গল্প খোলা চিঠি পর্ব ০৫

0
507

গল্প খোলা চিঠি পর্ব ০৫
——–??সেই দিনের পর থেকে নীলিমা আসাদকে কখনো এই বেবি প্রসঙ্গে কিছু জিগ্যেস করেনা,
নীলিমা বুঝতে পারে এই বেবির সবটাই জানে আসাদ, তাকে নতুন করে কিছু জিগ্যেস করা মানে তার মনের ঘাটা তাজা করে তাকে আঘাত করা,,,

★এভাবে দেখতে দেখতে কেটে যায় নয় মাস,
–আসাদ খুব ভালো একজন স্বামীর দায়িত্ব পালন করে প্রতিটি মুহূর্তে নীলিমার পাশে থেকে,
নীলিমাকে কোন কিছু বুঝতে না দিয়ে নিজের ভিতর ব্যাথার পাথর চাপা দিয়ে হাসি মুখে পালন করে তার দায়িত্ব,
কারন ভালবাসা আর কর্তব্যের চাদরে মোড়ান ছিলো আসাদের মন!!

★নয় মাস পর—-
আসাদ আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করে নীলিমার পা দুটো ফুলে গেছে,
আসাদ : এই নীলু!!
নীলিমাঃ হুম বলো,
এই তোমার পা তো অনেক ফুলে গেছে,
নীলিমাঃ হুম,
আসাদঃ আমাকো বলো নি কেনো?
নীলিমাঃ আমি ও কাল খেয়াল করেছি,
ওকে উঠো তোমাকে বারান্দায় একটু ধরে ধরে হাটাই,
আচ্ছা দাঁড়াও,
নীলিমাকে আসাদ অনেক সময় ধরে হাটালো,

★বিকেলে নীলিমা ঘুম থেকে উঠলো,
আসাদ ও পাশে শুয়ে আছে,
আজ দুদিন হলো আসাদ বাইরের কোনো কাজে যায়না,
নীলিমার ডেইলিভারির টাইম ঘনিয়ে আসছে তাই কখন কি হয় এই ভেবে বাসায় থাকে আসাদ,

★নীলিমা মাথাটা খাটের সাথে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে,,
আসাদ : কি হলো নীলু?
নীলিমাঃ ভালো লাগছে না, কেমন যেনো লাগছে!
আসাদঃ কি বলো?
চলো ডাক্তারের কাছে যাই,
–না আমার তো আরো দুদিন বাকি আছে,
আসাদ : না আমি কোনো রিস্ক নিতে চাইনা নিলু!
আজ এখুনি চলো,,,

আসাদ : তুমি রেডি হও আমি তোমার প্রয়োজনীয় জিনিষ গুছিয়ে গাড়ি বের করছি,
নীলিমাঃ তোমার এটা পাগলামি!
বললাম আরো সময় আছে, আমি তো ভালো আছি!
আসাদঃ হুম পাগল তো আমি অবশ্যই!
নয়তো কেনো সব কিছু……
আসাদ কি বলতে গিয়ে থেমে গেলো,
নীলিমাঃ কি বলতে চেয়েছিলে বলো!
আসাদঃ ন কিছুনা,
এটা আমার পাগলামি মনে করলে করতে পারো!

–আসাদ তার ছোট ভাই আজাদকে ডেকে বলে—
আজাদ আমি তোর ভাবিকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি তুই বাসায় থাকিস,
আর যদি প্রয়োজন হয় আমি তোকে খবর দিবো,
তুই শুধু আমাদের জন্য দোয়া করিস,
আমি যেন আমার বউ বাচ্চাকে সুস্থ অবস্হায় বাসায় নিয়ে আসতে পারি,
আজাদঃ ওকে ভাইয়া যাও,
তোমরা যাও আর এখানকার কথা ভেবো না,
আমি আছি,,,

★আসাদ খুব সহজে আজাদকে কথা গুলো বলে দিলো ঠিক কিন্তু তার ভিতরে কি পরিমাণ ঝর বইছে এটা কেবল আসাদই জানে!
বুকের ভিতর এক সাগর পরিমাণ কষ্ট রেখে কি করে হাসি মুখে কথা বলতে হয় এটা আসাদকে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না,,

★আজাদ ও জানে এই বেবি তার,
কারন নীলিমা আসাদের অপারগতার কথা আজাদের কাছে শেয়ার করে আর আস্তে আস্তে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে,
আজাদ ও মনে মনে অবাক এই ভেবে যে,
আসাদ জানে এই বেবি তার নয় তবুও কতো ভালো একজন হবু বাবার আর আদর্শ স্বামীরদায়িত্ব সে পালন করছে কোন প্রকার দায়িত্বে অবহেলা ছাড়া!
আজাদ ও মনে মনে অনেক অনুতপ্ত এই বিষয় নিয়ে!
আসাদের সামনে পরলেই লজ্জায় মরে যেতে মন চায় আজাদের!!!

★যাই হোক, আসাদ নীলিমাকে হসপিটালে এডমিট করে ডাক্তারের কাছে যায় বাকি ফরমালেটি পূরণ করতে,
নীলিমা বেডে শুয়ে আছে আর ভাবছে কি করবে সে?
কেমন করে একজন মানুষ সারাটি জীবন এমন একটি গ্লানি বয়ে বেড়াবে যার সাথে তার যোগসূত্র নাই?
এই বেবিকে সে কেমন করে আপন করে নিবে?
এসব আনমনে ভাবছে আর তখনই আসাদ আসে তার কাছে,,,

★আসাদ : কি ভাবছো নীলু?
নীলিমাঃ কই কিছু না তো,
আসাদঃ হুম গুড কিছু ভাবতে হবেনা সব রেডি করা আর আমি ডাক্তার কে বলেছি লেট না করে আর্লি তোমার সিজার করে ফেলতে,
নীলিমা : হুম ওকে,

নীলিমাকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়,
আসাদ বাইরে বসে আছে,
কেনো জানি আসাদের দুচোখ বেয়ে পানি ঝরছে,
–আসাদ নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে —
কেন আমি ও কে এতো ভালোবাসি?
আমি জানি না পৃথিবীর অন্য সব স্বামীদের কাছে কেমন লাগতো তবে আমার কাছে কেন মনে হচ্ছে নীলিমার কোন দোষ নাই?
হয়তো আছে!
আমার চোখে লাগছে না,
হয়তো এটা আমার অন্ধ ভালবাসার ফল!

★এসব নানান কথা ভাবছে আসাদ,
হঠাৎ নার্স এসে বলে—
আসাদ সাহেব আপনার একটি ছেলে হয়েছে,
তবে ছেলে কিন্তু আপনার বা মেডামের মতো ফর্সা হয়নি শ্যাম বর্ণ হয়েছে,
আসাদ একটু মুচকি হাসি দিলো,
আর মনে মনে ভাবলো ছেলে বাবার গায়ের রং পেয়েছে,

★আসাদ ওর মায়ের মতো ফর্সা হয় আর আজাদ বাবার মতো শ্যামলা,
নীলিমা ও অনেক ফর্সা থাকে,
আসাদ কেবিনে ঢুকে প্রথমে নীলিমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসি দিয়ে বলে–
“”চিন্তা করো না তুমি জলদি ঠিক হয়ে যাবে,
আর এই দেখো আমাদের ছেলে হয়েছে এই বলে বেবির দিকে তাকাতেই আসাদ অবাক,

★এ যেন আজাদের কার্বন কপি,
আজাদের ছোট বেলার সেই চোখ,
সেই নাক আর মুখের গড়ন,,,
আসাদ ভাবে প্রকৃতির এ কেমন বিচার?
এই বেবির ছায়া প্রতিনিয়ত জানান দিবে আসাদ নয় আজাদই এই বেবির আসল বাবা!!!

★আসাদের মৃত্যু ঘন্টা যে সেদিনই বেজে ওঠে,
আসাদ নীলিমা আর নিউ বেবিকে নিয়ে বাসায় আসে,
এলাকাতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়,
এভাবে দিন যেতে থাকে,
আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে ছোট আজাদ,
বেবির নাম রাখা হয় “” আরহাম””

★আরহামের যখন তিন বছর অনেকটাই আজাদের মতো দেখতে এমনকি তার আচার আচরণ ও আজাদের মতোই,
এসব দেখে বেচে থাকাটা যেনো আসাদের কাছে হাস্যকর মনে হতে লাগলো!
নিজের আমিত্বের সাথে মানুষ কতো সময় সমোঝতা করতে পারে?
আসাদের ও কেমন জানি সহ্য করার ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে আসতে থাকে!!!
(চলবে)

লেখা : মুসকান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here