ক্রাশেরসাথেবিয়ে পার্ট ০৪

13
1649

ক্রাশেরসাথেবিয়ে পার্ট ০৪
#jannatul_ferdous

খাবার মুখে দিতেই নিশাত,রোদ আর রোদের আব্বু অবাক হয়ে গেলো।

রোদ-খাবার রান্না করলো কে?

রাগিনী-কেনো ভালো হয়নি?

রোদ-না তা না।কিন্তু রনি যে বললো তোমার রান্না ভালো না।

রাগিনী-ওই সব তো আগে করছিলাম।আর আজকে শাশুড়ি আন্টি থুক্কু আম্মু ছিলো তো।আমাকে সব দেখিয়ে দিয়েছে।

রোদ-যাক একটা কাজ অন্তত ঠিক ভাবে করতে পারে।

রাগিনী-আমি আরো কাজ করতে পারি।

রোদ-কী পারো শুনি।

রাগিনী-তোমার পিক গুলোতে লাভ রিয়েক্ট দিতে।

রোদ-খেতে পারি,ঘুমাতে পারি তা বললেও হতো।

রাগিনী-ওইটাও পারি।

রোদ-হুম জানি।

রাগিনী-আমি ভাবছি তুমি জানো না।

রোদ-উফফ অসহ্যকর।

রাগিনী-আম্মু।

রোদের আম্মু-ওকে একদম অসহ্যকর বলবি না।

রাগিনী-হুমম।

রোদ-সব দেখি আমার বিরুদ্ধে।

রাগিনী-শ্বশুড় আঙ্কেল বলছিলো তো তুমি এই বাড়ির জামাই।

রোদের আব্বু-রাগিনী শ্বশুড় আঙ্কেল না বাবা বলবা।

রাগিনী-ঠিক আছে।

রোদ-কথাগুলা এত সহজে তোমার মাথায় ডুকে গেলো?

রাগিনী-হুম ডুকছে।

রোদ-ভালোই।

রাগিনী-ক্রাশ বর তুমি আমার ফ্রেন্ড রিকু এখনও ঝুলাই রাখছো।

রোদ-সারাদিন তো এমনিতেই বকবক করে পাগল করে দিচ্ছো।আবার কী দরকার?

রাগিনী-দরকার আছে।

রোদ-(করি আর তিনি আমাকে ওইখানেও বাঁশ দিবে)–মনে মনে।

রাগিনী-কিছু বললে ক্রাশ বর?

রোদ-না আমি কী বলবো?

রাগিনীর আম্মু-আজ তো রিয়া আসবে।রোদ ওকে নিয়ে আসিছ।

রাগিনী-রিয়া কে?

রোদ-আমার কাজিন।

রোদের আম্মু-মেয়েটা তো বিয়ের আগেই আসতে চেয়েছে।আসতে পারে নি এখন আসবে বলছে।

রাগিনী-ভালো।

রোদের আব্বু-আজকে আমার কিছু ফ্রেন্ড, রাগিনীর বাড়ি থেকে ওর বাবা মা ভাই আসবে।অনেক মেহমান হবে বাড়িতে।

রাগিনী-আমার আম্মু,আব্বু,ভাই আসবে।

রোদের আম্মু-হুম তোদের পরিবারকে তো ভালো মত চিনিই না তাই আসতে বলছি।

রাগিনী-রিত্ত আসবে না?

রোদের আম্মু-রিত্ত কে?

রাগিনী-আমার ফ্রেন্ড।

রোদের আম্মু-আচ্ছা ফোন দিয়ে আসতে বলো।

রাগিনী-সত্যি আসতে বলবো?

রোদের আম্মু-হুমমম বলো।

রাগিনী সাথে সাথেই ফোন দিলো রিত্তকে।

রাগিনী-ওই হনুমানের বউ কই তুই?

রিত্ত-আমি তো ভার্সিটি যাচ্ছি।

রাগিনী-আজকে আসতে পারবি?

রিত্ত-কই পালিয়ে যাওয়ার পর তো আর কোনো খবর পেলাম না তোর।

রাগিনী-ক্রাশকে বর বানিয়ে নিয়েছি।

রিত্ত-কোন ক্রাশ?

রাগিনী-আমার একমাত্র ক্রাশ।

রিত্ত-সেই রোদ।

রাগিনী-হুম ক্রাশের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে আমার।

রিত্ত-তাহলে তোর ক্রাশ বর এখন।

রাগিনী-হুমমম।

রিত্ত-কীভাবে হলো?

রাগিনী-আয় সব বলবো।

রিত্ত-ওকে বিকেলে দেখা হবে।

রাগিনী-হুমমম।

রিত্ত-ঠিক আছে ভালো থাকিস।

রাগিনী-হুম।

রিত্ত ফোন রেখে দিলো।রাগিনী ফোনটা দিয়ে চলে যেতে চাইলে রোদ ডেকে বললো খাবার খেয়ে যেতে।রাগিনী মাথা নেড়ে খেতে বসলো।রোদ উঠে চলে গেলো

রোদের আব্বু-কি রে কি ভাবছিস?

রাগিনী-আমি না রিত্তের হেল্পে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম।

রোদের আব্বু-তো কি হয়েছে?

রাগিনী-রিত্ত তো এসে আমাকে মারবে।আমি তো বিয়ে করবো না তাই পালাইছি,কিন্তু বিয়ে তো করে পেললাম।

রোদের আব্বু-হাহাহা মেয়ের কী টেনশন।যা তো খেয়ে রুমে যা,সাজগোজ কর।

রোদের আম্মু-দাঁড়া আমি শাড়ি এনে দিচ্ছি।

রাগিনী-আবার শাড়ি।আমি মরে যাবো এই সব শাড়ির প্যারায়।

রোদের আম্মু গিয়ে শাড়ি,জুয়েলারী আনলো।তারপর রাগিনীর হাতে দিয়ে বললো,,,,,,,

রোদের আম্মু-আজকেই শেষ।কাল থেকে তোর যা মন চাইবে তা-ই পরবি।

রাগিনী-ঠিক আছে।

রোদের আম্মু-আমি পরে তোকে শাড়ি পড়িয়ে দিবো।যা এইগুলা সব তোর রুমে রেখে আয়।

রাগিনী-এই ভারি জুয়েলারী গুলা…….

রোদের আম্মু-তুই পরবি,শুধু আজকের দিনের জন্য।

রাগিনী-হুম শুধু আজকের দিন।

রোদের আম্মু-ওকে।

রাগিনী রুমে এসে শাড়ি গুলা বিছানায় রাখলো।

রোদ-এতগুলা শাড়ি।

রাগিনী-আম্মু দিয়েছে।বলছে যেকোনো একটা পছন্দ করতে।ক্রাশ বর প্লিজ হেল্প করো।

রোদ-মানে?

রাগিনী-আমি ফিল্মে দেখি বউ এর শাড়ি বর পছন্দ করে দেই।তুমিও করো প্লিজ।

রোদ-তোমার আবার শুরু।

রাগিনী-প্লিজ।

রোদ-আচ্ছা আয়নার সামনে চলো।

রাগিনী-হুমম ঠিক আছে।

রোদ ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে একটা একটা শাড়ি নিয়ে দেখছিলো।রাগিনী চুপচাপ বসে আছে।

রোদ-এই শাড়িটা তোমাকে ভালো লাগবে।

রাগিনী-সত্যি তো?

রোদ-হুম সত্যি।

রাগিনী-তাহলে এটাই।

রোদ-আমি তোমাকে আবার সাজিয়ে দিবো?

রাগিনী-কিন্তু আম্মু???

রোদ-আম্মু নিছেই বিজি থাকবে,এত কিছু মনে থাকবে না।

রাগিনী-আচ্ছা ঠিক আছে।

রোদ-ওকে দুপুরে সাজিয়ে দিবো।

রাগিনী হেসে উঠলো খুশিতে।রোদ রাগিনীর দিকে তাকিয়ে আছে।

রোদ-(সত্যিই মেয়েটার পিচ্চি পিচ্চি ভাব,দুষ্ট মিষ্টি কথাগুলো আর হাসিটা খুব সুন্দর।যতটা ভেবেছিলাম ততোটা বলদ না)–মনে মনে ভেবে হেসে উঠলো।

চলবে…….

Comments are closed.