গল্পটা তোমার আমার

0
1034

বিয়ের প্রথম রাতে বউকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি আমার কাছে কি চাও?

বউ লাজুক মুখে বললো – যা চাই দিবেন তো?

তার হাতে হাত রেখে বললাম– আমার সাধ্য থাকলে আমি অবশ্যই তোমার চাওয়া পূরন করবো।

তাহলে শুনুন — আমি আপনার কাছে একটা বরকতময় সংসার চাই।

— আর কিছু?

— হুম,দুজনে মিলে এত আমল করতে চাই যে,মৃত্যুর পরেও জেনো আপনার সাথে জান্নাতে থাকার সুযোগ পাই।কারন আল্লাহ পবিত্র
কুরআনে বলেছেন– স্বামী স্ত্রী দুজনেই নেককার হলে, দুজনে একই জান্নাতে থাকবে।(সূরা যুখরুফ -৭০)
আপনি নেক আমল করতে রাজি আছেন তো?

— ইনশাআল্লাহ।

— আর শুনুন আমি সংসারে কোন অশান্তি চাইনা,,তাই আমরা দুজনেই নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পরবো ইনশাআল্লাহ। কারন,যে ঘরে স্বামী স্ত্রী একই সাথে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বে, সেই ঘরে কোনদিন অশান্তি হবেনা।(বুখারি ও মুসলিম)

আর বেশি রাগ করা যাবেনা।। রাসুল (সাঃ)বলেছেন – রাগ মানুষের ইমান কে ধ্বংস করে দেয়।
যদিও কখনো আমার রাগ উঠে তখন আপনি চুপ থাকবেন আর আপনার রাগ উঠলে আমি চুপ থাকবো।
হয়রত উমর (রঃ) বলেছেন — স্বামী কে রেগে যেতে দেখলে স্ত্রী চুপ থাকবে আর স্ত্রী কে রেগে যেতে দেখলে স্বামী চুপ থাকবে।কারন,পানিই আগুনকে নেভাতে পারে,আগুন কখনো আগুনকে নেভাতে পারেনা বরং আরও বাড়িয়ে দেয়।

কি যা বললাম করবেন তো?

সেদিন তার হাতে হাত রেখে তার কপালে চুমু দিয়ে নেক আমল করার ওয়াদা করেছিলাম,, যা আজও আমরা দুজন প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি।

অফিসে বসে এসব ভাবছিলাম, এমন সময় স্যার এসে বেতন দিয়ে গেলেন।

প্রতি মাসেই বেতন পেয়ে মা বাবা ভাই বোনের জন্য কিছু কিনে তার জন্যও কিছু কিনে নিয়ে যাই।

আজও অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার জন্য একটা নীল শাড়ি,কতগুলা গোলাপ আর বেনী করার জন্য বেলিফুলের মালা নিয়ে এসেছি,সাথে এনেছি তার পছন্দের কিছু চকলেট। কারন বাসায় ফেরার পথে স্ত্রী জন্য কিছু নিয়ে আসা সুন্নত।

বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল টিপতেই সে এসে দরজা খুলে দিয়ে আমাকে জরিয়ে ধরলো। প্রতিদিনই এমনটাই করে সে তাই আজও তার ব্যতিক্রম না।
আমার হাতে এসব কিছু দেখে সে বললো — এত কিছু আনার কি প্রয়োজন ছিল?তোমার হালাল রোজগারের অল্পতেই আমি সন্তুষ্ট।

আমি হেঁসে বললাম — এমনি এমনি তো আর আনিনি,,রাসুল (সাঃ) বলেছেন — যে স্বামী তার স্ত্রীর জন্য মন খুলে ব্যায় করবে,কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে পুন্যে ধনী বানিয়ে দিবেন।

সে খানিকটা রেগে বললো — হইছে আর বলতে হবেনা,,এতসব কিছু চাইনা আমার,আমার শুধু তোমাকে পেলেই চলবে।এখন এসব দিয়ে যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো দুজন মিলে একসাথে খাবো।

খাওয়াদাওয়া শেষে সে বায়না ধরলো চাঁদ দেখবে! কি আর করার, সে নীল শাড়ি পরেছে,বেনীতে বেলী ফুল বেধেছে,,ফুলের সুভাস ছড়িয়ে পরেছে তার মাঝে।
আমিও তার পছন্দের নীল পাঞ্জাবি পরে তাকে নিয়ে ছাদে গেলাম পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে।

হঠাৎ করে সে বলে উঠলো – এই আমাকে প্রপোজ করো।

না করলেও যে উপায় নেই,,বড্ড অভিমানী সে।
তার বেনীতে গাথা গোলাপ ফুল নিয়ে তার সামনে হাটু গেড়ে বসে বললাম — এই তুমি কি আমার জোসনা রাতের চাঁদ হবে?
আমার বদ্ধ ঘরের খোলা জানালা হবে?
গল্পের রানী হবে কি আমার?
যেই গল্পটা রচনা করবো শুধু তোমার আমার।

সে মিষ্টি হেঁসে আমার হাতের গোলাপটি নিয়ে বললো — আমি কি না করছি নাকি।

এইতো চলছে আমাদের প্রেম।

তুমি যে কবে এসে বসলে মন গহীনে আমার।
তুমি কি জানোনা গল্পটা তোমার আমার।

♥♥♥সমাপ্তি♥♥♥

#Shohag_Hasan_Niloy

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে