এক_পশলা_বৃষ্টি_আর_সে পর্ব_১৭

0
1979

এক_পশলা_বৃষ্টি_আর_সে পর্ব_১৭
লেখনিতে: চৈত্র রায়

৩৪
,
,
,
কলেজ শেষ করে বেলা একটার দিকে বাড়ি চলে এলাম….. মা তখনো অফিস থেকে ফেরেনি….. সুফিয়া খালা এসে দরজা খুলে দিলেন….. বাবাও নাকি কি একটা কাজে গ্রামে গেছেন….. আজ ফেরার সম্ভাবনা নেই…. … কাধের ব্যাগটা বেশ ভাড়ি হয়ে আছে…. দেরি না করে নিজের রুমে চলে এলাম….. বেশ অনেকটা সময় পর বাড়ি ফেরা…..অনেকটা শান্তির মধ্যে ও একটা সূক্ষ্ম ব্যাথা চিনচিন করছে বুকের ভেতর….. গায়ের বোরকা খুলে রেখেই বাথরুম থেকে হাত-পা ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম….. রুমটা এখানো বেশ গোছগাছ….. কোনকিছুই এদিক ওদিক হয় নি…. সব আগের মতো করে রাখা……
,
,
,
সুফিয়া খালাকে এক গ্লাস পানির কথা বলে ড্রয়িং রুমে এসে বসলাম…… ঘড়িতে তাকাতেই দেখলাম দুটো বেজে গেছে…. খালা আমাকে পানির গ্লাস দিতে দিতে ও বাড়ির সবার খোজখবর নিলেন….. আম্মুকে এবাড়ি আসার কথা জানানোর জন্য ফোন দিলাম বাড়ির ফোন থেকে……
,
,
,
———আসসালামু ওয়ালাইকুম আম্মু
,
,
——— ওয়ালাইকুম আসসালাম…. কে!! টুকি না!!!
,
,
——— হ্যাঁ।।।। আম্মু…. আমি কলেজ থেকে এ বাড়ি চলে এসেছি…. তুমি চিন্তা করবে বলেই ফোন দিলাম…..
,
,
——— আম্মুর বকা খেয়ে বুঝি মায়ের কথা মনে পড়ে গেছে!!! তুই কি রাগ করেছিস টুকি!!!
,
,
——— না আম্মু…. একদমই না…. শাষণ করা তো তাকেই মানায় যে ভালোবাসতে পারে……
,
,
——— আচ্ছা….আচ্ছা….. কি পাকা পাকা কথা শিখেছে মেয়ে…. শোন খেয়ে নে…. আর বিকেলে চলে আসিস….. আমি আসবো নিতে!!!
,
,
——— না আম্মু….. তুমি ফুলি খালাকে নিয়ে খেয়ে নাও… রাখছি….আল্লাহ হাফেজ
,
,
——— আল্লাহ হাফেজ
,
,
,
মা বাড়ি ফিরলেন বিকেল চারটার ও পড়ে….. দরজা খুলে আমাকে দেখে বেশ অবাক হলেন….. আমি মুচকি হেসে মাকে জড়িয়ে ধরতেই….. কাদো কাদো হয়ে প্রশ্নের জাহাজ খুলে দিলেন…. কখন এলি!!! কে নিয়ে আসলো!!! জামাই এসেছিলো কি না!! আর কতো কি….. কলেজ থেকে চলে এসেছি বলে মা কিছুটা অবাক হলেন….. কিন্তু কিছু বললেন না…… দুপুরে খাওয়া মা- মেয়ে মিলে খেলাম পাঁচটায়….. তারপর নামাজ আদায় করে মা আমার রুমে চলে এলেন….আমি তখন আলমিরাতে আমার কাপড় ঘাটতে ব্যাস্ত……
,
,
,
——— তুলি!! সাদাফ কি রাতে আসবেন!!
,
,
——— না মা….
,
,
——— ও…. তোর বড় ননাসের হাত ঠিক হয়েছে!!
,
,
——— হ্যাঁ….. এখন অনেকটাই সুস্থ….
,
,
——— তোর শ্বাশুড়ি কেমন রে মানুষ হিসেবে!!!
,
,
——— খুবই ভালো মা….
,
,
——— আর সাদাফ!!!
,
,
——— সবাই খুব ভালো মা….মা আমাকে আরেকটা বোরকা বানিয়ে দিবা!! গরমে একটা দিয়ে ক্লাস করাটা খুবই মুশকিল…. আমি কথাটা বলে মায়ের দিকে তাকাতেই দেখলাম কপালে ভাজ পড়ে আছে….. পড়বেই বা না কেন!! তার সদ্য বিবাহিত মেয়ে নিজের প্রয়োজন গুলো স্বামির কাছে না চেয়ে মায়ের কাছে চাইছে…. আমি তাকাতেই মা স্বাভাবিক হয়ে মুখে হাসি টেনে বললো
,
,
——— ঠিক আছে…. তুই ও সাথে চলিস…. পছন্দ করে নাহয় কিনে নিবি….
,
,
,
মায়ের কথা শুনে আমি আবার আমার কাজে মনোযোগ দিলাম….. দীর্ঘশ্বাস টা না চাইতেও লুকাতে পারি নি….. বিয়ে নামক নতুন সম্পর্ক টা একেবারে গোলকধাঁধার মতো লাগছে….. কেমন যেনো সব সম্পর্কেই ঢুকে পড়েছে….. আজ হুট করে এইভাবে আসাটা মা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছে না…. অথচ একসময় এই বাড়িটা আমার ছিলো….. এই বাড়ির বাইরে এক পা রাখার আগে তাদের বলে কয়ে মতামত নিয়ে তারপর বেরুতে হতো….. তারপর প্রশ্ন তো আছেই….. আর আজ বিয়ে হয়েছে বলে একেবারে উল্টো….. এবারে শত সহস্র প্রশ্ন….. হায়রে মেয়ে মানুষ…..
,
,
,
রাতের খাবার খেয়ে ব্যাগ থেকে বই খাতা গুলো একেবারে টেবিলের উপর গুছিয়ে রেখেছি…..মা বলেছিলেন তার সাথে ঘুমানোর জন্য কিন্তু আমি যাই নি…. জানি গেলেই নানা অজুহাতে একথা সেকথা জানতে চাইবে….. তাছাড়া খুব করে একা থাকতে ইচ্ছে করছিলো……. বিছানায় শোয়া মাত্রই দেহ যেনো প্রাণ ফিরে পেলো…..চোখে ঘুম না থাকলে ও তন্দ্রাঘোরে পড়ে ছিলাম…..তখন আম্মুকে ফোনে বলা কথাটা বারবার কানে বাজছে…… শাসন করা তাকেই সাজে যে ভালোবাসতে পারে….. কেনো যেন কথাটা মনে আসতেই ওনার চেহারাটা বারবার চোখে ভাসছে….. কি অদ্ভুত!!! আমার এই অশ্রু সংকটময় চোখ দুটোতে বন্ধ অবস্থায় আপনা আপনিই পানি জমে যাচ্ছে…..
,
,
,
,
,
চলবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে