর সেই টাকা তসিবা নিজেই উঠাতে পারবে অন্য কেউ নয়। তার জন্য তোর আম্মা তসিবার সাথে এমন করছে।

আমি:- কিন্তু তসিবা তো সেই টাকা এখুনি তুলতে পারবেনা।

আব্বা:- সেইটা আমি জানি কিন্তু এই টাকার লোভে তোর মা এখন আর তসিবার সাথে খারাপ আচরন করবেনা।

আমি:- কিন্তু আম্মা যদি জানে যে এখন তসিবা টাকা দিতে পারবেনা তখন তো আরো ঝামেলা করবে।

আব্বা:- আমি বলেছি আরো দুই বছর পর তসিবা টাকা পাবে তোর আম্মাকে সব যেনে এমন করছে। আপদত দুই বছর যাক পরেরটা পরে দেখা যাবে।

আমি:- তা ঠিক বলছেন। আচ্ছা আব্বা আপনি আম্মাকে কেনো বলছেন তসিবা কোনো দিন মা হতে পারবেনা। আজ তার জন্য আম্মা তসিবার সাথে অনেক খারাপ আচরন করছে।

আব্বা:- আমি তো তোর মাকে বলিনি এই কথা!

আমি:- তাহলে আম্মা যে আপনার নাম বলছে।

আব্বা:- আমার নাম বলছে! দ্বাড়া এখুনি আমি জিজ্ঞেস করি। এই সাহেলে (আম্মার নাম সাহেলা) শুনো তো আমি তোমাকে কখন বলেছি যে তসিবা মা হতে পারবেনা?

আম্মা:- আমার ভুল হয়ে গেছে আসলে কথাটা বলছে তসিবার সৎ মা। কিন্তু তসিবার সৎ মা বলছে আপনার সাথে যখন তসিবার বাবা বলছে তখন ওনি শুনছে। আর আপনি তসিবার সৎ মাকে এই কথা বলছেন।

আব্বা:- ও তার মানে তুমি তসিবার সৎ মায়ের কাছ থেকে শুনেছো?

আম্মা:- হ্যা ওনি আমাকে কথাটা বিয়ের দিন বলছে তখন তো আমি বিয়ে করাতে রাজি হয়নি। আর তখনি তো তসিবার বাবা বলছে চার লক্ষ টাকা দিবে আর আসবাপত্র দিবে। তখন আপনি বলছেন সৌরভকে যাতে এসবের ব্যাপারে কিছু না বলি। যদি বলি তাহলে টাকা আর আসবাপত্র কিছুই দিবেনা।

আব্বা:- হ্যা তখন বলেছিলাম। এখন ঠিক আছে তুমি তোমার কাজ করো তানা হলে তোমার পঞ্চাশ লক্ষ টাকা শেষ।

আম্মা:- হ্যা তা একদম ঠিক বলছেন। আম্মা আবার তসিবার কাছে গেছে। তসিবা আমার দিকে তাকিয়েছে আমা চোখ টিপ দিয়েছি তসিবা লজ্জা লাল করে নিয়েছে চেহারা।

আমি:- আচ্ছা আমি তাহলে এখন যাই।

আব্বা:- শুন সৌরভ।

আমি:- হ্যা বলুন।

আব্বা:- তসিবা মা হতে পারবে। তসিবার কোনো সমস্যা নেই। ছোট বেলা তসিবার এভিন্ডি সাইটের ব্যাথার জন্য অপারেশন করানো হয়ছে। অন্য কোনো কারনে নয়।

আমি:- তাহলে এই কথাটা কেনো বলছে তসিবার বাবা?

আব্বা:- আসলে তসিবার বাবাকে আমি বলেছি এমন কথা বলতে কারন তসিবার সৎ মা চায়ছে ওর বোনের ছেলের সাথে তসিবাকে বিয়ে দিবে। তাই আমরা ডাক্তারকে দিয়ে এমন কথা বলায়ছি। তারপর তসিবার সৎ মা আর তসিবার বিয়ে দেওয়ার জন্য রাজি হয়নি ওর বোনোর ছেলের সাথে।

আমি:- আব্বা আপনি আমাকে অনেক বড় একটা সুসয়বাদ দিয়েছেন ধন্যবাদ আপনাকে বলে আব্বাকে জড়িয়ে ধরেছি। জিবনের প্রথম আব্বাকে এতটা ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেছি।

আব্বা:- হয়ছে এবার ছাড় আরেকটা কথা তুই আমাকে বল তসিবাকে অনেক সূখে রাখবি আর ওকে কোনো কষ্ট দিবিনা?

আমি:- তসিবাকে আর কোনো কষ্ট দিবোনা ওকে অনেক সূখে রাখবো কথা দিলাম।

আব্বা:- আর শুন তুই এখন তসিবাকে বলিসনা যে তসিবা মা হতে পারবে। কারন তসিবা বিশ্বাস করবেনা এক কাজ কর একজন ভালো গাইনী ডাক্তারকে দিয়ে তসিবাকে চেকাপ করা এরপর রিপুট দেখে তখন অনেক খুশি হবে আর তোর প্রতি ওর ভালোবাসাটা বেড়ে যাবে কেমন।

আমি:- আজকে তো আমি তসিবাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। আর চেকাপ করিয়ে কিছু টেষ্ট দিয়ে এসেছি।

আব্বা:- ভালো করেছিস আর রিপুটের পরে সত্যিটা বলিস কেমন।

আমি:- আচ্ছা। তাহলে আমি রুমে যাই?

আব্বা:- হ্যা যা। আজ থেকে আমি অনেকটা চিন্তা মুক্ত হলাম আর রাতের ঘুম ভালো ভাবে হবে। এখন তোর মায়ের কান্ড গুলি দেখবি তোর মা এখন তসিবাকে মাথায় তুলে রাখবে। তসাবা ছাড়া কিছুই বুঝবেনা। আচ্ছা আমি যাই আমার ঘুম পাচ্ছে।

আমি:- আচ্ছা যান। আব্বা চলে গেছে! আমি তাকিয়ে দেখি বড় ভাবিকে দিয়ে তসিবার জন্য এটা ওটা আনিয়ে ক্লান্ত বানিয়ে ফেলছে। আর তসিবাকে খাওয়াতে খাওয়াতে পেট বড় করে ফেলছে। আম্মা তসিবাকে আর কত খাওয়াবে? তসিবা এসো আমরা রুমে যাই।

আম্মা:- সৌরভ তুই যা বউমাকে আমি উপরে নিয়ে আসছি।

আমি:- নাহ থাক তসিবা এসো আম্মা আবার আগামীকাল খাওয়াবেন কেমন।

আম্মা:- তাহলে এক কাজ কর বউমাকে কোলে করে রুমে নিয়ে যা। বউমার সিড়িঁ বেয়ে উপরে যেতে কষ্ট হবে।

তসিবা:- থাক মা আমি নিজে হেটে হেটে যেতে পারবো।

আম্মা:- নাহ একদম না যদি সিঁড়ি থেকে পরে যাও তাহলে অনেক সমস্যা হবে। সৌরভ দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বউমাকে কোলে করে উপরে নিয়ে যা।

ভাবি:- সৌরভ আম্মাজান যা বলে তা করো আর তসিবা তুমি কি বলোতো? তোমার বর তোকে কোলে নিলে সমস্যা কি তোমার?

তসিবা:- আমাকে কোলে নিলে তো আমার ভালোই লাগে।

আমি:- সবাই কথা বলা বন্ধ করেন তসিবা এসো কোলে করে নেই। তসিবাকে কোলে তুলে নিলাম। আম্মা ভাবি খুব খুশি হয়েছে।

আম্মা:- আস্তে আস্তে যাবি তোর ঠেঙ্গ ভাঙলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার বউমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

আমি:- হ্যা বুঝতে পারছি।( টাকার গন্ধপায়ছেন) কথাটা মনে মনে বলছি। তসিবাকে নিয়ে রুমে এসেছি। তসিবাকে খাঠের উপর শুয়ি দিয়েছি। আমি চলে আসতেছি তখনি তসিবা আমার সাট টেনে ধরছে। কি হলো সাট ধরলে কেনো?

তসিবা:- আমার কিছু চায়।

আমি:- কি লাগবে বলো?

তসিবা:- আদর আর ভালোবাসা। বলে টান মেরে আমাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরেছে। তসিবা আমাকে পাগলের মত কিস করে যাচ্ছে আমিও আমার বউকে আদর করে দিয়েছি। তসিবাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমালাম। সকালে ঘুম ভাঙছে তসিবার স্পর্শে।

আমি:- কি করছো তুমি?

তসিবা:- কিছুনা ছয় মাসের ভালোবাসা কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছি। আর আমার আপনার কাছে থাকলে মন চায় শুধু আদর করতে আর আদর পেতে।

আমি:- আজকের মত ছেড়ে দাও আজান হয়ে গেছে ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে যাও। আর আমিও ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে যাবো।

তসিবা:- ঠিক আছে ছেড়ে দিবো কিন্তু আগে আমাকে গালে কপালে আদর করে দেন।

আমি:- ঠিক আছে! তসিবাকে কপালে গালে আদর করে দিয়ে আমি ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে গেলাম। নামায পড়ে সকালের আবহাওয়াটার উপবোগ করেছি। কিছুটা হাটা হাটি করতেছি আমি আব্বা আর ভাইয়া।

ভাইয়া:- অবশেষে আমাদের সংসারে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে। সৌরভ তোর কাছে একটা রিকুয়েস্ট তসিবাকে আর কষ্ট দিসনা। তসিবা মেয়েটা খুব ভালো আর তোকে অনেক ভালোবাসে।

আমি:- হ্যা ভাইয়া ঠিকই বলছিস। তসিবা আমার জন্য একদম পারফেক্ট একটা বউ।

ভাইয়া:- আব্বা চলেন বাড়িতে যাই।

আব্বা:- আরেকটু হাটা হাটি করি তারপর যাই।

ভাইয়া:- আচ্ছা তাহলে আপনারা হাটেন আমার আজ একটু তাড়া তাড়ি বেড় হতে হবে কাজ আছে।

আমি:- ভাইয়া শুন তুই সন্তান নেসনা কেনো?

ভাইয়া:- এইটা তোর ভাবিকে বলিস সে নিতে চায়না তখনি আব্বা বলে।

আব্বা:- সৌরভ এখানে আমি আছি কিন্তু।
(তখন আমরা চুপ হয়ে গেছি) সৌরভ কিন্তু ঠিক বলছে তোদের এবার সন্তান নেওয়া উচিত। আমারো তো ইচ্ছে হয় দাদা ডাক শুনতে।

ভাইয়া:- আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আমি গেলাম বলে ভাইয়া চলে গেছে আমি হাসতেছি।

আব্বা:- সৌরভ তোকে একটা সত্যি কথা বলা হয়নি।

আমি:- কি সত্যি কথা?

আব্বা:- কথাটা তসিবার ব্যাপারে।

আমি:- হ্যা বলেন।

আব্বা:- কথাটা শুনার পর আবার তসিবাকে ঘৃণা করবিনা তো? আর তসিবাকে আবার ভুল বুঝবিনা তো? তসিবাকে তাড়িয়ে দিবিনা তো?

আমি:- আব্বা আপনি বলেন আমি আর তসিবাকে ঘৃণা করবোনা, তাড়িয়ে দিবোনা, আর কোনো ভুল বুঝবোনা। তসিবা আমি আর কোনো কষ্ট দিবোনা।

আব্বা:- হ্যা বলছি (তখনি আব্বার ফোন আসছে আব্বা ফোনটা রিসিব করে কথা বলতেছে। আব্বাকে কিছুটা চিন্তিত মনে হচ্ছে) সৌরভ তুই বাড়িতে যা আমি পরে বলবো আমার এখুনি অফিসে যেতে হবে।

আমি:- কি হয়ছে কোনো সমস্যা?

আব্বা:- নেহ কোনো সমস্যা না একটা কাজ পড়েছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে তুই বাড়িতে যা আমি পরে বলবো কথাটা। ( আব্বা চলে গেছে আমি বাড়ির দিকে যাচ্ছি আর আব্বার কথাটা মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে আব্বা কি বলবে তসিবার ব্যাপারে? চিন্তা করতে করতে বাড়িতে এসেছি)

আম্মা:- সৌরভ এত দেড়ি করলি কেনো? আর তোর আব্বা কোথায়?

আমি:- একটু হাটতে গেছিলাম। আর আব্বা অফিসে গেছে কি জুরুরী কাজ পড়ছে নাকী।

আম্মা:- ঠিক আছে! আর শুন তসিবাকে সাথে করে নিয়ে নিচে আসিস নাস্তা করে যাবে।

আমি:- তসিবা এখনো রুমে? (তখনি ভাবি বলে)

ভাবি:- সৌরভ তসিবা নিচে এসেছে আর কাজ করতেছিলো কিন্তু আম্মাজান ওকে কোনো কাজ করতে দেয়নি।

আম্মা:- হ্যা বউমার এই ছয় মাসে অনেক কষ্ট পায়ছে তাই এখন থেকে শুধু আরাম আর আরাম করবে। তাই আমি বলেছি রুমে গিয়ে শুয়ে থাকতে। তুই নিচে নামার সময় তসিবাকে সাথে নিয়ে নামবি কেমন?

আমি:- ঠিক আছে! আমি রুমে দিকে গেলাম। দেখি তসিবা বসে সাজ গুজ করতেছে আমি রুমে ঢুকেছি।

তসিবা:- এসেছেন আজ এত দেড়ি করলেন কেনো? (তখনি পান্জাবির পকেট থেকে একটা লাল গোলাপ হাতে দিয়ে বলি)

আমি:- হেপি বার্থডে টু ইউ।

তসিবা:- আমার জন্মদিন আপনি জানলেন কি করে?

আমি:- ডাক্তারকে তোমার বয়স আর ডেথ অফ বাথডে বলছিলে তখন মনে রেখে দিয়েছি। তখন তসিবা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিয়েছে। আমি ওর চোখের পানি মুছে দিয়েছি। আরে দূর আমার বোকা বউ কান্না করছো কেনো আজকের দিনে কান্ন করতে নেই।

তসিবা:- উম্মা যান আমি গিফট দিলাম। তাড়া তাড়ি রেডি হয়ে নেন আজকে তো আবার হাসপাতালে যেতে হবে আমার রিপুট আনার জন্য।

আমি:- হ্যা অফিস থেকে এসে তোমাকে সাথে নিয়ে যাবো কেমন।

তসিবা:- ঠিক আছে।

আমি:- আমি উয়াশ রুম থেকে রেডি হয়ে আসছি। কিছুক্ষনের মধ্যে রেডি হয়ে নিলাম তসিবাকে সাথে করে নিচে গেলাম। আম্মা তসিবাকে অনেক আদর যত্ন করে খেতে দিলো।

আম্মা:- তসিবা মা তুমি আগে ফিন্নিটা মুখে দাও তো কেমন হয়ছে। তসিবা ফিন্নি খেয়েছে।

তসিবা:- অনেক টেস্ট হয়ছে।

আমি:- আচ্ছা আমার নাস্তা হয়েছে তসিবা আমি অফিসে গেলাম তখন তসিবা আমার সাথে দরজা পর্যন্ত এসেছে উম্মা তসিবার কপালে কিস করে আমি চলে এসেছি। তবে বার বার একটা কথা খুব মনে পড়ছে আব্বা তসিবার ব্যাপারে কোন কথাটা বলতে চায়ছে? To be continue,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here