গল্পের নামঃ “heart touch love”পর্ব-৪

0
2971

গল্পের নামঃ “heart touch love”পর্ব-৪

পরের দিন আমি ঢাকা চলে গেলাম, ১৫ দিন পর হটাৎ আমি ছুটিতে আসি। আমি সামিয়ার সাথে ফোনে কথা বলতাম না।
আম্মু কে বললাম আমি যে আমি সন্ধার মধ্যে বাড়ী আসবো। আম্মু বলল সামিয়া তো তার বাপের বাড়ীতে আছে, তুই তাকে বল যে সে যেন চলে আসে,
নাকি তুই কাল তাকে নিয়ে আসবি?
আমিঃ আমি ব্যাস্ত আছি, তুমি বলে দাও সে যেন চলে আসে।
।।
সন্ধাই আমি বাড়ী গেলাম, যখন বাড়ী যায় তখন আমি সিমেলের সাথে কথা বলছিলাম।
সিমেলঃ দোস্ত মহা বিপদে পড়ে গেছি,
আমিঃ কেন, আবার কি হলো?
সিমেলঃ অফিস থেকে বাড়ী ফিরে এসে দেখি, তোর ভাবী বাড়ীতে নেই।
আমিঃ তারপর?
সিমেলঃ ফোন করলে ধরেও না…
আমিঃ আমি কি তোদের থানা তে বলে দিবো?
সিমেলঃ আরে নাহ,
আমিঃ তাহলে কি করবো বল,
সিমেলঃ কি আর করবি? আমি ভয় পেয়ে শ্বশুর কে ফোন করলাম, উনি বলল, তোর ভাবী নাকি দুপুর থেকেই ওখানে আছে,
আমিঃ ভালো তো, তোমার বউ তোমাকে না জানিয়ে বাপের বাড়ী যাচ্ছে, আজ সেটা আমার বউ হলে বুঝতো, বউকে বাপের বাড়িতেই রেখে দিতাম। কেমন সাহস স্বামীকে না জানিয়ে বাপের বাড়ী যাওয়া।
।।
দেখলাম, পিছন থেকে কে যেন কেশে উঠলো, বুঝলাম সামিয়া পানি খেতে গিয়ে গলায় আঁটকে গেছে, আমি অবশ্য তাকে শোনানোর জন্যই এতো জোরে জোরে বলছিলাম।
আম্মুঃ কিরে কতো ব্যাস্ত তুই? বউয়ের গলাই পানি আঁটকে গেছে আর তুই তাকে সাহায্য করতে যাস না।
আমিঃ বউ মরলে আরেকটা পাওয়া যাবে, কিন্তু এতো ভালো বন্ধু কোথায় পাবো? সবাই তো নিজের স্বার্থে চলে, সিমেলের মতো স্বার্থহীন বন্ধু খুব কম আছে।
আম্মুঃ কথা বার্তা দেখছি অনেক বড় বড় করছো, বউকে এতো অবহেলা করা ঠিক না, তাকে সময় দে। না হলে বউ থাকবে না।
আমিঃ সময়? ওটার-ই তো বড় অভাব, এভাবে মেনে নিলে থাকবে না হলে আমি তো জোর করে ধরে নাই… স্বাধীন দেশে বাস করি, যার যা ইচ্ছা সে সেটা করবে।
।।
রাতে খাবার পর আমি টিভি দেখছি, আজ রান্না টা বুঝতে পারলাম না যে আম্মু করেছে নাকি সামিয়া, তাই আর কিছু বললাম না, অবশ্য রান্না টা খুব ভালো হয়েছে, আমার পছন্দের বিরিয়ানি।
সামিয়া ঘরে আসলো, আমি আড় চোখে তার দিকে তাকালাম,
সে খাটের এক পাশে বসলো।
সামিয়াঃ আমি কি কখনো বলেছি যে আমি কষ্ট পাচ্ছি বা রাগ করে আছি?
আমিঃ আমি তো জিজ্ঞেস করি নি, তাহলে জানবো কিভাবে? আর তুমি রাগ করলেই বা আমার কি? আম্মুর সামনে তো বলেই দিলাম, তোমার যা ইচ্ছা করবা, ভালো লাগলে থাকবা না হলে চলে যাবা?
সামিয়াঃ আপনি কি আমাকে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন?
আমিঃ আমি তো সেটা বলি নি।
সামিয়াঃ আমি যাবো না। আমি যতই কষ্ট দেন না কেন। আচ্ছা আপনি আমাকে অবহেলা করছেন ভালো কথা কিন্তু কার জন্য করছেন?
কারণ আমি তো বিয়ের আগে এমন কোন আমার ক্ষতি করি নি যে সেটার শাস্তি আপনি আমাকে দিবেন। আর আমার বাবা বা চাচা যদি কিছু করে থাকে তবে সেটা তে আমার কি দোষ বলেন।
আমিঃ কথা যখন বের করলা তখন বলি, লামিয়ার বিয়ের কথা মনে আছে?
সামিয়াঃ হ্যাঁ, কিন্তু সেটা তো অনেক আগের কথা।
আমিঃ লামিয়াকে একটা ছেলে ভালোবাসতো, বিয়ের ২ দিন আগে লামিয়ার সাথে সেই ছেলেটার কথা হয়, সাথে তুমিও বলো।
সামিয়াঃ কি জানি হয়তো, অনেক দিন আগের কথা তো,
আমিঃ সে যা করেছিলো তা করেছিলো, আর তুমি বলেছিলা, অতীতকে ভুলে যান। তার একটা ভালো যায়গায় বিয়ে হচ্ছে ঝামেলা বাড়াবেন না।
সামিয়াঃ কি জানি বলেছিলাম মনে হয়, কিন্তু সেই কথার সাথে আপনার কি সম্পর্ক, আর আপনি এতো পুরনো কথা কিভাবে জানলেন?
আমিঃ কারণ সেই ছেলেটা আমি…
সামিয়াঃ কি??????(২০০০ ভোল্টের শক)
আমিঃ অতীতকে খুব সহজেই ভুলে যাওয়া যায় না। এটা তোমাদের মতো লোভী মানুষেরা কখনো বুঝতে পারবে না।
কি দোষ ছিল আমার? সুধু একজন কে মন থেকে ভালোবাসা আমার দোষ? লামিয়া তো আগেই না বলতে পারতো। কিন্তু বলেনি।
আমি কি খারাপ ছেলে ছিলাম, সুধু আমার বাবার অনেক টাকা ছিল না। আমি লামিয়াকে দামী গাড়ীতে ঘুরাতে পারবো না। আর যদি খারাপ ছেলেই হতাম তবে কেন চাকুরীর ৩ মাসের মধ্যে তোমার বাবা বিয়ের প্রস্তাব দিলো?
আমার বাবা রাগ করেই তোমাদের বাড়ীর মেয়ে নিবে না, কিন্তু আমি নিবো, কারণ কিছু ফিরিয়ে দেবা বাকি ছিল। আর কিছু প্রশ্ন আছে তোমার মনে? নাকি বুঝেছো? তোমাদের পরিবার টাকা চাই, তুমি টাকা পাবা, কিন্তু তুমি আমাকে পাবা না।
সামিয়াঃ কিন্তু আমি…।
আমিঃ আর কোন কথা না, যাও লাইট অফ করো, আমি ক্লান্ত ঘুমাবো।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here