গল্পের নামঃ “heart touch love” পর্ব :৬

0
2266

গল্পের নামঃ “heart touch love” পর্ব :৬

আমি সন্ধাই মাস্টার সাহেবের দাফন শেষ হবার পর রাকিব মানে সেই চাচা যিনি হাসপাতালে তখন আমাদের সাথে ছিলেন, তাকে ডাক দিলাম।
তারপর আমি আমার আর সামিয়ার সব কথা খুলে বললাম,
তিনি সব শুনার পর যা বলল,
চাচাঃ বাবা, তোমার জীবনে অনেক সমস্যা এটা বুঝলাম, তবে হয়তো চেষ্টা করলে আর আল্লাহ্‌ চাইলে তুমি সে সমস্যা সমাধান করতে পারবা,
কিন্তু বৃষ্টির জীবনের কাহিনী জানো না।
মাস্টার ভাই ছিল আমার বড় ভাইয়ের মতো, তার কিছু জমি, বাগান ও ৩ টা পুকুর আছে আমি সেগুলো আজ ১৫ বছর থেকে দেখাশুনা করি,
যখন থেকে বৃষ্টির মা মারা গেছে।তুমি স্কুলের সামনে যে বড় বাড়ী নাম আনারুল চিনো সে মানুষকে?
আমিঃ হ্যাঁ চিনি তো। আমার সাথে কয়েক বার দেখা হয়েছে।
চাচাঃ ঝামেলা শুরু হয় আজ থেকে ১৮ বছর আগে বৃষ্টির যখন জন্ম হয়, বৃষ্টির যখন জন্ম হয় তখন আনারুল তার ছেলের জন্য বৃষ্টির বিয়ের কথা বলে।
মাস্টার ভাই জানতো এটা সুধু জমি আর পুকুরের লোভে। এজন্য তিনি বলে পরে দেখা যাবে, কিন্তু আনারুল সাহেব বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখাতে থাকে।
তুমি আসার ১ মাস আগেও একটা বিয়ে ভেঙ্গে যায়, কারণ আনারুল তাদের ভয় দেখায় যে তারা বিয়ে তে আসলে তাদের ছেলেকে তুলে নিবে,
এভাবে ৩ টা বিয়ে ভেঙ্গে যায়… এবার বলো যে সে কি করবে? কিন্তু তোমার সাথে বিয়ে হলে তোমাকে তারা ছাড়বে না, তাড়াতাড়ি তুমি এখান থেকে পালিয়ে যাও।
আমিঃ চাচা একটু বৃষ্টির সাথে কথা বলা যাবে?
চাচাঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। বৃষ্টি মা, একটু এদিকে আসবা? আরিয়ান তোমার সাথে একটু কথা বলবে।
।।
আমিঃ দেখেন আপনি জানেন কি জানি না, আমার একটা বউ আছে, আর আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। আমি আপনাকে বিয়ে করতে একটুও রাজী না,
কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করছে আপনাকে বিয়ে করতে। তবে আমার কিছু কথা আছে। আর আপনার যদি কাউকে পছন্দ থাকে তবে বলতে পারেন,
আমি ওয়াদা করছি যে কোন মূল্যে আমি তার সাথে আপনার বিয়ে দিবো।
বৃষ্টিঃ আমার কোন পছন্দ নাই, আর আমাকে বাবা বলেছে যে আপনার বউ আছে, আর আমার মতো অভাগার কপালে এর থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
আমিঃ বিয়ের পর স্বামী হিসাবে আমি সব দায়িত্ব পালন করতে পারবো না, এর জন্য আমার সময় লাগবে।
বৃষ্টিঃ আমাকে সুধু পড়ার ব্যাবস্থা টা করে দিবেন আমি এর থেকে বেশি কিছু আর চাই না।
আমিঃ ঠিক আছে।
।।
আমার আর বৃষ্টির বিয়ে হয়ে গেলো। আনারুল নামের সেই মানুষটা এসেছিলো কিছু মানুষ মানে তার লোক জন নিয়ে,
আমি আগে থেকেই কিছু আমার লোক রেডি করে রেখেছিলাম।
তারা যখন আমাকে গালি গালাজ আর আমাকে মারতে আসলো, তখন আমি সেই থানার পুলিশ ডাকলাম।
আমি যখন আমার পরিচয় দিলাম, সাথে সাথেই তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে নিলো।
।।
রাতে আমি আব্বুকে ফোন করে সব বললাম,
বাবা একটা কথাই বলল, এর অন্য কোন পথ কি ছিল না?
আমিঃ আমি অনেক চেষ্টা করেছি, অন্য পথ পাই নি।
বাবাঃ কিন্তু সামিয়া কি সেটা মেনে নিবে? তার ওপর তুই বলছিস তোর সাথে নাকি তার সম্পর্ক ভালো না? তাহলে কিভাবে মেনে নিবে?
আর সামিয়ার কথা ভাব, এটা মানার কোথাও না…
আমিঃ বাবা, আমি জানি সামিয়া অনেক কষ্ট পাবে, আর আমি ওকে সেই কষ্ট দিতে চাই নি। তুমি আম্মুকে কিছু বলো না, সকালে আমি চলে আসবো। দেখি কি করতে পারি।
বাবাঃ তোর সাথে কি মেয়েটা আসবে?
আমিঃ হ্যাঁ, আসবে,
বাবাঃ অনেক বড় ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছিস বাবা, জানিনা ভাগ্যে কি আছে?
আমিঃ এতদুর তো ভাগ্য কে মেনে নিয়েই পথ পাড়ি দিলাম, দেখি না আর খানিকটা পথ পাড়ি দিয়ে।
বাবাঃ ঠিক আছে বাবা, আয়!
আমিঃ চাচা! গেলাম থাকেন।
চাচাঃ দুয়া করি বাবা,অনেক সুখে থাকো।
আমি বৃষ্টি কে নিয়ে বাসে উঠলাম। রাত টা অনেক অন্ধকার ছিল, কিন্তু আমার ভাগ্যের পথটা মনে হয় এর চাইতেও বেশি অন্ধকার।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here