একটুখানি সুখ পর্ব-১১+১২

0
488

#একটুখানি_সুখ
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ১১

“কে এখানে?”
ফিসফিসিয়ে কিছুটা জোরে বলার চেষ্টা করে আগন্তুক লোকটা। প্রতিত্তোরে কোনো উত্তর পায় না সে। অন্ধকারে কিছু দেখা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছে বাড়ির মেইন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়েছে। এসিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগন্তুক লোকটি এগোবে নাকি পিছাবে সেটা বুঝছে না। শুধু আশেপাশে হাতড়ে যাচ্ছে সে। হাতের মুঠো শক্ত করে পা টিপে টিপে আন্দাজে হাঁটতে গিয়ে কোনোকিছুর সাথে বাড়ি খায় লোকটা। সাথে সাথে ঝনঝন শব্দ হয়ে উঠতেই ভড়কে যায় সে। শুনতে পায় মোহের ভয়ার্ত কন্ঠ।

“ক…কে? কে এখানে?”
কি বলবে ভেবে পায় না লোকটি। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে। একদিকে বিপদের আশংকা আরেকদিকে মোহের ঘুম ভাঙা নিয়ে বেশ চিন্তিত সে। এসময় মেয়েটার ঘুম ভাঙা কি খুব দরকার ছিল? মাথাতে কিছু না আসাতে পকেট হাতড়ে স্প্রে জাতীয় কিছু বের করে লোকটা। মুখে বেঁধে নেয় রুমাল। হাতড়ে বেডের কাছে যেতেই মোহের পায়ের স্পর্শ লেগে যায় তার। চিৎকার দিয়ে ওঠে মোহ।

“চোর, চোর! আবার চোর এসেছে।”

ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় আগন্তুক লোকটি। কি করে উঠবে কিছুই মাথায় ঢোকে না তার। তার কি হাঁসা উচিত নাকি কাঁদা উচিত। ব্যাপকভাবে ফেঁসে গেছে সে। ধপ করে বসে আন্দাজ করে মোহের গাল চেপে ধরে নিজের মুঠোতে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“আর কত চোর বদনাম দেবে? যার জন্য চুরি করি সে-ই বলে চোর? চোর তো তুমি। মনচোর।”

মোহ ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে যেখানে-সেখানে হাত চালিয়ে যাচ্ছে। লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। মুখ থেকে ‘উম উম’ শব্দ বের হচ্ছে। মোহের ঠোঁটে কিঞ্চিৎ স্পর্শ করে লোকটা ধীর কন্ঠে বলে,
“ছটফট করতে নেই। তোমার সাথে এমন কিছু করব না যে ছটফট করতে হবে। আমার কথা শোনো। আমি তোমায় মারতে না বাঁচাতে এসেছি। তুমি হয়ত নিজের মোহ দ্বারা আমাকে মেরে দিয়েছো বহু আগে। কিন্তু আমি আমার মোহময়ী নারীকে বাঁচাতে এসেছি।”

লাফালাফি থেমে গেল মোহের। লোকটার কথাতে কি সুন্দর শীতলতা। চোর-ডাকাতের কথাতে এতো শীতলতা হয় তা জানা ছিল না মোহের। তাই সে হতভম্ব। ঘরের বাইরে থেকে একটা বিকট শব্দ এল। চমকে উঠল মোহ এবং আগন্তুক লোকটিও। আবারও নিজেকে ছাড়াতে ব্যকুল হয়ে পড়ল মোহ। উপায়ন্তর না পেয়ে নিজের অন্যহাতে থাকা ছোট্ট স্প্রে মোহের একেবারে মুখ বরাবর স্প্রে করে দিতেই শরীরে জোর কমে আসে মোহের। মাথা ঝিম ধরে যায়। সেই মূহুর্তে তার সাথে এক ভয়াবহ কাজ করে বসে আগন্তুক লোকটি। গালে নিজের ঠোঁটের ছোঁয়া লাগিয়ে দেয়। মোহ কেঁপে উঠে মৃদু চিৎকার দিয়ে বলে,
“বেয়াদপ, রাস্কেল লোক ছাড়ুন। আই উইল কিল ইউ। কে আছো? চো…”

শেষ কথাটা মুখ দিয়ে বের হলো না মোহের। নেতিয়ে পড়ল আগন্তুক লোকটির বুকে। মাথাটা চেপে ধরে বেডে শুইয়ে দিল মোহকে লোকটি। শুকনো কন্ঠে বলল,
“তোমাকে ছোঁয়ার লোভ সামলাতে পারি না আমি। এই সামান্য ছোঁয়ার জন্য কত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে সেটা হয়ত তোমার জানা নেই। কিন্তু তোমায় এতটুকু ছুঁয়ে ভালোবাসার তৃষ্ণা মেটেনি আমার। তোমায় সম্পূর্ণরূপে আর সম্পূর্ণ অধিকারে পেতে চাই। কিন্তু…! ভাগ্য যেন অন্যকিছু লিখে রেখেছে।”

পায়ের শব্দ কানে তীক্ষ্ণভাবে এসে ঠেকে আগন্তুকের। তড়িৎ গতিতে উঠে দাঁড়ায় সে। সে আন্দাজ করতে পারছে কে আসছে। ফোনটা বের করে ফোনের ফ্লাশ লাইট অন করতেই খুলে যায় দরজা। দরজার ওপাশ থেকেও তীব্র আলোতে চোখ বন্ধ হয়ে আসে আগন্তুকের। দরজার ওপাশের অবয়বটা আরো কাছে আসে আগন্তুকের। চোখ খোলে লোকটা। সামনের অবয়বটা স্পষ্ট হতেই চমকে ওঠে সে।
“তুই এখানে কি করছিস? এসব কিছু কেন করছিস? তুই তোর বাড়ি থেকে চলে এলি আর কাউকেই কিছু না বলে এবাড়িতে ঢুকে পড়লি। কেউ দেখলে কি হবে ভেবেছিস?”

“কে দেখবে? কেউ দেখার মতো অবস্থায় আছে? সবাইকে সুন্দরভাবে ঘুম পাড়িয়ে রেখে এসেছি। কিন্তু তুই এখানে এত রাতে কেন?”

আগন্তুক লোকটা আমতা আমতা করতে থাকে। তার সামনের অবয়বের হাতে লোহার লাঠি। মুখশ্রী বড্ড হিংস্র হয়ে উঠেছে। অবয়বটি নিজের হিংস্রতা বজায় রেখে আগন্তুকের উদ্দেশ্যে বলে,
“আমি জানি তুই এখানে কেন এসেছিস। মোহকে তুই আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে চাস?”

আগন্তুক লোকটি নিরব। সামনের মানুষটাকে শান্ত করতে হলে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি করা যাবে না। অবয়বটি হাতে লাঠি তুলে মৃদু চিৎকার দিয়ে বলে,
“বল! তুই তো বলেছিলি মোহকে আমার কাছে এনে দিবি। তাহলে তুই কেন আমার সাথে ডাবল গেম খেলছিস?”

“খেলছি না ডাবল গেম আমি। ভাই, তুই শান্ত হ দেখ…”

“শান্ত তো হতে চাই। কিন্তু তুই শান্ত হতে দিচ্ছিস না।”
আগন্তুক লোকটির মাথায় আঘাত করে ফেলে তার ভাই। লোহার লাঠি সরাসরি গিয়ে কপালের ডান পাশে লাগে আগন্তুকের। কপালে হাত দিয়ে নিচে পড়ে যায় লোকটা। কপাল দিয়ে বেয়ে পড়ে রক্ত। অসার হয়ে আসে হাত-পা। উপুড় হয়ে পড়ে আছে সে। এবার পাগলপ্রায় হয়ে বেশ পিশাচের ন্যায় লোহার লাঠিটা দিয়ে একের পর এক আঘাত পড়ে লোকটার পিঠে। ব্যথায় কেঁপে উঠলেও ঠোঁট কামড়ে সহ্য করে সে। ক্লোরোফমের স্প্রে টাও কোথাও একটা ছিটকে চলে গেছে।

“স্টপ দিস ভাই।”
বেশ কষ্ট করে বলে আগন্তুক। কিন্তু সে যেন পাগলে পরিণত হয়েছে। এক পর্যায়ে লাঠি ছুঁড়ে ফেলে দিলেও আগন্তুকের কাছে এসে হাঁটু গেঁড়ে বসে সে। চোখ ছোট ছোট করে তার দিকে আলো ধরতেই দেখে নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে তার ভাইয়ের মুখ। কপাল ও গাল বেয়ে থুঁতনি থেকে টুপটুপ করে পড়ছে লাল বর্ণের তরল পদার্থ। যাকে বলে রক্ত। সেই রক্ত দেখে পিশাচের মতো হেঁসে নিজের হাতে রক্ত ভরিয়ে বলে,
“রক্ত না আমার খুব ভালো লাগে।”

আগন্তুক লোকটি কোনো কথা বলার মতো অবস্থাতে নেই। পিঠে ভীষণ জ্বালাপোড়া করছে তার। রাগ তড়তড় করে বাড়ছে। শুধু একটি বিশেষ কারণে তাকে কিছু বলছে না লোকটি। সহ্য করে যাচ্ছে সবটা। রাগটা বেশিক্ষণ হয়ত দমাতে পারবে না সে। হাতে রক্ত ভরিয়ে মোহের ঘরের ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল সেই আগন্তুক লোকটির ভাই। মুখে হাসি দিয়ে কি যেন লিখতে থাকল সে। অন্যদিকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আগন্তুক লোকটা। সারা শরীর যন্ত্রণায় ছটফট করছে সে। তবুও তার ভাইকে নিয়ে এখান থেকে যেতে হবে নয়ত বড়সড় অঘটন ঘটতে সময় লাগবে না। উঠে বসার চেষ্টা করতে করতে সে খেয়াল করে তার ভাই লিখা শেষে মোহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যতটা এগিয়ে যাচ্ছে মস্তিষ্ক রাগে যেন ফেটে যাচ্ছে তার। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে উঠে বসতে সক্ষম হলো আগন্তকটি। ফোনের ফ্লাশ লাইটের সাহায্যে হাতে ক্লোরোফম স্প্রে নিয়ে উঠে দাঁড়াল সে।

“কত সুন্দর তুমি, মোহ! আমি তোমাকে চেয়েছি তাতেও সবার সমস্যা। বাট তোমাকে ছলে বলে যেভাবেই হক আমারই হতে হবে।”

ধীর পায়ে হেঁটে বেডের কাছে এসে থামে লোকটি। নিজের ভাইকে সপাটে চড় বসিয়ে দেয় সে। রাগে ফোঁস করতে করতে গালে হাত দিয়ে তাকায় তার ভাই। তাকে আবারও মারতে নিয়ে এবার গাল বরাবর ঘুষি মেরে বসে আগন্তুকটি। ছিটকে পড়ে তার ছোট ভাই। তার শার্টের কলার ধরে টেনে দাঁড় করিয়ে আগন্তুক লোকটি চোখমুখ লাল করে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“ছোট থেকে অনেককিছু করেছি তোর জন্য। যা চেয়েছিস তাই পেয়েছিস। সীমা অতিক্রম করিস না। আমার এই মধুর আচরণের খোলস থেকে বের করিয়ে আনিস না। আমার আসল রুপ তিক্ত। এতোটাই তিক্ত যে তুই ভাবতেও পারছিস না।”

আচমকা ল্যাম্পশিট জ্বলে ওঠে রুমের। এসি চলতে শুরু করে। হয়ত মেইন সুইচ কেউ অন করে দিয়েছে। এখানে থাকা আর কারোর পক্ষেই ঠিক না। রুমাল বেঁধে রাখা লোকটি তার ভাইয়ের ওপর স্প্রে করতেই ঢলে পড়ে তার ভাই। তাকে টানতে টানতে কোনোমতে মোহের রুম থেকে বেরিয়ে আসে আগন্তুকটি।

সকালবেলা এক তীক্ষ্ণ শব্দ কানে এসে ঠেকে মোহের। চোখমুুখ জড়িয়ে নড়েচড়ে ওঠে সে। চোখ মেলতে চাইছে না। না চাওয়া সত্ত্বেও চোখ জোর করে খুলল মোহ। তার ফোনটা বাজছে। কোনোমতে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে সে। চোখে এখনো তীব্র ঘুম। মাথাটা যেন ঝিমঝিম করছে। মাথা দাঁড় করাতেও পারছে না সে। ঘুম ঘুম চোখেই হাতড়ে ফোন নিয়ে রিসিভ করে মোহ। চোখ বন্ধ করেই আন্দাজে ফোন রিসিভ করে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,
“হ্যালো? হুস দিস?”

“মোহ আমি জুহি! এখনো ঘুমোচ্ছিস?”

“হু। কেবল উঠলাম। কি হয়েছে বল?”

“তুই কিছু জানিস না এখনো? কি হয়ে যাচ্ছে? ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কত বড় ঝামেলা হয়েছে জানিস কিছু? তোর ধারণা আছে?”

জুহির অস্থিরতা শুনে ঘুম ছুটে গেল মোহের। জুহির কথায় গভীর মনোনিবেশ করল সে। উৎকণ্ঠা হয়ে প্রশ্ন করল,
“কেন কি হয়েছে?”

“তো…তোর আর… ”
থেমে যায় জুহি। মোহের বুঝতে বাকি থাকে না তাকে নিয়েই কিছু ঘটেছে। আসল ঘটনা জানার জন্য ছটফট করে সে।
“কি হয়েছে বলবি তো! হেয়ালি করিস না তো।”

“তোর কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে টিভিতে দেখাচ্ছে। সেখানে ছবিতে তুই আর তোর ওই কাজিন। কাল যাকে দেখলাম সে আছে। যদিও এটা নরমাল বিষয়। কিন্তু বড় ঘরের হওয়ার সুবাদে তুই আর তোর কাজিন এদিক থেকে ছাড় পাসনি। সামান্য কিছু ছবি দিয়ে তিল থেকে তাল বানিয়ে ফেলেছে রিপোর্টাররা। করিম আঙ্কেলের মেয়ে হওয়ার কারণে তোকে নিয়ে মেতে গিয়েছে সবাই। প্লিজ নেটের খবরের ওয়েবসাইট গুলোতে দেখ।”

তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দেয় মোহ। মাথায় যেন বাজ পড়েছে তার। দ্রুত গতিতে নেট অন করে খবরের ওয়েবসাইটে যায় সে। সেখানে যেতেই চোখ কপালে উঠে যায় তার। চোখমুখ লাল হয়ে আসে। রাগে চোখে টলটল করে পানি। তার আর স্বচ্ছের ছবি। সেখানে স্বচ্ছের কোলে রয়েছে মোহ। তারমানে কাল ভার্সিটির ক্লাসের পরের ঘটনা। এটার ছবি কেউ তুলে নিয়েছে। তার পাশেই আবারও সেই রেস্টুরেন্টের বাহিরের ছবি। যেখানে স্বচ্ছ মাটিতে হাঁটু গেঁড়ে বসে মোহের পায়ে হাত দিয়ে আছে। ক্যাপশনে বড় বড় করে লিখা, ‘মা-বাবা মারা যাবার পরে কি নিজের কাজিনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন করিম আনবীরের একমাত্র মেয়ে মোহ আনবীর?’

বিস্তারিত পড়ার রুচি জাগল না তার। ফোনটা একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এবার নিজের চুল টেনে ধরল সে রাগে। এবার প্রচন্ড রাগ লাগছে স্বচ্ছের ওপর। কে বলেছিল তাকে এতো দরদ দেখাতে? কে বলেছিল? রাগে-দুঃখে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে এবার তার দৃষ্টি গেল ঘরের পরিবেশে। এলোমেলো জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ফ্লোরে বেশ খানিকটা রক্ত! গতকালকের রাতের কথা মনে পড়লেই আঁতকে উঠল সে। যতটুকু মোহের মনে আছে তা হলো সেই আগন্তুক লোকটি তার গালে চুমু খেয়েছিল আর কি যেন বলছিল। কথাটি মনে পড়তেই গালে হাত গেল তার। সজোরে ঘষতে থাকল গাল। এমন করতে করতে নজর গেল ড্রেসিং টেবিলে। রক্ত দিয়ে কিছু লিখা।

“যেই নারীর ওপর আমার দৃষ্টি একবার পড়ে। তার নিস্তার নেই। তোমারও নেই।”

চোখ খিঁচে চিৎকার দিল মোহ। একি হচ্ছে তার সাথে? সবটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে কেন?

চলবে…

#একটুখানি_সুখ
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ১২

ফুঁপিয়ে কাঁদছে মোহ। হাঁটু ভাঁজ করে গুটিশুটি মেরে বেডের ওপর বসে আছে সে। কান্নার মাঝে মাঝে মৃদু কেঁপে উঠছে। পাশেই বসে আছেন মিসেস. নিরা। চিন্তিত চোখেমুখে মোহের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন উনি। পাশেই চারজন সার্ভেন্ট ঘর গোছাতে ব্যস্ত। একজন পরিষ্কার করছে ওই ড্রেসিংটেবিল যেখানে রক্ত দিয়ে লিখা ছিল। দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে মোহের কাঁধে হাত রাখলেন মিসেস. নিরা। আর শান্ত সুরে বললেন,
“কাঁদিস না। কাঁদছিস কেন? দেখ আমি তো আছি।”

“এসব আমার সাথে মিমি? আমি তো কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। আমার জীবনটা কেমন জানি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কিছু ঠিকঠাক সাজাতে পারছি না। আর এসব লিখা আর রক্ত কোথা থেকে আসলো?”

“কাল তোর ঘরে কেউ এসেছিল? তুই তো দরজা লক করে ঘুমিয়েছিলি। দরজা কখন খুলেছিস?”

মোহের কান্নাটুকুও থেমে যায় এবার। দরজার দিকে তাকায় বিস্ময়ের সাথে। সত্যিই তো! সে দরজা একেবারে বন্ধ করে দিয়ে ঘুমিয়েছিল। চাবি হলে তবেই খোলা যেত। সে হতভম্ব হয়ে জবাব দিল,
“আমি তো দরজাই খুলিনি।”

হতবাক হলেন এবার মিসেস. নিরাও।
“তাহলে কি বাড়ির কারোর কাজ এটা? চাবি ছাড়া তো লক খোলা সম্ভব নয়।”

“বাড়ির কারোর কাজ হতে পারে না এটা। কারণ লোকটা আমাকে চেপে ধরেছিল। বেশ লম্বা ছিল। আর কন্ঠটাও অদ্ভুত। শরীরে বেশ শক্তি ছিল। একহাত দিয়ে আমাকে ধরে রেখেছিল। এবাড়িতে যারা কাজ করে তারা বেশির ভাগ মেয়ে। আর পুরুষ বলতে শুধু দারোয়ান মামারা আছেন। উনারা বিশ্বস্ত আর এমন কাজ করার ক্ষমতাও নেই।”

এবার মোহের কথায় কনফিউজড হয়ে পড়লেন মিসেস. নিরা। বাড়ির কিছুই চুরি যায়নি। অথচ মোহকে অজ্ঞান করা হয়েছে। ইভেন বাড়িতে যারা যারা ছিল এতকিছু হবার পরেও তাদের ঘুমটা ভাঙেনি। বিষয়টা অদ্ভুত ঠেকল উনার কাছে। বিষণ্ণ মনে এবার মোহের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ সুরে বলল,
“একটা কথা সত্যি করে বল তো মোহ!”

“কি?”

“স্বচ্ছ আর তোর মাঝে কিছু চলছে? মানে তোদের মাঝে কোনো সম্পর্ক…”

কথাটুকু শোনামাত্র ঘৃণ্য দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বিরক্তির সুরে কথার মাঝপথেই মোহ তার মিমিকে থামায়।
“মিমি তুমিও আমাকে অবিশ্বাসের খাতায় ফেলছো। তোমার কি মনে হয়? আমি ওই লোকটা যার ম্যানার্স নেই। ভদ্রতা নেই তার ওপর যার সঙ্গে আমি ছোট থেকে মুখোমুখি হলেও কথা বলিনি। মা-বাবা মানা করে দিয়েছে কথা বলতে তার সঙ্গে আমার এসব সম্পর্কের কথা কেন আসছে?”

“কারণ টিভিতেও নিউজ এটাই দেখাচ্ছে আর তোদের ছবিগুলো আমিও দেখেছি। ছবিগুলো দেখে যেকোনো মানুষের মাথায় এসব আসবে।”

“তো? তাই বলে আমাকেও সন্দেহ করছো তুমি? আর ওসব… ওসব ছবি তো এক্সেডেন্টলি উঠেছে। কে তুলেছে জানি না। রেস্টুরেন্টের বাহিরের ছবিটা ওটা আমার পায়ে ব্যথা লেগেছিল আর ভার্সিটির বাহিরের ছবিটা…”

বলে থামল মোহ। ভ্রু কিঞ্চিৎ বেঁকে গেল তার। মনে পড়ল ভার্সিটির বাহিরে স্বচ্ছের কর্মকান্ড। সন্দিহান মনে প্রশ্ন জাগল অযথা তাকে স্বচ্ছের বাইকে উঠানোর কি প্রয়োজন ছিল তাও কোলে করে? কোথাও এসব স্বচ্ছের কারসাজি নয় তো? না হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। স্বচ্ছ যেমন ছেলে এমন তো করতেই পারে! ধড়ফড়িয়ে উঠে দাঁড়াল সে। চোখেমুখে এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি। মুখ এখনো ফুলে রয়েছে। সে অবস্থাতেই কারোর কথায় পাত্তা না দিয়ে হাতে একটা জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল সে।

একেবারে দ্রুত ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে মুখে ওড়না পেঁচাতে পেঁচাতে বলল,
“মিমি আমি আসছি।”

“এই সময় কোথায় যাচ্ছিস তুই? এখন বাহিরে গেলে জানিস কি অবস্থা হবে? প্রেস মিডিয়ার লোকের হাতে হেনস্তা হতে পারিস।”

“হলে হবো। কিন্তু কিছু প্রশ্নের উত্তর চাই আমার। যেটা একমাত্র স্বচ্ছ ভাইয়ের কাছে গেলে তবেই পাব।”

“কিন্তু! শোন আমার কথা।”

কে শোনে কার কথা। হনহনিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল মোহ। স্বচ্ছ নামক অস্বচ্ছ ব্যক্তিটির ওপর বেজায় রাগ চেপেছে তার। মানুষটার সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে সে। কেন করল এমন? কেন করল তাকে বদনাম? এমনটা করার কোনো কি কারণ ছিল আসলেই?

মার্বেল পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উঠে কারুকার্য করা বড় দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় মোহ। দরজাতে টোকা দিতেই দরজার ওপাশ থেকে কেউ হিংস্রতার সাথে বলে ওঠে,
“বার বার ডাকছো কেন মা? আই সেইড দ্যাট, লিভ মি অ্যালন! বিরক্ত করলে খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।”

মোহ উত্তর দেয় না। আবারও দরজায় টোকা দেয়। এবার ওপর থেকে স্বচ্ছ বিরক্ত হয়েই উত্তর দেয়,
“একটু রেহাই দাও মা। আই রিকুয়েষ্ট ইউ। আই এম টায়ার্ড।”

স্বচ্ছের আর বলার অপেক্ষা রাখে না মোহ। দরজা খুলে ঢুকে যায় ভেতরে। ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে তার চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়। এটা ঘর নাকি স্টোররুম? ফ্লোরে পড়ে আছে শার্ট আর প্যান্ট। যেটা কালই স্বচ্ছ পড়ে ছিল। সোফার কুশন এলোমেলো। কোনটা নিচে পড়ে আছে। কয়েকটা কাঁচের শোপিচ নিচে পড়ে ভেঙে একেবারে যা-তা অবস্থা। এর আগেও স্বচ্ছের রুমে এসেছিল সে। এতো বেশি অগোছালো ছিল না তার ঘর। বেডের চাদরটাও বেশিরভাগ নিচে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মোহের নাকে এসে ঠেকে বিদঘুটে গন্ধ। চোখমুখ কুঁচকে তাকায় বেডের দিকে।

অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে স্বচ্ছ। গায়ে কিছু নেই। শুধু জিন্সের প্যান্ট আর উদাম গায়ে বসে আছে সে। তার দৃষ্টি জানালার দিকে। চোখ বড় বড় হয়ে আসে মোহের। কান গরম হয়ে যায়। মানুষটা কি বাড়িতে জামাকাপড় পড়তে পারে না? অবশ্য ভুলটা তারই। আরো কয়েকবার ঠকঠকিয়ে আওয়াজ দিয়ে ভেতরে আসা উচিত ছিল। দৃষ্টি নামিয়ে নিতেই স্বচ্ছের কথায় চমকে ওঠে মোহ।

“ওহ, ইউ? কি করছো আমার বাড়িতে এসময়?”

ঘনঘন ফেলতে থাকে চোখের পলক। ঘন শ্বাস নিতে নিতে ভাবতে থাকে মোহ। লোকটা কি করে তার উপস্থিতি বুঝতে পারল? সে তো এখনো অন্যদিকে ফিরে বসে আছে। তৎক্ষনাৎ স্বচ্ছ আবারও দুর্বল সুরে বলল,
“জানালার থাই গ্লাসে তোমায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রূপবতী কন্যা!”

কথাটা যেন মোহকে বেশ চমকে যায়। এক অদৃশ্য আড়ষ্টতায় ঘিরে ধরে। চোখমুখ লাল হয়ে তার। ঢক গিলতেই ঘুরে বসে স্বচ্ছ। আরো একদফা চমক খায় সে। বেগতিক অবস্থা স্বচ্ছের। মাথায় মোটা করে ব্যান্ডেজ করা, গালে কালসিটে দাগ, ঠোঁট ফেটে গিয়েছে সাইডের দিকে। চোখ লাল হয়ে রয়েছে বেশ। একহাতে কাঁচের মদের বোতল আর অন্যহাতে সিগারেট। এর মানে একটাই। স্বচ্ছ আবারও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মোহের মাথাতেই আসছে না এই অবস্থায় কেউ নেশা করতে পারে? স্বচ্ছ বেশ আহত। এই অবস্থায় ড্রিংকস করা মোটেই পোষাচ্ছে না মোহের। ভ্রুযুগল কুঁচকে তাকিয়ে আছে সে। তার মনে হয় এখন এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া ভালো। আবারও যদি সেদিনের মতো কিছু একটা করে বসে?

বাহিরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ায় মোহ। স্বচ্ছের কন্ঠস্বরে আবারও থামে সে।
“হেই ওয়েট! আমি সেদিনের মতো এতোটা মাতাল হইনি। জ্ঞান আছে আমার। যা বলতে চাও বলতে পারো।”

ভাইরাল ছবিগুলোর কথা মাথাতে আসতেই রাগ নিয়ে ঘুরে তাকায় মোহ। চোখ বুঁজে মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে মদের বোতলটা নিচে রেখে উঠে দাঁড়ায় সে। মোহের গলা শুঁকিয়ে যায়। তার সামনে উদাম গায়ে স্বচ্ছ এগিয়ে আসছে। তবে স্বচ্ছের ক্ষতগুলো দেখে বেশ সন্দেহ হয় তার। সে আহত! কাল তো ঠিক ছিল। একরাতে কি হলো তার?

“বলো কি বলবে?”

মোহ নিজেকে সামলিয়ে কড়া গলায় বলে,
“কিছু বলার মুখ রেখেছেন আপনি?”

“কেন? তোমার কথা বলার জন্য ঠোঁট নেই। ঠোঁট খেয়ে ফেলেছি?”

চরমভাবে বিষম খায় মোহ। এ কেমন কথাবার্তার ধরণ? তার গাল, কান আর নাক লাল হয়ে যায়। অথচ স্বচ্ছের দৃষ্টি স্বাভাবিক। লাল চোখজোড়া দিয়ে তার দিকে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মোহ হালকা কাশতেই স্বচ্ছ আবারও বলে,
“খেয়ে টেয়ে তো ফেলিনি যে বলতে পারবে না। দিব্যি কথা বলছো। তাহলে আমার মতো একটা ছেলেকে তোর ঠোঁট খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ করছো কেন?”

দাঁতে দাঁত চেপে তাকায় মোহ। কিড়মিড় করে বলে,
“দেখুন, এসব অসভ্য কথাবার্তা একদম বলবেন না। আমার ভালো লাগে না। তাছাড়া আপনি জানেন না তাই না কি হয়েছে? সত্যি জানেন না? আমার সাথে এতোকিছু করে কি পেলেন আপনি?”

“আমি আবার কি করলাম তোমার সাথে?”

“সিরিয়াসলি? আপনি এখনো যে আমার সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন তাতে আমি অবাক হচ্ছি। বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই? এতে তো প্রমাণ হয়ে গেল যা করার সব আপনি করেছেন।”

স্বচ্ছ এবার বিরক্তির শ্বাস নিয়ে হাই তোলে। রেগেমেগে একাকার হয়ে যায় মোহ। লোকটা তাকে পাত্তায় দিচ্ছে না? অন্যদিকে ফিরে ধপ করে সোফায় পায়ে পা তুলে বসে একাধারে সিগারেট খেতে শুরু করে স্বচ্ছ। সোফায় ঠেস দিতেই ‘উফফ..’ বলে সোজা হয়ে বসে সে। পিঠে হাত দিয়ে গিয়েও পারে না। চোখমুখ খিঁচে বসে থাকে। মোহ আঁতকে উঠে তার দিকে এগিয়ে যেতে চেয়েও যায় না। স্বচ্ছ মূহুর্তেই স্বাভাবিক হয়ে আবার সিগারেটে একবার মুখ দিয়ে সেটা ফ্লোরেই ফেলে দেয়। আর বলে,
“লাইনে এসো। কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো। ফাস্ট!”

মোহ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নিজের ফোনের লক খুলে সেই নিউজ ওয়েবসাইটে গিয়ে তার আর স্বচ্ছের ছবি বের করে অস্বস্তি নিয়ে স্বচ্ছের সামনে তুলে ধরে বলে,
“দেখুন আর বলুন। আমাকে বদনাম করে কি পেলেন আপনি?”

স্বচ্ছ সরু চোখে মোহের ফোনের দিকে তাকায়। তারপর চোখ নামিয়ে মাথার ব্যান্ডেজে হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে বলে,
“এটা নতুন কি? মিডিয়ার লোক একবার কিছু পেলে তো পিঁপড়ে থেকে ডাইনোসর বানিয়ে দিতে পারে। হোয়াটএভার, এতটুকু দেখানোর জন্য এতদূর থেকে ছুটে এসেছো তুমি?”

“আপনার কি সত্যিই কিছুই যায় আসে না? আসবেই বা কি করে? আপনি তো পুরুষ। কিন্তু আমাকে আপনি বদনাম করলেন। কেন করলেন বলুন তো? আপনার কোন ক্ষতি করেছিলাম আমি? যে আপনি আমার বাহিরে বের হওয়ায় দায় করে দিলেন?”

কথাগুলো কান্নার সুরে বলল মোহ। স্বচ্ছ গলা খাঁকারি দেয় তার কান্নায়। মনোযোগ দিয়ে তাকায় মেয়েটির দিকে। চোখে টলটল করছে পানি। একটু একটু করে নাক টানছে সে। চুলগুলো এখনো এলোমেলো। এতবড় ঝামেলার কারণে হয়ত মাথায় চিরুনি না দিয়েই বেরিয়ে পড়েছে। হালকা কোঁকড়ানো চুল মোহের মুখের আশেপাশে উড়ছে। খাঁড়া নাকে জমা হয়েছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। এক পর্যায়ে চোখ থেকে টুপ করে গোলাপি আভায় জড়ানো গাল বেয়ে পড়ল মোহের। কান্নার চোটে তিরতির করে কাঁপছে মোহের আলতো মোটা ঠোঁটজোড়া। হরিণীর ন্যায় চোখ দুটোতে প্রণয়ের ঢেউ বইছে। অন্যকেউ হলে বোধহয় এই কান্না দেখে কষ্ট পেতো। কিন্তু স্বচ্ছের স্থির চোখজোড়া চাইছে মেয়েটা আরেকটু কাঁদুক। কান্নারত চোখেমুখে কি লোভনীয় সুন্দর লাগে তাকে!

“আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন না? কেন করলেন আমার সাথে এমন?”

স্বচ্ছের ধ্যান ভাঙে। অন্যদিকে তাকিয়ে ভার কন্ঠে বলে,
“আমি কিছু করিনি।”

“আপনিই সব করেছেন। প্রথম থেকেই সন্দেহ করা উচিত ছিল আমার। যার সঙ্গে আমার সামন-সামনি কোনোদিন দেখা হলেও কথা হয়নি সেই মানুষটা আমার সাথে এতো কথা বলতে শুরু করেছে কেন? বোঝা উচিত ছিল আমার। এতকিছু করে কি পেতে চাইছেন আপনি? এভাবে কেন সম্মান নষ্ট করছেন আমার?”

এবার শান্ত হয়ে থাকা স্বচ্ছের রাগ হয়। রাগে ফোঁস ফোঁস করে উঠে দাঁড়ায় দিয়ে। খানিকটা ক্রুদ্ধ হয়ে বলে,
“এই মেয়ে এই, তুমি কি ভেবেছিলে সেদিন রাতে আমি ভুল করে তোমার ঘরে ঢুকে পড়েছিলাম বলে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি? না তোমার সৌন্দর্যে মোহিত হয়েছি ভাবছো? এমন যদি ভেবে থাকো তাহলে কানের গোড়ায় থাপ্পড় মেরে সোজা করে দেব। এটা কান খুলে শুনে রাখো। তোমার প্রতি আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। নেই মানে নেই। এখন যদি ভেবে থাকো তোমাকে পাওয়ার জন্য এসব করছি তাহলে বিরাট ভুল করছো তুমি। এসব কখন কিভাবে হয়েছে আমি জানি না।”

“কিন্তু সবটা আপানার ভুলেই হয়েছে আহিয়ান স্বচ্ছ। এখন আপনিই সলিউশন বের করবেন।”

স্বচ্ছ কপাল জড়িয়ে তাকায়। কিছু একটা ভেবে মোহের আশেপাশে ঘুরে ঘুরে বলে,
“তোমার অপশন আছে। প্রথমটা, বিয়ে করতে হবে তোমায় আমার সাথে। দ্বিতীয়টা, এই বদনাম মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। এখন তুমি কোনটা বাছবে? দ্যাটস ইউর চয়েস। এর চেয়ে ভালো সলিউশন আমার স্টোকে নেই।”

চলবে…

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here