গল্পের নামঃ “heart touch love”পর্ব-১

0
5473

গল্পের নামঃ “heart touch love”পর্ব-১

আসসালামু… ভাইয়া!
অলাকুম…।
ভাইয়া, bromazipam 3mg আছে? দেন, এক পাতা।
কিরে এতো পাওয়ার বেশি ঘুমের ঔষুধ নিয়ে কি করবি? গার্ল ফ্রেন্ড এর বিয়ে নাকি?
আপনি ও না…। নানীর জন্য বেশি কথা না বলে দেন…
কবে আসলি?
এই তো কালকে, ৭ দিনের ছুটি।
।।
সুমন( ডাক্তার) ছেলেটা কে?
সুমনঃ আরে স্যার, চিন্তে পারলেন না? এটা আরিয়ান, ওমর চাচার ছেলে।
স্যারঃ কি করে ছেলেটা? অনেক দিন থেকে দেখিনি তো, এজন্য। বড় ভাইয়ের সাথে ভালো সম্পর্ক ছেলেটার।
সুমনঃ ৩-৪ মাস হল, চাকুরী হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে। এখন মনে হয় ঢাকাতে আছে।
স্যারঃ বিয়ে করেছে ছেলেটা?
সুমনঃ না করে নি। তবে সে দিন চাচা বলছিল ভালো মেয়ে পেলে দিয়ে দিবে।
স্যারঃ ওর বাবা কখন আসে?
সুমনঃ বিকেলে আপনি পাবেন।
স্যারঃ ঠিক আছে।
।।
পরের দিন রাতে আমি বসে আছি, অনেক সুন্দর চাঁদ উঠেছে, কারেন্ট ও নাই, মাঝে মাঝে কারেন্ট চলে যাওয়া ভালো।
আব্বু আম্মু আসলো…
আমিঃ কি খবর তোমরাও চলে আসলা যে,
আব্বুঃ তোর সাথে একটা কথা ছিল,
আমিঃ কি বলো?
আব্বুঃ কাল তোর সালাম, চাচার ছোট ভাই তার মেয়ে সামিয়ার সাথে তোর বিয়ের প্রস্তাব আমাকে দিয়েছে।
আমিঃ হ্যাঁ, আমি জানি, আমাকে কালকেই ফোন করে সুমন ভাই বলে দিয়েছে। আমি জানতে চাইছিলাম যে তুমি কি বলো?
আব্বুঃ আমার মত না।
আমিঃ কেন না?
আব্বুঃ মেয়ে অনেক ভালো সেটা আমি জানি, তবে ৭ বছর আগের কথা ভুলি নি, আমি আগেও একবার মানা করেছিলাম, আর আজকেও করছি।
আমিঃ আমি রাজী।
আব্বুঃ তুই কি সব ভুলে গেছিস? তুই নিশ্চিত যে ঐ বাড়ীর মেয়ে এনে তুই সুখে থাকবি?
আমিঃ সেটা আল্লাহ্‌ জানে।
আব্বুঃ কিন্তু জেনে শুনে আবার ঐ ভুল করতে যাচ্ছিস?
আমিঃ জানি না, তুমি হ্যাঁ বলে দাও।
আব্বুঃ ঠিক আছে, তোর জীবন তুই যা ভালো মনে করিস।
।।
পরের দিন আমি দেখতে গিয়েই সামিয়া কে বিয়ে করে নিয়ে আসি, আর ২ টা কারণ ছিল, ১ যে আমার ছুটি কম, আর ২ একটু পরেই বুঝবেন।
।।
রাতে ঘরে ঢুকতেই সামিয়া আমাকে সালাম দিলো।
আমি কিছুটা বিরক্তির স্বরেই বললাম, থাক আর নাটক করতে হবে না।।
সামিয়া আমার দিকে চেয়ে আছে…।
সামিয়াঃ নাটক মানে?
আমিঃ এই যে এমন ভাব দেখাচ্ছ জেন তুমি কিছু বুঝো না। আর তোমার বাবা, আসলে তোমাদের পরিবার ভালোই পারে।
এক তোমার চাচা, তারপর তোমার বাবা…
।।
সামিয়াঃ আমি কিন্তু কিছু বুঝছি না। আপনি কি বলতে চাইছেন?
আমিঃ অতো বুঝানোর সময় নাই, লাইট অফ করবো, ঘুমাবো।
সামিয়াঃ আপনি কি ক্লান্ত?
আমিঃ কেন?
সামিয়াঃ ঘুমাবেন যে বললেন?
আমিঃ তো তোমার সাথে কি গল্প করবো?
সামিয়াঃ আপনি এভাবে রেগে কথা বলছেন কেন? আজকে আমাদের বাসর রাত।
আমিঃ so what! go to hell!
সামিয়াঃ আমি আপনার বউ, আমাকে যদি আপনার না পছন্দ কেন আমাকে বিয়ে করলেন?
আমিঃ কিছু পুরনো হিসাব বাকি ছিল, সে গুলো শোধ করলাম, না হলে কি যোগ্যতা আছে তোমার, আমাকে বিয়ে করার?
বাবা মা তো রাজী না, তাদের কথা দরকার হলে রাস্তার মেয়ের সাথে বিয়ে দিবে তবু তোমাদের বাড়ীর মেয়ে নিবে না। কিন্তু আমি জোর করে করেছি,
কারণ কিছু কাজ অসমাপ্ত আছে, সে গুলো সমাপ্ত করতে হতো। ভয় পেয়ো না, আমি তোমাকে তালাক দিবো না, না তোমার কখনো গায়ে হাত দিবো।
তোমাকে প্রতিদিন এতটুকু কষ্ট দিবো যে না পারবে তুমি হাসতে না পারবে তুমি কাঁদতে।
না কাউকে বলতে পারবা না সহ্য করতে…।
কষ্ট কি জিনিস আজ তুমি বুঝবা? তুমি জানো? এই ঘরে আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি, অনেক কিছুর সাক্ষী এই ঘর! আজ পর্যন্ত সুধু আমার সাক্ষী হয়েছে, আজ থেকে তোমার।
দেখি তুমি কতো সহ্য করতে পারো, আর আমি তোমাকে কতো কষ্ট ফিরিয়ে দিতে পারি।
সামিয়া আর কিছু বলল না… সে চুপচাপ কাঁদতে লাগলো

চলবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে