এক_পশলা_বৃষ্টি_আর_সে পর্ব_১৯

0
1958

এক_পশলা_বৃষ্টি_আর_সে পর্ব_১৯
লেখনিতে: চৈত্র রায়

৩৭
,
,
,
ওনার কথাখানি শুনেই মাথা তুলে তাকালাম…… বাহ বেশ তো চকচক করছে….. কচি পাতা কালারের টি-শার্ট এ একেবারে গ্রিক দেবতাদের মতন দেখতে লাগছে….. কোথাও কোন শোকের আভাটি পর্যন্ত নেই……আমিই একলা বেকুবের মতন শোক পালন করছি কম খেয়ে….. আর দাড়ালাম না….. ব্যাগখানা কাধ থেকে চেয়ারে নামিয়ে …… হিজাব আর বোরকা খুলতে চেয়েও খুলতে পারলাম না….. কেন যেন ওনার উপস্থিতি টা এইমূহুর্তে খুব অস্বস্তিতে ভুগাচ্ছে….. তাই কাপড় চোপড় নিয়েই বোরকা সহ বাথরুমে ঢুকে পড়লাম….. সেখানের ঘোলাটে আয়নায় নিজেকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলাম…… চোখের নিচে কালি পড়তে শুরু করেছে….. গালে কপালে ব্রণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে….. হুট করেই যেনো নিজের মধ্যে বার্ধক্য খুজে পাচ্ছি…….. আমার চোখের আমির সাথে এই আইনার আমিটার কোন মিলই নেই…….
,
,
,
সেই কথাগুলোর জন্য ওনার প্রতি আমার কোন ঘৃণা নেই…..তবে এই মূহুর্তে একরাশ অভিমান আর রাগ চেপে ধরেছে আমায়….. এই রাগ আর এই অভিমানের কি কারণ আমি সেটাও খুজে পাচ্ছি না….. শুধু বুঝতে পারছি আমার খুব রাগ লাগছে……কোন কিছুই ভালো লাগছে না….. গোছল সেরে গা মুছতে গিয়ে খেয়াল হলো কাপড়ের সাথে কোন তোয়ালে আনা হয় নি…..তোয়ালে টা তখন যম ঠাকুরের হাতে দেখেছিলাম…… তাই ভেজা গায়েই কাপড় পড়ে বেড়িয়ে এলাম…..ওনি তখন পড়ার টেবিলে আমার বই ঘাটতে ব্যাস্ত….. এক নজর দেখেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে চলে এলাম….. অমনি ওনি পেছন থেকে তোয়ালে নিয়ে এসে মাথা মুছিয়ে তোয়ালে দিয়ে পেচিয়ে দিলেন……
,
,
,
——— জামা চেঞ্জ করে আসো….
,
,
——— না….
,
,
——— কি না…. চুলের জলে জামার পিঠ কোমড় ভিজে আছে…. না চেঞ্জ করলে এগুলো গায়ে শুকিয়ে জ্বর ঠান্ডা বাধাবে….. শিগগির বাথরুমে যাও….
,
,
——— কি হলো…. বসে আছো কেন!!!
,
,
,
এই মূহুর্তে ওনার এই চিন্তাটা আমার কাছে খুব অসহ্য লাগছে….. ইচ্ছে করছে দুই হাতের মুঠোয় চুল টেনে জিজ্ঞেস করি এতোদিন এই চিন্তা কই ছিলো…. কিন্তু এতো যম ঠাকুর….. চিন্তা বাস্তব করতে গেলে দেখা যাবে আমিই দুনিয়াতে নাই…..
,
,
——— এই নাও কাপড়….
,
,
——— আমার জন্য আপনার এতো ভাবতে হবে না…… আমার কিসে ভালো হবে বা কিসে মন্দ হবে তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য আমি আছি…..
,
,
——— লিসেন মিসেস….. তুমি এখনো অতোটাও বড় হও নি…. যে নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিবে…..ভালোই ভালোই ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করবে নাকি…!
,
,
——— নাকি!!!
,
,
——— কিছুনা…. বলেই ঠেলে আমায় ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিয়ে হাতে কাপড় ধরিয়ে দিলো…..
,
,
,
রাতে খাবার পর ওনার আর বাবার সব কথা মা আমাকে খুলে বললেন…… পাশে বাবাও ছিলো…..
,
,
——— তুলি তোমার জন্য আমি আর তুমার মা একজন ভালো জীবনসঙ্গী খুজে এসেছি….. কিন্তু আল্লাহ আমাদের হিরের সন্ধান দিয়েছে মা…..ও ছেলে লাখে একটা….
,
,
——— সাদাফের প্রতি কোন রাগ রাখিস না মা….ও তোর ভালোর জন্যই কঠোর হয়েছে…..
,
,
——— হুম…. তুমি আর রাগ করে থাকবে না…. রোজ রোজ ছেলে টা বাড়ির সামনে রাত ভোর করে বাসায় ফেরে…. এমনি চললে তো বিপদ আপদ ঘটবে…..
,
,
,
বাবার কথায় আমি কিছুটা অবাক হলাম…. রাত ভোর করে বাড়ি ফেরে মানে!! মায়ের দিকে তাকাতেই দেখলাম তারা মুখ টিপে হাসি লুকাচ্ছে….. ব্যাপারটা তখনও আমার মাথার উপর ঘুর ঘুর করছে…..তাদের সাথে কথা বলে রুমে ঢুকতেই দেখি ওনি প্যান্ট চেঞ্জ করে লুঙ্গি পড়েছে…… টিশার্ট চেঞ্জ করে পড়েছে সাদা সেন্ডো গেঞ্জি…… হাতে কাধে…. লাল লাল ফুশকুরি….. তিল ফেলার মতো ও ফাক ফোকড় নেই……
,
,
,
——— আপনার গায়ে এগুলো কি”!!
,
,
——— তোমাদের এলাকার মেম্বার কাজের না তুলি…. এলাকার মোড়ে দাড়ানোর মতো না….. এতো মশা…. তাদেরই জামাই আদর এসব…. আফটার অল এলাকার জামাই বলে কথা…. তাই মশারাও জামাই আদরে ত্রুটি রাখে নাই…..
,
,
,
ওনার এই কথাগুলোর সাথে বাবার বলা কথাগুলো মাথায় আপনা আপনি ই প্যাচগোচ খাচ্ছে…… আমাকে এতো অন্যমনস্ক দেখে ওনি একপ্রকার বকে ধমকে বিছানায় নিয়ে গেলেন ঘুমাতে……. ঠিক সেই আগের মতো করে পেচিয়ে ধরে শুয়ে আছেন আমাকে তার সাথে মিশিয়ে…… সব প্যাচগুলো মাথায় এক এক করে খুলে যাচ্ছে……আমার মাথাটা ওনার বা কাধের উপর থাকায় খুব অনায়েসেই ওনার মুখ খানা দেখতে পাচ্ছিলাম….. ওনি তখন আমার মাথায় বিলি কেটে দিতে দিতে সিলিং এ তাকিয়ে আছেন….. ঠোঁট চেপে কান্নার শব্দ সংবরণ করতে পারলে ও চোখের জল কে কোনমতেই আটকে রাখতে পারলাম না….. একপাশ হয়ে শুয়াতে দুচোখের জল একত্রে ওনার কাধে পড়ছে….. হঠাৎ করেই ওনি আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালেন….. ওনার তাকানো মাত্রই আমি চোখ বুঝে রইলাম…… বন্ধ দুচোখের আঁখি পল্লবে চুমু খেয়ে আগের চেয়ে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন ———
,
,
,
——— তোমার গলির রাতের মশারাও কিন্তু টের পেয়েছে আমার ভালোবাসার…..
,
,
,
চলবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে