গল্প খোলা চিঠি পর্ব ০২

0
1166

গল্প খোলা চিঠি পর্ব ০২

★★নীলিমাকে যেদিন আসাদ আর আজাদ দেখতে যায় আসাদের ভাই আজাদ দুষ্টুমি করে বলে-
“কি ভাইয়া এই বয়সে ও এমন একটি মেয়ে পেলে!
ওকে তোমার সাথে একদম যায় না,
আমার সাথে ভালো মানাবে”
এই বলে আজাদ অট্ট হাসিতে ফেটে পরে আর বলে বলে—
“কি ভাইয়া ভয় পেলে?
তোমার বউ নিয়ে না আমি আবার পালিয়ে যাই,
আরে দুষ্টুমি করলাম!!
রাগ করলা?

আসাদঃ ধুর বোকা রাগ করবো কেনো?
তুই আমার আদরের ছোট ভাই তোর যা মন চায় বলতে পারিস এতে রাগ করার কি আছে?
আসাদ একটু শুকনো মুখেই বলে,

সেদিন আসাদ একবারের জন্য ও ভাবেনি এই দুষ্টুমি করার কথা গুলো একটা সময় এমন করে সত্যি হবে,
এমন করে বাস্তবে পরিণত হবে!
এমন করে তাকে দুনিয়া ছাড়তে হবে!!

–যাই হোক আসাদ আর নীলিমার বিয়ে হলো,
মোটামুটি ধুমধাম করেই হলো কারন এলাকায় আসাদের একটা ভালো সুনাম ছিলো,
তাই মোটামুটি ভালো একটা অনুষ্ঠান করেই বিয়েটা হলো,

এলাকার অনেক নামীদামী লোক আসে বিয়েতে,
সবার একটাই কথা এই বয়সে এমন বউ!!
আসাদ যে দেখতে আনস্মার্ট ছিলো তা কিন্তু নয় তবে নিজের বয়সের তুলনায় অনেক কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে করে বিতর্কিত ছিলো আসাদ!
আর সেই বিতর্কিত বিষয়টিই তাকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যায়,,,

নীলিমার বাবা মা ও অনেক খুশি মেয়েকে এমন একজন অবস্থাসম্পন্ন ছেলের সাথে বিয়ে দিতে পেরে,
নীলিমার বাবা জানে অধিক বয়সের কারনে নীলিমা এই বিয়েতে তেমন রাজি ছিলোনা,
তবুও মেয়ের সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে এ বিষয়টা টোটালি এড়িয়ে যান তিনি,
তিনি ভাবেন বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে একটা সময়,

মেয়েকে বিদায় দিবার সময় নীলিমার বাবা নীলিমাকে আস্তে করে শুধু একটা কথাই বলেন-
“দেখ মা জীবনে হয়তো নিজের মন মতো অনেক ছেলেই পাবি কিন্তু আসাদের মতো বর শুধু কপাল গুনেই মিলে!!
অনেক সুখি হবি যদি ছেলেটাকে একটু বুঝে চলিস!

–যাই হোক বিয়ে সম্পন্ন হয়,
নীলিমা বাসর ঘরে বিছানার উপর বসে আছে,
আসাদ আস্তে করে রুমে ঢুকলো,
বিছানার দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো,
ওমা এ যেন আসমান থেকে পরি এসে তার খাটের উপর বসে আছে!!
মনে মনে খুব খুশি হলো এই ভেবে যে,
“যাকে এতদিন শুধু পথে ঘাটে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব ছিলাম সে আজ আমার ঘরে!
আমার বিছানায়!!!

–খুব সুন্দর লাগছিলো নীলিমাকে,
আসাদ যেনো চোখ সরাতে পারছেনা কিছুতেই,
সে আস্তে করে বিছানার এক পাশে বসলো,
খুব নার্ভাস ফিল করছিলো আসাদ,
এ যেনো অন্যরকম এক অনুভূতি!!

–নীলিমাকে সে কি বলবে বুঝতে পারছেনা,
তার কাছে সব কিছুই যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছিলো কারন নীলিমা এতোদিন শুধুই তার স্বপ্নের সাথি ছিলো,
আজ এতো কাছে পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে আসাদ!!!

–কি বলবে আসাদ নীলিমাকে বুঝতে পারছিলো না,
কিন্তু কিছুতো বলা দরকার,
আসাদ মাথাটা নিচু করে বসে আছে,
হঠাৎ একটা মিষ্টি কণ্ঠ তার কানে ভেসে এলো,

“”কিছু বলবেন আপনি?
কিছু বলতে চাইছেন আমাকে?
–না মানে আপনি শুয়ে পরুন অনেক রাত হলো তাছাড়া সারাদিনের ধকলে আপনি অনেক ক্লান্ত,

–আসাদের কথা শুনে নীলিমা ফিক করে হেসে দিয়ে বলল–
“”এই প্রথম শুনলাম কোন ছেলে বাসর ঘরে তার বউকে শুয়ে পরতে বলল””
আসাদ মাথা উচু করে নীলিমার দিকে তাকিয়ে রইলো,
–কারো হাসি কি করে এতো মিষ্টি হয়?

–আসাদ একটু লজ্জা পেয়ে বলল—
না মানে আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক পরিশ্রান্ত,
নীলিমাঃ তাই নাকি?
কে বলল আপনাকে?
আমি পরিশ্রান্ত কেন হবো?
সারাদিনই তো বসে ছিলাম!!!

আসাদঃ হুম সেটাই তো বললাম সারাদিন বসে থাকা ও একটা কষ্টকর কাজ!
নীলিমাঃ তাই?
আসাদঃ হুম তাই,
নীলিমাঃ কিন্তু আমি তো ক্লান্তি অনুভব করছিনা,
আমার খুব মজা লাগছে,

আসাদ নীলিমাকে বলে—
“”আচ্ছা আপনাকে একটা কথা জিগ্যেস করি?
নীলিমাঃ হুম করেন,
যা ইচ্ছে বলতে পারেন আপনি,
দশ লক্ষ টাকা কাবিন করে আমাকে বিয়ে করেছেন আপনার যা খুশি বলার অধিকার আছে বুঝলেন!!!

আসাদঃ এটা কেমন কথা বল্লেন?
এসব আর বলবেন না প্লিজ! ”
নীলিমাঃ আজব তো!!!
কি বললাম আমি?
যা সত্যি তাই বললাম,
আমি সত্যিটা খুব সহজে স্বীকার করে নেই,

হঠাৎ নীলিমা বলে,
“”আমার হাতটা একটু ধরবেন?
আসাদ আরো নার্ভাস হয়ে পরে,
নীলিমাঃ কি হলো ধরুন!
আরে আমি আপনার বিয়ে করা বউ এতো নার্ভাস হবার কি আছে?
আসাদ আস্তে করে হাতটা এগিয়ে দেয় নীলিমার দিকে,
নিলিমা হাসতে হাসতে বলে—
“”ওমা আপনি তো রীতিমতো কাঁপছেন,
আসাদঃ কই না!!
নীলিমাঃ আমি তো দেখছি আপনি কাঁপছেন!!

আসাদঃ আসলে আগে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পরি নি তো তাই!”
নীলিমাঃ এই যে মিস্টার!
যেমন করে বলছেন মনে হয় এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে হাজার বার এসেছে!!
বিয়ে আমার এই প্রথমই!!
আসাদঃ আমি কি তাই বলেছি নাকি?

আসাদঃ দেখুন বিয়েটা মানুষের জীবনে প্রথম হলেও কারো হাত ধরার চ্যাপ্টার কিন্তু মানুষের জীবনে একাধিক বার ও হয়ে থাকে,,
নীলিমাঃ বাহ্ দারুন বলেছেন তো!
আসলেই ঠিক!
আমার জীবনে হাত ধরা ধরি আরো আগেই শেষ!
আসাদঃ কি বললেন?
নীলিমাঃ কিছুনা,
আপনি অনেক মজার আর ভালো মানুষ!
আর ভালো মানুষ গুলো সব সময় বিপদে পরে জানেন তো???
এই বলে নীলিমা হেসে দেয়,,,

–আসাদ হা হয়ে নীলিমার কথা গুলো শুনে,
এতো ফ্রেঙ্কলি কি করে কেউ কথা বলতে পারে?
কোনো জড়তা নেই মেয়েটার মাঝে!!
মেয়েটাকে যতোই দেখছে ততোই অবাক হচ্ছি!
এমন একজন জীবন সঙ্গীর আশাতেই তো এতো জীবন পার করে দিলাম!
দেরি করেই হোক সেই কাঙ্খিত মানুষটি আজ আমার সামনে!!
পুরো রাত ভর তারা টুকিটাকি কথা বলতে বলতে এমন করেই রাতটা পার করে দিলো দুজন,

ফজরের আজান হচ্ছে,
কথা বলতে বলতে কখন যে রাত শেষ হয়ে ভোর হয়ে এলো দুজন টেরই পেলোনা,,
দুজনই দুজনকে খুব ইজি ভাবে একসেপ্ট করে নিয়েছে দুজনার জীবনে,,,
নিজেকে অনেক সুখি মনে করে শুকরিয়া জানায় নিজের ভাগ্যকে আসাদ,,,

আজান শেষ হতেই আসাদ নীলিমাকে বলে–
আমি যাই নামাজ পরে আসি আপনি চাইলে আমার রুমেই নামাজ আদায় করে নিতে পারেন,
নীলিমাঃ ওকে আপনি যান আমি এই ঘরেই পড়বো,
আসাদ নামাজে চলে যায়,
নীলিমা ঘরেই নামাজ আদায় করে খাটের উপর হেলান দিয়ে আসাদের অপেক্ষা করতে করতে একটা সময় ঘুমিয়ে পরে,,,,

#চলবে

#
লেখা : মুসকান

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে