এক_পশলা_বৃষ্টি_আর_সে পর্ব_২৮

0
1867

এক_পশলা_বৃষ্টি_আর_সে পর্ব_২৮
লেখনিতে: চৈত্র রায়

৪৮
,
,
,
ওসামাকে আমার থেকে টেনে নিয়ে গেলেন…. ওনার কথায় কিছুটা আহত হলেও এইভেবে হাসি পাচ্ছিলো যে ছেলের লেবাস টাই আমি চেঞ্জ করে ফেলেছি……ওসামাকে কোলে নিয়ে ওনি ও আল্লাদে মেতে উঠলেন….. কিছুক্ষণ পর দেখি ওনি ওসাকে একহাতে কোলে নিয়ে আরেক হাতে ওর ভেজা প্যান্ট নিয়ে ঘড়ে ঢুকছেন…… নিশ্চিত কোলে করেছে হিসু পাজিটা…..
,
,
,
——— তুলিইইইই তুমি ওকে এভাবে মেয়ে সাজালা কেন!!! ভাগ্যিস হিসু করলো নইলেতো আমি ওরে আজীবন মেয়েই ভাবতাম…..
,
,
,
আমি তখন কাপড় ভাজ করছিলাম বিছানার পাশে দাড়িয়ে…… ওনার কথা শুনে কতক্ষণ বিছানায় লুটোপুটি খেয়ে হাসলাম….. ওসামা ওনার কোলে থেকেই বেশ আদুরে ভঙ্গিতে মুখে দু হাত চেপে হেসে যাচ্ছেন….. আর ওনি বেশ অসহায়ের মতোন একবার আমাকে দেখছেন তো একবার ওসামাকে…..হাসাহাসির পাট চুকিয়ে খুব দুষ্টুমি হলো সারা সন্ধ্যে ওকে নিয়ে….সাড়ে সাতটার দিকে এসে ওসামাকে নিয়ে গিয়েছে ওর মা….. বাচ্চাটাকে খুব মিস করছিলাম…… ইচ্ছে করছিলো না ওকে কোল ছাড়া করার…… এদিকে ওনি বগলদাবা করে আমায় নিয়ে পড়তে বসালেন…… কিন্তু পড়া বাদ দিয়ে আমি ওসামার ব্যাপারে বকবকানিতে মেতে উঠলাম…… ফলস্বরূপ যমঠাকুরের বিরাশি আনা ওজনের ধমক…… সে কেন বুঝে না আমার এই পপড়াশুনা একদম ভালো লাগে না…..
,
,
,
——— উফফফ আমার ভাল্লাগে না পড়তে…..
,
,
——— মানে।।।?
,
,
——— মানে…আমি পড়বো না
,
,
——— পড়াশোনা না করলে খাবে কি???
,
,
——— আমি ভিক্ষে করবো……
,
,
———বেশ ভালো বুদ্ধি….. আজকাল খুচরোর অনেক সংকট…… তবে তুমি তো ঠিকঠাক ভিক্ষা ও করতে পারবে না…. অনেক প্যাচাল হয়েছে….. এবার পড়ো….. পরীক্ষার গুনে গুনে আর দুমাস আছে…. এখন ওনি বলছে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ভিক্ষা করবে।।।।। কি সব ভাবনা চিন্তা…. পড়ো জলদি…..
,
,
——— নাহ….
,
,
——— তুলিইইই…..
,
,
——— কিইইই…..
,
,
——— আমি রেগে যাচ্ছি কিন্তু…
,
,
——— কিন্তু আমি একটু ও ভয় পাচ্ছি না….. ওসামাকে বড্ড মিস করছি….
,
,
——— কাল তো আবার আসছেই ওসামা….পড়ো যলদি….
,
,
——— আমাকে একটা ওসামা এনে দিবেন….
,
,
——— কিহহহ….. ওসামা কি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়??? গবেট কোথাকার….. শীঘ্রই পড়া শুরু করো…
,
,
——— এতো পড়াশোনা করে কি হবে বলেন তো….. বিয়ে তো হয়েই গেছে…. সংসার করছি…. এরপর বাচ্চা মানুষ করবো…. তাদের লেখাপড়া করানোর মতো পড়শোনা তো আমি নিজেই করেছি….. তারপর তো আপনি আছেন নি….
,
,
——— সব ঠিক আছে….. যা যা বললে সব তো তোমার আর আমার…. তোমার একলা কি আছে বা থাকবে??? এখন আমার টাকায় তারপর ছেলেমেয়ের টাকায়!!! পরে পরে জীবন পার করে দিবে??? নিজের অস্তিত্ব বলতেও তো একটা ব্যাপার আছে নাকি….?
,
,
———ওসামার আম্মু তো কিছু করে না…আমার ফ্রেন্ড যাদের বিয়ে হলো তারাও তো এবার এক্সাম দিবে না….. মিলি তো প্রেগন্যান্ট…..
,
,
,
সেরাতে অনেক বকবকানি হলো আর তার সাথে ভাষণ ও…… যমঠাকুর বেশ বুঝে গেছেন আমি বাচ্চার জন্য কতটা ডেস্পারেট হয়ে আছি….. আসলে তখন ওসামাকে দেখলে নিজের ভেতর তৃষ্ণাটা যেনো বেড়ে যায়….. ওকে ছাড়তেই ইচ্ছে করে না…… ইচ্ছে করে লুকিয়ে পিল খাওয়া অফ করে দিলাম।।।।। যমঠাকুর ব্যাপার টা কোন না কোনভাবে জেনে গেছেন…… তারপর তো ভয়াবহ বকা….. আমার এই কাজের শ্বাস্তিস্বরূপ ওনি আর আমার কাছে ঘেষেন না….. আমিও পাত্তা দেই না…… মাঝেমধ্যে খুব রাগ ওঠে যায় তখন ইচ্ছে করে সব ভেঙে ফেলি কেনো ওনি আমার কথা শুনেন না……
,
,
,
পড়াশোনা ফের আগের গতিতে চললো….. পরীক্ষাও সামনে ঘনিয়ে আসছে…… এরই মধ্যে এক রাতে ওনি আমাকে ঘুমের মধ্যেই খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন…… মনে হচ্ছে যেনো কতো যুগ পর পানির পিপাসা মিটেছে…….একেএকে সারা মুখে চুমু খেয়ে আমাকে বাচ্চাদের মতন করে বোঝাতে লাগলেন অল্প বয়সে গর্ভধারণ ঠিক কতটা রিস্কি….. মুখে কোন রা না কাটলে ও আমি আমার সিদ্ধান্ত এ অটল ছিলাম…… সেরাতটাও কেটে গেলো নির্ঘুম ভালোবাসার নামে……..
,
,
,
ওনাকে না জানিয়ে পিল খাওয়া টোট্যালি অফ করে দিলাম….. মাসিকের তারিখটা একেবারে হাতে গুনে ক্যালেন্ডার একে মনে রাখলাম…… কিন্তু বিধিবাম….. গুনে গুনে নয় দিন পিছিয়ে পিরিয়ড সাইকেল অন হয়ে গেলো…… অনেক আশায় ছিলাম…… হয়তো কিছু একটা আশানুরূপ হবে….. কিন্তু তার কিছুই হলো না……. সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে আমাকে জড়িয়ে ধরতেই বেশ ফুসে উঠলাম….. উল্টো পালটা যা মনে ধরেছে বলে দিলাম….. এও বলেছি….
,
,
,
——— আপনি পারেন না….. আপনার দ্বারা কিস্যু হবে না…..
,
,
,
ওনি রাগ করার বদলে হাসলেন…… বেশ হাসলেন…
। ওনার হাসি দেখে যেনো আমার গায়ের চামড়া গলে যাচ্ছে…..আমাকে ফোসফোস করতে দেখে…. ঘামে ভেজা শার্টের সাথে লেপ্টে ধরলেন….. কোমড়ের দুপাশে হাত এমন ভাবে চেপে ধরলেন যেনো ওনার থেকে ছুটতে না পারি….
,
,
,
——— ওহ…. রেইলি!!! আধা ঘন্টাইতো আমাকে সামলাতে পারোনা….. কান্নাকাটি জুড়ে দাও…. আর সেই আমাকেই বলছো আমি পারি না….!!!আর কিস্যু টা হবে কি করে….প্রোটেকশন টা তাহলে কষ্ট করে নিচ্ছি কিসের জন্য?? তুমি যে পিল নিচ্ছো না সেটা তো আমি ভালো করেই জানি…..
,
,
——— আমি যা বলেছি সেটাই সত্যি……???আর মোটেও কথা ঘোড়াবার চেষ্টা করবেন না….
,,
,
,
——— মোটেও কথা ঘোড়াচ্ছি না….. কি পারি না পারি চলো প্রমাণ হয়ে যাক….. অবশ্য তুমি পারবে কিনা আগে সেটা ভাববার বিষয়….. কি পারবে???
,
,
,
ওনার এই খোচামারা কথা শুনে আমি রেগে ফের চেচামেচি জুড়ে দিলাম….. আম্মু একপর্যায়ে রুমেই চলে এলেন….. কি হয়েছে জানতে চাইলে আমি হরহর করে সব বলে দিলাম…. এদিকে আমার কান্ডে আম্মু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আছেন আর যমঠাকুর কপাল চাপড়ে যাচ্ছেন…..
,
,
,
——— এই টুকি…. তোর বয়স কতো হ্যাঁ….. এখনি বাচ্চা নেবার জন্য পাগল হয়ে আছিস…..কই পড়াশোনা করবি…. সময়টাকে উপোভোগ করবি তা না….
,
,
——— ওসামার আম্মু …..
,
,
——— ওসামার আম্মু বিয়ে শেষ হবার পর বিয়ে করেছেন…. এম এ পড়াকালীন সময়ে ওসামা হয়েছে….. আর তোর তো এখনো সতেরোই পেরোয় নি…..তুই নিজেই তো একটা বাচ্চা….. তারউপর আবার বাচ্চা নিয়ে মাথা নষ্ট করছিস….. এখনো অনেক সময় বাকি টুকি….. পড়াশোনা কর…. ঘুড়াঘুড়ি কর….. নিজেকে স্বাবলম্বী কর…. তারপর নাহয় বাচ্চা…..
,
,
,
এবার ওনার সাথে আম্মু ও এসে ভাষণ শুরু করে দিলেন…… রাগটা মাথায় যেনো দপদপ করে বেড়ে যাচ্ছে…….
,
,
,
——— আমাকে তোমরা কেউ ভালোবাসো না….. তাই আমার কথার তোমাদের কাছে কোন দাম নাই….. তোমার সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত আমার উপর চাপিয়ে দাও…… ভাল্লাগে না ধুর……
,
,
,
বলেই রুম ছেড়ে পড়ার ঘরে দরজা আটকে দিলাম।।।।। বই গুলো দেখে আমার পিত্তি জ্বলে উঠছে একেবারে….. এইগুলোর জন্য এতোকিছু….. ইচ্ছে করছে জানালা দিয়ে সবগুলো ঢিল ছুড়ে ফেলে দেই……এদিকে মাথা ব্যাথা আর পেট ব্যাথায় কাহিল লাগছে খুব….. চেচামেচি করলেই মাথা ধরে যায়…… বিছানায় টানা হয়ে শুতে পারলে ভালো লাগতো একটু….. কিন্তু ওরুমে যাবো না আমি….. একপ্রকার জেদ ধরেই টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম আমি…… চোখ মেলে দেখি ওনি ডাকছেন আর আমি বিছানায় শোয়া….. বুঝতে একটু সময় নিলেও সব স্পষ্ট….. উঠে বসতেই ওনার ভেজা গামছা দিয়ে মুখ মুছিয়ে হাতে পানি দিলেন….. তারপর টেবিলের উপর থেকে খাবার নিয়ে মাখিয়ে মুখের সামনে ধরলেন….. রাগটা আমার তখন ও কমেনি…. আমি গ্লাস টা বিছানার পাশের টেবিলে রেখে ফের একপাশ হয়ে শুয়ে পড়লাম…… ওনি একটা বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে…..
,
,
,
——— তুলি আমি কিন্তু অফিস থেকে এসে একগ্লাস পানি ও খাই নি…. আর তুমি যদি এখন না উঠো তাহলে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি রাতেও খাবো না…..
,
,
,
ওনার কথা শুনে খারাপ লাগা স্বত্তেও আমি উঠলাম না….. ওনিই আমাকে টেনে উঠিয়ে দু-তিন গাল খাইয়ে দিলেন….. আসলে এই সময় মুখের রুচিটা ঠিকঠাক থাকে না….. তাই খাওয়া নিয়ে যমঠাকুর ও বেশি জোর করলেন না……. কিন্তু দুধ আর আপেল ঠিকই নিয়ে এলেন…… অনেক জোর করা স্বত্তেও আমি খেলাম না….. রাতে একপ্রকার টেনে নিয়েই আলতো করে জড়িয়ে ধরে দুষ্টুমি শুরু করে দিলেন….. এলোমেলো ভাবে সারাশরীরে তার হাত বিচরণ করেছে…..
,
,
,
——— বেশি কোমড় ব্যাথা করছে!!! গরম পানির সেক নিবে!!
,
,
——— উঁহু…
,
,
——— রাগ করে আছো??
,
,
——— জানি না….
,
,
——— আমরা বেবি নিবো তুলি….. অবশ্যই নিবো…. যাস্ট তোমার এইজটা একটু পারফেক্ট হোক…. একটা বেবি ক্যারি করার জন্য পারফেক্ট এইজ খুব প্রয়োজন তুলি….. তোমার সবে তো সতেরো….. বিশ বছর হোক….. তারপর আমরা একটা বেবি প্ল্যান করবো…. প্রমিস…..
,
,
——— নাহ…..
,
,
——— আচ্ছা বাপ আমার আগে এইচএসসি টা দিয়ে নাও….
,
,
——— আমি আপনার বাবা না…. বলেই মুচকি হেসে ওনাকে জড়িয়ে ধরলাম……
,
,
,
দেখতে দেখতে পরীক্ষা চলে এলো…… ওনি সারাদিন অফিস করে এসে আমাকে নিয়ে ফের বসে পড়তেন.. ….তারউপর আমার এই বায়না সেই বায়না তো আছেই….. কখনো ওনি খুব ক্লান্ত হয়ে অফিস থেকে ফিরলে বিছানায় গিয়ে পড়তে বসতাম….. ওনি শুয়ে শুয়েই আমাকে পড়া দেখিয়ে দিতেন।।।।। আর আমি পড়ার ফাকে ব্রেক নিয়ে ওনার পিঠের ওপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়তাম।।।। ওভাবেই পড়তাম কখনো আবার কখনো বাচ্চাদের মতন কোলে বসে ওনার বুকে পিঠ ঠেকিয়ে ওনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম….. এক্সট্রা পড়ানোর জন্য শ্বাস্তিস্বরূপ ওনি আমাকে কোলে করে ছাদে নিয়ে গিয়ে চন্দ্রবিলাস করাতেন…..যেদিন যেদিন চাদের আলো থাকতো না সেদিন ওনি খুব খুশি হয়ে ছাদে নিয়ে যেতেন….. প্রথম প্রথম ব্যাপার টা বুঝতে না পারলে ও ওনার এইসব দুষ্ট বুদ্ধি বুঝতে আমার খুব একটা সময় লাগলো না….. দিন গুনে গুনে পরিক্ষা ও শেষ হয়ে গেলো…… ছুটিতে আম্মু, আমি, মা-বাবা আর ফুলি খালা মিলে নানু বাড়ি চলে গেলাম….ওনি যেতে পারে নি ছুটির অভাবে তারপর কোন সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ধরে আমাদের আনতে চলে গেলেন…. সেখান থেকে ফিরে মায়ের কাছে যাবার খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো….. ওনাকে বলতে সে কি রাগ…. সপ্তাহের উপর নাকি একা রেখে সবার সাথে থেকে এসেছি এখন কোথাও যাওয়া চলবে না….. রাতে যখন খুব কাছে এলেন তখন খানিকটা প্যানপ্যান আর চালাকি করে মায়ের কাছে যাবার ব্যাপারে রাজি করিয়ে নিলাম….. তবে বেশি দিন আর থাকা হলো না….. দুদিন পরই শ্বাশুড়ি বগলদাবা করে নিয়ে এলেন….. সে রাতে আর নিস্তার পেলাম না….. রোজ রাতে ওনার ভালোবাসার নতুন উপখ্যান শুরু হয় একেকটা করে….. আর তার ছুটির দিনে ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচেতে চষে বেড়ানো….. ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে ছুটির দিনগুলোতে আমি তার বস….. যা বলবো তাই এক্ষুনি চাই টাইপ….. ওই দিনগুলোতে শত বুঝিয়ে ও আমাকে এরিয়ে বাসায় রেখে যেতে পারতো না….. কারণ আগেই বলা আছে সকালে বন্ধু বান্ধব কিন্তু বিকাল আমার চাই ই চাই….. জবাবে সে শয়তানি হাসি দিয়ে আর রাতগুলো আমার….. আমি তার কথায় লজ্জা পায় আর সে আমার লজ্জা দেখে হাসে……
,
,
,
রেজাল্টের দিন ওনার টেনশন দেখে কে…. সাথে আম্মুও…. কিন্তু আমি দিব্যি ঘুড়ে বেড়াচ্ছি…. এটা খাচ্ছি সেটা চেখে দেখছি…. যখনি ঘড়িতে ১২ টা বাজলো তখনি শুরু হলো আমার হাউমাউ করে কান্না…. রেজাল্ট এখনো আসে নাই কেন….. ফেইল করি নাই তো আবার…. যথারীতি তার একঘন্টা পর ওনি এক গাদা মিশটি নিয়ে বাসায় এলেন…. তাতে পাশ করেছি ব্যাপারটা আমি নিশ্চিত হয়ে কান্না বন্ধ করে দিলাম….. সেবার রেজাল্ট আমার এসেএসসি থেকে ও ভালো হয়েছে…. ওনি খুশিতে মিস্টির বন্যা বইয়ে দিলেন….. তার দুমাস পড়েই আমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী ছিলো…… স্বপরিবারে আমরা রূপসী চলে গেলাম…. সেখানে আম্মু গরীব দের খাওয়ালেন….. আমার আর ওনার মঙল কামনা করলেন……. সে রাতে ওনি আমাকে মুক্তোর নাকফুল উপহার দিলেন….. গভীর রাতে সবার অগোচরে আমরা বাগান বিলাশ করলাম…… আঁচল ভর্তি করে মালা গেথে তাকে পড়িয়ে দিলাম পুকুরের উপর হাট বসানো অজস্র জোনাকিকে স্বাক্ষী রেখে…..
,
,
,
জীবন আসলেই অনেক সুন্দর যদি সেই জীবনের সঙ্গী টি হয় একেবারে মনের মতো….. সাদাফ নামক মানুষ টাও আমার জীবন এ ছিলো সেরকম….. তারকাধে মাথা রেখে একজীবন কেন এমন অসংখ্য জীবন দিব্যি পার করা যায়……সময় যত যাচ্ছে আমি তার প্রেমে আরো গভীর ভাবে হাবুডুবু খাচ্ছি…. তলিয়ে যাচ্ছি….. হারিয়ে ফেলছি ক্রমশ নিজেকে তার মাঝে…..অনার্সের প্রথম বছর শেষ হতেই আমি আবার বাচ্চা নেবার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিলাম….. উপায়ন্তর না দেখে ওনি বাধ্য হয়ে গাইনোকোলজিস্টের কাছে নিয়ে গেলেন পরামর্শ আর চেকাপের জন্য…..ডাক্তার চেকাপের পর ওনাকে চিন্তামুক্ত করলেন যে আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই গর্ভধারণ এ স্বক্ষম…..ডাক্তারের কথা শুনে আমার ভাবনা টা এমন ছিলো যে আমি কালই কনসিভ করে ফেলবো….. এতো সহজ ভাবনাটা সময় আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো যে ব্যাপার টা কতো সাধনার আর কতটা দৈবিক…. প্রতিবার পিরিয়ড সাইকেল পিছানোতে আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে থাকতাম…..৷ হাতে গুনে দিন মনে রাখতাম…… খুব সাবধানে থাকতাম….. যত আচার কুসংস্কার যা মনে আসতো মানতাম…… কিন্তু এতো কিছু করে ও ফলাফল শূন্য।।।।
,
,
,
দেখাযেতো সপ্তাহ খানেক বা দশ দিন পিছিয়ে পিরিয়ড সাইকেল অন হয়ে গেছে…… মন খারাপ হতো…. একদম ভেঙে চুড়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতাম….. সেই সময় টাতে ওনি আমাকে একদম বুকে করে আগলে রাখতেন….. খুব বুঝাতেন….. মন খারাপ করে থাকি বলে ছুটি পেলেই এখানে ওখানে বেড়াতে নিয়ে যেতেন….. কিন্তু দিন শেষ এ ওনার বুকে যখন মাথা রাখি তখন মাতৃত্ব নামক খোদাটা আমার তৃব্য থেকে তৃব্যতর হয়ে উঠে…. নিজেকে কোনভাবেই সংবরণ করতে পারি না….. আমার মনের এমন অবস্থা থেকে ওনি আমাকে নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন…. ওনার চোখে আমাদের দুজনের কোন ত্রুটি ধরা না পড়া স্বত্তেও ওনি কিছু টেস্ট দিলেন….. আল্লাহ এক্ষেত্রে আমাদের সহায় হলেন…. টেস্টের সবকিছুই স্বাভাবিক…. খুব সামান্য পরিমাণে মেডিসিন আমাকে প্রেসক্রাইবড করা হলো আর সাথে পরামর্শ….. কেনো যেনো ডাক্তার এর স্বার্নিধ্যে অজানা শঙ্কা থেকে মুক্ত হলাম….. এদিকে আমাদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে যমঠাকুর অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কক্সবাজার ঘোড়াতে নিয়ে গেলেন…. আম্মুকে চলে গেলেন মেজোভাবির কাছে….. কক্সবাজারে তিন থেকে ফিরে এলাম শতসহস্র ভালো মূহুর্ত আর অনূভুতি নিয়ে…..
,
,
,
অনার্সের ২য় বছরের ফাইনাল দিয়ে বাসায় বসা তখন….. কিন্তু যম ঠাকুর প্রমোশন এর তাগিদে উর্ধশ্বাসে ব্যাস্ত তখন…. এদিকে আমি আর আম্মু মিলে দুই পরিবার নিয়ে খুব সুন্দর একটা পিকনিকের প্লান করে ফেললাম…… এবার যম বেটার রিএকশনের অপেক্ষা মাত্র….

,
,
চলবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে